হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত ফাযায়িল ফযিলত……………


হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত ফাযায়িল ফযিলত……………
হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বতকারীগণ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে একত্রিত হবেন। সুবহানাল্লাহ।
**********************************************************************
হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
 
لكل بنى اب عصبة الا ابنى حضرت فاطمة عليها السلام فانا وليهما وعصبتهما
অর্থ: “প্রত্যেক সন্তানের বংশীয় নিসবত পিতার দিক দিয়ে হয়ে থাকে। কিন্তু আমার লখতে জিগার সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার দুই আওলাদ আলাইহিমাস সালাম উনাদের বংশীয় নিসবত আমার মাধ্যমে হয়েছে। আমিই উনাদের অভিভাবক ও আমার সাথেই উনাদের বংশীয় সম্পর্ক।” (তবারানী শরীফ)
 
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে,
ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اخذ بيد (حضرت) حسن عليه السلام و (حضرت) حسين عليه السلام فقال من احبنى واحب هذ ين واباهما وامهما كان معى فى درجة يوم القيا مة.
অর্থ: “একদিন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম এবং হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদের হাত মুবারক ধরলেন এবং ইরশাদ মুবারক করলেন, “যে ব্যক্তি আমাকে মুহব্বত করবে, এ দু’জনকে মুহব্বত করবে এবং উনাদের সম্মানিত আব্বাজান ও সম্মানিত আম্মাজান উনাদেরকে মুহব্বত করবে সে ব্যক্তি ক্বিয়ামতের দিন আমার সাথে একই স্থানে অবস্থান করবে।” (মুসনদে আহমদ- ২/২৬, শহীদ ইবনে শহীদ- ৪১)
বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আবু সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, একদিন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার কাছে তাশরীফ আনলেন। অতঃপর ইরশাদ মুবারক করলেন-
انى واياك وهذا النائم يعنى (حضرت) عليا عليه السلام وهما يعنى (حضرت) امام الحسن عليه السلام و(حضرت) امام الحسين عليه السلام لفى مكان واحد يوم القيا مة.
অর্থ: “আমি ও আপনি এবং এই ব্যক্তি যিনি মুবারক ঘুমে নিমগ্ন তথা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম আর উনারা তথা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম, হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনারা ক্বিয়ামতের দিন একই সাথে থাকবো। (মুস্তাদরাকে হাকীম- ৩/১৬৫) সুবহানাল্লাহ।
 
ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ, আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, আসাদুল্লাহিল গালিব, সাইয়্যিদুনা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজাহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বর্ণনা করেন,
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اربعة انا لهم شفيع يوم القيامة المكرم الذريتى والقاضى لهم حوائجهم والساعى فى امورهم عند اضطرارهم اليه والمحبة لهم بقلبه ولسانه-
অর্থ: নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “ক্বিয়ামতের দিন আমি নিজেই চার শ্রেণীর লোককে খাছভাবে সুপারিশ করবো। ১. যে ব্যক্তি আমার বংশধর তথা হযরত আহলে বাইত শরীফ এবং আওলাদে রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সম্মান করবে। ২. যে ব্যক্তি আহলে বাইত শরীফ ও আওলাদে রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে অর্থ-সম্পদ দ্বারা খিদমত করবে। ৩. যে ব্যক্তি হযরত আহলে বাইত শরীফ ও আওলাদে রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কাজে-কর্মে উনাদেরকে সহযোগিতা বা খিদমত করবে। ৪. যে ব্যক্তি হযরত আহলে বাইত শরীফ ও হযরত আওলাদে রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মনেপ্রাণে গভীরভাবে মুহব্বত করবে।” (বিহারুল আনওয়ার-৮/৪৯, যখায়িরুল উক্ববা-১৮
 
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
Views All Time
3
Views Today
6
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে