সালাফীদের মূল মুরুব্বী ইবনে তাইমিয়া, আলবানী, উসাইমিন- এরা পবিত্র লাইলাতুম মুবারকাহ অর্থাৎ পবিত্র শবে বরাতের ফযীলত ও আমল স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে


বর্তমান সালাফী-ওহাবীরা লাইলাতুম মুবারকাহ, লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান অর্থাৎ পবিত্র শবে বরাত শরীফ আসলে বিরোধিতায় মেতে উঠে। অথচ তাদের পূর্বসূরি মুরুব্বীরা পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র তাফসীর শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, হযরত সলফে ছালিহীন উনাদের আমলে ব্যাপকতার কারণে অসীকার করার কোনো সাহসই পায়নি। তারা অকপটে সত্য স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। সালাফী লা’মাযহাবীদের কথিত মূল তিনজন মুরুব্বীর কিতাব থেকে লাইলাতুম মুবারকাহ, লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা পবিত্র শবে বরাত শরীফ উনার দলীল পেশ করা হবে-
ওহাবীদের মূল মুরুব্বী ইবনে তাইমিয়া তার ‘মাজমুয়ায়ে ফতওয়া’ কিতাবে পবিত্র শবে বরাত শরীফ বিষয়ে লিখেছে,
وَأَمَّا لَيْلَةُ النِّصْفِ فَقَدْ رُوِيَ فِي فَضْلِهَا أَحَادِيثُ وَآثَارٌ وَنُقِلَ عَنْ طَائِفَةٍ مِنْ السَّلَفِ أَنَّهُمْ كَانُوا يُصَلُّونَ فِيهَا
অর্থ: “মূলত লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান অর্থাৎ পবিত্র শবে বরাত শরীফ উনার মর্যাদা পবিত্র হাদীছ শরীফ ও আছার শরীফ দ্বারা সাব্যস্ত আছে। সলফে ছালিহীনগণ থেকে এ রাতে নামায আদায় অর্থাৎ ইবাদত-বন্দেগী করার কথাও বর্ণিত রয়েছে।” (দলীল: মজমুয়ায়ে ফতওয়া ২৩ তম খন্ড ১৩২ পৃষ্ঠা)
ইবনে তাইমিয়ার কিতাব থেকে যা বোঝা গেলো,
১) পবিত্র শবে বরাত শরীফ উনার অনেক মর্যাদা আছে।
২) পবিত্র শবে বরাত শরীফ পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত।
৩) এ রাতে জাগ্রত থেকে নামায বা ইবাদত করার অনেক ফযীলত রয়েছে।
৪) হযরত সলফে ছালেহীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা এ রাতে ইবাদত-বন্দেগী করতেন।
সুতরাং যারা শবে বরাত অস্বীকারকারী তারা মূলত পবিত্র হাদীছ শরীফ ও হযরত সলফে ছালিহীন উনাদের পথতো বটেই নিজেদের মুরুব্বী ইবনে তাইমিয়ার পথ থেকেও খারিজ।
পবিত্র শবে বরাত অস্বীকারকারী লা’মাযহাবীদের অন্যতম মান্যবর হচ্ছে আলবানী। আলবানী তার একটা কিতাব “ছহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব” কিতাবের ৩য় খন্ড ৫৩ ও ৫৪ পৃষ্ঠায় পবিত্র শবে বরাত শরীফ সম্পর্কে ৫ খানা পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছে। উক্ত কিতাবের ২৭৬৭ নম্বর পবিত্র হাদীছ শরীফে হযরত মুয়াজ বিন জাবাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু কর্তৃক বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাকে “হাসান ছহীহ” বলেছে।
২৭৬৮ নম্বর পবিত্র হাদীছ শরীফ- হযরত আবু মুসা আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাকে “ছহীহ লি গাইরিহী” বলেছে। ২৭৬৯ নম্বর পবিত্র হাদীছ শরীফ- আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাকে “ছহীহ লি গাইরিহী” বলেছে, এবং মন্তব্য হিসাবে বলেছে “এই সনদে কোনো সমস্যা নেই”। এরপর ২৭৭০ নম্বর পবিত্র হাদীছ শরীফ- হযরত কাছীর ইবনে মুররা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাকে “ছহীহ লি গাইরিহী” বলেছে। হযরত মাকহুল রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত ২৭৭১ নম্বর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাকে “ছহীহ লি গাইরিহী” বলেছে।
এখানেই শেষ নয়, আলবানী তার আরেকটি কিতাব, যা ছালাফীদের কাছে খুবই সমাদৃত, যার নাম হচ্ছে- “সিলসিলাতু আহাদীছি আছ ছহীহা”। উক্ত কিতাবে পবিত্র শবে বরাত শরীফ উনার পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাকে ছহীহ বলে উল্লেখ করে লিখেছে,
حديث صحيح ، روي عن جماعة من الصحابة من طرق مختلفة يشد بعضها بعضا و هم معاذ ابن جبل و أبو ثعلبة الخشني و عبد الله بن عمرو و أبي موسى الأشعري و أبي هريرة و أبي بكر الصديق و عوف ابن مالك و عائشة
“পবিত্র হাদীছ শরীফখানা ছহীহ। কেননা এক জামায়াত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের থেকে বিভিন্ন সূত্রে নিছফে শা’বান উনার মর্যদার উপর একাধিক পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত আছে। বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হওয়ার কারণে পবিত্র হাদীছ শরীফখানা মজবুতি লাভ করেছে। যে সকল হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের থেকে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত আছে উনারা হলেন, হযরত মু’আয ইবনে জাবাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আবু ছালাবা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত আব্দল্লাহ বিন উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আবু মূসা আল আশ’আরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আবু হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম, হযরত আউফ বিন মালেক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম। এছাড়াও অনেক আকাবির ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন। (দলীল: সিলসিলাতু আহাদীছি আছ ছহীহা ৩য় খন্ড ১৩৫ পৃষ্ঠা: হাদীছ নম্বর ১১৪৪)
দেখা গেলো সালাফীদের অন্যতম গুমরাহ মুরুব্বী আলবানী সে পবিত্র শবে বরাত শরীফ উনার পবিত্র হাদীছ শরীফ ছহীহ বলতে বাধ্য হয়েছে। তাহলে বর্তমান নব্য সালাফী লা’মাযহাবীরা বিরোধিতা করে কোন সাহসে?
সউদী আরবের মুফতী বোর্ডের সাবেক অন্যতম ফতওয়াদানকারী, সালাফীদের সমসাময়িক অন্যতম গুমরাহ মুরুব্বী বিন সালেহ আল-উসাইমিন সে শবে বরাত উনার পক্ষে ফতওয়া দিয়েছে, সে তার ফতওয়ার কিতাবে লিখেছে,
ومن هذا الباب ليلة النصف من شعبان روي في فضلها أحاديث ومن السلف من يخصها بالقيام ومن العلماء من السلف وغيرهم من أنكر فضلها وطعن في الأحاديث الواردة فيها، لكن الذي عليه كثير من أهل العلم أو أكثرهم على تفضيلها
অর্থ: মূলকথা সম্মানিত ১৫ই শা’বান শরীফ রাত অর্থাৎ পবিত্র শবে বরাত শরীফ উনার ফযীলত উনার বিষয়ে অনেক পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে। পূর্ববর্তী অনেক উলামায়ে কিরাম তা দলীলের মাধ্যমে ছাবিত করেছেন। আবার কেউ কেউ তা অস্বীকার করেছে এবং এ সম্পর্কিত হাদীছ শরীফ উনার বিষয়ে আপত্তি তুলেছে। তবে অধিকাংশ উলামায়ে কিরামগণই পবিত্র শবে বরাত শরীফ উনার পক্ষে। (মজমুয়ায়ে ফতওয়া ওয়া রাসায়েল ইবনে উসাইমিন ৭ম খন্ড ২০৫ পৃষ্ঠা)
উপরোক্ত ফতওয়া থেকে যেটা বোঝা গেলো,
১) পবিত্র শবে বরাত শরীফ উনার ব্যাপারে অনেক ছহীহ হাদীছ শরীফ আছে।
২) অধিকাংশ (সকল) উলামায়ে কিরাম পবিত্র শবে বরাত শরীফ উনার ফযীলত স্বীকার করেছেন।
যারা ফযীলত অস্বীকার করেছে তারা অধিকাংশ উলামায়ে কিরাম উনাদের বিরোধিতা করেছে, সে কারণে যারা অস্বীকার করেছে তাদের ভিত্তিহীন দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।
সুতরাং যারা পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ অস্বীকারের পাশাপাশি নিজেদের কথিত গুমরাহ মুরুব্বীদের ফতওয়াই মানছে না বুঝতে হবে এদের ভিন্নকোনো উদ্দেশ্য রয়েছে। তারা সমাজে বিভক্তি ও ফিতনা বিস্তার করার জন্য ইহুদীদের এজেন্ট হিসাবে কাজ করছে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে