সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। ব্লগের উন্নয়নের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই আমরা নতুনভাবে ব্লগকে উপস্থাপন করবো। ইনশাআল্লাহ।

হযরত আলী কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক-১


পরিচিতি:

নাম আলী, উপনাম আবূল হাসান (হাসানের পিতা) ও আবূ তুরাব (মাটির পিতা)। পিতার নাম আবূ তালিব, মাতার নাম ফাতিমা বিনতে আসাদ। বিশেষ উপাধি আসাদুল্লাহ (আল্লাহ পাক-উনার সিংহ), হায়দার (বাঘ), মুরতাদ্বা (সন্তষ্টি-প্রাপ্ত)। তিনি আব্দুল্লাহ নামে প্রসিদ্ধ। তিনি রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার চাচাত ভাই। কুরাইশ বংশের হাশেমী শাখায় জন্ম। পিতৃকূল ও মাতৃকূল উভয় দিক থেকে তিনি হাশেমী বংশদ্ভূত।

বিলাদত শরীফ:
রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার নুবুওয়াত লাভের দশ বছর পূর্বে বিলাদত লাভ করেন। জন্মের সময় পিতা আবূ তালিব অত্যন্ত অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় পিতৃব্যের আর্থিক সঙ্কট লাঘবের উদ্দেশ্যে বালক আলীকে নিজে প্রতিপালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং অপর পুত্র জাফরকে পিতৃব্য হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর অভিভাবকত্বে সোপর্দ করেন। (তাবারী)

ইসলাম গ্রহণ:
একদা রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত খাদীজা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহাকে নামায পড়তে দেখে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আপনারা কি করছেন? উত্তরে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এটা আল্লাহ পাক-উনার দ্বীন। হযরত খাদীজা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বললেন, তোমাকেও আমরা সেই দায়িত্ব দিচ্ছি। তখনই তিনি ইসলামের প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়ে কালিমা শরীফ পাঠ করেন। ইসলাম গ্রহণকালে উনার বয়স মুবারক দশ বছর ছিল। তিনি হলেন সর্বসম্মতিক্রমে বালকদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম কবুলকারী।

কিশোর ও যৌবন কাল:
হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর চৌদ্দ কিংবা পনের বৎসর বয়সকালে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিকট-আত্মীয়দিগকে ইসলামের দিকে আহবান করার জন্য নির্দেশ পান। এতদুদ্দেশ্যে তিনি হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে সকলকে একত্র করবার ব্যবস্থাপনার নির্দেশ দেন; হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বেশ উক্তমরূপে এর ব্যবস্থা করেন। দস্তরখানে খাসীর পায়া এবং দুগ্ধ রাখা হয়েছিল। উপসি’ত মেহমানদের সংখ্যা ছিল ৪০ জন। আহার সমাপনের পর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের আহবান জানান। এই সমাবেশে কেবল হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুই তাঁকে সর্বাত্মক সমর্থন জানান এবং ইসলাম গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন । (তাবারী)

মক্কা শরীফে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু সঙ্কট ও অগ্নি পরীক্ষার তেরটি কঠিন বৎসর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সাহচর্যে অতিবাহিত করেন। এর মধ্যে আবূ তালিব গিরি সঙ্কটে তিন বৎসরের নির্বাসিত জীবন ছিল সর্বাপেক্ষা সঙ্কটপূর্ণ। সে সময় উনার ভ্রাতা হযরত জাফর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার স্ত্রী সহ আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন। কিন’ হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এরূপ কঠিন মুহূর্তেও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসাবে মক্কা শরীফে অবস্থান করেন, যতদিন না তিনি মক্কা শরীফ হতে মদীনা শরীফ হিজরত করার অনুমতি পেলেন।

মক্কা শরীফের মুশরিকদের যে সব সম্পদ আমানত হিসেবে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার নিকট রক্ষিত ছিল, এমতাবস্থায়ও শত্রুর গচ্ছিত সম্পদ মালিকদের নিকট প্রত্যার্পনের কথা তিনি ভূলেননি। তিনি সেই সব গচ্ছিত সম্পদ প্রত্যার্পনের দায়িত্ব হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে অর্পন করেন এবং বলেন যে, তিন দিন পর এই সব গচ্ছিত সম্পদ এর মালিকদেরকে বুঝিয়ে দিয়ে মদীনা শরীফে আসবে। হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিন দিনের মধ্যেই সেইগুলি প্রাপক ব্যক্তিদেরকে পৌঁছিয়ে দিয়ে পরে কুবাতে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে মিলিত হন। (ইবনে কাছির)

জিহাদের ময়দানে বীরত্ব:
দ্বিতীয় হিজরীর ১৭ই রমাদ্বান বদরের জিহাদে মুসলমান ও মুশরিক উভয় বাহিনী পরস্পর মুখোমুখি হয়। তৎকালীন যুদ্ধরীতি অনুযায়ী মক্কা শরীফের মুশরিকদের পক্ষ হতে উতবা, শায়বা এবং ওলিদ নামক তিন জন সদর্পে ময়দানে অবতরণ করে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিকে যুদ্ধে আহবান জানালে তাদের মোকাবেলায় হযরত হামজা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত উবায়দা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু এবং হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে পাঠানো হয়। হযরত হামজা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু এবং হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর হাতে তাঁদের স্ব স্ব প্রতিদ্বন্দ্বি নিহত হয়। কিন’ বার্ধক্য জনিত কারণে হজরত উবায়দা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তখন সফল না হওয়ায় হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার সাহায্যার্থে অগ্রসর হন এবং প্রতিপক্ষ শায়বা নিহত হয়। অতঃপর সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। এই যুদ্ধে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বীরত্বের চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেন। (তাবারী)

হিজরী তৃতীয় সালে সংঘটিত উহুদের জিহাদে মুশরিকগণ মুসলমানদেরকে আক্রমণ করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করে। কিন’ হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাদের সকল অভিসন্ধিই ব্যর্থ করে দেন। মুশরিক বাহিনীর পতাকাবাহী আবূ সা’দ ইবনে আবি তালহা তাঁকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আহবান জানালে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু এক আঘাতেই তাকে ধরাশায়ী করেন; কিন’ তার অসহায়তা ও হতবিহ্বলতা দেখে তিনি তাকে হত্যা করেন নি। (ইবনে হিশাম)

হিজরী ৭ম সনে খাইবারের জিহাদ সংঘটিত হয়। এই জিহাদে খাইবরের সর্বাধিক সূদৃঢ় দুর্গ ‘‘কামুস্থ’ এর অধিকর্তা মারহাব নামক এক বিখ্যাত ইয়াহুদী বীরকে হত্যা করে তিনি অতুলনীয় বীরত্ব ও সাহসিকতার পরিচয় দান করেন। অত:পর কয়েকদিন অবরোধের পর তিনি দুর্গ অধিকারে সক্ষম হন। এই জিহাদে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সূদৃঢ় দুর্গ ‘‘কাছরে মারহাব’’ জয় করে খ্যাতি লাভ করেছিলেন । (ইবনে হিশাম)

রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সাথে সম্পর্ক :

একদিকে তিনি রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার চাচাতো ভাই। অপরদিকে রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার আদরের দুলালী হযরত ফাতিমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-এর স্বামী। দ্বিতীয় হিজরীতে তাঁদের বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়।

খিলাফত লাভ:
খিলাফত লাভের পূর্বে তিনি হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত উমর ফারূক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত উছমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর খিলাফত আমলে পরামর্শদাতা ছিলেন। হযরত উছমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর শাহাদতের পর হিজরী ৩৫ সনে খিলাফতের মসনদে সমাসীন হন। প্রায় চার বছর সাড়ে আট মাস যাবত এ দায়িত্ব যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করেন।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

  1. পড়ে খুব ই ভাল লাগলো ।আর চাই ।

  2. খুবই চমৎকার পোস্ট। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের জীবনি মুবারক সম্পর্কে জানা মূলত মুসলমানদের জন্য ফরয। কারণ উনারাই আমাদের রাহবার। উনাদের বেমেছাল পরিশ্রম, আত্মত্যাগের কারণে আমরা আজকে ইসলাম পেয়েছি।
    লেখককে ধন্যবাদ। Rose

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে