স্টেরয়েড জাতীয় বড়ি ,ইনজেকশন দিয়ে নয় , প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেই বাংলাদেশে পশু মোটাতাজাকরন করা হয় – ২


কোরবানির ঈদের আগে গরু কিনতে গেলে মোটাতাজা গরু দেখলেই মনে করা হয় ইঞ্জেকশন দিয়ে মোটা করা গরু। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। প্রাকৃতিক উপায়েই ৩-৪ মাসের মধ্যে গরু মোটাতাজাকরণ করা যায়।
গ. বাসস্থানের গঠনঃ
গরুর বাসস্থান তৈরির জন্য খোলামেলা উঁচু জায়গায় ঘর তৈরি করা প্রয়োজন। একটি গরুর জন্য মাপ হতে হবে কমপক্ষে ১০-১২ বর্গফুট। মাঝারী আকারের গরুর জন্য ৫-৬ ফুট দৈর্ঘ্য X ৩-৪ ফুট প্রস্থ ও ঘরের উচ্চতা ৮-১০ ফুট হওয়া দরকার। ভিটায় ১ ফুট মাটি উঁচু করে এর ওপর ১ ফুট বালু দিয়ে ইট বিছিয়ে মেঝে মসৃণ করার জন্য সিমেন্ট, বালু ও ইটের গুঁড়া দিতে হবে। গরুর সামনের দিকে চাড়ি এবং পেছনের দিকে বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য নালা তৈরি করতে হবে। বাঁশের খুঁটি দিয়ে বেঁধে ওপরে ধারি অথবা খড় ও পলিথিন দিয়ে চালা দিতে হবে, ঘরের পাশে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা দরকার। পাশাপাশি দাঁড়ানো গরুকে বাঁশ দিয়ে আলাদা করতে হবে যাতে একে অন্যকে গুঁতা মারতে না পারে। ঘরের চারপাশ চটের পর্দার ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে অতি বৃষ্টি ও অতি ঠান্ডার সময় ব্যবহার করা যায়।
ঘ. খাদ্য ব্যবস্থাপনাঃ
জীবন ধারনের জন্য খাদ্য অত্যাবশ্যক। গরু মোটাতাজাকরণের ক্ষেত্রে খাদ্যে মোট খরচের প্রায় ৬০-৭০ ভাগ ব্যয় হয়। তাই স্থানীয়ভাবে খরচ কমানো সম্ভব। এজন্য গরু মোটাতাজাকরণের একটি সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিচে দেয়া হলো-
শুকনা খড়ঃ দুই বছরের গরুর জন্য দৈহিক ওজনের শতকরা ৩ ভাগ এবং ২ এর অধিক বয়সের গরুর জন্য শতকরা ২ ভাগ শুকনা খড় ২-৩ ইঞ্চি করে কেটে এক রাত লালীগুড়/চিটাগুড় মিশ্রিত পানিতে (পানি : চিটাগুড়=২০:১ ) ভিজিয়ে প্রতিদিন সরবরাহ করতে হবে।
কাঁচা ঘাসঃ প্রতিদিন ৬-৮ কেজি তাজা ঘাস বা শস্য জাতীয় তাজা উদ্ভিদের উপজাত দ্রব্য যেমন- নেপিয়ার, জার্মান,পারা, খেসারি, দেশজ মাটি কলাই, দুর্বা ইত্যাদি সরবরাহ করতে হবে।
দানাদার খাদ্যঃ প্রতিটি গরুকে প্রতিদিন কমপক্ষে ১-২ কেজি দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। নিচে ১ কেজি দানাদার খাদ্যের তালিকার একটি নমুনা দেয়া হলো-
উপাদান দানাদার খাদ্য মিশ্রণের পরিমাণ শতকরা হার
গম ভাঙা-গমের ভুসি – ৪০০ গ্রাম ৪০%
চালের কুড়া ২০০ গ্রাম – ২০%
তিলের খৈল ১৫০ গ্রাম – ১৫%
খেসারি বা ছোলা অথবা যে কোনো ডালের ভুসি ১৫০ গ্রাম – ১৫%
হাড়ের গুড়া/ঝিনুক গুড়া ৫০ গ্রাম – ৫%
লবণ ৫০ গ্রাম – ৫%
মোট ১০০০ গ্রাম = ১ কেজি ১০০%
উল্লিখিত তালিকা ছাড়াও বাজারে প্রাপ্ত ভিটামিন মিনারেল মিশ্রণ (যেমন- Ranmix Total®), এন্টিবায়োটিক (যেমন- Oxysentin® ২০% @ ১গ্রাম/কেজি) ও বাজারে প্রচলিত খাবার সোডা, ১% হারে খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। তাছাড়া বিভিন্ন রকমের ইউরিয়া মোলাসেস ব্লকও ব্যবহার করা যেতে পারে।
গরুকে সাধারণত তিনটি পদ্ধতিতে মিশ্রিত উন্নত খাবার দিতে হবে-
১। আঁশ বা ছোবড়া জাতীয় জাতীয়-খাদ্যের সাথে মিশিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে
২। দানাদার জাতীয়-খাদ্যের সাথে সরাসরিভাবে এবং
৩। ইউরিয়া মোলাসেস ব্লকের মাধ্যমে ।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে