‘সাম্প্রদায়িক’ শব্দটি নিজেই কোনো সম্প্রদায়ের সাম্প্রদায়িকতায় দূষিত


কলকাতার সংসদ বাঙ্গালা অভিধানে ‘সাম্প্রদায়িক’ শব্দটির অর্থ লিখেছে, “পরম্পরা প্রাপ্ত; সম্প্রদায় সম্বন্ধীয়, বিভিন্ন সম্প্রদায়গত বা দল গঠিত; সম্প্রদায়গত ভেদবুদ্ধিসম্পন্ন।
বস্তুত, প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব বিধি-বিধান আছে, নিজস্ব কিছু সংস্কৃতি-ঐতিহ্য আছে। প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ নিজ ধর্ম পালনে, নিজ নিজ ধর্মের প্রচার প্রসারে কাজ করবে, নিজস্ব ধর্মীয় বিধান মেনে চলবে, নিজস্ব স্বকীয়তা ধরে রেখে সেটা লালন-পালন করবে -এটাই স্বাভাবিক। যেমন- মহান আল্লাহ পাক তিনি ঈমান আনয়নকারী উনাদের উদ্দেশ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন, “তোমরা মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করোনা।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ)
এখানে মহান আল্লাহ পাক স্বয়ং নিজেই মুসলমান উনাদের সাম্প্রদায়িক (ঈমানি) মনোভাব রাখা, সাম্প্রদায়িকতা (ধর্মীয় স্বকীয়তা, ধর্মীয় বিধি বিধান) আকড়ে ধরে মৃত্যুবরণ করার কথা বলছেন। তাহলে এখানে কেউ যদি প্রচলিত অর্থে (নেতিবাচক ভাবে) মহান আল্লাহ পাক উনাকে সাম্প্রদায়িক বলে মনে করে তাহলে তার ঈমানই বরবাদ হয়ে যাবে, মুসলমান হওয়াতো দূরে থাক। তাহলে বোঝা গেল, সম্প্রদায় বা সাম্প্রদায়িক সম্পর্কিত প্রতিটি বিষয়বস্তু ভালো অর্থ ও গুরুত্ব বহন করে।
সুতরাং এই ‘সাম্প্রদায়িক’ বা ‘সাম্প্রদায়িকতা’ শব্দটি নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার না করে বরং স্বাভাবিক অর্থে বা ভালা অর্থে ব্যবহার করা উচিত। উদাহরণস্বরূপ, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, “নিশ্চয়ই মুশরিকরা নাপাক।” (পবিত্র সূরা-তওবা শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ২৮)
এখন পবিত্র আয়াত শরীফ হিসেবে বা দ্বীন ইসলাম উনার শিক্ষা হিসেবে মুসলমানগণ এর প্রচার-প্রসার করতেই পারেন। সুতরাং উক্ত আয়াত শরীফ প্রচারকারীকে নেতিবাচক অর্থে কিংবা হিংসাত্মক মনোভাব নিয়ে ‘সাম্প্রদায়িক’ বলাটা কি ঠিক হবে? না, বরং মূর্খ ও ভাষাজ্ঞানহীন হিসেবে পরিচয় দেয়া হবে। তদ্রƒপ কোনো হিন্দু-বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোক যদি তার ধর্ম পালন করে সেটা হবে তার সাম্প্রদায়িকতা।
এখন যারা হিংসুটে বা কোনো সম্প্রদায়ের ‘ভালোত্ব’ মেনে নিতে পারে না, বোধ করি তারাই ওই ভালো সম্প্রদায়কে ‘সাম্প্রদায়িক’ বলে অ্যাখ্যায়িত করে তৃপ্তিবোধ করে।

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে