সামুদ্রিক মাছের নানাবিধ উপকারিতা


সামুদ্রিক মাছের পুষ্টিগুণ মিঠা পানির মাছের তুলনায় অনেক গুন বেশি। সামুদ্রিক মাছ উচ্চ- প্রোটিন সমৃদ্ধ, এবং এতে ক্ষতিকারক ফ্যাট নেই বললেই চলে। সামুদ্রিক মাছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন এ এবং ভিটামিন ডি থাকে যা একাধিক জটিল রোগ থেকে আমাদেরকে দূরে রাখে। শিশু-কিশোরদের মানসিক ও শারীরিক গঠনে সামুদ্রিক মাছ দারুন ভূমিকা পালন করে। আসুন এবার বিস্তারিতভাবে জেনে নেই সামুদ্রিক মাছের নানাবিধ উপকারিতা..
১. হৃদরোগ প্রতিরোধ করে:-
সামুদ্রিক মাছে রয়েছে ওমেগা-৩ নামক ফ্যাটি এসিড যা হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী। এই ফ্যাটি এসিড হৃদরোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।
২. কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে:-
বেশিরভাগ সামুদ্রিক মাছে ভিটামিন এ ও ডি থাকে, যা কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। তাই হৃদরোগে আক্রান্ত ও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সামুদ্রিক মাছ খুবই উপকারী।
৩. ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি করে:-
নিউরোলজিস্টদের মতে শরীরে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে থাকলে ব্রেনের বিশেষ কিছু অংশের ক্ষমতা এতটাই বৃদ্ধি পায় যে ডিমেনশিয়া বা অ্যালঝাইমারের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।
৪. দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে:-
সামুদ্রিক মাছে প্রচুর পরিমানে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। আর এই ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড রেটিনার কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করার মধ্যে দিয়ে সার্বিকভাবে দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
৫. রোগ প্রতিরোধ:-
সামুদ্রিক মাছ মানুষের দেহের প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা মিটিয়ে নানা রোগ থেকে রক্ষা করতে সক্ষম। এতে জিংক ও আয়োডিন আছে। জিংক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং আয়োডিন গলগ- রোগ প্রতিরোধ করে।
৬. জয়েন্ট পেইন সারাতে:-
রিউমাটয়েড আর্থাইটিসে আমাদের অস্থিসন্ধীগুলো ব্যাথাসহ ফুলে যায়। রেগুলার সামুদ্রিক মাছ খেলে রিউমাটয়েড আর্থাইটিসের উপসর্গ কমে আসে।
৭. সহজে হজমযোগ্য আমিষ:-
সামুদ্রিক মাছের আমিষ সহজে পরিপাকযোগ্য। এ ছাড়া দেহের বৃদ্ধি ও ক্ষয়রোধে সাহায্য করে। এটি ভিটামিন বি-এর উৎকৃষ্ট উৎস। তাছাড়া সামুদ্রিক মাছের আমিষ ও তেল দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
৮. ডায়াবেটিসে উপকারী:-
ডায়াবেটিস রোগীরা খাদ্য তালিকায় সামুদ্রিক মাছ রাখতে পারেন। এতে তাদের এ রোগ নিয়ন্ত্রণে সুবিধা হবে।
৯. থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের উপকারী:
সামুদ্রিক মাছে থাকে আয়োডিন নামক অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান। থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের জন্যে আয়োডিন অত্যাবশ্যকীয়
১০. ক্যান্সার প্রতিরোধ:
সামুদ্রিক মাছে সেলেনিয়াম থাকে। যে সেলেনিয়াম এক ধরণের এনজাইম তৈরি করে যা আমাদেরকে ক্যান্সারের হাত থেকে বাঁচায়।
১১. অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট:
সামুদ্রিক মাছে প্রচুর সিলেনিয়াম রয়েছে, যা দেহে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং বার্ধক্য প্রতিরোধ করে।
১২. সন্তান সম্ভবাময় নারী ও শিশু:
যেসব নারী তাদের গর্ভকালীন সপ্তাহে অন্তত ৩৪০ গ্রাম সামুদ্রিক খাবার খান তাদের সন্তান বুদ্ধিদীপ্ত হয়ে জন্মগ্রহণ করে। সামুদ্রিক মাছের নানাবিধ পুষ্টিগুণের কারণেই এমনটা হয়।
১৩. ত্বক ভালো রাখে:
মাছের ওমেগো-৩ ত্বকের কোষের গঠন ঠিক করে, সানবার্ন থেকে ত্বককে রক্ষা করে। তাছাড়া মাছের ফ্যাট ত্বকের জন্য হেলদি ফ্যাট, এই ফ্যাট ত্বকের জেল্লা বাড়ায়। আর পানি ও খাবারের পুষ্টি ত্বকের ভিতরে গিয়ে টক্সিন বের করে দেয়।
১৪. ভিটামিনের ভাণ্ডার:
সামুদ্রিক মাছে আছে অত্যন্ত দরকারি ভিটামিন ডি। এই ভিটামিন শরীরের সামগ্রিকভাবে ভাল থাকার জন্য দরকার। সুতরাং সামুদ্রিক মাছ খেলে আপনার শরীরে ভিটামিন ডি’র অভাব হবে না।
১৫. মানসিক অবসাদ কমায়:
সামুদ্রিক মাছে ভিটামিন ডি, ডিএইচএ ও ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড আছে সেগুলো সবটাই অ্যান্টি-ডিপ্রেশানের জন্য দারুণ কার্যকরী।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে