সারা বৎসরই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও আনহুন্না উনাদের ফাযায়িল-ফযীলত ও ছানা-ছিফত মুবারক বেশি বেশি বর্ণনা করা সকল মুসলমানদের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য


নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মর্যাদা-মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত, শান-শওকত মুবারক সম্পর্কে তোমরা অবগত হও।’ সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও আনহুন্না উনারা পুরুষ হোন অথবা মহিলা হোন; উনারা হলেন হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পর সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা মুবারক উনার অধিকারী ও অধিকারিণী। সুবহানাল্লাহ! তাই সকল মুসলমানদের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাসসহ সারা বৎসরই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও আনহুন্না উনাদের ফাযায়িল-ফযীলত ও ছানা-ছিফত মুবারক বেশি বেশি বর্ণনা করা এবং উনাদের প্রতি পরিপূর্ণ হুসনে যন রাখা, মুহব্বতও বেশি বেশি প্রকাশ করা।
যা ইহকালে হিদায়েত ও পরকালে নাজাতের উসীলা হবে। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাসসহ সারা বৎসরই সম্মানিত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ফাযায়িল-ফযীলত ও ছানা-ছিফত মুবারক বেশি বেশি বর্ণনা করা এবং উনাদের প্রতি হুসনে যন প্রকাশ করার পাশাপাশি বেশি বেশি মুহব্বতও প্রকাশ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য। তবে বিশেষভাবে পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাসে উনাদের ফাযায়িল-ফযীলত ও ছানা-ছিফত মুবারক বেশি বেশি বর্ণনা করা এবং হুসনে যন প্রকাশ করার পাশাপাশি মুহব্বতও বেশি বেশি প্রকাশ করার কথা বলার কারণ হলো- পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাস উনার দশ (১০) তারিখ অর্থাৎ পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিন কারবালায় সংঘটিত ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহির অপকর্মকে কেন্দ্র করে কেউ কেউ বিশিষ্ট ছাহাবী, কাতিবে ওহী, আমীরুল মু’মিনীন হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সমালোচনা করে থাকে। নাউযুবিল্লাহ! আবার কেউ কেউ অন্যান্য হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরও সমালোচনা করে থাকে। নাউযুবিল্লাহ! যা পবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত এবং জাহান্নামী হওয়ার কারণ। তাই প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয হচ্ছে, পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাসসহ সারা বছরই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও আনহুন্না উনাদের বেশি বেশি ফাযায়িল-ফযীলত ও ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করা ও মুহব্বত প্রকাশ করা।

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও আনহুন্না উনাদের ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যাঁরা সঙ্গী অর্থাৎ খাদিম বা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা কাফিরদের প্রতি কঠোর ও দৃঢ়চিত্ত, নিজেদের মধ্যে পরস্পর সহানুভূতিশীল। মহান আল্লাহ পাক উনার অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি মুবারক কামনায় আপনি উনাদেরকে রুকূ ও সিজদাবনত দেখবেন। উনাদের মুখম-ল মুবারক উনার মধ্যে রয়েছে পবিত্র সিজদা মুবারক উনার চিহ্ন। সুবহানাল্লাহ! আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমার প্রত্যেক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা তারকা সাদৃশ্য, উনাদের যে কাউকে যেকোনো ব্যক্তি অনুসরণ করবে তারা হিদায়েত পেয়ে যাবে। সুবহানাল্লাহ!

এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের গুণাবলী, শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশেষ লক্ষণাদি বর্ণনা করা হয়েছে। যদিও নুযূল খাছ তবে হুকুম হচ্ছে আম অর্থাৎ এতে সকল হযরত ছাহাবায়ে কিরাম উনারাই দাখিল রয়েছেন। অর্থাৎ সমস্ত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা ছিলেন পরস্পর পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল আর কাফিরদের প্রতি কঠোর। মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি মুবারক লাভের উদ্দেশ্যেই পবিত্র আক্বাইদ মুবারক, ইবাদত মুবারক, মুয়ামিলাত মুবারক, মুয়াশারাত মুবারক, তাছাউফ মুবারক ইত্যাদি সবই করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

অথচ কিছু গুমরাহ ও বাতিল ফিরক্বার লোক সেই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে সত্যের মাপকাঠি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। উপরন্তু উনাদেরকে নাক্বিছ ও অপূর্ণ বলে আত্মতৃপ্তি লাভ করতে চায়। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! মূলত, এরা সবাই লা’নতগ্রস্ত ও কাফির। কারণ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের প্রতি মুহব্বত রাখা, উনাদের প্রতি সুধারণা পোষণ করা হচ্ছে পবিত্র ঈমান। উনাদের ইত্তিবা বা অনুসরণ করা ফরয। আর উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা, উনাদেরকে কষ্ট দেয়া, উনাদের সমালোচনা করা, উনাদেরকে নাক্বিছ বা অপূর্ণ বলা কাট্টা কুফরী। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, একমাত্র কাফিররাই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষন করে। আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে যে আমার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষন করে সে কাফির।’ নাউযুবিল্লাহ! এটাই সম্মানিত আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা বা বিশ্বাস এবং ফতওয়া। এর বিপরীত আক্বীদা পোষণ করা কুফরী ।

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে