সারা দেশে ৩০ লাখ মামলা বিচারাধীন। ৭ বছরে বেড়েছে ৯ লাখ।


অ্যাংলো-স্যাক্সন যুগের আইন প্রথা তথা প্রচলিত ফৌজদারী ও দেওয়ানী উভয় দ-বিধি সঙ্গতকারণেই পরিবর্তন হওয়া দরকার।
মামলার জট কমাতে ব্রিটিশ আদলে ছুটি কমানো দরকার। পাশাপাশি দরকার পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে সব আইন প্রয়োগ করা।

দেশের আদালতগুলোতে মামলার পাহাড় জমছে। বছরে বছরে মামলার সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে বিচার বিভাগে ৩০ লাখেরও বেশি মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় (পেন্ডিং) আছে। সূত্র জানায়, চলমান অবরোধ ও বিক্ষিপ্ত হরতালের কারণে পেন্ডিং মামলার সংখ্যা বাড়ছেই। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি চালু, বিচারক নিয়োগ, হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে অতিরিক্ত বেঞ্চ গঠন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, বিচারিক আদালতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, অধিক মামলার নিষ্পত্তিÑ কোনো ব্যবস্থায়ই খুব একটা ফলপ্রসূ হচ্ছে না।
জানা গেছে, ৩০ লাখ ৭ হাজার ৮৬০টি পেন্ডিং মামলা নিয়ে ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করে বিচার বিভাগ। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে বিচারের অপেক্ষায় আছে ৩ লাখ ৬১ হাজার ৩৮টি মামলা। আপিল বিভাগে জমে থাকা মামলার সংখ্যা ১৫ হাজার ৩৪৬। এছাড়া দেশের বিভিন্ন বিচারিক আদালতে (নিম্ন আদালত) ঝুলে থাকা মামলার সংখ্যা ২৬ লাখ ৩১ হাজার ৪৭৬টি।
সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা জানায়, বিচারিক আদালতের মধ্যে দেশের সব জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং বিভিন্ন ট্রাইব্যুনালে মোট ১৬ লাখ ৪৫ হাজার ৯৬৭টি মামলা বিচারাধীন। এছাড়া সব ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৫০৯টি মামলা।
এদিকে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে পেন্ডিং মামলাগুলোর মধ্যে ফৌজদারি মামলা ২ লাখ ৯ হাজার ৫৫১টি, দেওয়ানি মামলা ৮৪ হাজার ৪২৬টি, রিট ৬১ হাজার ২৬৭টি ও আদিম দেওয়ানি ৫ হাজার ৮০৪টি মামলা। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে দেওয়ানি পিটিশন ৭ হাজার ৯৬১টি, দেওয়ানি রিভিউ ৩২৩টি, দেওয়ানি বিবিধ পিটিশন ২ হাজার ৩৮৪টি, দেওয়ানি আপিল ১ হাজার ৭৪৯টি, ফৌজদারি পিটিশন ১ হাজার ২৩৭টি, ফৌজদারি রিভিউ ২৪টি, জেল পিটিশন ৮৯৯টি, ফৌজদারি বিবিধ পিটিশন ৫৬০টি, ফৌজদারি আপিল ১০০টি, জেল আপিল ২২টি ও কনটেম্পট পিটিশন ৫৭টি বর্তমানে পেন্ডিং আছে।
এদিকে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির জন্য কিছুদিন পরপরই বেঞ্চ পরিবর্তন করা হচ্ছে, পেপারবুকের জট কমাতে কেনা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সরঞ্জামাদি, বাড়ানো হয়েছে বিচারকের সংখ্যা। মামলাজট কমাতে আপিল বিভাগেও বেঞ্চ বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু প্রতিদিন যে হারে নতুন মামলা যোগ হচ্ছে সে তুলনায় এ পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। তাই বিশাল এ মামলাজট রয়েই যাচ্ছে। এদিকে শুধু বিচারকের সংখ্যা বাড়িয়ে মামলাজট কমানো সম্ভব কিনা তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে দেশের শীর্ষ আইনজীবীরা।
বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগে বিচারক আছে ৯১ জনের মতো, কিন্তু তার পরও মামলাজট বেড়ে তিন লাখ ১৬ হাজারেরও উপরে দাঁড়িয়েছে। উভয় বিভাগে জমে থাকা মামলা নিষ্পত্তির জন্য বর্তমানে ৫০টি বেঞ্চ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিচারাধীন ২৬ লাখ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সান্ধ্যকালীন কোর্ট বসানোর সুপারিশ করেছে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।
মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হলে দুই আদালতেই দ্বিতীয় শিফট বা সান্ধ্যকালীন কোর্ট চালু করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনে অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের পুনরায় নিয়োগ করতে হবে। এজন্য উচ্চ আদলতের ক্ষেত্রে আইন সংশোধন প্রয়োজন হবে।
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও ব্যাংককের উদাহরণ টেনে বলা যায়, ওই সব দেশে দুই শিফট চালু আছে। আমাদেরকেও পুরনো অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি উল্লেখ্য, বাংলাদেশের হাইকোর্টে ১৮৬ দিন ছুটি থাকে। এ অবস্থার প্রতি আইনজীবী বিচারক উভয়েরই অনাস্থা আনা প্রয়োজন। একজন বিচারক যদি বছরে ছয় মাস ছুটি ভোগ করে তাহলে বিচারকের সংখ্যা বাড়ালেও মামলা জট কমবে না।
তবে যে কথাটি বিশেষ প্রণিধানযোগ্য তাহলো- আমাদের বর্তমান বিচারব্যবস্থা ইংল্যান্ডের অ্যাংলো-স্যাক্সন বিচার ব্যবস্থার অনুরূপ। মামলা জট কমাতে, মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এর সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে বর্তমানে দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং লক্ষ লক্ষ মামলার জটের কারণে অবিলম্বে যেমন হাইকোর্ট মাসকে মাস বন্ধের বিপরীতে খোলা রাখা দরকার। তার পাশাপাশি বিশেষ করে ১৮৯৮ সালের সিআরপি (ফৌজদারী দন্ডবিধি) এবং ১৯০৮ সালের সিপিসি (দেওয়ানী কার্যবিধি) বর্তমানে সমাজে প্রযোজ্য হতে পারে না। সে বিষয়টিও গভীরভাবে আমলে নেয়া দরকার। তবে এ সংস্কার প্রচলিত প্রথায় করলে স্বভাবতই তা আগের মতোই অসুবিধা বয়ে আনবে।
প্রসঙ্গত, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “সমগ্র বিশ্ব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং মহান আল্লাহ পাক তিনিই উৎকৃষ্ট হুকুমদাতা।”
মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্র ইরশাদ মুবারক করেন, “যারা মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম অনুযায়ী আইন প্রয়োগ করে না তারা যালিম, ফাসিক, কাফির।”
বলাবাহুল্য, ‘পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের বিরোধী কোনো আইন পাস করা হবে না’- এই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বর্তমান সরকারের রয়েছে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা। সেক্ষেত্রে তারা খুব সহজেই পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে সব আইন প্রবর্তন করে রাষ্ট্রধর্ম পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মর্যাদা সমুন্নত করতে পারেন। প্রাণাধিক প্রিয় ধর্ম পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি সম্মান দেখিয়ে সম্মানিত ইসলামী আইন প্রয়োগ করে ৯৮ ভাগেরও বেশি এদেশের মুসলমান জনগোষ্ঠীর অন্তরের অন্তঃস্থল খুশি করতে পারেন। পারেন এদেশের ৯৮ ভাগ মুসলিম জনগোষ্ঠীর অন্তরে গেঁথে যেতে।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে