‘সুন্নতী বাল্যবিবাহ’ মহাপবিত্র কুরআন শরীফ ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের স্বারাই স্বীকৃত ও প্রমাণিত!


বাল্যবিবাহ করতে বা দিতে হবে এরূপ বাধ্যবাধকতা সম্মানিত শরীয়ত উনার মধ্যে নেই। তবে বাল্যবিবাহ যেহেতু সম্মানিত শরীয়ত উনার মধ্যে জায়িয ও সুন্নত তাই বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে বলা যাবে না। বললে কুফরী হবে, ঈমান নষ্ট হবে। নাউযুবিল্লাহ!

অনুরূপ উলামায়ে “সূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে প্রয়োজন থাকা স্বত্বেও বাল্যবিবাহ থেকে বিরত থাকবে তারা একটি খাছ সুন্নত পালন করা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি অশ্লীল, অশালীন, অসামাজিক কাজে মশগুল হতে পারে। নাউযুবিল্লাহ!

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ তারা তাদের ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ সকল বিষয়ে সম্মানিত আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ মোতাবেক আমল করে মহান আল্লাহ পাক উনার রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত এ আলোচনা”।

মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং নিজেই বাল্যবিবাহকে বৈধতা দান করেছেন, যা অনেক পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের দ্বারাই অকাট্যভাবে প্রমানিত:

উছুল উনার নির্ভরযোগ্য কিতাব ‘উছূলুল বাযদুবী’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে-

ان اصول الشرع ثلاثة الكتاب والسنة والاجماع والاصل الرابع القياس.

অর্থ: নিশ্চয়ই সম্মানিত শরীয়ত উনার দলীল হচ্ছেন প্রথমত: তিনটি। ১. পবিত্র কুরআন শরীফ ২. পবিত্র সুন্নাহ (হাদীছ শরীফ), ৩. পবিত্র ইজমা শরীফ। চতুর্থ দলীল হচ্ছেন- ৪. পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত শরীয়ত উনার প্রথম দলীল পবিত্র কুরআন শরীফ উনার অনেক পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বারাই বাল্যবিবাহ জায়িয বা বৈধ বলে প্রমাণিত। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং নিজেই বাল্যবিবাহকে বৈধতা দান করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

এ প্রসঙ্গে পবিত্র “সূরা নিসা শরীফ” উনার ৩নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَاِنْ خِفْتُمْ اَلَّا تُقْسِطُوا فِى الْيَتَامٰى فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاءِ مَثْنٰى وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ

অর্থ: “আর যদি তোমরা ভয় কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের হক্ব যথাযথভাবে পূরণ করতে পারবে না, তবে সেসব মেয়েদের মধ্য থেকে যাদের ভালো লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারজন পর্যন্ত।” (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ নং ৩)

এখন জানতে হবে যে, ইয়াতীম কাকে বলে, ‘লিসানুল আরব’ অভিধানে ইয়াতীমের সংজ্ঞায় বর্ণিত আছে-

اليتيم: الذي يموت أبوه حتى يبلغ الحلم، فإذا بلغ زال عنه اسم اليتيم، واليتيمة ما لم تتزوج، فإذا تزوجت زال عنها اسم اليتيمة.

অর্থ: ইয়াতীম এমন সন্তানকে বলা হয়, যার পিতার ইন্তিকাল হয়েছে, বালিগ হওয়া অবধি সে ইয়াতীম হিসাবে গণ্য হবে, বালেগ হওয়ার পর সে আর ইয়াতীম হিসেবে গন্য হবে না অর্থাৎ ইয়াতীম নামটি তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। আর মেয়ে সন্তান বিয়ের পূর্ব পর্যন্ত ইয়াতীম বলে গণ্য হবে, বিয়ের পর তাকে আর ইয়াতীম বলা হবে না।” (লিসানুল আরব ১২/৬৪৫)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইয়াতীম প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে-

قَالَ حضرت عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ عليه السلام حَفِظْتُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏لا يُتْمَ بَعْدَ احْتِلامٍ

অর্থ: ইমামুল আউওয়াল মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে আমি পবিত্র হাদীছ শরীফ হিফয করে রেখেছি যে, বালেগ হওয়ার পর ইয়াতীম থাকে না।” (আবূ দাঊদ শরীফ ২৮৭৫, সুনানে কুবরা বায়হাক্বী ৬/৫৭ হাদীছ ১১৬৪২, মুজামুল কবীর তাবরানী ৩৪২২, সুনানে ছগীর লি বায়হাকী ২০৪৯, শরহুস সুন্নাহ ৯/২০০, ফতহুল বারী ২/৩৪৬, উমদাতুল ক্বারী ২১/১০৭, কানযুল উম্মল ৬০৪৬) এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সনদ উত্তম ও সকল রাবী ছিক্বাহ।

পবিত্র আয়াত শরীফে বর্ণিত “ইয়াতীম” ও তার ব্যাখ্যায় পবিত্র হাদীছ শরীফ এবং লুগাত থেকে যা বোঝা গেলো, তা হচ্ছে-ইয়াতীম মেয়েদের বিবাহ করা যাবে। আর মেয়েদের মধ্যে ইয়াতীম হচ্ছে সেই সব মেয়ে যাদের পিতা মারা গেছে এবং যারা এখনো বালিগ হয়নি। অর্থাৎ অপ্রাপ্ত বয়স্কা।

এ প্রসঙ্গে একখানা ছহীহ পবিত্র হাদীছ শরীফ আছে যেখানে ইয়াতীমকে বিবাহ করা বিষয়টা উল্লেখ আছে-

عَنْ حضرت اَبِي هُرَيْرَةَ رَضِىَ الله تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏الْيَتِيمَةُ تُسْتَأْمَرُ فِي نَفْسِهَا فَإِنْ صَمَتَتْ فَهُوَ اِذْنُهَا وَاِنْ اَبَتْ فَلاَ جَوَازَ عَلَيْهَا‏”‏.‏ قَالَ وَفِى الْبَابِ عَنْ اَبِىْ مُوسٰى رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ وَابْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ وَ اُم المؤمنين عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَام.‏ قَالَ اَبُو عِيسٰى حَدِيْثُ اَبِى هُرَيْرَةَ رضى الله تعالى عنه حَدِيثٌ حَسَنٌ

অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ইয়াতীম কুমারী থেকে তার বিবাহের ব্যাপারে সম্মতি গ্রহণ করতে হবে। যদি সে চুপ থাকে তবে তাই তার সম্মতি বলে গণ্য হবে। আর যদি অস্বীকার করে তবে তার উপর তা কার্যকারী হবে না। এই বিষয়ে হযরত আবূ মূসা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার, হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার এবং উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকেও পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত আছে। ইমাম হযরত আবূ ঈসা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা হাসান। (ছহীহ আবূ দাঊদ ১৮২৫, তিরমিযি শরীফ ১১০৯)

সুতরাং উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারাও প্রমাণিত হলো যে, ইয়াতীম মেয়েকেও বিবাহ করা যাবে, আর ইয়াতীম হচ্ছে তারা যাদের পিতা মারা গেছে এবং যারা এখনো বলেগ হয়নি। অর্থাৎ অপ্রাপ্ত বয়স্কা।

এ প্রসঙ্গে আরো একটি ছহীহ পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত আছে-

وَقَالَ اَحْمَدُ وَاِسْحَاقُ اذَا بَلَغَتِ الْيَتِيمَةُ تِسْعَ سِنِينَ فَزُوِّجَتْ فَرَضِيَتْ فَالنِّكَاحُ جَائِزٌ وَلاَ خِيَارَ لَهَا إِذَا اَدْرَكَتْ ‏.‏ وَاحْتَجَّا بِحَدِيثِ حضرت ام الـمؤمين عَائِشَةَ عليها السلام أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَنَى بِهَا وَهِيَ بِنْتُ تِسْعِ سِنِينَ

অর্থ: হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ও হযরত ইসহাক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা বলেন, ইয়াতীম কণ্যার বয়স নয় (৯) বৎসর হলে যদি তাকে বিয়ে দিয়ে দেয়া হয় এবং সে এতে সম্মতি দান করে তবে এই বিয়ে জায়িয। সাবালিকা হওয়ার পর আর তার ইখতিয়ার (ইচ্ছা-স্বাধীনতা) থাকবে না। উনারা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার বিষয়কে দলীল হিসাবে পেশ করেন যে, যখন উনার বয়স মুবারক নয় (৯) বৎসর হয়, তখন তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হুজরা মুবারকে তাশরীফ গ্রহণ করেন।

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

وَاللَّائِىْ يَئِسْنَ مِنَ الْمَحِيضِ مِن نِّسَائِكُمْ اِنِ ارْتَبْتُمْ فَعِدَّتُهُنَّ ثَلَاثَةُ اَشْهُرٍ واللَّائِىْ لَمْ يَحِضْنَ

অর্থ: “তোমাদের (তালাকপ্রাপ্তা) স্ত্রীদের মধ্যে যারা ঋতুবর্তী হওয়ার কাল অতিক্রম করে গেছে, তাদের ইদ্দত সম্পর্কে তোমরা যদি সংশয়ে থাক তাহলে তাদের ইদ্দতকাল হবে তিন মাস। এবং যারা এখনও ঋতুর বয়সে পৌঁছেনি (নাবালিগা) তাদেরও একই হুকুম। (পবিত্র সূরা ত্বলাক্ব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ নং ৪)

উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে উল্লেখ আছে-

لما نزلت هذه الاية (والـمطلقات يتربصن بأنفسهن ثلاثة قروء) (سورة البقرة الآية ۲۲۸) سالوا النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم فقالوا :يا رسول الله صلى الله عليه وسلم ارايت التى لم تحض والتى قد يئست من الـمحيض فاختلفوا فيهما فانزل الله تعالى

অর্থ: যখন পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ উনার ২২৮ নং পবিত্র আয়াত শরীফ অবতীর্ণ হয়েছিল তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনারা একমত হতে না পেরে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ঐ সমস্ত মেয়েরা যারা এখনও ঋতুর বয়সে পৌঁছেনি অর্থাৎ অপ্রাপ্ত বয়স্কা এবং ঐ সমস্ত মহিলা যারা ঋতুবর্তী হওয়ার কাল অতিক্রম করে গেছে, তাদের হুকুম কি? তখন মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন-

واللَّائِىْ لَمْ يَحِضْنَ فَعِدَّتُهُنَّ ثَلَاثَةُ اَشْهُرٍ

অর্থ: ঐ সমস্ত স্ত্রী লোক যারা এখনো ঋতুর বয়সে পৌঁছায়নি তাদের ইদ্দত তিন মাস।

পবিত্র সূরা নিসা শরীফ উনার ৩নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইয়াতীম ছেলে মেয়ের নিকাহ বা বিবাহের বিষয়টিকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। যার অর্থ হচ্ছে নাবালিগ নাবালিগা অর্থাৎ অপ্রাপ্ত বয়স্ক বা অপ্রাপ্তা বয়স্কা ছেলে মেয়ের নিকাহ বা বিবাহ বৈধ। আর পবিত্র সূরা ত্বলাক্ব শরীফ উনার ৪নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে যেসকল মেয়েরা ঋতুর বয়সে পৌঁছেনি সেসকল মেয়েদের নিকাহ বা বিয়ের বিষয়টি স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। যার অর্থ হলো নাবালিগা বা অপ্রাপ্ত বয়স্কা মেয়ের নিকাহ বা বিবাহ বৈধ।

অতএব, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার একাধিক পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের দ্বারাই অকাট্যভাবে প্রমাণিত হলো যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং নিজেই বাল্য বিবাহকে বৈধতা দান করেছেন। কাজেই, বাল্যবিবাহকে অবৈধ বলা বা বাল্যবিবাহের বিরোধিতা করা মূলতঃ মহান আল্লাহ পাক উনারই বিরোধিতা করা, যা কাট্টা কুফরী।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং নিজেই বাল্যবিবাহ করেছেন যা অসংখ্য পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারাই অকাট্যভাবে প্রমাণিত:

সম্মানিত শরীয়ত উনার দ্বিতীয় দলীল পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার অনেক ছহীহ বা বিশুদ্ধ বর্ণনা দ্বারাও বাল্যবিবাহ শুধু জায়িয বা বৈধই প্রমাণিত হয় না বরং খাছ সুন্নত বলেও প্রমাণিত হয়। সুবহানাল্লাহ!

কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং নিজেই পবিত্র বাল্যবিবাহ মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! যা ছিহাহ সিত্তাহসহ প্রায় সকল পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার কিতাবসমূহে উল্লেখ রয়েছে। যেমন-

কিতাবুল্লাহ বা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পর হাদীছ শরীফের সবচেয়ে ছহীহ বা বিশুদ্ধ কিতাব ‘বুখারী শরীফ’ উনার বর্ণনাসমূহ-

عَنْ حَضْرَتَ اُمّ الْـمُؤْمِنِيْنَ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَام ان النبى صلى الله عليه وسلم تزوجها وهى بنت ست سنين وأدخلت عليه وهى بنت تسع ومكثت عنده تسعا.

অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে (হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম) উনার আক্বদ বা নিসবাতুল আযীম মুবারক সম্পন্ন হয় যখন উনার বয়স মুবারক ছিল ৬ বছর। আর তিনি ৯ বছর বয়স মুবারকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন এবং ৯ বছর উনার সাথে অবস্থান মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ! (ছহীহুল বুখারী কিতাবু বাদইল ওয়াহই বাবু ইনকাহির রজুলি ওয়ালাদাহুছ ছিগার)

عَنْ حَضْرَتَ اُمّ الْـمُؤْمِنِيْنَ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَام اَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَزَوَّجَهَا وَهْيَ بِنْتُ سِتِّ سِنِينَ وَبَنَى بِهَا وَهى بِنْتُ تِسْعِ سِنِينَ. قَالَ هِشَامٌ وَاُنْبِئْتُ أَنَّهَا كَانَتْ عِنْدَهُ تِسْعَ سِنِينَ.

অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে (হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম) উনার আক্বদ বা নিসবাতুল আযীম মুবারক সম্পন্ন হয় যখন উনার বয়স মুবারক ছিল ৬ বছর। আর তিনি ৯ বছর বয়স মুবারকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন এবং ৯ বছর উনার সাথে অবস্থান মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ! (ছহীহুল বুখারী কিতাবু বাদইল ওয়াহই বাবু তাজউইজিল আবি ইবনাতাহু মিনাল ইমাম)

عَنْ حضرت عُرْوَةَ رضى الله تعالى عنه تَزَوَّجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَضْرَتْ اُمّ الْـمُؤْمِنِيْنَ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَام وَهى ابْنَةُ سِتٍّ وَبَنَى بِهَا وَهى ابْنَةُ تِسْعٍ وَمَكَثَتْ عِنْدَهُ تِسْعًا.

অর্থ: “হযরত উরওয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে (উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম) উনার নিসবাতুল আযীম মুবারক সম্পন্ন হয় যখন উনার বয়স মুবারক ছিল ৬ বছর। আর তিনি ৯ বছর বয়স মুবারকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন এবং ৯ বছর উনার সাথে অবস্থান মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ছহীহ বা বিশুদ্ধ কিতাব ‘পবিত্র মুসলিম শরীফ’ উনার বর্ণনাসমূহ-

عَنْ حَضْرَتَ اُمّ الْـمُؤْمِنِيْنَ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَام قَالَتْ تَزَوَّجَنِى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِسِتِّ سِنِينَ وَبَنَى بِى وَاَنَا بِنْتُ تِسْعِ سِنِينَ.

অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আমার আক্বদ বা নিসবাতুল আযীম মুবারক সম্পন্ন হয় যখন আমার বয়স মুবারক ছিল ৬ বছর। আর ৯ বছর বয়স মুবারকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফে আমি তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করি।” সুবহানাল্লাহ! (ছহীহুল মুসলিম কিতাবুন নিকাহ বাবু তাযবীজিল আবীল বিকরাছ ছগীরাহ।)

عَنْ حَضْرَتَ اُمّ الْـمُؤْمِنِيْنَ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَام قَالَتْ تَزَوَّجَنِى النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا بِنْتُ سِتِّ سِنِينَ وَبَنَى بِى وَأَنَا بِنْتُ تِسْعِ سِنِينَ.

অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আমার আক্বদ বা নিসবাতুল আযীম মুবারক সম্পন্ন হয় যখন আমার বয়স মুবারক ছিল ৬ বছর। আর ৯ বছর বয়স মুবারকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফে আমি তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করি।” সুবহানাল্লাহ! (ছহীহুল মুসলিম কিতাবুন নিকাহ বাবু তাযবীজিল আবীল বিকরাছ ছগীরাহ।)

عَنْ حَضْرَتَ اُمّ الْـمُؤْمِنِيْنَ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَام قَالَتْ تَزَوَّجَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهى بِنْتُ سِتٍّ وَبَنَى بِهَا وَهى بِنْتُ تِسْعٍ

অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে (হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম) উনার আক্বদ বা নিসবাতুল আযীম মুবারক সম্পন্ন হয় যখন উনার বয়স মুবারক ছিল ৬ বছর। আর তিনি ৯ বছর বয়স মুবারকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (ছহীহুল বুখারী কিতাবু বাদইল ওয়াহই বাবু ইনকাহির রজুলি ওয়ালাদাহুছ ছিগার)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ছহীহ বা বিশুদ্ধ কিতাব “আবূ দাউদ শরীফ” উনার বর্ণনা-

عن حَضْرَتَ اُمّ الْـمُؤْمِنِيْنَ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَام قالت تزوجنى رسول الله صلى الله عليه وسلم وانا بنت ست ودخل بى وانا بنت تسع.

অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আমার আক্বদ বা শাদী মুবারক সম্পন্ন হয় যখন আমার বয়স মুবারক ছিল ৬ বছর। আর ৯ বছর বয়স মুবারকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফে আমি তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করি। সুবহানাল্লাহ! (সুনানু আবী দাউদ কিতাবুন নিকাহ বাবু ফী তাযবীজিছ ছিগার)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ছহীহ বা বিশুদ্ধ কিতাব ছহীহ “মুসনাদে আহমদ” শরীফ উনার বর্ণনা-

عن حضرت ابو سلمة ويحيى قالا: فزوجها اياه واُمّ الْـمُؤْمِنِيْنَ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَام يومئذ بنت ست سنين … وبنى بى رسول الله صلى الله عليه وسلم وانا يومئذ بنت تسع سنين ….. اسناده حسن.

অর্থ: হযরত আবূ সালামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত ইয়াহইয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা বলেন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার বয়স মুবারক যখন ৬ বছর তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সাথে আক্বদ মুবারক সম্পন্ন করেন। উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, আর আমার বয়স মুবারক যখন ৯ বছর তখন আমি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করি। এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সনদ হাসান পর্যায়ের। (ছহীহ মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বল, হাদীছু আস সাইয়্যিদাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম ৬ খ-, ২১০ পৃষ্ঠা)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ছহীহ বা বিশুদ্ধ কিতাব ‘ছহীহ ইবনু হিব্বান শরীফ’ উনার বর্ণনা-

عن حَضْرَتَ اُمّ الْـمُؤْمِنِيْنَ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَام قالت تزوجنى رسول الله صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ لست سنين وبنى بى وانا بنت تسع سنين.

অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আমার আক্বদ বা শাদী মুবারক সম্পন্ন হয় যখন আমার বয়স মুাবরক ছিল ৬ বছর। ……. আর ৯ বছর বয়স মুবারকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফে আমি তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করি।” সুবহানাল্লাহ! (ছহীহ ইবনু হিব্বান বি তারতীবে বিলবান যিকরু আয়িশাতা উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম ও আন আবীহা)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ছহীহ বা বিশুদ্ধ কিতাব ‘ইবনে মাজাহ শরীফ’ উনার বর্ণনাসমূহ-

عَنْ حَضْرَتَ اُمّ الْـمُؤْمِنِيْنَ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَام، قَالَتْ: تَزَوَّجَنِى رَسُولُ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ وَاَنَا بِنْتُ سِتِّ سِنِيْنَ، …. فَاسْلَمَتْنِى اَلَيْهِ، وَاَنَا يَوْمَئِذٍ بِنْتُ تِسْعِ سِنِينَ.

অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আমার আক্বদ বা নিসবাতুল আযীম মুবারক সম্পন্ন হয় যখন আমার বয়স মুবারক ছিল ৬ বছর। ……. আর ৯ বছর বয়স মুবারকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফে আমি তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করি।” সুবহানাল্লাহ! (সূনানু ইবনে মাজাহ কিতাবুন নিকাহ বাবু নিকাহিছ ছিগার ইউযাউয়্যিজু হুন্নাল আবাউ।) এছাড়াও আরো বহু দলীল প্রমাণ উল্লেখ রয়েছে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে