হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক এবং শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اِنَّاۤ اَعْطَيْنٰكَ الْكَوْثَرَ
অর্থ: “নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সম্মানিত মুবারক কাউছার হাদিয়া মুবারক করেছি।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা কাওছার শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১)
এই সম্মানিত কাওছার মুবারক উনার লক্ষ-কোটি ব্যাখ্যা মুবারক। উনাদের মধ্যে একখানা ব্যাখ্যা মুবারক হচ্ছেন, ‘খইরে কাছীর’ তথা সমস্ত প্রকার ভালাই। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্ত প্রকার ভালাই তথা সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ বিষয় মুবারকগুলো হাদিয়া মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! অপরদিকে উনার সাথে যে বিষয় মুবারকগুলো সম্পৃক্ত হয়েছেন, সে বিষয় মুবারকগুলোও সর্বোত্তম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ হয়ে গেছেন। সুবহানাল্লাহ!
যার কারণে এ ব্যাপারে সমস্ত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা ইজমা করেছেন যে,
اِنَّ التُّرْبَةَ الَّتِىْ اِتَّصَلَتْ اِلـٰى اَعْظُمِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَفْضَلُ مِنَ الْاَرْضِ وَالسَّمَاءِ حَتَّى الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ.
অর্থ: “নিশ্চয়ই এক মুহূর্তের তরেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র জিসম মুবারক উনার সম্মানিত স্পর্শ মুবারক-এ এসেছেন, যেই মাটি, ধূলি-বালি (পদার্থ-বস্তু যা কিছুই হোক না কেন) উনাদের ফযীলত, মর্যাদা-মর্তবা আসমান-যমীন; এমনকি মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক থেকেও লক্ষ কোটি গুণ বেশি।” সুবহানাল্লাহ!
অন্য সম্মানিত ইজমা মুবারক-এ বলা হয়েছে,
فَاِنَّهٗ اَفْضَلُ مُطْلَقًا مِّنَ الْكَعْبَةِ وَالْـكُـرْسِىِّ حَتَّى الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ.
অর্থ: “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত স্পর্শ মুবারক-এ যা কিছু এসেছেন তা অবশ্যই সম্মানিত ও পবিত্র কা’বা শরীফ, সম্মানিত কুরসী শরীফ; এমনকি মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক থেকেও লক্ষ-কোটি গুণ বেশি ফযীলতপ্রাপ্ত, সম্মানিত এবং সর্বশ্রেষ্ঠ।” সুবহানাল্লাহ!
অর্থাৎ এক মুহূর্তের তরেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত স্পর্শ মুবারক-এ যা কিছু এসেছেন তা আসমান-যমীন, সম্মানিত ও পবিত্র কা’বা শরীফ, সম্মানিত কুরসী শরীফ, মহান আল্লাহ পাক উনার কায়িনাতে যা কিছু রয়েছে; এমনকি সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক থেকেও লক্ষ-কোটি গুণ বেশি পবিত্র, ফযীলতপ্রাপ্ত, সম্মানিত এবং সর্বশ্রেষ্ঠ। সুবহানাল্লাহ!
সে বিষয়টি সম্মানিত মি’রাজ শরীফ উনার রজনীতে স্পষ্ট হয়ে গেছে। যেটা সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
اِنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا اُسْرِىَ بِهٖ لَيْلَةَ الْمِعْرَاجِ اِلَى السَّمٰوَاتِ الْعُلـٰى وَوَصَلَ اِلَى الْعَرْشِ الْمُعَلّٰى اَرَادَ خَلْعَ نَعْلَيْهِ اَخْذًا مِّـنْ قَوْلِهٖ تَعَالـٰى لِسَيِّدِنَا حَضْرَتْ مُوْسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ حِيْنَ كَلَّمَهٗ فَاخْلَعْ نَعْلَيْكَ اِنَّكَ بِالْوَادِ الْمُقَدَّسِ طُوًى. فَنُوْدِىَ مِنَ الْعَـلِـىِّ الْاَعْلـٰى يَا حَضْرَتْ مُـحَمَّدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَـخْلَعْ نَعْلَيْكَ فَاِنَّ الْعَرْشَ يَتَشَرَّفُ بِقُدُوْمِكَ مُتَنَعِّـلًا وَّيَفْتَخِرُ عَلـٰى غَيْرِهٖ مُتَـبَـرِّكًـا فَصَعِدَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِلَى الْعَرْشِ وَفِىْ قَدَمَيْهِ النَّعْلَانِ وَحَصَلَ لَهٗ بِذٰلِكَ عِزٌّ وَّشَأْنٌ.
অর্থ: “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন সম্মানিত মি’রাজ শরীফ উনার রাতে সুউচ্চ সপ্ত আসমান অতিক্রম করে সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক উনার নিকটবর্তী হলেন, তখন তিনি উনার সম্মানিত ও পবিত্র না’লাইন শরীফ খুলে সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নেয়ার চিন্তা মুবারক করলেন। মহান আল্লাহ পাক উনার ঐ সম্মানিত ও পবিত্র কালাম মুবারক ফিকির মুবারক করে, যেটা মহান আল্লাহ পাক তিনি (যখন সাইয়্যিদুনা হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি তূর পাহাড়ে মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে কথা বলার জন্য তাশরীফ মুবারক রাখবেন, তখন) হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করেছিলেন-
فَاخْلَعْ نَعْلَيْكَ اِنَّكَ بِالْوَادِ الْمُقَدَّسِ طُوًى.
‘আপনি আপনার সম্মানিত না’লাইন শরীফ খুলুন। কেননা, আপনি সম্মানিত (তূর পাহাড়ের) পবিত্র তুয়া উপত্যকায় তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। (সেখানে আমার সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক উনার ৭০ হাজার ভাগের এক ভাগ সম্মানিত নূর মুবারক বর্ষিত হয়েছেন। যার কারণে সেই স্থানটি সম্মানিত ও পবিত্র হয়ে গেছেন। সুবহানাল্লাহ! তাই আপনি সম্মানিত না’লাইন শরীফ খুলে আসুন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এ বিষয়টি ফিকির মুবারক করে উনার সম্মানিত ও পবিত্র না’লাইন শরীফ খুলার চিন্তা মুবারক করেছিলেন মাত্র।) তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ও পবিত্র ওহী মুবারক করলেন, হে আমার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! দয়া করে আপনি আপনার সম্মানিত ও পবিত্র না’লাইন শরীফ খুলবেন না। অর্থাৎ আপনি আপনার সম্মানিত ও পবিত্র না’লাইন শরীফসহ আমার সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করুন। সুবহানাল্লাহ! কেননা, আমার সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক আপনার সম্মানিত ও পবিত্র না’লাইন শরীফ উনাদের পরশ মুবারক-এ, আপনার সম্মানিত ও পবিত্র না’লাইন শরীফ উনাদের সম্মানিত ও পবিত্র ধূলি-বালি মুবারক উনাদের স্পর্শ মুবারক-এ ধন্য হবেন, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক হাছিল করবেন। সুবহানাল্লাহ! (শুধু তাই নয়,) আমার সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক আপনার সম্মানিত ও পবিত্র না’লাইন শরীফ উনাদের সম্মানিত স্পর্শ মুবারক পাওয়ার কারণে, আপনার সম্মানিত ও পবিত্র না’লাইন শরীফ উনাদের সম্মানিত ও পবিত্র ধূলি-বালি মুবারক লাভ করে বরকতময় হয়ে আরো পবিত্রতা হাছিল করবেন এবং অন্য সবার উপর ফখর করবেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত ও পবিত্র না’লাইন শরীফ পরিধান মুবারক করা অবস্থাতেই সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করলেন। আর সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র না’লাইন শরীফ উনাদের সম্মানিত স্পর্শ মুবারক লাভ করে, সম্মানিত ও পবিত্র না’লাইন শরীফ উনাদের সম্মানিত ও পবিত্র ধূলি-বালি মুবারক পেয়ে ইজ্জত-সম্মান, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক হাছিল করলেন।” সুবহানাল্লাহ! (ফাতহুল মুত‘য়াল ফী মাদহি খইরিন নি‘য়াল শরীফ)
অনুরূপ বর্ণনা দশম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘ই’জাযুল কুরআন শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
এখন বলার বিষয় হচ্ছে, হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন একজন জলীলুল ক্বদর নবী এবং রসূল। সুবহানাল্লাহ! যদি কিতাব হিসেবে ধরা হয়, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিষয়টি আলাদা। অন্যান্য সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন প্রথম। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত না’লাইন শরীফ উনাদের মর্যাদাও অনেক। তারপরেও উনাকে সম্মানিত তূর পাহাড়ে যেতে হয়েছিলো উনার সম্মানিত না’লাইন শরীফ খুলে। কেননা, সেখানে সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক উনার সত্তর হাজার ভাগের এক ভাগ নূর মুবারক যাহির হয়েছিলেন। অন্য দিকে, সাধারণ মাটি, ধূলি-বালি যার কোনো ক্বদর নেই; কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত স্পর্শ মুবারক-এ আসার কারণে উক্ত মাটি, ধূলি-বালির মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব, পবিত্রতা আসমান-যমীন, সম্মানিত ও পবিত্র কা’বা শরীফ, সম্মানিত কুরসী শরীফ, এমনকি মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক থেকেও লক্ষ-কোটি গুণ বেশি হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়, উনার সম্মানিত ও পবিত্র না’লাইন শরীফ উনাদের সম্মানিত ও পবিত্র ধূলি-বালি মুবারক পেয়ে সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক আরো পবিত্রতা হাছিল করেছেন, সম্মানিত ও বরকতময় হয়েছেন এবং সকলের উপর ফখর করেছেন। সুবহানাল্লাহ! যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে, সরাসরি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে বেমেছালভাবে সম্মানিত ছোহবত মুবারক হাদিয়া মুবারক করলেন এবং উনারা যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছালভাবে সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিলেনÑ তাহলে উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক, পবিত্রতা মুবারক কতো বেমেছাল সেটা এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! মূলত, এক কথায় হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া যত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক এবং সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক রয়েছেন, সমস্ত কিছুর অধিকারিণী হচ্ছেন উনারা। সুবহানাল্লাহ! উনাদেরকে শুধু পবিত্র বললে ভুল হবে। উনারা হচ্ছেন পবিত্রতাদানকারিণী। সুবহানাল্লাহ! উনাদের সম্মানার্থে সমস্ত কায়িনাত পবিত্রতা হাছিল করেছে, করতেছে এবং অনন্তকাল যাবৎ করতেই থাকবে। সুবহানাল্লাহ!
এখানে আরো একটি বিষয় ফিকিরের যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সরাসরি সম্মানিত স্পর্শ মুবারক পেয়েছেন উনার সম্মানিত ও পবিত্র না’লাইন শরীফ। আর সম্মানিত ও পবিত্র না’লাইন শরীফ উনাদের স্পর্শ মুবারক পেয়েছে ধূলি-বালি। ফলে ধূলি-বালি এতো পবিত্রতা, ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক হাছিল করলেন যে, সম্মানিত মি’রাজ শরীফ উনার রজনীতে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক সেই সম্মানিত ও পবিত্র ধূলি-বালি মুবারক লাভ করার জন্য বেকারর-পেরেশান হয়ে গেলেন। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়, সম্মানিত ও পবিত্র না’লাইন শরীফ উনাদের সম্মানিত ও পবিত্র ধূলি-বালি মুবারক পেয়ে স্বয়ং সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক ধন্য হলেন, মর্যাদা-মর্তবা হাছিল করলেন, সম্মানিত হলেন, বরকতময় হলেন এবং আরো পবিত্রতা হাছিল করলেন; এমনকি এ কারণে অন্য সকলের উপর ফখর করলেন। সুবহানাল্লাহ! যদি এই বিষয়টি এরূপ হয়ে থাকে, তাহলে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে, সরাসরি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে দীর্ঘ সময়ব্যাপী বরকতময় সম্মানিত ছোহবত মুবারক হাদিয়া মুবারক করলেন, আর উনাদের সরাসরি স্পর্শ মুবারক-এ যে ধূলি-বালি এসেছেন, সেই ধূলি-বালি মুবারক উনাদের ফযীলত, মর্যাদা, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক এবং পবিত্রতা মুবারক উনার হুকুম কী? অবশ্যই অবশ্যই সেই ধূলি-বালি মুবারক উনাদের ফযীলত, মর্যাদা, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক ও পবিত্রতা মুবারকও আসমান-যমীন, সম্মানিত ও পবিত্র কা’বা শরীফ, সম্মানিত কুরসী শরীফ এবং মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক থেকেও লক্ষ-কোটি গুণ বেশি হবে। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়, সম্মানিত ও পবিত্র না’লাইন শরীফ উনাদের সম্মানিত ও পবিত্র ধূলি-বালি মুবারক পেয়ে সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক যেরূপ ধন্য হয়েছিলেন, মর্যাদা-মর্তবা হাছিল করেছিলেন, সম্মানিত হয়েছিলেন, বরকতময় হয়েছিলেন এবং আরো পবিত্রতা হাছিল করেছিলেন, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সরাসরি স্পর্শ মুবারক পেয়েছেন যে ‘ধূলি-বালি মুবারক’ সেই সম্মানিত ও পবিত্র ধূলি-বালি মুবারক পেলেও মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক আরো লক্ষ-কোটি গুণ বেশি ধন্য হবেন, মর্যাদা-মর্তবা হাছিল করবেন, সম্মানিত হবেন, বরকতময় হবেন এবং পবিত্রতা হাছিল করবেন। সুবহানাল্লাহ! আর এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি বিষয়। যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক এবং পবিত্রতা মুবারক কতো বেশি তা আর বলার অপেক্ষাই রাখে না। সুবহানাল্লাহ!
এক কথায় হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া যত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক এবং সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক রয়েছেন, সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক এবং সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক উনাদের অধিকারিণী হচ্ছেন উনারা। সুবহানাল্লাহ!
যাঁরা আক্বলমান্দ উনাদের জন্য আর কোনো দলীলের প্রয়োজন নেই। কিন্তু যারা সৃষ্টির সর্বনিকৃষ্ট জীব ইহুদী, খ্রিস্টান, কাফির, মুশরিক, মুনাফিক্ব, উলামায়ে সূ’, ওহাবী, খারিজী, দেওবন্দী, লা-মাযহাবী ও বদ আক্বীদাধারী, বদ মাযহাবী তাদেরকে আরো শত-সহস্র, লক্ষ-কোটি দলীল দিলেও তারা কস্মিনকালেও বুঝবে না। তারা হচ্ছে চতুষ্পদ জন্তু তথা শূকর, কুকুরের চেয়েও অত্যধিক নিকৃষ্ট। না‘ঊযুবিল্লাহ!
এদের ব্যাপারেই যিনি খালিক্ব¡ মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,
وَلَقَدْ ذَرَاْنَا لِـجَهَنَّمَ كَثِيْرًا مِّنَ الْـجِـنِّ وَالْاِنْسِ لَـهُمْ قُلُوْبٌ لَّا يَفْقَهُوْنَ بِـهَا وَلَـهُمْ اَعْيُنٌ لَّا يُبْصِرُوْنَ بِـهَا وَلَـهُمْ اٰذَانٌ لَّا يَسْمَعُوْنَ بِـهَا اُولٰٓـئِكَ كَالْاَنْعَامِ بَلْ هُمْ اَضَلُّ اُولٰٓـئِكَ هُمُ الْغٰفِلُوْنَ.
অর্থ: “আর জিন ও মানুষের মাঝে এমন অনেক জিন ও মানুষ রয়েছে, যাদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়ে গেছে। অর্থাৎ তারা তাদের বদ আমলের দ্বারা তাদের উপর জাহান্নাম অবধারিত করে নিয়েছে। তাদের অন্তর রয়েছে; কিন্তু তারা উপলব্ধি করতে পারে না। তাদের চক্ষু রয়েছে; কিন্তু তারা দেখতে পায় না। তাদের কান রয়েছে; কিন্তু তারা শুনতে পায় না। তারা হচ্ছে চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায়; বরং তার চেয়েও অধিক নিকৃষ্ট। মূলত তারা হচ্ছে গাফিল।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৭৯)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,
وَلِلَّهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُوْلِهٖ وَلِلْمُؤْمِنِيْنَ وَلٰكِنَّ الْمُنٰفِقِيْنَ لَا يَعْلَمُوْنَ.
অর্থ: “সমস্ত ইজ্জত তথা শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক একমাত্র যিনি খালিক্ব¡ মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য, উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য (এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আব্বা আলাইহিস সালাম উনার এবং মহাসম্মানিতা হযরত আম্মা আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের জন্য, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের জন্য এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের জন্য) এবং (উনাদের সাথে নিসবত স্থাপন করার কারণে) মু’মিনীন উনাদের জন্য। সুবহানাল্লাহ! কিন্তু মুনাফিক্বরা তা জানে না, বুঝে না।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মুনাফিকূন শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৮)

উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম উনার এবং সম্মানিত দুই ভাই উনাদের সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ

কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
فَأَقْبَلَ أَبُوهَا حضرت الْحَارِثُ بْنُ أَبِي ضِرَارٍ عليه السلام بِفِدَاءِ ابْنَتِهِ فَلَمَّا كَانَ بِالْعَقِيقِ نَظَرَ إلَى الْإِبِلِ الَّتِي جَاءَ بِهَا لِلْفِدَاءِ فَرَغِبَ فِي بَعِيرَيْنِ مِنْهَا فَغَيَّبَهُمَا فِي شِعْبٍ مِنْ شِعَابِ الْعَقِيقِ ثُمَّ أَتَى إلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ يَا مُحَمَّدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَصَبْتُمْ ابْنَتِي وَهَذَا فِدَاؤُهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَيْنَ الْبَعِيرَانِ اللَّذَانِ غَيَّبْتهمَا بِالْعَقِيقِ فِي شِعْبِ كَذَا وَكَذَا فَقَالَ حضرت الْحَارِثُ عليه السلام أَشْهَدُ أَنْ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَأَنَّكَ مُحَمَّدٌ رَسُول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فواللَّهِ مَا اطَّلَعَ عَلَى ذَلِكَ إلَّا اللَّهُ فَأَسْلَمَ حضرت الْحَارِثُ عليه السلام وَأَسْلَمَ مَعَهُ ابْنَانِ لَهُ، وَنَاسٌ مِنْ قَوْمِهِ
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত হারিছ ইবনে আবূ দ্বিরার আলাইহিস সালাম তিনি উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহাস সালাম উনাকে মুক্ত করার জন্য মুক্তিপণসহ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ আসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। পথিমধ্যে তিনি যখন ‘আক্বীক্ব নামক স্থানে আসলেন, তখন তিনি মুক্তিপণ হিসেবে যে সকল উট নিয়ে আসছিলেন, সেগুলোর দিকে তাকালেন। এগুলোর মধ্যে দুইটি উট উনার নিকট পছন্দ হলো। ফলে তিনি উক্ত দুইটি উট ‘আক্বীক্বের উপত্যকাসমূহ হতে একটি উপত্যকায় লুকিয়ে রাখলেন। তারপর তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ এসে বললেন, ইয়া রসূলিল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনারা আমার মহাসম্মানিতা আওলাদ আলাইহাস সালাম উনাকে গণীমত হিসেবে লাভ করেছেন। এই নিন উনার মুক্তিপণ। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, সেই উট দুইটি কোথায়, যেগুলো আপনি ‘আক্বীক্বের উমুক উপত্যকায় লুকিয়ে রেখে এসেছেন? সুবহানাল্লাহ! তখন সাইয়্যিদুনা হযরত হারিছ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত কালিমা শরীফ পাঠ করলেন,
أَشْهَدُ أَنْ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ، وَأَنَّكَ مُحَمَّدٌ رَسُول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ্ নেই এবং নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।’ সুবহানাল্লাহ! (তিনি আরো বললেন,) মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! এই বিষয়ে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত আর কেউ অবগত নয়। তারপর সাইয়্যিদুনা হযরত হারিছ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন এবং উনার সাথে উনার সম্মানিত দুইজন ছেলে রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুমা উনারা ও উনার সম্প্রদায়ের অনেক লোক সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (খছায়িছুল কুবরা শরীফ ১/৩৯২, উস্দু গবাহ্ ১/২১২)
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত পিতা উনার সাথে উনার যে দুই ভাই সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেছেন, উনাদের সম্পর্কে ‘আর রওদ্বুল উন্ফ’ নামক কিতাবে উল্লেখ রয়েছে,
وَهُمَا الْحَارِثُ بْنُ الْحَارِثِ رضى الله تعالى عنه وَعَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ رضى الله تعالى عنه
অর্থ: “আর উনারা দুইজন হচ্ছেন সাইয়্যিদুনা হযরত হারিছ ইবনে হারিছ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আমর ইবনে হারিছ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি।” সুবহানাল্লাহ! (আর রওদ্বুল উন্ফ)

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে