স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই সাক্ষ্য দিচ্ছেন- মুসলমানদের চিরশত্রু বেদ্বীন-বদদ্বীনরা মুসলমানদের প্রকাশ্যে ও গোপনে ক্ষতিসাধনে লিপ্ত


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
يٰاَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَتَّخِذُوا بِطَانَةً مِّن دُونِكُمْ لا يَأْلُونَكُمْ خَبَالا وَدُّوا مَا عَنِتُّمْ قَدْ بَدَتِ الْبَغْضَاءُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ وَمَا تُخْفِي صُدُورُهُمْ أَكْبَرُ قَدْ بَيَّنَّا لَكُمُ الْآيَاتِ إِن كُنتُمْ تَعْقِلُونَ
অর্থ: হে মু’মিনগণ! আপনারা আপনাদের আপনজন ব্যতীত (অন্য ধর্মাবলম্বী) কাউকেও অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করবেন না। (কেননা) এই কাফির-মুশরিকরা আপনাদের অনিষ্ট করতে (মোটেও) ত্রুটি করে না। তারা (মনে-প্রাণে) এটাই কামনা করে যে, আপনারা (পার্থিব ও ধর্মীয় ব্যাপারে) বিপন্ন হন। (আপনাদের প্রতি শত্রুতায় তাদের মন এতই ভরপুর যে) শত্রুতা প্রসূত বিদ্বেষ (মাঝে মাঝে অনিচ্ছাকৃত ভাবে) তাদের মুখেই প্রকাশ পায়। আর তাদের হৃদয়ে যা গোপন রাখে তা আরো গুরুতর। আমি আপনাদের জন্য নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করছি, যদি আপনারা অনুধাবন করে থাকেন। (তবে এসব নিদর্শন দ্বারা বুঝে নিন কাফিররা তোমাদের কত বড় শত্রু)। (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : আয়াত শরীফ ১১৮)

هَا أَنتُمْ أُولاءِ تُحِبُّونَهُمْ وَلا يُحِبُّونَكُمْ وَتُؤْمِنُونَ بِالْكِتَابِ كُلِّه وَإِذَا لَقُوكُمْ قَالُوا آمَنَّا وَإِذَا خَلَوْا عَضُّوا عَلَيْكُمُ الأَنَامِلَ مِنَ الْغَيْظِ قُلْ مُوتُوا بِغَيْظِكُمْ إِنَّ اللهَ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ

অর্থ: দেখুন, আপনারাতো তাদেরকে (বন্ধু ভেবে) মুহব্বত করেন, কিন্তু তারা আপনাদেরকে মুহব্বত করে না। আর আপনারা (মহান আল্লাহ পাক প্রদত্ত) সমস্ত কিতাবে বিশ্বাস করেন (কিন্তু তারা আপনাদের কিতাবে বিশ্বাস করে না)। কাফির-মুশরিক তারা যখন আপনাদের সংস্পর্শে আসে তখন (কপটতার সাথে) বলে, আমরাও বিশ্বাস করি। আবার যখন তারা তথা কাফির-মুশরিক, ইয়াহুদী-নাছারারা একান্তে মিলিত হয়, তখন তারা আপনাদের প্রতি আক্রোশে নিজেদের অঙ্গুলির অগ্রভাগ দাঁতে কাটতে থাকে। আয় আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (তাদেরকে) বলুন, তোমাদের আক্রোশেই তোমরা মরে যাও। নিশ্চয়ই, মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্তরের গোপন রহস্য সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত। (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : আয়াত শরীফ ১১৯)

إِن تَمْسَسْكُمْ حَسَنَةٌ تَسُؤْهُمْ وَإِن تُصِبْكُمْ سَيِّئَةٌ يَفْرَحُوا بِهَا وَإِن تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا لا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئًا إِنَّ اللهَ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطٌ-
অর্থ : যদি আপনাদের কাছে কোন কল্যান আসে তবে কাফির-মুশরিকরা দুঃখিত হয়। আর আপনাদের যদি বাহ্যিক দুঃখ-কষ্ট হয়, তবে তারা আনন্দিত হয় (তীব্র হিংসাই এর কারণ)।

আপনারা যদি ধৈর্যশীল হন এবং তাকওয়া অবলম্বন করেন তথা সংযমী হন, তবে তাদের তথা কাফির-মুশরিকদের ষড়যন্ত্র আপনাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। তারা যা করে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি পরিবেষ্টন করে রয়েছেন। (তাদের প্রত্যেক কাজ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্যক অবহিত, কাজেই পরকালে উনার শাস্তির হাত হতে রেহাই পাওয়ার তাদের কোন উপায় নেই)। (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : আয়াত শরীফ ১২০)

কাজেই ইহুদী-নাছারা, কাফির-মুশরিক, বেদ্বীন-বদদ্বীনরা যে মুসলমান উনাদের চির শত্রু এর জন্য আর কত দলীলের প্রয়োজন? মূলত এরপরে তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে, তাদেরকে শত্রু ভাবতে, তাদেরকে ঘৃণা করতে, তাদের কাছ থেকে দূরে থাকতে আর কোন দলীল প্রয়োজন হয় না। এরপরও যারা তাদের সাথে সম্পর্ক রাখবে তাদের পক্ষে কথা বলবে তারা কস্মিনকালেও মুসলমান হতে পারে না।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে