সুমহান বরকতময় ২৫শে শাওয়াল শরীফ।


সাধারণ লোকের মৃত্যু ও ওলীআল্লাহগণ উনাদের পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ উভয়ের মধ্যে রয়েছে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে সাধারণ মু’মিন উনাদের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, “মৃত্যু হলো- দুনিয়া হতে জান্নাতে যাওয়ার সেতু।” আর আল্লাহওয়ালাগণ উনাদের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, “মৃত্যু হলো- মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট যাওয়ার সেতু।” কাজেই আল্লাহওয়ালাগণ উনাদের পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ হচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে মিলন সেতু বা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার পবিত্র দীদার মুবারক লাভের মাধ্যম। পবিত্র হাদীছ-এ কুদসী শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়েছে, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার ওলীগণ উনারা মৃত্যুবরণ করেন না, বরং উনারা অস্থায়ী আবাস থেকে স্থায়ী আবাসের দিকে ইন্তিকাল বা প্রত্যাবর্তন করেন মাত্র।” সুবহানাল্লাহ!

কাজেই নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহ পাক উনার ওলীগণ উনাদের স্ব স্ব পবিত্র মাজার শরীফ উনার মধ্যে জীবিত রয়েছেন। তাই পবিত্র হাদীছ-এ কুদসী শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়েছে, “নিশ্চয়ই আমার ওলীগণ উনারা আমার জুব্বা মুবারক উনার নিচে অর্থাৎ আমার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে অবস্থান করেন, আমি ছাড়া উনাদেরকে কেউ হাক্বীক্বীভাবে চিনে না।” সুবহানাল্লাহ!

তাই আল্লাহওয়ালাগণ উনারা হায়াতে দুনিয়ায় যেরূপ তা’যীম-তাকরীম ও মর্যাদার পাত্র, তদ্রƒপ পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পরও। কারণ মহান আল্লাহ পাক উনার ওলীগণ উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতে পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। এ প্রসঙ্গে বলা হয় যে, এক ওলীআল্লাহ উনাকে প্রশ্ন করা হলো- হুযূর! মহান মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার কালামে পাক উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “যাঁরা মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় কতল হয়েছেন (শহীদ হয়েছেন), উনাদেরকে তোমরা মৃত বলো না, বরং উনারা জীবিত। কিন্তু তোমরা তা উপলব্ধি করতে পারো না।”

মূলত এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি শহীদ উনাদের মর্যাদা-মর্তবা বর্ণনা করেছেন। তবে আল্লাহওয়ালাগণ উনাদের মর্যাদা-মর্তবা, ফযীলত কতটুকু? তখন মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী তিনি বললেন, দেখ, যাঁরা শহীদ, উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় ইন্তিকাল করেন। আর যাঁরা আল্লাহওয়ালা উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতে পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। যেমন- গরীবে নেওয়াজ, খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পর উনার কপাল মুবারকে নূরানী অক্ষরে লিখিত হয়েছিল, ‘ইনি মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতেই পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন’। সুবহানাল্লাহ!

প্রত্যেক ওলীআল্লাহ উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ মুহব্বতেই পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি কারোটা প্রকাশ করেন, কারোটা প্রকাশ করেন না। সুতরাং যাঁরা মহান আাল্লাহ পাক উনার মুহব্বতে পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, উনাদের মর্যাদা-মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক আরো অনেক বেশি, যা ভাষায় বর্ণনা করার মতো নয়, অর্থাৎ বেমেছাল। আওলাদে রসূল হযরত সাইয়্যিদাতুন নিসা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ ছিলো তদ্রƒপই। সুবহনাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন, তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে ‘ফযল’ ও ‘রহমত’ মুবারক লাভ করার কারণে খুশি প্রকাশ করো।’ এ পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বারা ছাবিত হয় যে, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বান্দা-বান্দী ও উম্মত তথা কুল-কায়িনাতের জন্য যেরূপ রহমত, বরকত, সাকীনা, মাগফিরাত, নাজাত লাভের কারণ, তদ্রƒপ উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পর উনার যাঁরা খাছ আওলাদ ও প্রতিনিধি বা নায়িব অর্থাৎ হযরত আওলাদে রসূল আলাইহিমুস সালাম এবং হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম উনারা পুরুষ হোন অথবা মহিলা হোন উনারাও কুল-কায়িনাতের জন্য রহমত, বরকত, সাকীনা, মাগফিরাত, নাজাত মুবারক লাভের কারণ। সুবহানাল্লাহ!

মূলকথা হলো- হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম উনারা পুরুষ হোন বা মহিলা হোন; উনাদের পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস সকলের জন্যই রহমত, বরকত, সাকীনা ও নাজাত লাভের অন্যতম উসীলা। তাই প্রত্যেকের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- মহান আল্লাহ পাক উনার খালিছ ওলী আওলাদে রসূল হযরত সাইয়্যিদাতুন নিসা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস উদযাপন করতঃ রহমত, বরকত, সাকীনা ও নাজাত লাভ করার কোশেশ করা।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে