হযরত ইমাম জাফর ছাদিক আলাইহিস সালাম উনার মুবারক একটি স্বপ্ন


তিনি বলেন- ১৪৮ হিজরীর ১১ই রজব জুমুয়ার রাত্রে আমি যথারীতি কুরআন শরীফ তিলাওয়াত ও যিকির আযকার করে ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে দেখতে পাই, আমি আলমে নাসুত থেকে (পৃথিবী হতে) উর্ধারোহন করে আলমে মালাকুত এবং আলমে মালাকুত থেকে জাবারুতে গিয়ে পৌঁছলাম। সেখানে এক বিশাল ময়দান দেখতে পেলাম। সেই ময়দানের এক পাশে মারওয়ারিদ পাথরের একটা তাবু টাঙানো।

সেখান থেকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আনাস ইবনে মালেক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আমার কাছে এসে বললেন, “হে হযরত ইমাম জাফর ছাদিক আলাইহিস সালাম আপনাকে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ডাকছেন। আমি সাথে সাথে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট গেলাম। দেখলাম সমস্ত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম ও আউলিয়াই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের পবিত্র রূহ মুবারক সেখানে উপস্থিত আছেন। এবং সমস্ত ফিরিশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা কাতারবন্দী হয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন। একটা খুব সুন্দর আসনের মধ্যে হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বসা অবস্থায় আছেন। হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে দেখামাত্র বসার জন্য ইশারা করলেন। আমি বসলাম।

বিছুক্ষনের মধ্যে হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম ও ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনারা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পাশে এসে বসলেন। ইত্যবসরে দেখা গেল দু’টি রূহ মুবারক এসে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ডান জানু মুবারক ও বাম জানু মুবারকে বসলেন। বসার পর হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, “হে ইমাম জাফর ছাদিক আলাইহিস সালাম আপনি আজ থেকে তিনদিন পর আমার কাছে চলে আসবেন। আমি চাই আপনি জাবারুতের অবস্থা দর্শন করে তা আলমে নাসূতের মধ্যে লিপিবদ্ধ করেন। একথা বলার পর হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, আপনি কি জানেন এ মুবারক রূহ দু’টি কার?

আমার ডান জানু মুবারকে যার রূহ মুবারক দেখতে পেলেন তিনি আমার থেকে পাঁচশত বৎসর পর পৃথিবীতে আগমন করবেন। তিনি হলেন গাউসুল আযম হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং আমার বাম জানু মুবারকে যে রূহটি আছেন তিনি হলেন, হযরত আলী আহমদ সাবের কালিয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি। মহান আল্লাহ্ পাক তিনি উনার এ দুই খাছ মকবুল বান্দা দ্বারা ইসলামের অনেক খিদমত নিবেন।

তারপর পাশে বসে থাকা অবস্থায় হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম এবং হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদের বললেন, “আপনাদের শাহাদাতের পর আমি আমার উম্মতের কথা ভেবে চিন্তিত হই। তখন মহান আল্লাহ্ পাক তিনি উনার এই দুই মাহ্বুব বান্দা দ্বারা আমাকে সুসংবাদ দান করেন। হযরত ইমাম জাফর ছাদিক আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আমি উক্ত স্বপ¦ দেখার পর ঘুম থেকে জেগে উঠলাম এবং সকালে উঠে ‘কাশফুল গুয়ুব’ কিতাবে তা লিপিবদ্ধ করলাম। এই ‘কাশফুল গুয়ুব’ কিতাব তিনি বিছাল শরীফ-এর পূর্বেই লিখেছিলেন এবং সত্যিই তিনি তিনদিন পরে ১৪ই রজব ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযিম তথা অর্থাৎ সোমবার শরীফ মাসে বিছাল শরীফ লাভ করেন।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+