সেদিন কতদূর (?) যেদিন খ্রিষ্টানদের ভয়ে নিজ ঘরে কানে-কানে কথা বলবে মুসলমান !


ইতিহাসের পুণরাবৃত্তি,

সুলতান হযরত সালাহুদ্দীন আইউবী রহমতুল্লাহি আলাইহি যখন কার্ক অবরোধ করে রেখেছিলেন সে সময়ের কথা,

সুলতানের কমান্ডোদের শাহদাত বরণের ঘটনা বেড়ে গেছে অনেক। আক্রমণকারী দলের সদস্য যদি থাকে ১০ জন, তো ফিরে আসে ৩/৪ জন।খ্রিষ্টানরা এমন ব্যবস্থা করেছে , যা কমান্ডোদের সাফল্যের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে তাদের।
খ্রিষ্টনরা বোধ হয় আমাকে সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হতে বাধ্য করতে চাচ্ছে। কিন্তু আমি তাদেরকে সফল হতে দিব না। তাছাড়া এখনই আমি আমার এত লোক মরতে দিব না।—সুলতান সালাহুদ্দীন আউইবী
‘আমি আপনাকে গেরিলা বাহিনী লোকসংখ্যা বাড়ানোর পরামর্শ দিব। এ পরামর্শও দিব যে, আমাদের শুধু এ কারণে দুশমনের শক্তিকে উপেক্ষা করা ঠিক হবে না যে, আমাদের সৈন্যদের অাবেগ অনেক বেশি।আবেগ একজন সৈনিকে প্রাণপণ যুদ্ধে জড়িয়ে খুন করাতে পারে, বিজয়ের গ্যারান্টি দিতে পারে না।খ্রিষ্টানদের মোকাবেলায় আমাদের সৈন্যসংখ্যা কম।তাছাড়া আমাদের একথা ভুললে চলবে না যে, খ্রিষ্টানদের অধিকাংশ সৈনি বর্মপরিহিত।—বললেন এক নায়েব

মুচকি হাসলেন সুলতান আইউবী। বললেন,

‘তারা যে লোহা পরিধান করে রেখেছে, তা তাদের নয় উপকার দিবে আমাদের। দেখেননি , তারা মার্চ করে হয়ত রাতে অথবা ভোরে? কারণ, তারা রোদ সহ্য করতে পারে না। সূর্যের তাপ তাদের বর্মগুলোকে জলন্ত অঙ্গারের ন্যায় তপ্ত করে। তখন বর্ম পরিহিত সৈনিকরা তাদের লোহার ওই পোশাকগুলো খুলে ছুড়েঁ ফেলতে চা্য়।তা ছাড়া লোহার ওজন তাদের চলাচলের গতিও ব্যহত করে তোলে। আমি তাদেরকে প্রখর রৌদ্রতাপদগ্ধ দুপুরবেলা লড়াই করতে বাধ্য করবো। তাদের মাথার শিরস্ত্রাণগুলো ঘাম ঝড়িয়ে ঝড়িয়ে চোখ ভাসিয়ে ফেলবে। তারা অন্ধ হয়ে যাবে।আর আমাদের ঘাটতি পূরণ করতে হবে আবেগ ও কৌশল দিয়ে।
সুলতান গাজী সালাহুদ্দীন আইউবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জীবনের বৃহৎ অংশ কাটিয়েছেন যুদ্ধের ময়দানে, খ্রিষ্টানদের বিপরীতে যুদ্ধ করে। উনার প্রধান মকসুদ ছিল , বাইতুল মোকাদ্দাস শরীফকে খ্রিষ্টানদের হাত থেকে মুক্ত করে, মুসলমানদের কজ্বায় আনা। উনার মকসুদ পুরা হয়েছিল আর মকসুদ পুরা পিছনে অবদান ছিল সুলতান আইউবীর বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণতা, উনার গোয়েন্দা ইউনিট আর ঈমাণী জযবাপূর্ণ উনার জানবায সৈনিকদের।যারা তাদের ২য় ক্বিবলা রক্ষার্থে জীবন দিয়ে দিতেন। আজ প্রায় ৯০০ বছর পর মুলমানরা জানবায সৈন্যদের জানের সওদা করেছে নিজেদের আরাম-আয়েশের সাথে। এখন পূর্বের তুলনা মুসলমানদের সংখ্যা বেড়েছে অনেক কিন্তু পূর্বের মুসলমানদের মত জযবা কোথায়? হুম, জযবা আছে শূণ্যের কোঠায় আরো আছে নারী, মদ , খ্রিষ্টানদের কৃষ্টি কালচারের প্রতি মোহ।।যাদরুন অনেক বছর পর আবার ইতিহাসের পুণরাবৃত্তি।

Views All Time
6
Views Today
24
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে