সৌদি আরবের ধনী বাদশাহ’র বিলাসিতা আর দেশের জনগণের দুর্ভোগ মানবেতর জীবন


ফরাসী এক পত্রিকায় প্রকাশিত পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে সৌদি আরবের বাদশাহ বিশ্বের তৃতীয় এবং আরব বিশ্বের সবচেয়ে সম্পদশালী বাদশাহ। তা সত্ত্বেও এদেশের জনগণ জীবন যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সুবিধা হতেও বঞ্চিত।

 

 

ফরাসী পত্রিকা ‘চ্যালেঞ্জ’-এর সর্বশেষ সংখ্যায় বিশ্বের সম্পদশালী বাদশাহদের একটি তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। যেভাবে ধারণা করা হয়েছিল, সেভাবেই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের শেখ’রাই বিশ্বের সবচেয়ে সম্পদশালী বাদশাহদের তালিকায় সবার উপরের স্থানে রয়েছেন।

এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে, ‘আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আযিয’ প্রায় ১২.৬ বিলিয়ন ইউরোর মালিক এবং তিনি বিশ্বের সম্পদশালী বাদশাদের তালিকায় তৃতীয় এবং আরব বিশ্বের বাদশাদের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছেন।

এ পত্রিকা আরো জানিয়েছে যে, মরক্কোর বাদশাহ ‘ষষ্ঠ মুহাম্মাদ’ (৪৮) ১.৯ বিলিয়ন ইউরোর অধিকারী হয়ে চতুর্থ এবং কাতারের ৬৩ বছর বয়স্ক বাদশাহ হামদ বিন খালিফা আলুস সানী (৬৩) ১.৭ বিলিয়ন ইউরোর অধিকারী হয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছেন।


 

আরব রাজতন্ত্র ভিত্তিক দেশসমূহের বাদশাহরা এমন অঢেল সম্পত্তির মালিক হলেও এ সকল দেশের অনেক লোক মানবেতর জীবন যাপন করে। উদাহরণ স্বরূপ জাযান প্রদেশের ‘আল-রিস’ শহরের অন্তর্ভুক্ত ‘আল-হিজ্জাহ’ অঞ্চলের বাসিন্দারা সামান্য স্বাস্থ্য সেবা হতেও বঞ্চিত, সবচেয়ে কাছের ক্লিনিক বা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পৌঁছুতে তাদের দীর্ঘ ৩ ঘন্টার পথ পাড়ি দিতে হয়। এ সকল অঞ্চলের জনগণের সমস্যা শুধুমাত্র স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হীনতা নয় বরং এ সকল অঞ্চলের লোকেরা জীবন যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সাধারণ সুবিধাদি হতেও বঞ্চিত।


এ অঞ্চলের বাসিন্দা ‘মুফাররাহ আল-শাহনী’ বলেন : আমরা সৌদি সমাজ হতে পরিপূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন এবং আমাদেরকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের এ অঞ্চলে শুধুমাত্র একজন লোক লিখতে ও পড়তে পারে এবং বাকিরা সকলেই নিরক্ষর।

‘আল-শাহনী’ বলেন : স্বাক্ষর ঐ ব্যক্তির মাধ্যমে আমরা বেশ কয়েকবার আমিরের নিকট পত্র প্রেরণ করে তাদেরকে এ বিষয়ে অবগত করেছি যে, আমাদের এ অঞ্চলের পরিস্থিতি জাহিলিয়্যাতের যুগের ন্যায়। স্কুলসহ অন্যান্য শিক্ষা ব্যবস্থার কথা বাদই দিলাম, এ অঞ্চলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মত সাধারণ সেবা দান কেন্দ্রেরও কোন ব্যবস্থা নেই। আর এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে বারবার অবগত করা সত্ত্বেও কোন ফল আমরা পাইনি।

 

তিনি বলেন : স্বাস্থ্যকেন্দ্র না থাকার কারণে আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করি, তখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান যে, ঐ অঞ্চলের জনসংখ্যা এতবেশী নয় যে, সেখানে একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। এ অঞ্চলের লোকের আদিম যুগের লোকদের মত বসবাস করে এবং পশুপালন ও পশু চরানোর মত কাজের মাধ্যমে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এছাড়া প্রাচীন যুগের মত বিভিন্ন জিনিস পত্র আদান-প্রদানের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটায়। এ অঞ্চলের লোকদের ব্যবহৃত পানির ব্যাপারে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, বিশুদ্ধ পানির কোন ব্যবস্থা এ অঞ্চলে নেই। এ অঞ্চলের লোকেরা ঐ সকল ঝর্না ও পুকুরের পানি পান করে যেখান হতে তাদের পালিত পশুরা পানি পান করে থাকে। আর এ কারণে এ অঞ্চলের লোকদের মাঝে বিভিন্ন সংক্রামক রোগের পরিমান অনেক বেশী।

‘আল-রিসে’র নগর পরিষদের প্রধান ‘আল-হিজ্জাহ’ অঞ্চল সম্পর্কে বলেন : প্রায় ৪০টি পরিবার এ অঞ্চল জীবন যাপন করে এবং আমরা জানি যে, তারা ন্যূনতম সুবিধাদি হতেও বঞ্চিত।




বিশ্বের তেল উত্তোলনকারী দেশসমূহের তালিকায় প্রথমে থাকা সৌদি আরবের মোট জনসংখ্যা ১ কোটি ৬০ লাখ। প্রতিদিন দেশটি ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন করে। কিন্তু এদেশের ৩২ লাখ ৫০ হাজার (মোট জনসংখ্যার ২২ ভাগ) লোক চরম দূর্দশাগ্রস্থ ও দারিদ্রতার মাঝে জীবন যাপন করে। এছাড়া শতকরা ৫০ ভাগ জনগণ নিম্ন আয় এবং দারিদ্রতার শিকার। দেশটি প্রতি মাস ৩৬ কোটি ব্যারেল এবং প্রতি বছরে ৪৩২ কোটি ব্যারেল তেল উত্তোলনের মাধ্যমে প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করলেও এ বিরাট আয়ের মাত্র শতকরা ১০ ভাগ সৌদি আরবের জনগণের ভাগ্যে জোটে এবং অবশিষ্ট অর্থ পশ্চিমা দেশসমূহে অবস্থানরত সৌদি রাজপুত্রদের বিলাসিতা ও অপচয়ের মাধ্যমে ধ্বংস হয়।#

 

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+