স্থল নদীপথ ও এয়ার ট্রানজিট এবং বাংলাদেশের বিপন্ন স্বাধীনতা


মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মাঝে পবিত্র ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা জালিমও হয়ো না। আবার মজলুমও হয়ো না।” বর্তমানে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ভারতকে বিনাশর্তে ব্যবহার করতে দেওয়ার মাধ্যমে মূলত বাংলাদেশকেই আজ অনানুষ্ঠানিক করদরাজ্যে পরিণত করা হচ্ছে। তদুপরি স্থলপথ ট্রানজিটের পর আর নৌ-করিডোর দেওয়ার তোরজোড় চলছে। যা মূলত বাংলাদেশের মূল ভূখন্ডের নিরাপত্তাই শতভাগ বিঘিœত করবে। ধারাবাহিক

গত কয়েক দশক ধরে ভারত তীব্রভাবে ট্রানজিট সুবিধা চাইলেও ভারতীয় তরফ থেকে এ দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে তেমন কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি, যেমনটি দিয়েছে চীন। সরাসরি কোনো যোগাযোগ স্বার্থ না থাকা সত্ত্বেও চীন এ পর্যন্ত ৭-৮টি বৃহৎ ব্রিজ তৈরি করে দিয়েছে বাংলাদেশে। ভারতের তরফ থেকে তেমন একটি দৃষ্টান্তও নেই বরং ২০১০ সালের আগস্টে ভারত ট্রানজিটের উপরোক্ত কাজে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশকে বিরাট অংকের এক ঋণের বোঝা গছিয়ে দিয়েছে। ভারতের এক্সিম ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ এই ঋণ নিয়েছে। ১০০ কোটি ডলারের এই ঋণ দিয়ে বাংলাদেশ ভারতীয় পণ্য পরিবহণের অবকাঠামো তৈরি করে দেবে, অথচ এই ঋণের সুদ-আসল সবই পরিশোধ করবে বাংলাদেশ!! উপরন্তু ঋণের শর্ত হলো, অবকাঠামো নির্মাণ কাজে বাংলাদেশ যত ধরনের যন্ত্রপাতি ক্রয় করবে সবই ভারত থেকে নিতে হবে। বাংলাদেশ ভারত থেকে যখন এই ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে তখনি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, অব্যবহৃত পড়ে থাকায় বাংলাদেশের সঙ্গে ১৭৫ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করছে বিশ্বব্যাংক (দৈনিক কালের কণ্ঠ, ১ ডিসেম্বর ২০১০)।

উল্লেখ্য, ট্রানজিটের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ এখন ভারত থেকে এক শত কোটি টাকা ঋত নিলেও দীর্ঘদিন বলা হচ্ছিলো যে, উপরোক্ত এক শত কোটি টাকা ভারত ‘সহায়তা’ হিসেবে দিচ্ছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের পরপরই দেখা গেল এটা আসলে ‘ঋণ সহায়তা’ এবং তা এমন ঋণ যা দিয়ে উন্নয়ন কর্মকান্ডের তাবৎ উপকরণও ঋণ বিনিয়োগকারীর কাছ থেকেই ক্রয় করতে হবে, অর্থাৎ এটা হলো ‘সাপস্নায়ার্স ক্রেডিট’। আবার এই ঋণে কমিটমেন্ট ফি বলে এমন একটি ফি ধার্য করে রাখা আছে যার তাৎপর্য হলো নির্ধারিত সময়ে (এক বছর) এই ঋত ব্যবহার না করলে তার জন্যও বাড়তি সুদ দিতে হবে। যার কারণে এটাকে সাপস্নায়ার্স ক্রেডিট ছাড়াও ‘টাইড লোন’ হিসেবেও অভিহিত করা হচ্ছে।

কর্পোরোটেক্রিসির মাশুল গুনতে হচ্ছে আজ দেশের ২৫ কোটি মানুষকে।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে