সুমহান বেমেছাল বরকতময় ২রা রজবুল হারাম শরীফ।


মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি, মুহব্বত মা’রিফাত, নিসবত তাওয়াল্লুক হাছিল করার প্রধান দুটি উসীলা। প্রথমত, উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম এবং উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনাদের প্রতি এবং দ্বিতীয়ত, উনার আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে চরম হুসনে যন রাখা তথা মুহব্বত, মা’রিফাত, নিসবত, তায়াল্লুক রাখা এবং চূড়ান্ত তা’যীম-তাকরীম করা ও সর্বোচ্চ আর্থিক খিদমত করা। সুবহানাল্লাহ!
কিন্তু অতীব দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সাধারণ মুসলমান তো বটেই, এমনকি আলিম ও মাওলানা পরিচয়ধারীরাও হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সম্পর্কে যৎকিঞ্চিত ধারণা এবং তদাপেক্ষা কম তা’যীম-তাকরীম করলেও যাবীহুল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণাই রাখে না। নাঊযুবিল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনাদের নাম হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম ও হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম হওয়ার হাক্বীক্বত- “আব্দ” অর্থ ‘আনুগত্য স্বীকারকারী’ আর এর সাথে মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক যুক্ত হয়ে আব্দুল্লাহ অর্থৎ তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার বশ্যতা স্বীকার করতেন। তিনি যদি মূর্তিপূজারী হতেন, তাহলে উনার নাম হলো ‘আব্দুল লাত’। নাঊযুবিল্লাহ! অথচ উনার নাম মুবারক হলো ‘আব্দুল্লাহ’ আলাইহিস সালাম।
প্রসঙ্গত, আজ সুমহান বেমেছাল বরকতময় ২রা রজবুল হারাম শরীফ, যিক্রুল্লাহ, খইরু খলক্বিল্লাহ, আস সিরাজুল মুনীর, ইমামুল মুত্তাক্বীন, মালিকুল জান্নাহ, আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সুমহান বিলাদতি শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
মূলত, এ সুমহান দিনের সম্মানেই মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, “মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দশন মুবারক সম্বলিত দিবসগুলিকে স্মরণ করিয়ে দিন সমস্ত কায়িনাতকে। নিশ্চয়ই এর মধ্যে ধৈর্যশীল ও শোকরগুজার বান্দা-বান্দীদের জন্য ইবরত ও নছীহত রয়েছে।” (পবিত্র সূরা ইবরাহীম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫)
তাহলে সহজেই অনুমেয় যিক্রুল্লাহ, খইরু খলক্বিল্লাহ, আস সিরাজুল মুনীর, ইমামুল মুত্তাক্বীন, মালিকুল জান্নাহ, আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস তথা ২রা রজবুল হারাম শরীফ উনার ফাযায়িল-ফযীলত, সম্মান বুযুর্গী, মর্যাদা-মর্তবা মুবারক কতটুকু? প্রকৃতপক্ষে সেটা অনুধাবন করা, বর্ণনা করা চিন্তা-ফিকিরের সম্পূর্ণ ঊর্ধ্বে।
অপরদিকে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “উনার প্রতি সালাম (রহমত, বরকত ও সাকীনা) যেদিন তিনি আগমন করেন এবং যেদিন তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করবেন এবং যেদিন তিনি পুনরুত্থিত হবেন।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা মরিয়ম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫)
সালাম (রহমত, বরকত ও সাকীনা) আমার প্রতি যেদিন আমি আগমন করেছি, যেদিন পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করবো ও যেদিন পুনরুত্থিত হবো।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা মরিয়ম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩)
অপরদিকে ইবনু রসূলিল্লাহ, সাইয়্যিদুল বাশার সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার সবচেয়ে বড় পরিচয় মুবারক হচ্ছেন, তিনি হলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার লখতে জিগার, মহাসম্মানিত আবনা’ (ছেলে) আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত হযরত আবনা’ (ছেলে) আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে তিনি হচ্ছেন ‘আউওয়াল’ তথা প্রথম। তাই উনাকে ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম বলা হয়। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত মুহব্বত মুবারকই হচ্ছেন ঈমান। সুবহানাল্লাহ!
ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশ পাওয়ার প্রায় সাড়ে ১২ বছর পূর্বে ২রা রমাদ্বান শরীফ ইয়াওমুছ ছুলাছা’ শরীফ মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!
ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াতী শান মুবারক প্রকাশের প্রায় ১০ বছর ৮ মাস পূর্বে ২রা রজবুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! দুনিয়ার যমিনে তিনি পূর্ণ ২২ মাস অবস্থান মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!
প্রসঙ্গত যিক্রুল্লাহ, খইরু খলক্বিল্লাহ, আস সিরাজুল মুনীর, ইমামুল মুত্তাক্বীন, মালিকুল জান্নাহ, আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস এবং ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবসের স্মরণ, মূল্যায়ন, তথা আজ মহিমান্বিত ২রা রজবুল হারাম শরীফ দিবস অত্যন্ত মুহব্বত, খুলুছিয়ত, জওক, শওক ও আদবের সাথে পালন করলে তা উম্মাহর জন্য কত ফযীলত নাজাত, নিয়ামতের কারণ হবে তা কল্পনা করা দুঃসাধ্য।
বলার অপেক্ষা রাখে না, সরকার অথবা জনগণ তথা সাধারণ মুসলমানগণ এসব বিষয় উপলব্ধি না করার কারণেই আজ ওৎপ্রোতভাবে বিবিধ খোদায়ী আযাব-গযবে ভারাক্রান্ত। এর থেকে রক্ষা পেতে হলে যিক্রুল্লাহ, খইরু খলক্বিল্লাহ, আস সিরাজুল মুনীর, ইমামুল মুত্তাক্বীন, মালিকুল জান্নাহ, আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার এবং ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনাদের মূল্যায়ন ব্যতিরেকে দ্বিতীয় কোনো বিকল্প নেই।
কিন্তু চরম পরিতাপ, গভীর দুঃখ ও আফসুসের বিষয় যে- যিক্রুল্লাহ, খইরু খলক্বিল্লাহ, আস সিরাজুল মুনীর, ইমামুল মুত্তাক্বীন, মালিকুল জান্নাহ, আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার এবং ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনাদের কোনো অবদানেরই বিন্দুমাত্র শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি না আমরা। ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত ও রাষ্ট্রদ্বীন পবিত্র ইসলাম উনার দেশ- বাংলাদেশ সরকারও কিছু করছে না। অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা যারা আমার নিয়ামত মুবারক উনার শুকরিয়া আদায় করবে না, জেনে রাখো- আমার আযাব অনেক কঠিন।”
প্রসঙ্গত, আজ মহিমান্বিত ২রা রজবুল হারাম শরীফ অত্যন্ত মুহব্বত, খুলুছিয়ত, জওক, শওক ও আদবের সাথে পালন করলে তা উম্মাহর জন্য কত ফযীলত নাজাত, নিয়ামতের কারণ হবে তা কল্পনা করা দুঃসাধ্য। বিপরীত দিকে যারা উনাদের সম্পর্কে অজ্ঞতা ও আদবহীনতার পরিচয় দিবে তারাও যে কত হালাক তা চিন্তা করাও দুঃসাধ্য। নাঊযুবিল্লাহ মিন যালিক!
সাইয়্যিদুনা হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম এবং উনার সম্মানিত হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুবারক উসীলায় ও ফায়েয বরকতে মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে মহিমান্বিত এ দিন যথাযথভাবে পালনের ও ফযীলত, মাগফিরাত ও নিয়ামত হাছিলের তাওফীক দেন। আমীন।

 

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে