স্টেরয়েড জাতীয় বড়ি ,ইনজেকশন দিয়ে নয় , প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেই বাংলাদেশে পশু মোটাতাজাকরন করা হয় – ৪


কোরবানির ঈদের আগে গরু কিনতে গেলে মোটাতাজা গরু দেখলেই মনে করা হয় ইঞ্জেকশন দিয়ে মোটা করা গরু। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। প্রাকৃতিক উপায়েই ৩-৪ মাসের মধ্যে গরু মোটাতাজাকরণ করা যায়।
সর্তকতা–
যে ব্যক্তি ঔষুধ লাগাবেন, তিনি গরুর শরীরের ক্ষতস্থান সম্পর্কে সচেতন থাকবেন, কারণ এই ঔষুধ বিষ জাতীয়, গরুর শরীরে ক্ষতস্থানকে (যদি ভালোভাবে না শুকিয়ে থাকে) এড়িয়ে ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে, গরুকে ঔষুধ প্রয়োগের পর ভালোভাবে গোসল করিয়ে উক্ত স্থান থেকে কিছুটা দূরে নিয়ে মুখের বাঁধন খুলতে হবে কারণ গরু স্বভাবত ঔষুধ লাগা ঘাস বা পানি খেয়ে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে।
কৃমিমুক্তকরন : পশু ডাক্তারের নির্দেশনা মত কৃমির ঔষধ ব্যবহার করতে হবে। গরু সংগ্রহের পর পরই পালের সব গরুকে একসাথে কৃমিমুক্ত (বিশেষ করে গোল কৃমি ও কলিজা বা পাতা কৃমি) করা উচিত। তবে প্রতি ৭০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১ টি করে ENDEX® বা LT-Vet® টাবলেট অথবা প্রতি ১২০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১ টি Tetranid® ব্যবহার করা যেতে পারে।
টিকা প্রদান : পূর্ব থেকে টিকা না দেওয়া থাকলে খামারে আনার পরপরই সবগুলো গরুকে তড়কা, বাদলা এবং ক্ষুরা রোগের টিকা দিতে হবে। এ ব্যপারে নিকটস্থ পশু হাসপাতলে যোগাযোগ করতে হবে।
রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা : কেনার পর গরুকে ৭ দিন আলাদা রাখতে হবে। প্রতিদিন নিয়মিতভাবে পশুর গোসল করাতে হবে। গোশালা ও পার্শ্ববর্তী স্থান সর্বদা পরিষ্কার রাখতে হবে। নিয়মিতভাবে গরুকে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে। বাসস্থান সর্বদা পরিষ্কার রাখতে হবে। স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পরিমিত পরিমাণে পানি ও সুষম খাদ্য প্রদান করতে হবে। রোগাক্রান্ত পশুকে অবশ্যই পৃথক করে রাখতে হবে। খাবার পাত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। খামারের সার্বিক জৈব নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে। পশু জটিল রোগে আক্রান্ত হলে অবশ্যই পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
স্বল্প সময়ে অধিক লাভবান হওয়ার সহজ এবং সুবিধাজনক উপায়ের মধ্যে গরু মোটাতাজাকরণ একটি অত্যন্ত যুগোপযোগী পদ্ধতি। তাছাড়া বর্তমানে সারাবছরই গোশতের বাজার দর স্থিতিশীল থাকায় গরু মোটাতাজাকরণ ব্যবসার সাথে জড়িত থাকলে লাভবান হওয়া যায়। স্থানীয় হাট-বাজার ও শহরে গরুর গোশতের চাহিদা খুব বেশি।
প্রশিক্ষণঃ গরু মোটাতাজাকরণের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে অভিজ্ঞ কারো কাছ থেকে এ পদ্ধতির বিস্তারিত জেনে নিতে হবে। এছাড়া গরু মোটাতাজাকরণ সংক্রান্ত কোন তথ্য জানতে হলে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা অথবা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে। বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা উপজেলা পর্যায়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে। এসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্ধারিত ফি এর বিনিময়ে পশু পালন বিষয়ক প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।
আর বিস্তারিত জানতে পড়ুন- goo.gl/g46QOR,http://goo.gl/mT88SJ, http://goo.gl/EFapQd ।
দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে যারা গরুর খামার করেন উনারা উপরোক্ত প্রাকৃতিক নিয়মেই গরু মোটাতাজাকরন করে থাকেন। কিন্তু ইসলামবিদ্বেষি মিডিয়া ও নাস্তিকেরা কুরবানির ঈদ এলেই প্রোপাগান্ডা করে থাকে বাংলাদেশে নাকি ষ্টেরয়েড ইনজেকশনের মাধ্যমে গরু মোটা তাজাকরনের হিড়িক পড়েছে ! অথচ সারাবছর ধরে গরু কিভাবে মোটাতাজা করা হচ্ছে তার খবর তারা বলেনা। একজন খামারী যে ৩-৪ মাস ধরে গরুর পিছনে অক্লান্ত পরিশ্রম এবং টাকা খরছ করে প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করছে তার খবর তার কথা প্রচার করেনা। মূলত বাংলাদেশে স্টেরয়েড ইনজেকশনের মাধ্যমে নয় , প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেই গরু মোটাতাজাকরন করা হচ্ছে। ইনজেকশনের মাধ্যমে গরু মোটাতাজাকরনের দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা সারা দেশের চিত্র হতে পারেনা।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে