হক্বানী পীরের নিকট বাইয়াত গ্রহন ফরয- ২


 

বাইয়াত ও পীরের বিরোধীতা করতে গিয়ে আজকাল মানুষ আল্লাহপাকের ওলীদেরকে বুযূর্গ ব্যক্তি বলে। এ পর্যন্ত কোন কামেল বুজুর্গ ব্যাক্তি পাওয়া যাবেনা যিনি শায়েখ ছাড়া কামিলিয়াত অর্জন করেছেন অর্থ্যাৎ বুযূর্গ ব্যক্তিগণও ওলী আল্লাহ হওয়ার আগে প্রত্যেকেই অন্য কোন ওলী আল্লাহর নিকট বাইয়াত হয়েছেন।
যে সব বুযূর্গ ব্যক্তিদের কর্তিত আমরা জানি , শত শত বছর পরও যাদের নাম বিলীন হয়ে যায় নি। আল্লাহ মনোনীত বান্দা যাদের বদৌলতে ইসলামের সৌন্দর্য , মহিমা পৃথিবী জুড়ে । যাদের মাধ্যমে উপমহাদেশে ইসলাম প্রচার প্রসার হয়েছে। উনারা কেউই সাধারণ মানুষ ছিলেন না, সকলেই আল্লাহপাকের ওলী ছিলেন।
কিছু পরিচিত ব্যক্তিত্ব যাদের নাম জানা নেই, এমন সংখ্যায় অল্প।যারা বাইয়াত হয়েছিলেন কামেল শায়েখের নিকট এবং নিজেরাও কামেল ওলী-আল্লাহ হয়েছিলেন।

১)হযরত আব্দুল কাদের জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নাম শুনে নাই এমন কেউ নেই, উনি মাদারজাত ওলী হওয়ার পরও উনি ৬ জন শায়েখের শিষ্যত্ব গ্রহন করেছিলেন।

২) হযরত বায়েজীদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জীবনী পাঠ্যপুস্তকে পড়ানো হয়।উনি অত্যন্ত একশ তের জন কামেল শায়েখের সহবোত ও ফায়েজ তাওয়াজ্জুহ লাভ করেছিলেন।উনার শায়েখদের মধ্যে হযরত জাফর সাদিক রহমতুল্লাহি আলাইহি একজন।

৩)হযরত সুলতান মহমূদ গজনবী রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি ১৭ বার এর বেশি ভারতে হিন্দুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জয় লাভ করেছিলেন। উনিও শিষ্যত্ব গ্রহন করেছিলেন শায়েখ হযরত আবুল হাসান খেরকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট।

৪)হযরত খাজা মঈনুদ্দীন হাসান চিশতী আজমেরী রহমতুল্লাহি আলাইহি, উনি বাইয়াত হয়েছিলেন শায়েখ হযরত খাজা উসমান হারুনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট।

৫)আমাদের কাছে হাইকোর্ট মাজার নামে পরিচিত, ওখানে যিনি শায়িত আছেন হযরত শাহ খাজা শরফুদ্দনি চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি।যিনি সুলতানুল হিন্দ হযরত খাজা মইনুদ্দীন হাসান চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ২য় পুত্র ।

৬) স্পেন বিজয়ী হযরত সালাহুদ্দীন আউয়ূবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শায়েখ হযরত নূরউদ্দীন জঙ্গী রহতুল্লাহি আলাইহি।

৭)বাদশাহ আকবর, সম্রাট জাহাঙ্গীর উনারা বাইয়াত হয়েছিলেন মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট। সম্রাট শাহজাহান উনিও বাইয়াত হয়েছিলেন কামেল শায়েখের নিকট।

৮)ষাট গম্বুজ মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা হযরত খান জাহান আলী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শায়েখ ছিলেন দিল্লীর হযরত শাহ নেয়ামতুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি।আর তিনি কত বড় ওলী-আল্লাহ ছিলেন তা কাসিদায়ে শাহ নেয়ামতুল্লাহ’র পাঠক মাত্রই জানা।

৯)সম্রাট আওড়ঙ্গজেব (আলমগীর) রহমতুল্লাহি আলাইহি , যিনি জিন্দাপীর নামে পরিচিত । উনার শায়েখ মোল্লা হযরত জিউন রহমতুল্লাহি আলাইহি।

১০)সিলেট মাজার শরীফে যিনি শায়িত হযরত শাহ জালাল রহমতুল্লাহি আলাইহি , হযরত শাহ পরান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারাও বাইয়াত হয়েছিলেন।উনাদের শায়েখ ছিলেন সৈয়দ শায়েখ আহমদ কবীর সোহরাওয়ার্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

১১)তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা সবার জানা, অজানা হচ্ছে হযরত তিতুমীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নিজেও ওলী আল্লাহ ছিলেন এবং শিষ্যত্ব গ্রহন করেছিলেন সৈয়দ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার। ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়তুল্লাহ তিনিও একই পীরের মুরিদ ছিলেন।

১২)কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও ডাঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ উনারা বাইয়াত হয়েছিলেন হযরত আবু বকর সিদ্দীক ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট।

( আপনাদের জানায় আরো কেউ থাকলে বলতে পারেন উপরে যোগ করা হবে)

কুরআন শরীফে বলা হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমার আল্লাহকে ভয় কর, এবং আল্লাহ্ প্রাপ্তির পথে “উসিলা” তালাশ কর’।

জাহেরি বইয়ের জ্ঞান দিয়া যদি আল্লাহকে পাওয়া যেত তাহলে হযরত ইমাম আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি,, হযরত খাজা হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আবদুল কাদের জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি , হযরত খাজা মইনুদ্দিন চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি , হযরত মাওলানা রুমি রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত বায়েজিদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি,হযরত মুজাদ্দিদে আলফেসানী রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রমুখ কেউ যুগ যুগ ধরে কামেল পীরের খেদমতে পড়ে থাকতেন না।
হাদীস শরীফে বলা হয়েছে, ইলম অর্জন করা ফরজ আর ইলম হচ্ছে ২ প্রকার।
ইলমে ফিকাহ(জবানী ইলম) ও ইলমে তাসাউফ(উপকারী ইলম)।

মিশকাত শরীফের সরাহ মিরকাত শরীফে উল্লেখ আছে…
ইমাম হযরত মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন,”যে ব্যক্তি ইলমে ফিক্বাহ শিক্ষা করলো অথচ ইলমে তাসাউফ শিক্ষা করলো না সে ব্যক্তি ফাসিক।আর যে ব্যক্তি ইলমে তাসাউফ শিক্ষা করলো কিন্তু ইলমে ফিক্বাহ শিক্ষা করলো না (অর্থ্যাৎ গুরুত্ব দিলো না) সে যিন্দিক (কাফির)।আর যে উভয়টিই অর্জন করলো সে ব্যক্তি মুহাক্কিক।”
অতএব, ইলমে ফিকাহ্ ও ইলমে তাসাউফ, উভয়টিই জরূরত আন্দাজ শিক্ষা করা ফরজ। ইলমে ফিকাহ কিতাব থেকে শেখা গেলেও ইলমে তাসাউফ শিখতে হলে অবশ্যই কামেল মুহাক্কীক পীরের নিকট বাইয়াত গ্রহন করতে হবে (কামেল পীর ব্যতিত সম্ভব নয়) , যত্র তত্র বাইয়াত গ্রহন করা নিষিদ্ধ।

তাই পীরের বিরোধীতা করার আগে পীর কি তা বুঝুন !

 

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে