সুন্নতী বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের ফলে প্রতিবন্ধী, অক্ষম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে


বয়সের সাথে সাথে অনেক শিশুর বড় হওয়াটা চোখে পড়ে না। কারণ ওদের বেড়ে উঠা, আর পাঁচটি শিশুর মতো নয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই সমস্যাকে বলে ডাউন সিনড্রোম। অর্থাৎ কাঙ্খিত মাত্রায় বেড়ে না উঠা।

ডাউন সিনড্রোম শিশুরা সাধারণত প্রতিবন্ধী শিশু হিসেবে বেঁচে থাকে। তারা অন্য শিশুদের তুলনায়, শারীরিক ও মানসিকভাবে দেরিতে বেড়ে উঠে। বসতে, দাঁড়াতে, হাঁটতে বা কথা বলতে শেখে দেরিতে। আবার কেউ কেউ এরকম এক বা একাধিক ক্ষমতা কখনোই রপ্ত করতে পারে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর পাঁচ হাজার ডাউন সিনড্রো শিশুর জন্ম হয়। কিন্তু এই ডাউন সিনড্রোম হওয়ার নেপথ্যে কি কারণ থাকতে পারে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীর যত বেশি বয়সে বিয়ে হয় বা যত বেশি বয়সে মা হবেন, তার সন্তানেরও ডাউন সিনড্রোম নিয়ে জন্মের আশঙ্কা তত বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অল্পবয়সে গর্ভধারণ করলে ও প্রাকৃতিক উপায়ে সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে, সে সন্তান অন্যান্য সন্তানের তুলনায় অনেক বেশি পুষ্টি ও শারীরিক পূর্ণতা নিয়ে জন্মে, অনেক বেশি বুদ্ধি ও সক্ষমতা নিয়ে জন্মে। অপরপক্ষে অধিক বয়সে বিবাহিত নারীর গর্ভজাত সন্তানের মধ্যে শারীরিক অক্ষমতা, দৃষ্টি শক্তি, বাক শক্তি, শারীরিক দুর্বলতাসহ বিভিন্ন প্রকার এবনরমালিটি বা অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়। অনেক শিশু অটিস্টিক কিংবা ডাউন সিনড্রোম নিয়ে জন্মে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, নারী যত বেশি বয়সে মা হবেন, তার সন্তানেরও ডাউন সিনড্রোম নিয়ে জন্মের আশঙ্কা তত বেশি। এসব কারণে দেশে প্রতি বছর পাঁচ হাজার ডাউন সিনড্রোম শিশুর জন্ম হয়। ২৫ বছর বয়সী প্রতি ১২০০ জন গর্ভবতী মায়ের মধ্যে একজন, ৩০ বছর বয়সী প্রতি ৯০০ জনের মধ্যে একজন, আর ৪০ বছর বয়সী প্রতি ১০০ জন মায়ের মধ্যে একজনের ডাউন সিনড্রোম শিশু হতে পারে।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে, কথিত প্রগতিবাদী, নারীবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী কিছু মহল পবিত্র সুন্নতী বাল্যবিবাহের বিরোধিতা করতে গিয়ে অধিক বয়সে বিয়ে করার পক্ষে যে সভা-সেমনিার, আন্দোলন ও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তাতে দেশে প্রতিবন্ধী, অক্ষম, এ্যাবনরমাল শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। পক্ষান্তরে অল্প বয়সে বিয়ে তথা বাল্যবিবাহের গুরুত্ব, উপকারিতা সম্পর্কে প্রচারণা কম হওয়ায় দেশ ও জাতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো বিচক্ষণ নাগরিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর মা শেখ ফজিলাতুন্নেসার বিয়ে হয়েছিলো মাত্র ১১ বছর বয়সে, আর তাঁর প্রথম সন্তান হচ্ছেন আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অতএব, বুদ্ধিমান, বিচক্ষণ জনশক্তি গড়ে তুলতে হলে, দেশে প্রতিবন্ধী ও অক্ষম জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করতে হলে সরকারকে অবশ্যই ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন’ বাতিল করে সরকারিভাবে বাল্যবিবাহের গুরুত্ব, উপকারিতা, প্রয়োজনীয়তার প্রচার-প্রসার করতে হবে।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে