সুলতান সালাহুদ্দী আইউবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কবরের পাশে সতেরো বছর কাটিয়েছে যে ব্যক্তি


সুলতান হযরত সালাহুদ্দীন আইউবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জীবনিতে সাইফুল্লাহ নামক এক ব্যক্তি পাওয়া যায়, যার সম্পর্কে বলা হয়-

কেউ যদি সুলতান হযরত সালাহুদ্দীন আইউবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আনুগত্য করে থাকে, সে হলো সাইফুল্লাহ। লোকটি সুলতানের ওফাতের পর সতেরো বছর জীবিত ছিলেন। জীবনের এই শেষ সতেরোটি বছর সে অতিবাহিত করেছিল সুলতান হযরত সালাহুদ্দীন আইউবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কবরের পাশে।লোকটি অসিয়ত করেছিলো , মৃত্যুর পর যেন তাকে উনার পাশে দাফন করা হয়। কিন্তু সাইফুল্লাহ সাধারণ মানুষ হওয়ার কারণে এবং ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে কোন বিশেষত্ব না থাকায় সাধারণ করবস্থানেই দাফন করা হয়েছিলো এবং অল্প কয়েকদিনেই তারা কবর নিশ্চিন্হ হয়ে যায়।

সাইফুল্লাহ’র সাথে সুলতান হযরত সালাহুদ্দীন আইউবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দেখা হয় যেভাবে-

রোম উপসাগরের ওপার থেকে সুলতান হযরত সালাহুদ্দীন আইউবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে হত্যা করতে এসেছিলো সাইফুল্লাহ্। তখন তার নাম ছিল মিগনানা মারিউস।মিগনানা একজন বিভ্রান্ত মানুষ।ক্রুসেডারদের অপপ্রচারে সে বিশ্বাস করতো ইসলাম একটি ঘৃণ্য ধর্ম, মুসলমানরা নারীলোলুপ, নরখাদক এক হিংস্রজাতি।তাই মুসলমান শব্দটি কানে আসা মাত্র ঘৃণায় থুথু ফেলত । চরম সাহসিকতা প্রর্দশন করে সে সুলতান হযরত সালাহুদ্দীন আইউবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে পৌছায় হত্যার উদ্দেশ নিয়ে। কিন্তু সুলতান হযরত সালাহুদ্দীন আইউবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার চৌকস গোয়েন্দা বাহিনীর সহয়তায় তার উদ্দেশ্য বিফল হলো।

তখন সে আরজ করলো, আমার দেহ থেকে মাথাটা বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে আমি আপনাকে আমার জীবন কাহিনী শুনানোর একটু সময় চাই।অনুমতি পেয়ে সংক্ষেপে তার জীবনি শুনায়।সুলতান হযরত সালাহুদ্দীন আইউবী রহমতুল্লাহি আলাইহি লোকটি কথা তন্ময় হয়ে শুনে বুঝতে পারেন লোকটা মানসিকভাবে বিধ্বস্ত ও ধর্মে
বিভ্রান্ত।ফলে সুলতান তার সাথে বন্ধুত্বসুলভ আচরন করেন এবং ইসলাম ধর্মে মহত্ব , সৌন্দর্য প্রকাশ করলেন।

মিগনানা মারিউস বললো, আমার মৃত্যুর আগে আপনি আপনার খোদার একটি ঝলক দেখিয়ে দিন। আমার খোদা আমার পুত্র-কন্যাদের না খাইয়ে মেরে ফেলেছে, আমার মায়ের দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিয়েছে।মদ্যপ হয়েনাদের হাতে তুলে দিয়েছে আমার নিষ্পাপ সুন্দরী বোনকে।আর ত্রিশটি বছরের জন্য আমাকে নিক্ষেপ করেছে অন্ধকার কারাগারে। মহামান্য সুলতান, আমার জীবন আপনার হাতে, আমায় সত্য খোদাকে একটু দেখিয়ে দিন, আমি তার কাছে ফরিয়াদ জানাবো,তার কাছে ন্যায় বিচার চাইবো।

সুলতান হযরত সালাহুদ্দীন আইউবী রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, তোমার জীবন আমার হাতে নয়, আমার আল্লাহর হাতে।অন্যথায় তুমি এতক্ষন থাকতে জল্লাদের হাতে।যে খোদা তোমার থেকে আমার তরবারীকে বারণ করে রেখেছেন, তার দর্শনলাভে তোমাকে ধন্য করবো। কিন্তু তোমাকে সেই খোদার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। অন্যথায় তিনি তোমার আকুতি শুনবেন না, কোনদিন ন্যায় বিচার পাবে না।সুলতান মিগনানাকে খন্জর দিয়ে ,নিজের পিঠটি তার দিকে দিয়ে দাড়িয়ে যান।বললেন, আমি আমার জীবন তোমার হাতে অপর্ন করলাম। পিঠে খন্জর বিদ্ধ করে আমাকে হত্যা করো।

খন্জরটি হাতে তুলে নেয় মিগনানা নেড়ে চেড়ে গভীর দৃষ্টিতে দেখে অস্ত্রটি।দৃষ্টিবুলায় সুলতানের পিঠে। তারপর উঠে ধীরে ধীরে চলে যায় উনার সামনে। উনাকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত নিরীক্ষা করে দেখে।
হাতটি কেপেঁ উঠে মিগনানার। হাতের খন্জরটি রেখে দেয় সুলতানের পায়ে। বসে পড়ে হাটু গেড়ে। সুলতানের ডান হাতটি টেনে ধরে চুমু খেয়ে কেদেঁ উঠে হাউমাউ করে। কান্না জড়িত কন্ঠে বলে তার সঙ্গীকে (মুবি) বলে- ইনি কি নিজেই খোদা, না-কি নিজের বুকের মধ্যে বেধেঁ রেখেছেন খোদাকে ,আমাকে একটু দেখাতে বলো।

মিগানানার দুবাহু ধরে তুলে দাড়ঁ করান সুলতান।বুকে জড়িয়ে নেয়ে নিজ হাতে মুছে দেন তার অশ্রু।
পরবর্তীতে তার নিষ্প্রান অস্তিত্ব থেকে জন্ম নেয় ‘সাইফুল্লাহ’।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে