স্কুল-কলেজের বর্তমান শিক্ষাপদ্ধতি শিক্ষার্থীদের ‘মুসলিম’ পরিচয়ে আঘাত করছে 


প্রাইমারি থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত অমুসলিম শিক্ষকদের গড় হার ৫৮ ভাগেরও বেশি। কোনো কোনো বিদ্যালয়ের ৮৫ ভাগ শিক্ষকই বিধর্মী। অনেক ক্ষেত্রে স্কুলের ইসলাম শিক্ষা বই পড়ায় বিধর্মী শিক্ষক। একটি শিশু কোমল মন নিয়ে যখন শিক্ষালাভ শুরু করে, তখন তার শিক্ষকের বা শিক্ষা গুরুর আদর্শ ও বিশ্বাসের প্রতি সে আসক্ত হয়ে পড়ে। তার স্যার, মিসেস, ম্যাডাম বা টিচারের আদর্শ, ধর্মীয় ভাবধারা, রীতি, সংস্কৃতি, চিন্তা-চেতনার প্রভাব শিশুটির উপর পড়বেই। তাহলে আমাদের দেশের স্কুলের শিক্ষক বিধর্মী হলে মুসলিম শিশুরা ছোটবেলা কী শিখবে?

অনেক শিক্ষাঙ্গণে এখন সকল শিক্ষার্থীকেই সরস্বতী পূজায় উৎসাহিত করা হয়ে থাকে। অথচ মুসলমানের জন্য দেব-দেবীর পূজা করা সম্পূর্ণ অবৈধ, হারাম ও শিরক। একটি মুসলিম দেশের শিশু-কিশোরদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার পরিচয়, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিচয়, দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে, পবিত্রতা, নামায, ইবাদত-বন্দেগী, সত্য বলা, সৎপথে চলা, মা-বাবার কথা শোনা, উস্তাদকে মান্য করা ইত্যাদি না শিখিয়ে এসব কী শেখানো হচ্ছে?

পড়ার চাপে শিশুরা এখন আর ভোরে মসজিদ বা মক্তবে যেতে পারে না। নগরজীবনের বাস্তবতায় তারা নানী-দাদী বা আলেম গৃহশিক্ষকের কাছেও মৌলিক ইসলামী শিক্ষা আগের মতো পায় না। মহান আল্লাহ পাক উনার সম্পর্কে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে, ভালো-মন্দ, জান্নাত-জাহান্নাম, পবিত্র কুরআন-হাদীছ, সওয়াব-গুনাহ ইত্যাদি সম্পর্কে এখনকার ছেলেমেয়েরা কিছুই জানার/শেখার সুযোগ পায় না। ওরা আরবী অক্ষর পড়া জানে না। নামায পড়াও শেখে না। নাউযুবিল্লাহ!
একমুখী শিক্ষার নামে অচিরেই মাদরাসা, মক্তব, হাফিজিয়া মাদরাসা ইত্যাদি ব্যবস্থায়ও বিধি-নিষেধ আসছে। দেশ কি তবে নাস্তিক্যবাদীদের ইচ্ছায়ই চলবে? সঙ্গতকারণেই প্রশ্ন জাগে- আগামী প্রজন্ম মুসলমান থাকবে তো?

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে