সুমহান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ সম্পর্কে জাতীয় পতাকা বিধিমালা- ১৯৭২ কি বলে?


জাতীয় পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২-এর একটি অংশে বর্ণিত, নিম্নলিখিত দিবস এবং উপলক্ষসমূহে বাংলাদেশের সমস্ত সরকারি, বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনসমূহের প্রাঙ্গণে এবং কনস্যুলার কেন্দ্রসমূহে নিম্নবর্ণিতভাবে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করতে হবে:
ক) মহানবীর বিলাদত শরীফ দিবস (ঈদ-ই-মীলাদে হাবীবী)
খ) ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস।
গ) ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস।
ঘ) সরকার কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত অন্য যে কোন দিবস।
আবার অপর অংশে বর্ণিত আছে, নিম্নলিখিত দিবসমূহে পতাকা অর্ধনমিত থাকবে-
ক) ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস এবং জাতীয় দিবস এবং
খ) সরকার কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত অন্য যে কোন দিবস।
পর্যালোচনা: ১ম অংশে বিশেষভাবে লক্ষণীয়-
(ক) আনন্দঘন, আনন্দমুখর, খুশি নির্দেশক দিবস এবং উপলক্ষসমূহে পতাকা পূর্ণভাবে উত্তোলন করতে হবে।
খ) সার্বিক দিক বিবেচনায় সবচেয়ে খুশির দিবস বা উপলক্ষ হলো- মহানবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। এজন্য প্রথম বন্ধনীয় মধ্যে ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবসের খুশি বা আনন্দ বা উনার জন্ম দিনের আনন্দ উল্লেখ করা হয়েছে।
গ) আনন্দঘন দিবসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিবস বিবেচনায় সর্বাগ্রে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ দিবসের উল্লেখ করা হয়েছে।
আবার ২য় অংশে বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে,
(ক) বেদনাদায়ক ও শোকাবহ দিবসগুলোতে পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।
খ) জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকা বেদনা ও শোকের নিদর্শন।
গ) আপাত শোক ও বেদনার বার্তাবহ দ্বিতীয় অংশে উল্লেখিত দিনগুলো প্রথম অংশে উল্লেখিত আনন্দ, খুশি প্রকাশক দিনগুলোকে এক অর্থে সমর্থন করে আবার আরেক বিপরীত অর্থে পরস্পর পরস্পরকে সমর্থন করে।
যাহোক, প্রথম অংশে উল্লেখিত নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ।
কিন্তু আমার বলার বিষয় হলো- মহাগুরুত্বপূর্ণ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনাকে কেবল কাগুজে বিষয় হিসেবে বিধিমালাতে রাখলেই হবে না। বরং এর বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে হবে। মুসলমানদের প্রত্যেকটি ঘরে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার আনন্দ ও খুশি পৌঁছে দিতে হবে। আর এই মহতী উদ্যোগটি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকেই ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বরের মতোই নয় বরং এর চেয়ে ব্যাপক মহাসমারোহে করতে হবে। একথাই উল্লেখিত বিধিমালাতে ব্যক্ত হয়েছে। কেননা অত্র বিধিমালা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২ নামে গণ্য। হে সুমহান আল্লাহ পাক তিনি বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারকে আমলে আনার তাওফীক দিন। আমীন!

 

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে