১০ই রবীউল আউওয়াল শরীফঃ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস


দুনিয়াবী দৃষ্টিতে যখন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বয়স মুবারক মাত্র ছয়, তখন উনার মহাসম্মানিতা আম্মা আলাইহাস সালাম উনাকে নিয়ে মদীনা শরীফ যান। উনাদের সাথে হযরত উম্মু আইমন আলাইহাস সালাম তিনিও ছিলেন। উনারা মদীনা শরীফে বেশ কিছু দিন অবস্থান মুবারক করেন। কিন্তু সেখানকার ইহুদীরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখে চিনে ফেলে যে তিনিই হচ্ছেন আখিরী রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তাই তারা ফিতনা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে।
 
এই অবস্থা দেখে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ১০ই রবীউল আউওয়াল শরীফ, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার), ফজরের পর (সকালে) মক্কা শরীফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। পথিমধ্যে উনারা আবওয়া শরীফ নামক স্থানে যান। সেখানে উনারা আবূ রসূলিনা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত ‘রওযা শরীফ’ যিয়ারত মুবারক করেন। সেখানেই সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণের সময় নিকটবর্তী হয়। তিনি উম্মু আইমন আলাইহাস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যথাযথভাবে সম্মানিত খিদমত মুবারকের আনজাম দেয়ার জন্য ওছীয়ত মুবারক করেন। তারপর তিনি বসা থাকা অবস্থায় উনার মহাসম্মানিত আওলাদ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কোল মুবারক-এ নিয়ে উনার চেহারা মুবারক উনার দিকে তাকিয়ে একটি নাত শরীফ পাঠ করেন যা সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ ‘সুমহান না’ত শরীফ’ হিসেবে পরিচিত। সুবহানাল্লাহ!
 
সম্মানিত না’ত শরীফ পাঠ করতে করতে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত আওলাদ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি উনাকে বক্ষ মুবারক-এ নিয়ে শুয়ে পড়েন এবং এমতাবস্থায় মহান আল্লাহ পাক উনার আহ্বান মুবারক-এ সাড়া দিয়ে মহাসম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! সময়টি ছিলো সকাল ৯-১০টার দিকে। অর্থাৎ ইশরাক উনার ওয়াক্ত শেষ এবং চাশত বা দ্বোহা উনার ওয়াক্ত শুরু হওয়ার মধ্যবর্তী সময়। সুবহানাল্লাহ! তখন কায়িনাতের মাঝে যে কী অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিলো তা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং উনার সাথে সাথে হযরত উম্মু আইমন আলাইহাস সালাম, সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা, জিন, গাছ-পালা, তরু-লতা, চন্দ্র-সূর্য, আকাশ-বাতাস এক কথায় সমস্ত কায়িনাত কান্না করতে থাকেন। জিনেরা উনার শান মুবারক-এ শোকগাঁথা তথা না’ত শরীফ পাঠ করেন। সুবহানাল্লাহ!
 
অতঃপর মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত নির্দেশ মুবারক অনুযায়ী, উক্ত আবওয়া নামক স্থানেই, আবূ রসূলিনা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত রওযা শরীফের পাশে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত রওযা শরীফ রচিত হয়। সুবহানাল্লাহ!
Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে