হক্কানী রব্বানী আলিম উনাদের ও উলামায়ে ‘সু’দের- পরিচয় হক্কানী রব্বানী আলিম উনাদের ও উলামায়ে ‘সু’দের- পরিচয় (দলিলভিত্তিক পোস্ট)


*ان شر الشير شرار العلماء وان خير الخيرالخير خيار العماء.

অর্থঃ- “নিশ্চয়ই সর্বনিকৃষ্ট জীব হলো- উলামায়ে ‘ছূ’ বা দুনিয়াদার আলিম আর সর্বোৎকৃষ্ট হলেন উলামায়ে হক্ব।

*اللّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُواْ يُخْرِجُهُم مِّنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّوُرِ .

অর্থঃ- “আল্লাহ্ পাক মু’মিনদের (আল্লাহ্ওয়ালা) অভিভাবক। তিনি তাদেরকে গোমরাহী থেকে হিদায়েতের দিকে নিয়ে যান।” (সূরা বাক্বারা/২৫৭)

*إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاء.

অর্থঃ- “নিশ্চয়ই বান্দাদের মধ্য হতে একমাত্র আলিমগণই আল্লাহ্ পাক উনাকে ভয় করেন।” (সূরা ফাতির/২৮)

* হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত হযেছে- হযরত উমর বিন খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি হযরত কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন-

ومن ارباب العلم قال الذين يعملون بما يعملون قال فما اخرج العلم من قلوب العماء قال الطمع.

অর্থঃ- “আলিম কে?’ উত্তরে তিনি বলেন, ‘যে ইলম অনুযায়ী আমল করে সেই আলিম।’ হযরত ফারূকে আযম আলাইহিস সালাম তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কোন জিনিস আলিমের অন্তর থেকে ইলমকে বের করে দেয়?’ কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, ‘দুনিয়ার মোহ (লোভ)।” (মিশকাত)

*انما الفقيه الزاهد فى الد نيا الراغب فى الا خرة البصير بذنبه المدائم على عبادة ربه الورع الكف عن اعراض المسلمين العفيف عن اموالهم النا صح لجماعتهم.

অর্থঃ- “নিশ্চয়ই ফক্বীহ (হাক্বীক্বী আলিম) ঐ ব্যক্তি যিনি দুনিয়া থেকে বিরাগ, আখিরাতের দিকে ঝুকে রয়েছেন, গুণাহ থেকে সতর্ক, সর্বদা ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল, পরহিযগার, মুসলমানদের মান-সম্ভ্রম নষ্ট করেন না, তাদের সম্পদের প্রতি লোভ করেন না এবং অধীনস্থ লোকদেরকে নছীহত করেন। * হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন- ليس العلم عن كثرة الحديث وان العلم عن خشية الله. *

অর্থঃ- “অধিক হাদীছ বর্ণনাকারীই আলিম নয় বরং আলিম হচ্ছেন ঐ ব্যক্তি যিনি আল্লাহ পাককে ভয় করেন।”

*نعم الا مير على باب الفقير وبئس الفقير على باب الامير.

অর্থঃ- “উত্তম আমীর বা শাসক ঐ ব্যক্তি যে হাক্কানী-রব্বানী পীর-মাশায়িখ বা আলিমগণের দরবারে যাতায়াত করেন আর নিকৃষ্ট আলিম-উলামা বা পীর-মাশায়িখ ঐ ব্যক্তি, যে আমীর বা শাসকদের দরবারে যাতায়াত করে।”

*علما ئهم شرمن تحت اديم السماء من عند هم تخرج الفتنة وفيهم تعود.

অর্থঃ- “(কিয়ামতের পূর্বে) কিছু সংখক নামধারী আলিম এমন হবে যারা আসমানের নীচে (যমীনের উপরে) সবচেয়ে নিকৃষ্ট জীব। তাদের দ্বারা ফিৎনা তৈরী হবে এবং তারাই ফিৎনায় পতিত হবে।”

*من صلى خلف عالم فكانما صلى خلف نبى ومن صلى خلف نبى فقد غفرله.

অর্থঃ- “যে একজন হক্কানী-রব্বানী আলিমের পিছনে নামায আদায় করলো, সে যেন নবীর পিছনে নামায আদায় করলো। আর যে নবীর পিছনে নামায আদায় করলো, তাকে অবশ্যই ক্ষমা করা হবে।”

* আফজালুল আউলিয়া হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘মাকতুবাত শরীফে’ উলামায়ে “ছূ”দের একটি প্রতীকি কাহিনী বর্ণনা করেছেন। একবার এক ওলী আল্লাহ্ দেখতে পেলেন যে,ইবলিস খুবই আরাম করে ঘুমাচ্ছে। তা দেখে তিনি আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কিরে ইবলিস, তুই এভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে ঘুমাচ্ছিস? তুই না চব্বিশ ঘন্টা ব্যস্ত থাকিস মানুষকে কু-কাজে লিপ্ত করাতে? এভাবে ঘুমানো তো তোর খাছলত নয়?” জবাবে ইবলিস বললো, “জামানার নামধারী আলিমরাই আমাকে এ সুযোগ করে দিয়েছে।” উক্ত ওলী আল্লাহ্ আরো আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “সেটা কিভাবে?” জবাবে ইবলিস বললো, “নামধারী আলিমরা যেভাবে হারামকে হালাল করছে তাতে আমাকে আর হারাম কাজে ওয়াস্ওয়াসা দিতে হয়না। বরং নামধারী আলিমদের গোমরাহীর কারণে মানুষ এখন ইসলামের নামে হারাম কাজগুলোকে জায়িয মনে করেই করছে।” অর্থাৎ আমার(ইবলিসের) কারণে আগে মানুষ হারামকে হারাম জেনেই করত এবং ভিতরে ভিতরে অনুশোচনার তীব্রতায় দগ্ধ হত, পারলে তওবা করত। কিন্তু এখন নামধারী আলিমরা ‘হারামকে হালাল ফতওয়া’ দেয়ার কারণে মানুষ এখন হারামকে হালাল মনে করেই করে। সুতরাং তাদের অন্তরে তওবা করার কথাও আর উদয় হয়না। নামধারী আলিম তথা উলামায়ে “ছূ”রা তাই আমার চেয়ে বেশী কাজ করছে। তাদের দ্বারাই হারাম হালালের ছূরতে ব্যাপক প্রসার লাভ করছে। আমাকে তাই কিছু করতে হয়না বলেই আমি এভাবে ঘুমাচ্ছি।” ‘মাকতুবাত শরীফে’ উল্লিখিত ঘটনাটি প্রতীকি হলেও বর্তমানে এর বাস্তবতা বড়ই প্রখর। আজকে নামধারী আলিমরা ‘ছবি’তুলছে। পেপার-পত্রিকায়, টিভি-ভিডিওতে অহরহ দেখা যায় তাদের ছবি।অর্থাৎ ‘ছবি’ তোলা, দেখা জায়িয সেটাই তাদের আমলের দ্বারা প্রতিভাত হয়। অথচ কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এ অসংখ্যবার ছবি তোলা,আঁকা, দেখা এসব নিষিদ্ধ তথা হারাম করা হয়েছে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে