হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারাই উম্মুল কায়িনাত


সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন আবুল কায়িনাত আর তিনি যে সকল পূত-পবিত্রা সম্মানিতা মহিলা উনাদের সাথে নিসবতে আযীম মুবারক স্থাপন করেন উনারাই হচ্ছেন উম্মুল কায়িনাত। সুবহানাল্লাহ!
স্মরণীয় যে, সমস্ত মানুষের পিতা হচ্ছেন হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি। যার কারণে উনাকে আবুল বাশার বলা হয়। আর সমস্ত মানুষের মাতা হচ্ছেন হযরত হাওওয়া আলাইহাস সালাম। যার কারণে উনাকে উম্মুল বাশার বলা হয়।
আর হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে বলা হয় আবুল মুসলিমীন। আর উনার সম্মানিতা আযওয়াজে মুত্বহ্হারাত আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হচ্ছেন উম্মুল মুসলিমীন।
আর সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কায়িনাতবাসী সকলের অভিভাবক তথা পিতা স্বরূপ অর্থাৎ আবুল কায়িনাত। সুবহানাল্লাহ! আর উনার সম্মানিতা আযওয়াজে মুত্বহ্হারাত আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হচ্ছেন উম্মুল কায়িনাত। সুবহানাল্লাহ!
উনাদের ফযীলত, মর্যাদা-মর্তবা, শান-মান বর্ণনার অপেক্ষা রাখে না। সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি হুসনে জন বা সুধারণা পোষণ করা, উনাকে মুহব্বত করা, উনাকে অনুসরণ করা যেরূপ ফরয একইভাবে উম্মুল মু’মিনীন, উম্মুল কায়িনাত আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের প্রতিও সুধারণা পোষণ করা, উনাদেরকে মুহব্বত করা এবং উনাদেরকে অনুসরণ করা ফরয।
উনাদের পবিত্রতা সম্পর্কে স্বয়ং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার সম্মানিত কিতাব পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে আয়াত শরীফ নাযিল করেছেন। সুবহানাল্লাহ! ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّـهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا
অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সমস্ত অপবিত্রতা থেকে দূরে রেখে পূত-পবিত্র করে সৃষ্টি করেছেন। (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩)
উল্লেখ্য, সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা।
উনাদের ফযীলত সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِّنَ النِّسَاءِ
অর্থ: আপনারা অন্য কোন মহিলাদের মতো নন। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩২)
অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেমন নিজের শান মুবারক সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক করেন-
لَسْتُ كَاَحَدِكُمْ
অর্থ: আমি তোমাদের কারো মতো নই। (মুসলিম শরীফ)
তদ্রƒপ মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শান মুবারক সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, উনারা কোন মহিলাদের মতো নন অর্থাৎ অন্য কারোরই মতো নন। সুবহানাল্লাহ!
অতএব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরেই শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারিণী হচ্ছেন হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা। সুবহানাল্লাহ!
উনাদেরকে স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উম্মতের মা হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। যেমন ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
النَّبِيُّ أَوْلىٰ بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ ۖ وَأَزْوَاجُهُ أُمَّهَاتُهُمْ
অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মু’মিনদের জীবন অপেক্ষা প্রিয়, সর্বশ্রেষ্ঠ অভিভাবক তথা পিতা স্বরূপ আর উনার সম্মানিতা আযওয়াজে মুত্বহহারাত আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হচ্ছেন তাদের অর্থাৎ মু’মিনদের মা। সুবহানাল্লাহ!
অতএব, নিজেদের মা সম্পর্কে যারা কোনরূপ চু-চেরা, ক্বীল-ক্বাল করবে একদিক থেকে তারা মু’মিন-মুসলমান থেকে খারিজ হবে আরেকদিক থেকে তারা অবৈধ সন্তানরূপে গণ্য হবে। নাউযুবিল্লাহ!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে