সুলত্বানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ হযরত খাজা হাবীবুল্লাহ চীশতি রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দোয়া মুবারকের বরকতে সুলতান শিহাবুদ্দীন ঘোরীর ভারত বিজয়!


সুলত্বানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ হযরত খাজা হাবীবুল্লাহ চীশতি রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দোয়া মুবারকের বরকতে সুলতান শিহাবুদ্দীন ঘোরীর ভারত বিজয়!

সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণে পৃথ্বিরাজকে দাওয়াত:
সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র হাত মুবারকে শাদীদেব, অজয় পালসহ হিন্দুদের অনেক লোক সম্মানিত দ্বীন ই¬সলাম গ্রহণ করলো। এবার তিনি পৃথ্বিরাজকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাওয়াত দেয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন। তাই তিনি পৃথ্বিরাজকে বলে পাঠালেন, পৃথ্বিরাজ! তুমি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মহানুভবতা, শক্তিমত্তা ও নিদর্শনরাজী স্বচক্ষে দেখেছো।
সম্মানিত দ্বীন ইসলামই মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত দ্বীন। উনার দ্বারা দ্বারা পূর্ববর্তী সকল ধর্ম যেমন রহিত হয়েছে তেমনি অন্যান্যগুলো মনগড়া ও অসার বলে পরিগণিত হয়েছে।
কাজেই তুমি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করো। ইহকালীন ও পরকালীন উভয় জীবনে কামিয়াব হবে। তোমার বাদশাহীও থাকবে। আর তুমি পরকালে সম্মানিত জান্নাতে অবস্থান করতে পারবে। অন্যথায় তোমার জন্য রয়েছে কঠিন বিপদ সামনে অপেক্ষমান। একদিকে যেমন রাজ্যহারা হবে। অপরদিকে পরকালীন কঠিন আযাব-গযবের সম্মুখীন হবে। যা বরদাশত করা তোমার পক্ষে কখনো সম্ভব হবে না।
পৃথ্বিরাজ সবকিছু হারিয়ে মর্মাহত হয়ে পড়েছে। ফলে কুতুবুল মাশায়িখ, সুলত্বানু হিন্দ সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার এবং উনার মুরীদ-মু’তাকিদগণের প্রতি বিদ্বেষভাব আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। সে নতুন মুসলমানগণের উপর কঠিন জুলুম নির্যাতন আরম্ভ করেছে। বিশেষ করে তার সভাসদদের মধ্যে একজন লোক ছিলেন। যিনি সুলত্বানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার মুরীদ ছিলেন। উনাকে শারীরিক ও মানসিক আমনবিক কষ্ট দেয়া শুরু করলো। এক পর্যায়ে সে তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বললেন, হুযূর! বেয়াদবী ক্ষমা চাই। আপনি পৃথ্বিরাজকে একটু বলুন, সে যেন আমাদের প্রতি অত্যাচার বন্ধ করে দেয়। সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি পৃথ্বিরাজকে বলে পাঠালেন যে, মুসলমানগণের উপর অত্যাচার বন্ধ করো। তাদের ক্ষতিসাধন থেকে বিরত থাকো। অন্যথায় তোমাকে কঠিন অবস্থার সম্মুখীন হতে হবে।
পৃথ্বিরাজ এ হুকুমের কোন গুরুত্ব দিলো না। বরং অত্যাচারে মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিল। নাউযুবিল্লাহ! সাথে সাথে রাজ্যে এ আদেশ জারি করলো যে, এদেশ ও মাটি আমার। আমি এ দেশের রাজা ও মালিক। অতএব, আমি আদেশ দিচ্ছি যে, আপনি এক সপ্তাহের মধ্যে মুরীদ- মু’তাকিদগণকে নিয়ে এ দেশ ত্যাগ করে চলে যাবেন। নতুবা আমি সব মুসলমানকে শহীদ করবো। নাউযুবিল্লাহ!
কুতুবুল মাশায়িখ, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি পৃথ্বিরাজের স্পর্ধা দেখে আশ্চর্য হলেন। তিনি পৃথ্বিরাজের বাহককে একটি চিরকুট দিলেন, যাতে লিখলেন-
من ترا زندہ بدست لشکر اسلام بسپردم
অর্থ: আমি তোমাকে জীবিত অবস্থায় মুসলমান সৈন্যদের হাতে সোপর্দ করলাম। (ইসরারুল আউলিয়া-৫৫, সিয়ারুল আউলিয়া-৪৯, ফাওয়াদিুস সালিকীন ১১১, মালফুযাতে খাজেগানে চিশত-১১২)

শিহাবুদ্দীন ঘুরীকে সুসংবাদ দান:
সুলতান শিহাবুদ্দীন ঘুরী সে সময় তার নিজ দেশ খোরাসানে অবস্থান করছিলেন। ৫৮৮ হিজরী মুহররমুল হারাম মাস। সেদিন ছিল ইয়াওমুল খামিস। শিহাবুদ্দীন ঘুরী তিনি স্বপ্নে দেখতে পেলেন যে, নূরে নূরানী একজন মহান ব্যক্তিত্ব। তিনি বলছেন, হে শিহাবুদ্দীন! মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাকে হিন্দুস্থানের রাজত্ব দান করেছেন। তুমি জেগে উঠো। হিন্দুস্থানের পথে রওয়ানা হও। অহংকারী ও অবাধ্য রাজা পৃথ্বিরাজকে জীবিত অবস্থায় গ্রেফতার করে সমুচিত শাস্তি দাও। একথা বলে তিনি মানষপট থেকে সরে গেলেন।
সাথে সাথে উনার ঘুম ভেঙ্গে গেল। এখনও উনার কানে একই আওয়াজ ভেসে আসছে উঠো এবং হিন্দুস্থানের পথে চলো। বিজয় তোমার জন্য অপেক্ষা করছে। সকালে উনার সভাসদ সবাইকে ডাকলেন। স্বপ্নের কথা খুলে বললেন এবং তাদের মতামত ব্যক্ত করতে বললেন। তারা সবাই এক বাক্যে স্বীকার করলেন যে, ইহা একজন বুযুর্গ ব্যক্তির সুসংবাদ। কাজেই, অবশ্যই এর মধ্যে দোয়া, কল্যাণ ও বিজয় নিহিত রয়েছে। আপনাকে এই সুসংবাদের মূল্যায়ন করা উচিত। আপনি হিন্দুস্থান বিজয়ের দিকে মনোনিবেশ করুন। (ছিয়ারুল আউলিয়া, হযরত খাজা গরীবে নেওয়াজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি পূর্ণাঙ্গ জীবনী-১৬১)

সুলতান শিহাবুদ্দীন মুহম্মদ ঘোরীর পুনরায় ভারত আক্রমণ ও বিজয়:
তারাইনের যুদ্ধে সুলতান শিহাবুদ্দীন মুহম্মদ ঘোরী বিজয় লাভ করতে পারেননি। গুরুতর আহত অবস্থায় নিজ রাজ্য গজনী চলে যান। তবে সুলতান দৃঢ় প্রতিজ্ঞা বদ্ধ হলেন যে, বিজয় লাভ না করা পর্যন্ত সকল প্রকার আরাম-আয়েশ, রাজকীয় আহার-বিহার এমন কি আহলিয়ার সাথে নিরিবিলি অবস্থান থেকে বিরত থাকবেন। যেমন প্রতিজ্ঞা তেমনি কাজ। উনার বাসস্থান হলো মুসাফির খানা, বিছানা হলো খড়কুটা, বালিশ হলো দু’হাত আর খাবার হলো গরীব-দুঃখীদের লঙ্গর খানায়।
যুদ্ধের ময়দান হতে ফিরে এসে সৈন্য সংগ্রহে মনোনিবেশ করলেন। সৈন্য সংখ্যা ও সমর শক্তি বাড়ালেন। কিন্তু আশানুরূপ শক্তিশালী হলো না। তবে তিনি নিরাশ হননি। বিজয় লাভের জজবা দাউ দাউ করে জ্বলছে। এরই মধ্যে স্বপ্নে পাওয়া সুসংবাদ উনার মনোবলকে দৃঢ় ও শক্তিশালী করলো। উনার নিশ্চিত বিশ্বাস জন্মেছে যে, ইনশাআল্লাহ অবশ্যই এবারের জিহাদে তিনি বিজয় লাভ করবেন।
তিনি সৈন্যদেরকে একত্রিত করলেন। কাউকে কিছু না বলে পেশোয়ারের দিকে রওয়ানা হলেন। সেখানে একজন পীর ছাহেব রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার সাক্ষাত পেলেন।
সেই পীর ছাহেব রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি সুলতানের জন্য দোয়া করলেন এবং জিহাদে বিজয়ের সুসংবাদ দিলেন।
সুলতান শিহাবুদ্দীন মুহম্মদ ঘোরী সকলকে একত্রিত করে লাহোরে পৌঁছলেন। রুকুনুদ্দীন হামযাকে নিজের বার্তাসহ পৃথ্বিরাজের কাছে পাঠালেন।
পত্রের সারমর্ম হচ্ছে- পৃথ্বিরাজ! তুমি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ কর- মুসলমান হও। অথবা আমার বশ্যতা স্বীকার করো- জিজিয়া কর দাও। অন্যথায় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও।
পৃথ্বিরাজ ছিল অহংকারী। সমর শক্তির ক্ষেত্রে নিজেকে অপরাজেয় মনে করতো। তাই পত্রের উত্তরে বললো-
আমাদের অসংখ্য-অগনিত সৈন্য সর্বদা প্রস্তুত। তাছাড়া তাদের শক্তিমত্তার সম্পর্কে আপনি বেখবর নন। এছাড়াও প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা হতে সৈন্য আসছে। যদি আপনার নিজের প্রতি দয়া-মায়া নাও হয় তবুও অন্তত নিজের মুষ্টিমেয় ও অদক্ষ সৈন্যদের জন্য মায়া-মুহব্বত করুন। আর লজ্জিত হওয়ার পূর্বে ফিরত চলে যান। অন্যথায় প্রস্তুত হয়ে যান। তিন হাজারের অধিক হাতি এবং অগণিত সৈন্য ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তীরন্দাজ বাহিনী সকলেই সম্মিলিতভাবে আপনার সৈন্যের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। যুদ্ধের ময়দানে আপনাদেরকে হাতি দ্বারা পদদলিত করা হবে। নাউযুবিল্লাহ!
চিঠি লিখে আগত দূতের হাতে দিয়ে বললো, যান। আপনাদের সুলতানকে চিঠি দিয়ে যুদ্ধের পরিণতির কথা চিন্তা করে পা বাড়াতে বলবেন।
পৃথ্বিরাজ, নিজের বিজয় ও সফলতার উপর পরিপূর্ণ বিশ্বাসী ছিলো। সুলতানের জওয়াব দিয়ে নিজে যুদ্ধের প্রস্তুতিতে লেগে গেলো।
অবশেষে পৃথ্বিরাজ থানসিরের ময়দানে বিশাল বাহিনী নিয়ে উপস্থিত হলো। পৃথ্বিরাজের সৈন্যদের মধ্যে তিন হাজার হস্তিবাহিনী, তিন লাখ ঘোড়া ও উষ্ট্রি বাহিনী এবং পদাতিক বাহিনী ছিলো অসংখ্য-অগণিত। দেড় শতাধিক অন্যান্য রাজ্যের সৈন্যগণও তার মধ্যে যোগদান করলো।
সুলতান শিহাবুদ্দীন মুহম্মদ ঘোরীর সৈন্য সংখ্যা ছিলো মাত্র ১ লাখ ২০ হাজার। পৃথ্বিরাজ ও সুলতান উভয়ের সৈন্যগণ নদীর পাড়ে পরিখা খনন করে আত্মরক্ষার বুহ্য তৈরী করলো।
পৃথ্বিরাজের সৈন্যদের অপেক্ষা সহ্য হচ্ছে না। তারা সুলতানের সৈন্যের উপর আক্রমণ করলো। তুমুল যুদ্ধ শুরু হলো। কুতুবুল মাশায়িখ, সুলতানুল হিন্দ সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার সুসংবাদ পেয়ে সৈন্যদের মনোবল এমনই বৃদ্ধি পেল যে, তারা যেন একজনই একশত। সুবহানাল্লাহ! সুলতানের সৈন্যগণ পৃথ্বিরাজের সৈন্যদেরকে কচুকাটা করতে লাগলো। সুলতানের সৈন্যদের তাকবীর ধ্বনী শুনে পৃথ্বিরাজের সৈন্যদের হাত থেকে তরবারী পড়ে যেতে লাগলো। রাজাদের অন্তরাত্তা কেঁপে উঠলো। তারা সম্পূর্ণভাবে মনোবল হারিয়ে ফেললো। পৃথ্বিরাজের সৈন্যদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হলো। তারা যুদ্ধের ময়দান থেকে পালাতে লাগলো।
এমনকি পৃথ্বিরাজ স্বয়ং নিজেই পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে যুদ্ধ ক্ষেত্র হতে পালাতে লাগলো। কিন্তু পালাতে পারলো না। নদীর তীরে সুলতানের সৈন্যদের হাতে গ্রেফতার হলো। তখন সে বুঝতে পারলো সুলতানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার কথাই সত্যে পরিণত হলো।
সুলতান শিহাবুদ্দীন মুহম্মদ ঘোরী বিজয় লাভ করলেন। পৃথ্বিরাজের ছেলে সুলতান শিহাবুদ্দীন মুহম্মদ ঘোরীর বশ্যতা স্বীকার করালো। ফলে সুলতান তাকে গজনী রাজ্যের ফরমাবরদার ও করদাতারূপে দায়িত্বে রাখলেন। আর কুতুবুদ্দীন আইবেককে উনার স্বীয় প্রতিনিধিত্ব দান করে সারা ভারতের বিজিত অংশের শাসনকর্তা নিযুক্ত করলেন। (তাযকিরাতুল আউলিয়া ৪/২১৯, খাজা গরীবে নেওয়াজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি’র পুর্ণাঙ্গ জীবন চরিত্র-১৬৫)
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম
উনার অনন্য একখানা কারামত মুবারক

হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ৬ষ্ঠ ইমাম হচ্ছেন, সুলত্বানুল মাশায়িখ, ইমামুল মুহসিনীন, ইমামুছ ছিদ্দীক্বীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম জা’ফর ছাদিক্ব আলাইহিস সালাম। উনার বেমেছাল শান-মান, ফাযায়িল, ফযীলত ও বুযুর্গী মুবরক রয়েছে। যা আমরা নিম্ন বর্ণিত উনার মুবরক কারামত উনার দ্বারা উপলব্ধি করতে পারবো।
একবার খলীফা মানছূর সে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করার পরিকল্পনা করেছিলো। নাউযুবিল্লাহ! কারণ খলীফা মনছুর ছিলো দুষ্ট প্রকৃতির। সে দেখলো সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনার প্রভাব প্রতিপত্তি অনেক বেশি। কারণ সে সময়কার মাশহুর তথা প্রসিদ্ধ ব্যক্তিবর্গ সবাই উনার মুরীদ। যেমন- হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম মালিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি, সুলত্বানুল আরিফীন হযরত বায়েজিদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি, রসায়নবিদ হযরত জাবির বিন হাইয়্যান রহমতুল্লাহি আলাইহিসহ আম-খাছ, আলিম-উলামা, ছূফী-দরবেশ সবাই উনার মুরীদের অন্তর্ভুক্ত। তাই একদিন আব্বাসীয় খলীফা মানছুর তার সভাসদসহ খাদিম-খুদ্দামদেরকে নিয়ে পরামর্শ করলো কিভাবে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করা যায়। নাঊযুবিল্লাহ!
সকলে বললো এ কাজটা করা তার ঠিক হবে না। তারপরও হিংসাবশতঃ সে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করার পরিকল্পনা করলো। নাঊযুবিল্লাহ!
সে বললো- সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনাকে দাওয়াত করা হবে। উনি যখন দাওয়াতে আসবেন তখন মনছুর তার মাথার পাগড়িটি খুলে ফেললে বুঝতে হবে উনাকে শহীদ করতে হবে। নাউযুবিল্লাহ!
কথা অনুযায়ী সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনাকে দাওয়াত করা হলো- উনিও দাওয়াতে আসলেন। উজীর, নাজীর, খাদীম, খুদ্দাম, সকলেইতো গভীর চিন্তিত, পেরেশান। ব্যাপারটা কি থেকে কি হয়ে যায়। দেখা গেলো উনি যখন তাশরীফ নিলেন তখন খলীফা মনছুর কাচুমাচু হয়ে, অত্যন্ত বিনীতভাবে, ভক্তিভরে উনাকে তার আসনে বসিয়ে বলতে লাগলো, ‘হুযূর! বেয়াদবী মাফ করবেন আমি আপনার কি খিদমত করতে পারি? আপনি কি চান?’ তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহি সালাম তিনি বললেন, ‘আমাকে সংবাদ দিবে না, তুমি আমার ইবাদত-বন্দেগীতে ব্যাঘাত ঘটাবে না। এটাই আমি চাই।’
এরপর অত্যন্ত তা’যীম, তাকরীম উনার সাথে খলীফা মনছুর সে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনাকে উনার বাড়িতে পৌঁছে দিলো। পৌঁছে দিয়ে রাজপ্রাসাদে এসে সে বেহুঁশ হয়ে পড়লো।
বেহুঁশ হওয়ার কারণে তার তিন ওয়াক্ত নামায কাযাও হলো। অতঃপর তার যখন হুঁশ ফিরে আসলো তখন তাকে উজীর, নাজির, খাদিম, খুদ্দামরা বললো ব্যাপারটা কি? তখন খলীফা মনছুর বললো- সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম তিনি যখন তাশরীফ নিয়েছিলেন তখন সে উনার সাথে একটা বড় অজগর সাপও দেখতে পেয়েছিলো। সাপটি বলতেছিলো, হে মনছুর! তুমি যদি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনার সাথে বেয়াদবী করো, তাহলে তোমার কোনো রক্ষা নেই। তোমাকে আমি ধ্বংস করে ফেলবো।
এটা দেখে সে উনাকে তা’যীম, তাকরীম করেছে, খিদমতের আঞ্জাম দিয়েছে এবং পরে ভয়ে বেহুঁশ হয়ে পড়েছে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে