সুন্নতেই উম্মত, সুন্নতেই জান্নাত


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,
وان تطيعوه تهتدوا.
অর্থ: এবং তোমরা উনার (রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনুগত্য করলেই হিদায়েত বা সৎপথ পাবে। (সূরা নূর/৫৪)

সুন্নতেই উম্মত, সুন্নতেই জান্নাত, সুন্নতের অনুসরণই সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত। কারণ এই নিয়ামতের সাথেই হিদায়েত বিজড়িত আছে।

স্মর্তব্য যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত উম্মতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী হতে পেরেছিলেন শুধুমাত্র এই শ্রেষ্ঠ মহান নিয়ামত-সুন্নতের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ও পুঙ্খানূপুঙ্খ অনুকরণের কারণেই।

এজন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদেরকে এতোই পছন্দ করেছেন যে, উনাদেরকে সূরা বাক্বারার/১৩৭ আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ঈমানের মাপকাঠি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। সূরা তওবার/১০০ আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইহসান বা ইখলাছ তথা ঐকান্তিকতার সাথে উনাদের ইত্তিবা ও অনুসরণকে তথা জান্নাতের অধিকারী তথা মহান আল্লাহ পাক উনার দীদার লাভের অঙ্গীকারও করা হয়েছে।

মহান আল্লাহ পাক উনার পেয়ারা হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিখূঁত আনুগত্যকারীর তুলনা এ পৃথিবীতে নয় ধরং আকাশে খোঁজা বাঞ্ছনীয়।
এদিকে ইশারা করেই শাফীউল উমাম, নূরে মুজাসসাম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন,
اصحابى كالنجوم.
অর্থ: “আমার (আনুগত্য কারীরাই আমার আপন) ছাহাবীগণ (গগন চুম্বি) আকাশের নক্ষত্রসম (মর্যাদা ম-িত)।” (মিশকাত শরীফ)

মোটকথা, সুন্নতই জীবন। সুন্নত ব্যতীত কোন ইবাদত নেই, ফরয নেই, ওয়াজিব নেই, মুস্তাহাব নেই, নফল নেই, তাফসীর নেই, হাদীছ শরীফ নেই, ছাহাবী নেই, ওলীআল্লাহ নেই, শারাবাতে কাওছার নেই, শাফায়াত নেই, জান্নাত নেই, দীদারে ইলাহী নেই।

তবে হ্যাঁ, সুন্নত ব্যতীত দুনিয়া ও জাহান্নাম পাওয়া যাবে।
হাদীছ শরীফ উনার ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عن ابى هريرة رضى الله تعالى عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال كل امتى يدخلون الجنة الا من ابى قيل ومن ابى قال من اطاعنى دخل الجنة ومن عصانى فقد ابى.
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, আমার সব উম্মত জান্নাতে যাবে, তবে যারা অস্বীকার করলো তারা ব্যতীত। বলা হলো, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কে অস্বীকার করলো? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করলো, সে জান্নাতে প্রবেশ করলো। আর যে ব্যক্তি আমার নাফরমানী করলো অর্থাৎ আনুগত্য করলো না সে অস্বীকার করলো। (বুখারী শরীফ)

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে