সুলত্বানুল আউলিয়া, মাহবূবে আ’লা, মাশুকে মাওলা, আওলাদু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত সাইয়্যিদুল উমাম আল আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার মহান শান-মান বুযুর্গী সম্মান মুবারক।


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
ومن الناس من يشرى نفسه ابتغاء مرضات الله والله رؤف بالعباد
অর্থ: “মানব জাতির মধ্যে এমন এক শ্রেণীর লোক রয়েছেন, যারা মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের জন্য স্বীয় জীবনকে উৎসর্গ করে দেন। মহান আল্লাহ তিনি উনার বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু, অনুগ্রহশীল।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২০৭)
মহান আল্লাহ পাক উনার সকল সৃষ্টির মধ্যে মানুষ হচ্ছেন আশরাফুল মাখলূক্বাত, সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। সেই আশরাফুল মাখলূক্বাতের মধ্যে আশরাফ বা আখাছছুল খাছ সম্মান-মর্যাদার অধিকারী রয়েছেন অনেক মানুষ। হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনারা উনাদের মধ্যে আখাছছুল খাছ, আশরাফ বা সর্বাধিক শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী তথা বিশেষ শ্রেণী।
ইবাদত-বন্দেগী, যিকির-ফিকির, রিয়াজত, মাশাক্কাত করলে মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত পেয়ে ওলীআল্লাহ হওয়া যায়। কিন্তু হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম হওয়া যায় না। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মাক্বাম মুবারকও হাছিল করা সম্ভব নয়। একইভাবে ওলীআল্লাহ উনাদের মধ্যে আখাছছুল খাছ বা চূড়ান্ত পর্যায়ের ওলীআল্লাহও হওয়া যায় না। আখাছছুল খাছ হওয়ার বিষয়টি মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ মনোনয়ন বা কবুলের সাথে সংশ্লিষ্ট। তবে উনাদের সাথে নিসবত-তায়াল্লুক রাখলে, উনাদেরকে সম্মান ও মুহব্বত করলে, খিদমত মুবারকে আঞ্জাম দিলে উনাদের মাক্বাম মুবারকের হিসসা বা অংশ লাভ করা যায়, উনাদের সাথে থাকা যায়।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইরশাদ মুবারক সেদিকেই দালালত করে-
الـمرء مع من احب
অর্থ: “যিনি যাকে মুহব্বত করেন উনার সাথেই উনার অবস্থান।” (বুখারী শরীফ)
সঙ্গতকারণে সেই আখাছছুল খাছ (বিশেষের মধ্যে বিশেষ) ব্যক্তিত্বগণের পরিচয় জানা আবশ্যক। সাথে সাথে মুহব্বত রাখা, সম্মান প্রদর্শন করা, খিদমত মুবারকে উনাদের সাথে আঞ্জাম দেয়া বান্দা ও উম্মতের দায়িত্ব কর্তব্য। উনাদের বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের দিন, বিছালী শান মুবারক প্রকাশের দিন এবং অন্যান্য স্মৃতি বিজড়িত দিনগুলো খাছ রহমত, বরকত, সাকীনা হাছিলের মোক্ষম সময়। আকলমান্দ, চক্ষুষ্মান লোকজন তা সহজেই অনুভব করতে পারেন। সুমহান ১১ই যিলক্বদ শরীফ একটি বিশেষ দিন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সুলত্বানুল আরিফীন, গাউছে ছাক্বালাইন, কুতুবুল আকতাব, সাইয়্যিদুনা হযরত শায়েখ মা’রূফ কারখী রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পর একজন বুযুর্গ ব্যক্তি উনাকে স্বপ্নে দেখলেন। জিজ্ঞাসা করলেন, হে মহান শায়েখ রহমতুল্লাহি আলাইহি! আপনি কেমন আছেন? তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। শ্রেষ্ঠত্বের বিশেষ মাক্বাম মুবারক হাদিয়া করেছেন। জিজ্ঞাসা করা হলো, কিভাবে এমন মর্যাদা-মর্তবার আসন মুবারক লাভ করলেন। তিনি বললেন, বিছাল শরীফের পর আমাকে মহান আল্লাহ পাক উনার সামনে হাজির করা হলো। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে বললেন, হে মা’রূফ কারখী রহমতুল্লাহি আলাইহি! আপনার একটি আমল আমার খুবই পছন্দ হয়েছে। সেই আমলের কারণে আমি আপনাকে ক্ষমা করতঃ আমার আখাছছুল খাছ বান্দাগণের অন্তর্ভুক্ত করেছি। সুবহানাল্লাহ!
আমি বললাম, হে বারে ইলাহী! কোন সেই আমল? তিনি বললেন, আপনি সেদিন রোযা অবস্থায় ছিলেন। বাজারের নিকটে এক ভিস্তিওয়ালা (পানি বিক্রেতা), সে এই বলে পানি বিক্রি করছিল যে, যে ব্যক্তি আমার থেকে পানি কিনে পান করবে মহান আল্লাহ পাক পাক তাকে ক্ষমা করে দিবেন। সম্মানিত মা’রিফাত-মুহব্বত সন্তুষ্টি মুবারক দান করবেন। আর আপনি সেই ভিস্তিওয়ালা (পানি বিক্রেতার) কথা বিশ্বাস করে দিনের শেষাংশে রোযা ভেঙ্গে পানি পান করলেন। আপনার এই আমল আমার খুবই পছন্দ হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
সবার জীবনে অসংখ্য অগণিত বার এরূপ সুযোগ এসে যায় কিন্তু কতজন মানুষ সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারে তা বলা কঠিন।
উপরোল্লিখিত পবিত্র আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি যে সকল মহান ব্যক্তিত্বের কথা ও উনাদের আমল তথা কর্মপদ্ধতির কথা বর্ণনা করেছেন উনারা হচ্ছেন সেই আখাছছুল খাছ ব্যক্তিত্বগণের অন্তর্ভুক্ত।
১৪৩৫ হিজরী সনের ১১ যিলক্বদ শরীফের সেই দিনে অনুরূপ একজন আখাছছুল খাছ মহান ব্যক্তিত্ব দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ মুবারক এনেছেন। মাবনজাতির হিদায়েতের কান্ডারী, মুক্তিদাতা, আলোকবর্তিকা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ইতোমধ্যে উনার পবিত্র হিদায়েতের মুবারক নূর লাভে ধন্য হয়েছেন অসংখ্য-অগণিত মানবকুল। যাঁরা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মনোনীত উনারা প্রত্যেকেই সেই নূর মুবারকের হিস্সা পাচ্ছেন। তা উপলব্ধিও করতে পারছেন সন্দেহাতীতভাবে। যে বা যারা উনার পরিচয় মুবারক লাভ করেছেন, হুসনে যন বা সুধারণা রাখছেন, মুহব্বত ও তা’যীম-তাকরীম করেছেন তারা সবাই সৌভাগ্যবানগণের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
তিনিই হচ্ছেন মাহবূবে আ’লা, মাশুকে মাওলা, সুলত্বানুল আউলিয়া, সাইয়্যিদুনা হযরত সাইয়্যিদুল উমাম আল আউওয়াল আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! উনার মুবারক নাম আমাদের জানা নেই। তিনি উনার সঙ্গতিপূর্ণ লক্বব মুবারক “সাইয়্যিদুল উমাম” তথা সমস্ত উম্মতের সাইয়্যিদ বা সরদার নামে আমাদের কাছে সূচনালগ্ন থেকেই পরিচিত।
খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাকিমুল হাদীছ, ইমামুল উমাম, আওলাদু রসূলিল্লাহ রাজারবাগ শরীফ উনার মহান মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন উনার সম্মানিত নানাজান আলাইহিস সালাম। সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন, উম্মুল আশিকীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন উনার সম্মানিতা নানীজান আলাইহাস সালাম।
সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত উম্মু কুলছূম আলাইহাস সালাম, নিবরাসাতুল উমাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন উনার সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম। আর কুতুবুল আলম, বাহরুল উলূম, আশরাফুল আউলিয়া, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত উছমান যুননূরাইন আলাইহিস সালাম, হাদিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন উনার সম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
জীবনের সূচনালগ্ন থেকে সাইয়্যিদুল উমাম লক্বব মুবারকে মশহুর বা পরিচতি লাভ করা উনার বিশেষ কারামত মুবারকের অন্তুর্ভুক্ত। তিনি যেন রোজে আযল থেকেই এই লক্বব মুবারকের অধিকারী ছিলেন। দুনিয়াতে তাশরীফ মুবারক আনতে না আনতে সবার কাছে অতি সম্মানের সাথে, মুহব্বতের সাথে সবার মুখে মুখে এই লক্বব মুবারক উচ্চারিত হওয়া সেদিকেই দালালত (নির্দেশ) করে।
তিনি দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ আনার পূর্বে মু’মিন মু’মিনাগণ স্বপ্নে দেখেছেন যে, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম স্থান পবিত্র রাজারবাগ দরবার শরীফে একজন জান্নাতী ইমাম তাশরীফ মুবারক আনবেন। হাফিয মুহম্মদ মাছুম বিল্লাহ ভাই তিনি তো খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে উনার স্বপ্নের কথা বলেই ফেললেন। তিনি সব শুনে উনার মাথা মুবারক নেড়ে সম্মতি জ্ঞাপন করলেন। মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার স্বীকৃতি জ্ঞাপন ও পবিত্র যবান মুবারকে উচ্চারিত জান্নাতী ইমাম তার সবচেয়ে বড় ও নির্ভরযোগ্য দলীল। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই, একথা বলার প্রয়োজন পড়ে না যে, যারাই উনাকে মুহব্বত করবেন, খিদমত করবেন, সম্মান করবেন, তায়াল্লুক, নিসবত রাখবেন উনারা সবাই আখাছছুল খাছ ব্যক্তিত্বগণের অন্তর্ভুক্ত হবেন। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি ১১ই যিলক্বদ শরীফের এই দিনে আমাকে এবং পাঠক-পাঠিকাসহ সবাইকে উনার সকল প্রকার খিদমত মুবারকের আঞ্জাম দেয়ার তাওফীক দান করুন, কবুল করুন। আমীন।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে