হক্কানী-রব্বানী ওলীআল্লাহ উনার নিকট বাইয়াত হয়ে ইলমে তাছাউফ শিক্ষা করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই


মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করোনা, সে হচ্ছে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।”
আর নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “শয়তান মানুষের ক্বলবের উপর বসে থাকে। যখন সে মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির করে তখন শয়তান পালিয়ে যায়। আর যখন সে যিকির থেকে গাফিল থাকে তখন শয়তান তাকে ওয়াসওয়াসা দিয়ে হারাম কাজে লিপ্ত করে দেয়।” নাঊযুবিল্লাহ!
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, “শায়েখ তার ক্বওমের কাছে তেমন নবী উনার উম্মতের মাঝে যেমন।” সুবহানাল্লাহ!
অনেক বুযূর্গ ব্যক্তিগণ কিতাবে উল্লেখ করেছেন, “যার শায়েখ নেই তার শায়খ হচ্ছে শয়তান।”
বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা দেখতে পাই, মুসলমান নামধারী অধিকাংশ ব্যক্তিবর্গই তাদের দুনিয়াবী জিন্দেগীকে সুন্দরভাবে অতিবাহিত করার জন্য জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রেই শিক্ষক তথা ওস্তাদের আশ্রয় গ্রহণ করছে। কিন্তু আফসুসের বিষয়, তারা দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে অর্থাৎ ক্বলবের পরিশুদ্ধতা তথা আল্লাহ পাক উনাকে হাছিল করার ইলম বা জ্ঞান অর্জন করার জন্য, কোনো উস্তাদের প্রয়োজনীয়তাকে স্বীকার করে না। নাঊযুবিল্লাহ!
হাজারো করণীয় বিষয়ের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সকল মুসলমান পুরুষ-মহিলাদের বাধ্যতামূলক দ্বীনী ইলম শিক্ষা গ্রহণ করা। প্রতিটি পুরুষ-মহিলা যদি শিক্ষিত হয়ে যায়, তথা আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী হয়ে যান তবে ক্রমান্বয়ে প্রতিটি সংসার তথা সমাজ তথা দেশের প্রতিটা মানুষই শিক্ষিত ও আল্লাহওয়ালী, আল্লাহওয়ালা হয়ে যাবে। সুবহানাল্লাহ!
বিষয়টি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। সূক্ষ্মভাবে ফিকির করলে দেখা যায় শয়তান কিন্তু এ বিষয়টি খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছে। আর তাই সে বর্তমানে মহিলাদের দিয়ে সংসারের সকল কাজ এমনকি পুরুষদের কাজও করাতে উৎসাহ দিচ্ছে; যাতে করে তারা কোনো অবসর না পায়, দ্বীনী মজলিসে যেতে না পারে। নিজেরাও যেন মূর্খ থাকে, সন্তানদেরও মূর্খভাবে গড়ে তোলে। আর এ মূর্খতাই হচ্ছে যুলুম, এ যুলুমই হচ্ছে সবচাইতে বড় পাপ। নাঊযুবিল্লাহ!
শয়তানের নিয়মিত মজলিসে এক চেলার নিকট দলের নেতা জানতে চাইলো- আজ কে কি কাজ করেছে? জবাবে ঝগড়া-বিবাদ, খুনাখুনি থেকে শুরু করে বিবাহ-বিচ্ছেদ পর্যন্ত সকল ঘটনাই বলা হল কিন্তু সেই নেতা তথা ইবলিস খুশি হতে পারলো না। অতঃপর খোঁজ করে এক ক্ষুদে ল্যাংড়া চেলার কাছ থেকে জানা গেল যে, সে এক ত্বলবে ইলমকে রাস্তা থেকে ফিরিয়ে দিয়েছে। তখন ইবলিস শয়তান খুশি হয়ে তাকে কোলে তুলে বুকে নিলো। নাঊযুবিল্লাহ! অর্থাৎ তার ভাষ্যমতে, সেই ক্ষুদে চেলা শয়তানই উত্তম কাজ করেছে।
এখন সমঝের বিষয় যে, এ দ্বীনী ইলম না থাকার কারণেই বর্তমানে সর্বত্রই শরীয়তবিরোধী কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে! শরীয়তবিরোধী আইন প্রণয়ন হচ্ছে অথচ এর বিরুদ্ধে কঠোরভাবে প্রতিবাদ করার মতো সাহসী মুসলমানের অভাব। যদি সমষ্টিগতভাবে এর প্রতিবাদ করা হতো তবে অবশ্যই এর থেকে সুফল আশা করা যেতো। সূক্ষ্ম সমঝের জন্য চাই সূক্ষ্মদর্শী গভীর ইলমের অধিকারী ওস্তাদ, শিক্ষক আরবীতে যাকে বলে ‘শায়খ’। ওস্তাদ বা শায়েখ ব্যতীত কারোর পক্ষেই গন্তব্যে পৌঁছা সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে ছহীহ দ্বীনী সমঝ দান করুন এবং আল্লাহ পাক উনার হাবীব উনাদের অসন্তুষ্টি থেকে হিফাযত দান করুন। আমীন!

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে