সৃজনশীল-এর দোহাই দিয়ে জাতিকে পঙ্গু করার ষড়যন্ত্র: ৫২ শতাংশের বেশি শিক্ষক এখনো সৃজনশীল বোঝে না


দেশে অর্ধেকের বেশি (৫২.০৫%) মাধ্যমিক শিক্ষক কথিত সৃজনশীল পদ্ধতি বোঝেই না। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের একাডেমিক পরিদর্শন প্রতিবেদন তা-ই বলছে। চলতি ২০১৭ সালের গত মে মাসে ১৮ হাজার ৫৯৮টি মাধ্যমিক স্কুলে পরিদর্শন করে মাউশি তা জানতে পেরেছে।
তা এক দশক ধরে এত ঢাক পিটিয়ে যে কথিত সৃজনশীল প্রশ্নপত্র চালু করা হলো, লাখ লাখ মাধ্যমিক শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হলো, তারপরও অর্ধেকের বেশি শিক্ষক কথিত ‘সৃজনশীল অংশ বোঝে না’ কেন? শিক্ষকই যদি না বোঝে, তাহলে তারা কী পড়ায়? আর অবুঝ শিক্ষক যা পড়ায়, তাতে শিক্ষার্থীদের পাসের হার শনৈঃশনৈঃ বাড়ে কী করে?
তার সোজা মানে হচ্ছে, গোটা জাতিকে সৃজনশীলের নামে ধোঁকা দেয়া হচ্ছে। এদেশের ২০ কোটি মানুষ তা বুঝতেও পারছে, প্রতিবাদ করছে। শিক্ষার নামে এই নষ্টামি বন্ধের জন্য সামান্য বিবেক যাদের আছে, তারা এক দশক ধরে আবদার, চেঁচামেচি, প্রতিবাদ, মানববন্ধন, মোকদ্দমা করেও এ থেকে পরিত্রাণ পাচ্ছে না কেন?
কারণ সৃজনশীল নামক সোনার রাজহাঁস বহু লোককে রাতারাতি আঙুল ফুলে বটবৃক্ষ বানিয়েছে, বানাচ্ছে। সৃজনশীলের নামে দেশ থেকে লেখাপড়া নির্বাসনে গেছে, স্কুল-কলেজ নিষ্প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে, কোচিং সেন্টারই এখন শিক্ষার মঞ্জিলে মকসুদ। এভাবে এক অশিক্ষিত, অদক্ষ, অসৎ, বিবেকহীন, নির্লজ্জ, লোভী ও আত্মপরায়ণ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে; তবু কথিত সৃজনশীলের গতিপথ থামছে না।
তার প্রথম কারণ আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় কারণ, যারা সৃজনশীল শিক্ষা নিয়ে দেশ মাতাল করে দিচ্ছে, তারাই ‘সৃজনশীল কী’ তা-ই বোঝে না। যারা এই শিক্ষা মাঠপর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পেয়েছে, নিয়েছে, তাদের ১০ শতাংশও ‘সৃজনশীল শিক্ষা’র জন্য পাঠ্যপুস্তক কেমন হবে, কীভাবে সৃজনশীল শিক্ষা দিতে হয়, কীভাবে ‘সৃজনশীল প্রশ্ন’ করতে হয়, কীভাবে সে প্রশ্নের ‘উত্তর মূল্যায়ন’ করতে হয়, তার কিছুই যেমন নিজেরা জানে না, তেমনি তা কাউকে শেখাতেও পারেনি। কিন্তু এ জন্য তারা দেশ-বিদেশ সফর করেছে, প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও দানের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা নষ্ট করেছে।
এদেশে ‘সৃজনশীল’ ‘সৃজনশীল’ বলে চিৎকার শুরু ২০০৭ সাল থেকে। তারপর ২০১০ সালে মাধ্যমিকে বাংলা ও ধর্মশিক্ষায় ‘সৃজনশীল পদ্ধতি’তে প্রথম পরীক্ষা নেয়া শুরু। ধীরে ধীরে নিচে এবং উপরের ক্লাসে, অর্থাৎ প্রাথমিক সমাপনী ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরেও কথিত সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা গ্রহণ শুরু হয়। মাধ্যমিক শিক্ষক যাদের চাকরির শর্তই পেডাগজি প্রশিক্ষণ, তাদেরই সৃজনশীল শিক্ষক হিসেবে গড়ে তোলা যায়নি; যদিও বাহারি নামে গন্ডা গন্ডা প্রজেক্ট নিয়ে গত প্রায় এক দশকে হাজার হাজার কোটি টাকা এ খাতে লোপাট করা হয়েছে।
বাংলাদেশে কথিত সৃজনশীল বলে যা চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছে, এর নাম আর যা-ই হোক সৃজনশীল শিক্ষা বা সৃজনশীল প্রশ্ন নয়। এখানে ‘কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন’কে ‘সৃজনশীল’ বলে ধোঁকাবাজরা গোটা জাতিকে জিম্মি করেছে।
এখন সময় এসেছে পুরো বিষয়টি তদন্ত করার। সময় এসেছে দায়ীদের কাঠগড়ায় তুলে কৈফিয়ত চাওয়ার। এখানে দুটি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে: প্রথম অপরাধ, তারা জনগণকে মিথ্যা বলেছে, ধোঁকা দিয়েছে ও জাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। দ্বিতীয়ত, তারা কোটি কোটি টাকা লুণ্ঠন করেছে।
পঙ্গু জাতি গঠনে নিয়োজিত নাস্তিক শিক্ষামন্ত্রী এবং জাফর ইকবাল, শ্যামলী চৌধুরীর মতো যারাই এই অপকর্মের নিয়োজিত, তাদেরকে বিচারের আওতায় অবশ্যই আনতে হবে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে