সুন্নতকে অস্বীকার করা যাবে না


সুন্নতের অনুসরণ ছাড়া কোন বান্দার জন্য আল্লাহ পাক ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি পাওয়া সম্ভব নয়। যেমন, কুরআন শরীফের “সূরা আলে ইমরান”-এর ৩১নং আয়াত শরীফে ইরশাদ হয়েছে,

قل ان كنتم تحبون الله فاتبعونى يحببكم الله ويغفر لكم ذنوبكم والله غفور رحيم.

অর্থঃ- “(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি সারাবিশ্বের মানুষ ও জ্বিনদেরকে বলে দিন, তোমরা যদি আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করতে চাও তাহলে আমাকে অনুসরণ-অনুকরণ করো। তাহলে আল্লাহ পাক তোমাদেরকে মুহব্বত করবেন এবং তোমাদের গুণাহ্খতাগুলো ক্ষমা করে দিবেন। আর আল্লাহ পাক ক্ষমাশীল, দয়ালু করুণাময়।”

“মিশকাত শরীফে” ‘কিতাবুল ঈমানে’ বর্ণিত আছে,

عن ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم كل امتى يدخلون الجنة الا من ابى قيل ومن ابى قال من اطاعنى دخل الجنة ومن عصانى فقد ابى. رواه البخارى.

অর্থঃ- “হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আমার সকল উম্মতই জান্নাতে যাবে, যে জান্নাতে যেতে অসম্মত সে ব্যতীত। জিজ্ঞাসা করা হলো, কে অসম্মত? হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যে আমাকে ইত্তিবা (অনুসরণ-অনুকরণ) করে সে জান্নাতে যাবে আর যে আমার অবাধ্য হয়েছে সে জান্নাতে যেতে অসম্মত।

হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এটা বর্ণনা করেছেন।
“মিশকাত শরীফ”-এর ‘কিতাবুল ঈমানে’ বর্ণিত আছে,

عن انس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من احب سنتى فقد احبنى ومن احبنى كان معى فى الجنة. رواه الترمذى.

অর্থঃ- “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আমার সুন্নতকে (অনুসরণের মাধ্যমে) ভালবাসে যে যেন আমাকেই ভালবাসে। আর যে আমাকে ভালবাসে, সে জান্নাতে আমার সাথে থাকবে। হযরত ইমাম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি এটা বর্ণনা করেছেন।”

عن ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من تمسك بسنتى عند فساد امتى فله اجر مائة شهيد. رواه البيهقى فى كتاب الجهاد.

অর্থঃ- “হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আমার উম্মতের ফিৎনা-ফাসাদের যুগে একটি সুন্নতকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়িয়ে ধরবে, তার জন্য একশত শহীদের ছওয়াব রয়েছে।

হযরত ইমাম বাইহাক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি ‘কিতাবুল জিহাদে’ এটা বর্ণনা করেছেন।

আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুন্নত পালন করতে যেমন নির্দেশ দিয়েছেন তেমনিভাবে সুন্নতের খিলাফ কাজ তথা বিদ্য়াত, বেশরা, হারাম ও নাজায়িয কাজ থেকে বিরত থাকতেও বলেছেন।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,

وما اتاكم الرسول فخذوه وما نهاكم عنه فانتهوا.

অর্থঃ- “তোমাদের রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাদের জন্য যা কিছু নিয়ে এসেছেন তা তোমরা আঁকড়িয়ে ধরো। আর তোমাদেরকে যা থেকে বারণ করেছেন তা থেকে বিরত থাক।” (সূরা হাশর-৭)

উল্লেখ্য যে, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পর যা কিছু নতুন উদ্ভব হয়েছে, যার অস্তিত্ব শরীয়তে নেই তাই বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়্যাহ্ যা শরীয়তে পরিত্যাজ্য।

আর যা নতুন উদ্ভব হয়েছে সত্যিই কিন্তু তার নমুনা বা অস্তিত্ব শরীয়তে বিদ্যমান রয়েছে তাই বিদ্য়াতে হাসানা বা উত্তম আবিস্কৃত। যা শরীয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণীয়।

বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্র সম্পর্কে “মিশকাত শরীফ”-এর ‘কিতাবুল ঈমানে’ বর্ণিত আছে,

كل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة.

অর্থঃ- “প্রত্যেক নতুন কথাই বিদ্য়াত (যদিও হাসানা হয়।)। আর প্রত্যেক বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ গোমরাহী।” (মুসনাদে আহমদ বিন হাম্বল, আবূ দাউদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, ইবনু মাজাহ শরীফ)

অতএব, যা জানলাম —

* সুন্নতকে অস্বীকার করা যাবে না,
* বিদ্য়াতে হাসানা বা উত্তম আবিস্কৃত। যা শরীয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণ করা
যাবে। কিন্তু
* বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়্যাহ্ যা শরীয়তে পরিত্যাজ্য অর্থাৎ যা গ্রহণ করা যাবে
না ।

আর তাই শুধু বিদয়াত হলেই যে বাতিল হবে — একথার কোন গ্রহণযোগ্যতা নাই ।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে