সুলতানুল হিন্দ হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র সুন্নতে নববী প্রচার-প্রসারে অনুপম আদর্শ


কুতুবুল মাশায়িখ, সুলত্বানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, হাবীবুল্লাহ হযরত খাজা ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শাদী মুবারক সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি অত্যধিক মাশহূর। উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক যখন নব্বই বছর, তখন একখানা বিশেষ ঘটনা মুবারক সংঘটিত হয়। এক বিশেষ দীদার মুবারকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সুলত্বানুল হিন্দ হযরত খাজা ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে সম্বোধন করে ইরশাদ মুবারক করেন, “সত্যিই আপনি মুঈনুদ্দীন। আপনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সাহায্যকারী। কিন্তু এখনো আপনার দ্বারা একখানা পবিত্র সুন্নত মুবারক আনাদায়ী রয়ে গেছে।” এখন কোন্ সেই সুন্নত মুবারক? পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার খিদমতে নিয়োজিত থাকায় তখনো শাদী মুবারক করা হয়নি। বিধায় তিনি শাদী মুবারক সম্পন্ন করেন।
উপরোক্ত মুবারক ঘটনায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে সুলত্বানুল হিন্দ হযরত খাজা ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে মুঈনুদ্দীন তথা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সাহায্যকারী হিসেবে ঘোষণা মুবারক করেছেন, তা হাক্বীক্বীভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। উনার মুবারক উসীলায় পাক-ভারত উপমহাদেশে মুসলিম সালত্বানাত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উনার মুবারক পৃষ্ঠপোষকতায় এক কোটিরও অধিক সংখ্যক মানুষ পবিত্র দ্বীন ইসলামে দীক্ষিত হয়ে খালিছ আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী হয়েছেন। তবে এখানেই শেষ নয়।
সুলত্বানুল হিন্দ হযরত খাজা ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বিধর্মীদেরকে পবিত্র ঈমান দান করেছেন তা অবশ্যই। এমনকি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলুপ্ত প্রায় অনেক সুন্নত মুবারক তিনি পুনঃ চালু করেছেন। তিনি তো অবশ্যই পবিত্র সুন্নত উনার পরিপূর্ণ পাবন্দ ছিলেন, এমনকি উম্মাহকে সুন্নত উনার মাঝে দৃঢ়চিত্ত রাখার জন্য তিনি অনেক সুন্নত সম্পর্কে লিপিবদ্ধ করে গেছেন। তিনি ছিলেন সুন্নতে নববী প্রচার-প্রসারে অনুপম আদর্শ। উদাহরণস্বরূপ, দস্তরখানা ও টুপির বিষয়টি উল্লেখই যথেষ্ট।
খাবার গ্রহণ মানব জীবনের এক অন্যতম অনুসঙ্গ। এখন খাবার গ্রহণের তারতীবে দস্তরখানা এক অপরিহার্য বিষয়। বাজারে প্রচলিত কিতাবাদিতে দস্তরখানা সম্পর্কে আলোচনা খুব সামান্যই পরিলক্ষিত হয়। সুলত্বানুল হিন্দ হযরত খাজা ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লিখনী মুবারকে দস্তরখানা সম্পর্কে রয়েছে স্পষ্ট নির্দেশনা। শামসুল আরেফীন হযরত আবী আননূর খাজা উসমান হারূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বরাত দিয়ে সুলত্বানুল হিন্দ হযরত খাজা ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সংকলিত ‘আনীসুল আরওয়াহ’ নামক কিতাব উনার অষ্টম মজলিসে উল্লেখ করেন, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দস্তরখানা মুবারক ব্যতীত খুম কম সময়ই খাদ্য মুবারক গ্রহণ করেছেন। মুবারক উপস্থিতিতেই যখনই খাদ্য মুবারকের আয়োজন করা হতো, তখনই খয়েরী রংয়ের চামড়ার দস্তরখানা মুবারক ব্যবহার করা হতো। জলীলুল ক্বদর রসূল হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার দস্তরখানা মুবারকও খয়েরী রংয়ের ছিল। উনার দস্তরখানা মুবারক আসমান হতে নাযিল করা হয়েছিল। খয়েরী দস্তরখানা ব্যবহারকারী প্রতি লোকমায় একশত ছওয়াব লাভ করবে। সেই ব্যক্তির জন্য জান্নাতে ১০০টি দরজা নির্ধারিত করা হবে। সেই জান্নাতে হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালামসহ অন্যান্য হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের সালাম ও দোয়া মুবারক দায়েমীভাবে লাভ করবে। যে ব্যক্তি খয়েরী দস্তরখানায় অপরকে খাওয়াবে, তার জন্য শ্রেষ্ঠ প্রতিদান লিখা হবে। খাবার গ্রহণ শেষ হলেই তার জিন্দেগীর গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। খয়েরী দস্তরখানায় রুটি ভক্ষণকারী এক উমরা হজ্জ এবং এক হাজার ক্ষুধার্তকে পেট ভরে খাওয়ানোর ছওয়াব লাভ করবে। সে ব্যক্তি এতো ছওয়াব লাভ করবে, যেন সে আখিরী উম্মতের এক হাজার ব্যক্তিকে মুক্ত করলো। সুবহানাল্লাহ! দায়িমীভাবে খয়েরী দস্তরখানা ব্যবহারকারীকে হাশরের ময়দানে জান্নাতী পোশাক মুবারক পরিধান করিয়ে জান্নাতী বোরাকে চড়িয়ে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম জান্নাতে পৌঁছিয়ে দিবেন। সুবহানাল্লাহ! যে ব্যক্তি কোনো মেহমানকে খয়েরী দস্তরখানায় আহার করাবে, তার প্রতিটি দানার জন্য এক হাজার নেকী দেয়া হবে। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম শরাফত উনার দ্বীন। সুশৃঙ্খল জীবন-যাপন সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার তা’লীম। মাথা ঢেকে রাখা শরাফতের বহিঃপ্রকাশ। আর মাথা ঢাকার প্রথম উপাদান হচ্ছে টুপি। বাজারে বহু ধরনের টুপির প্রচলন দেখা যায়। এখন একজন মুসলমান কি ধরনের টুপি ব্যবহার করবে? কোন্ রনে টুপি ব্যবহার করা সুন্নত?
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার টুপি মুবারক সাদা, সুতি এবং গোল ছিলো। সুন্নতী টুপির বিষয়টি আরো স্পষ্ট করেছেন, সুলত্বানুল হিন্দ হযরত খাজা ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি উনার সংকলিত আনীসুল আরওয়াহতে উল্লেখ করেন, হযরত খাজা শরীফ জিন্দানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার শ্রেষ্ঠ খলীফা খাজা হযরত উসমান হারূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাথা মুবারকে ‘কুল্লাহ চাহার তর্কী’ বা চার টুকরা বিশিষ্ট সুন্নতী টুপি পরিধান করিয়ে দেন। আরো বর্ণিত আছে, চার টুকরা বিশিষ্ট সুন্নতী টুপি পরিধানকারী ব্যক্তির অন্তর মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতে বিভোর থাকে। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে চার টুকরা বিশিষ্ট সুন্নতী টুপি হাদিয়াস্বরূপ প্রেরণ করেন। সুবহানাল্লাহ!
বলাবাহুল্য যে, সুলত্বানুল হিন্দ হযরত খাজা ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহিসহ পূর্ববর্তী হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অনেক বিষয় ব্যাপক ও বহুল আলোচিত, সুস্পষ্ট, সৃদৃঢ়, সুপ্রতিষ্ঠিত এবং চূড়ান্ত পর্যায়ের তাছদীক্ব বা সত্যায়ন করেছেন মুজাদ্দিদে আ’যম, হাবীবে আ’যম, গাউছুল আ’যম, জাব্বারিউল আউওয়াল, কউইয়্যূল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
সুলত্বানুল হিন্দ হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি দস্তরখানার কেবল রং বর্ণনা করেছেন। মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, দস্তরখানায় অনেকগুলো সুন্নত। প্রথমত, খয়েরী রংয়ের হওয়া। দ্বিতীয়ত, চামড়ার হওয়া। তৃতীয়ত, খাসীর চামড়ার হওয়া। চতুর্থত, খাসীর চামড়ার টুকরা না হয়ে খাসীর আস্ত চামড়া হওয়া। অর্থাৎ যে কেউ খয়েরী রংয়ের কাপড় দস্তরখানা হিসেবে বিছিয়ে তার উপর খাবার রেখে আহার করলে তার একটা সুন্নত আদায় হবে। সেটি যদি চামড়া হয়, তাহলে দুটি সুন্নত আদায় হবে। যদি সেটি খাসীর চামড়া হয় তাহলে তিনটি সুন্নত আদায় হবে। যদি সেটি খাসীর আস্ত চামড়া হয় তাহলে চারটি সুন্নত আদায় হবে। সর্বোপরি খাসীর আস্ত চামড়া লোমবিহীন করে খয়েরী রং দ্বারা রাঙ্গিয়ে যদি সেটি দস্তরখানা হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে এই সাথে পাঁচটি সুন্নত আদায় হবে। আর প্রতিটি সুন্নতের জন্য একশত শহীদ উনাদের ছওয়াব পাওয়া যাবে। তাহলে দেখা যাচ্ছে, সুন্নতী দস্তরখানায় রয়েছে একই সাথে পাঁচশত শহীদ উনাদের মুবারক ছওয়াব। সুবহানাল্লাহ!
অনুরূপভাবে খাছ সুন্নতী টুপির মাধ্যমেও মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার বিশেষ শান মুবারক প্রকাশ পেয়েছে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে টুপির রং ও কাপড় সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক করা হয়েছে।
সুলত্বানুল হিন্দ হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি টুপি কত টুকরা কাপড় দ্বারা তৈরি হয়ে তা বর্ণনা করেছেন।
আর মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, খাছ সুন্নতী টুপিতেও রয়েছে অনেকগুলো সুন্নত মুবারক। প্রথমত, টুপির রং হবে সাদা। দ্বিতীয়ত, টুপির কাপড় হবে খাটি সুতি। ততৃীয়ত, টুপি হবে গোল। চতুর্থত, টুপি হবে চার টুকরা বিশিষ্ট। তিন দিকে সমান তিন টুকরা, উপরে এক টুকরা। খাছ সুন্নতী টুপির চান্দি বা উপরের গোল টুকরাটি মাথার সাথে পুরোপুরি লেগে থাকবে। অর্থাৎ খাছ সুন্নতী টুপিতেই রয়েছে একে একে চারটি সুন্নত মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
আরো একটি বিষয় বাস্তবেই পরিলক্ষিত হয় যে, খাছ সুন্নতী টুপি পরিধানকারীর চেহারায় এমনি এক নূর এবং সৌন্দর্য প্রকাশিত হয়, যা সহজেই উপলব্ধি করা যায়।
মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি উনার প্রতিষ্ঠিত মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ গবেষণা কেন্দ্র হতে প্রকাশিত মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মধ্যে সর্বপ্রথম খাছ সুন্নতী টুপির ফতওয়াই পত্রস্থ করেছেন। আর টুপিসহ উনার সমস্ত বিষয়কে সত্যায়ন করেন স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ!
উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ্য যে, আজ থেকে অনেক বছর পূর্বে উস্তাজুল আসাতিজা, শায়খুল মাশায়িখ, শামসুল আইম্মাহ যাত্রাবাড়ীর হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র খানকা শরীফে কোনো এক জুমুয়াহ শরীফ রাত্রে খাছ সুন্নতী টুপি সম্পর্কে আলোচনা হয়। টুপি সম্পর্কে বিভিন্নজন বিভিন্ন মন্তব্য পেশ করেন। সেই মুবারক মজলিসে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনিও তাশরীফ মুবারক রেখেছিলেন। টুপি সম্পর্কে উপরে বর্ণিত উনার ক্বওল শরীফখানাই তিনি সেখানে প্রকাশ করলেন। তখন এক ব্যক্তি কিছুটা ইখতিলাফ পোষণ করে। সেই ব্যক্তি ঐ রাতেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে খাছ সুন্নতী টুপি মুবারক পরিহিত অবস্থায় দেখতে পায়। যেহেতু তার টুপি নিয়ে ইখতিলাফ ছিল, সেহেতু সে টুপি মুবারক দেখতে লাগলো। দেখা গেলো, মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার ক্বওল শরীফ উনার সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। সুবহানাল্লাহ! তারপরও সেই ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে টুপি সম্পর্কে সুওয়াল করে। তখন তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, টুপিসহ যেকোনো বিষয়ে মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার কাছ থেকে জেনে নিবে এবং উনার ক্বওল শরীফ মেনে নিবে। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই সুলত্বানুল হিন্দ হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক হতে ইবরত-নছীহত হাছিল করত হাক্বীক্বী সুন্নত মুবারক পালনে ব্যাপৃত হতে হবে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি সকলকে তাওফীক দান করুন। আমীন!

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে