হযরত উম্মুহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম – উনাদের ফযীলত (সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ উনার মাহফিল)


১১. উম্মুল মু’মিনীন হযরত রায়হানা আলাইহাস সালাম

পরিচিতি
পিতার নাম শামউন, ইহুদী সম্প্রদায়ভূক্ত । বনু কুরায়জা গোত্রের আল-হাকাম ছিল উনার স্বামী ।

ইসলাম গ্রহণ ও রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে বিবাহ মুবারক
বনু কুরায়জা গোত্র বিশ্বাসঘাতকতা করলে, অন্যান্যদের ন্যায় উনার স্বামী অভিযুক্ত হয়ে নিহত হয় এবং তিনি যুদ্ধ বন্দিনী হয়ে পড়েন । অত:পর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে উনার বিবাহ মুবারক অনুষ্ঠিত হয় ।

 

বিছাল শরীফ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১০ম হিজরীতে বিদায় হজ্জ হতে প্রত্যাবর্তন করার পর উনার বিছাল শরীফের কয়েক মাস পূর্বে (এক বর্ণনামতে ১০ মাস) তিনি বিছাল শরীফ প্রাপ্ত হন । জান্নাতুল বাকীতে উনার দাফন মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় চার বছর তিনি নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সান্নিধ্যে থাকেন ।

ফযীলত ও মর্যাদা
উ¤মুল মু’মিনীন হযরত রায়হানা আলাইহাস সালাম তিনি অত্যন্ত অমায়িক ব্যবহার ও পূত-পবিত্র চরিত্রের অধিকারিণী ছিলেন। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন । সুবহানাল্লাহ ! সুত্র : উসুদুল গাব, ইছাবা

১২. উম্মুল মু’মিনীন হযরত মারিয়া কিবতিয়া আলাইহাস সালাম

তিনি ছিলেন ঈসায়ী ধর্মাবলম্বী

পরিচিতি ও রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে বিবাহ মুবারক
নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মিসরের শাসনকর্তা মুকাওকিস-এর নিকট ইসলামের দাওয়াত দিয়ে একখানা পত্র লিখেন। তিনি ছিলেন একজন ঈসায়ী ধর্মাবলম্বী আলেম, রোম সম্রাটের প্রশাসক রূপে নিয়োজিত । মুকাউকিস হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার পত্র যথাযথ স¤মানের সাথে গ্রহণ করে এই মর্মে জবাব দেন : আমি আপনার পত্র পাঠ করেছি এবং যা কিছু আপনি বলেছেন তা অনুধাবন করেছি । আমার জানা আছে যে, এখনও একজন নবীর আবির্ভাব অবশিষ্ট রয়েছে এবং তিনি আসবেন । কিন্তু আমার ধারণা ছিল যে, তিনি শাম (সিরিয়া) দেশে আবির্ভূত হবেন । আমি আপনার পবিত্র পত্র-বাহক-উনার প্রতি স¤মান প্রদর্শন করেছি । হাদিয়া স্বরূপ আপনার জন্য দু’টি মেয়ে প্রেরণ করছি । এরা দুই সহোদরা এবং নিতান্ত সম্ভ্রান্ত পরিবারের । ইহা ছাড়া দুলদুল নামক একটি বাহন ও কিছু কাপড় হাদিয়া হিসাবে পাঠানো হচ্ছে। এই দুইটি মেয়ের মধ্যে ছিলেন হযরত মারিয়া কিবতিয়া আলাইহাস সালাম এবং উনার বোন হযরত সীরিন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা। উনারা ছিলেন ঈসায়ী ধর্মাবলম্বী। ইসলাম গ্রহণ করার পর হযরত মারিয়া কিবতিয়া আলাইহাস সালাম-উনাকে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিকাহ করেন এবং উনার বোন হযরত সীরিন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-উনাকে হযরত হাস্সান বিন ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনাকে হাদিয়া হিসাবে প্রদান করেন ।

বিছাল শরীফ
হিজরী ১৬ সালে মুহররম মাসে হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম-উনার খিলাফত কালে মদীনা শরীফে তিনি বিছাল শরীফ প্রাপ্ত হন। হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম উনার জানাযার নামায পড়ান । (উসুদুল গাবা)

ফযীলত ও মর্যাদা
হিজরী ৮ সনে হযরত মারিয়া কিবতিয়া আলাইহাস সালাম-উনার রেহেম শরীফে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার একটি পুত্র সন্তান বিলাদত শরীফ লাভ করেন । নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক রেখেছিলেন হযরত ইব্রাহীম আলাইহাস সালাম। তিনি খুব ছোট অবস্থায় বিছাল শরীফ প্রাপ্ত হন । ঐতিহাসিক বালাজুরীর বর্ণনা অনুযায়ী তিনি ১৮ মাস হায়াত মুবারকে ছিলেন । উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম ব্যতীত অপর কোন উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের রেহেম শরীফে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার আর কোন সন্তান বিলাদত শরীফ লাভ করেন নি । সুবহানাল্লাহ ! হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছিলেন উনার পুত্র হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি জীবিত থাকলে ছিদ্দীক্ব এবং নবীর মর্তবা লাভ করতেন। সুবহানাল্লাহ ! (খাছায়েছুল কুবরা)।

বর্ণিত আছে যে, হযরত মারিয়া কিবতিয়া আলাইহাস সালাম মিসরের আনসানা অঞ্চলের হাফন নামক গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন । হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম-উনার সুপারিশক্রমে হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হাফন বাসিদের খারাজ (ভূমি কর) মাফ করে দিয়েছিলেন । ইহা উ¤মুল মু’মিনীন হযরত মারিয়া ক্বিবতিয়া আলাইহাস সালাম-উনার স¤মানার্থে করা হয়েছিল । সুবহানাল্লাহ ! সুত্র : উসুদুল গাবা, ইছাবা, সিয়ারুচ্ছাহাবা, খাছায়েছুল কুবরা, অন্যান্য সীরত গ্রন্থ

১৩. উম্মুল মু’মিনীন হযরত মায়মুনা আলাইহাস সালাম

পরিচিতি
তিনি বিধবা ছিলেন । হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার আহলিয়া হযরত উম্মুল ফদ্বল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার বোন ছিলেন । (উসুদুল গাবা)

রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে নিকাহ মুবারক
কথিত আছে যে, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার চাচা হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার অনুরোধেই এই নিকাহ মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। তখন হযরত মায়মুনা আলাইহাস সালাম-উনার বয়স মুবারক ছিল ৫১ বছর। বিখ্যাত যোদ্ধা হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু-উনার আপন খালা ছিলেন এই হযরত মায়মুনা আলাইহাস সালাম। এই নিকাহ মুবারক ছিল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সর্বশেষ নিকাহ মুবারক। এই নিকাহ মুবারকের পর পরই হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন । সুবহানাল্লাহ !

বিছাল শরীফ
হিজরী ৫১ সনে প্রায় ৯৫ বৎসর বয়স মুবারকে সারাফ নামক স্থানে তিনি বিছাল শরীফ প্রাপ্ত হন । এখানেই রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে উনার নিকাহ মুবারক অনুষ্ঠিত হয়েছিল । হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু উনার জানাযার নামায পড়ান।

ফযীলত ও মর্যাদা
উম্মুল মু’মিনীন হয়রত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম উনার উচ্চশিত প্রশংসা করতেন । তিনি বলেন : হযরত মায়মুনা আলাইহাস সালাম অত্যন্ত খোদাভীরু এবং আত্মীয় স্বজনের হক স¤পর্কে অত্যন্ত সজাগ । উনার অভ্যাস ছিল দাস-দাসী ক্রয় করে মুক্ত করে দেয়া । এজন্য তিনি মাঝে মাঝে টাকা কর্জ করতেন। একবার তিনি খুব বড় অঙ্কের টাকা কর্জ করেন । উনাকে যখন জিজ্ঞেস করা হলো, কিভাবে পরিশোধ করবেন, উত্তরে তিনি বললেন : কোন লোকের যদি সদিচ্ছা থাকে যে সে ধারকৃত টাকা পরিশোধ করবে, তবে আল্লাহ পাক তিনি নিজেই ইহা পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেন (তাবাকাত). সুবহানাল্লাহ ! তিনি নারী জাতীর আদর্শ ছিলেন। ধার্মিকতা ও চরিত্র সংশোধনের জন্য তিনি নারী সমাজকে উপদেশ দিতেন । সূত্র : উসুদুল গাবা, ইছাবা, তাবাকাত, অন্যান্য সীরত গ্রন্থাবলী

পর্যালোচনা

পৃথক পৃথকভাবে উম্মুহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালামগন উনাদের সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক আলোচনা দ্বারা ইহা সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, উনারা সকলই বিশেষ বিশেষ গুণাবলীতে গুণান্বিতা ছিলেন। তদুপরি নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারণে উনাদের মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়েছে । এ বিষয়ে সমস্ত উম্মতে হাবীবীর ইজমা‘ হয়েছে যে, যে মাটি নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-জিসিম মুবারক স্পর্শ করে আছে (অর্থাৎ উনার মাযার শরীফের মাটি) তা আরশে মু‘য়াল্লা থেকে অধিকতর মর্যাদার অধিকারী । সুবহানাল্লাহ ! কাজেই হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সাথে সংশ্লিষ্টতাই হচ্ছে উনাদের বিশেষ মর্যাদার কারণ। উনার পবিত্র ছোহবত হাছিল করার কারণেই নবীদের পরে সর্বাপেক্ষা অধিক মর্যাদার অধিকারী হয়েছেন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম। উম্মুহাতুল মু‘মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা এক দিক দিয়ে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার ছাহাবিয়া, অন্যদিকে উনার সম্মানিত আহলিয়া হওয়ার কারণে উনার সর্বাপেক্ষা নিকটতম সান্নিধ্যে অবস্থান করেছিলেন । তাছাড়া উনারা আহলে বায়ত শরীফের অন্তর্ভূক্ত হওয়ার কারণেও উনাদের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে উম্মুল মু’মিনীন অর্থাৎ সকল মু’মিনদের মাতা হিসাবে উল্লেখ করে উনাদেরকে বিশেষভাবে সম্মানিত করেছেন । সকল মু’মিন বলতে হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ব্যতীত হযরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত সকল মু’মিন বুঝায় । সুবহানাল্লাহ ! এ থেকে বুঝা যায় উনাদের মহান মর্যাদা কত উর্দ্ধে ।

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম– উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারকে কোন কথা বা কাজ মহান আল্লাহ পাক উনার মর্জির খেলাফ করেন নি। যেমন কুরআন শরীফে মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন:-
وَماَ يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى إنْ هُوَ إلَّا وَحْىٌ يُّوْحَى – (তিনি ওহী ব্যতীত মনগড়া কোন কথা বলেন না) (সুরা নজম ৩/৪)। মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছা অনুযায়ী হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বৈবাহিক হায়াত মুবারকের ২৮ বছর মক্কা শরীফে একজন উম্মুল মু’মিনীন নিয়ে দুনিয়াবী হায়াত মুবারক যাপন করেছেন, আর মদীনা শরীফে উনার শেষ জীবনে ১০ বছর একাধিক উম্মুল মু’মিনীন নিয়ে সংসার যাপন করেছেন । যেহেতু খালিক, মালিক, রব্ব, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে সমগ্র মানব জাতীর আদর্শ করে পাঠিয়েছেন, উনার মক্কা শরীফের জীবন মুবারক ছিল এক বিবাহের অনুপম আদর্শ এবং উনার মাদানী জীবন মুবারকও ছিল অনুপম একাধিক বিবাহ মুবাকের আদর্শ । হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাদানী জীবন মুবারকে একাধিক উম্মুহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নসা সালামগণ উনাদের মধ্যে তিনি কিরূপ সমতা দেখিয়েছেন, উনাদের মধ্যে পারিবারিক যে সব ঘটনা-প্রবাহ ঘটেছে, সে সবের সমাধান কিভাবে করেছেন, এ সবের মধ্যে উম্মতের জন্য বহু বিবাহের অনুসরনীয় আদর্শ রয়েছে । এতদ্ব্যতীত উনার একাধিক আহলিয়া গ্রহণের মধ্যে আরো অনেক হিকমত রয়েছে, যা মহান আল্লাহ পাক তিনি ভাল জানেন ।

হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাদানী জীবন মুবারকেই ইসলামী বিধি-বিধান সমূহ ধাপে ধাপে পরিপূর্ণতা লাভ করেছে । এ সময়ে ছাহাবায় কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনার ছোহবতের দ্বারা ধন্য হয়ে সমস্ত উ¤মতে হাবীবীর শিক্ষাদাতা মু’য়াল্লিম হয়েছেন । মানব জাতির অর্দ্ধেক স্ত্রী-জাতীর শিক্ষা ও বিভিন্ন সমস্যাবলীর সমাধান কল্পে অধিক সংখ্যক স্ত্রীলোক রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার খুব কাছে থেকে ছোহবত মুবারক পাওয়ার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু পুরুষদের ন্যায় নারীদের সে সুযোগ ছিল না । হযরত উম্মুহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালামগণ উনারা সেই অভাব পুরণ করেছেন। উনারা হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাদানী জীবনের শেষ দশ বছর হায়াত মুবারকে উনার অতি নিকটে থেকে উনার পবিত্র ইলেম এবং উনার পবিত্র ছোহবতের ফায়দা হাছিল করে সমস্ত স্ত্রী জাতীর শিক্ষক হয়েছেন।

দেখা যায়, হযরত উম্মুহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালামগণ উনাদের মধ্যে দশ জন নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার বিছাল শরীফ (অর্থাৎ হিজরী ১১ সন)-এর পরেও সুদীর্ঘ হায়াত মুবারক পেয়েছিলেন । উনারা হিজরী ১১ সন থেকে হিজরী ৬৩ সন পর্যন্ত অর্থাৎ প্রায় অর্ধ শতাব্দি (সর্বশেষে হযরত উম্মে সালামা আলাইহাস সালাম-উনার বিছাল শরীফ পর্যন্ত) স্ত্রীজাতীর শিক্ষা-দীক্ষায় ব্যপৃত ছিলেন । উনারা সমস্ত পার্থিব ঝামেলা মুক্ত থেকে শিক্ষা দীক্ষা প্রদানের সুযোগও পেয়েছেন, কারণ উনারা উম্মুল মু’মিনীন হওয়ার কারণে উনাদের জীবিকার ব্যবস্থা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ভাতা হিসাবে প্রদান করা হয়েছে, আর উনাদেরকে অন্য কারো সংসারের বোঝা হতে হয় নি। সেইজন্য উনারা উম্মতের সার্বক্ষণিক শিক্ষা-দীক্ষায় ব্যপৃত থাকার সুযোগ পেয়েছেন। বড় বড় ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ পর্যন্ত কোন কোন জটিল মাস্য়ালা সমাধানের জন্য উ¤মুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের নিকট জিজ্ঞাসা করতে আসতেন। কারণ নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার দৈনন্দিন কার্যাবলী উনারাই অতি নিকট থেকে পর্যক্ষেণ করতে পেরেছিলেন, যা কোন পুরুষ ছাহাবীর পক্ষে সম্ভব ছিল না ।

তা’লীম তালক্বীন ও দরস তাদরীসে উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম সবার চেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। উনার বয়স ছিল কম, মেধা ছিল তীক্ষন। উনার হুযরা শরীফ মসজিদে নববী শরীফ-উনার মিহরাব থেকে সর্বাধিক নিকটবর্তী হওয়ার কারণে হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের আলোচনা মুবারকও তিনি সরাসরি শুনতে পেতেন। এভাবে তিনি এক বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের অধিকারিনী হন। ইসলামী ফিকাহের এক চতুর্থাংশ উনার বর্ণিত হাদীছ শরীফ থেকে গৃহীত হয়। অত:পর হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছাল শরীফের পর প্রায় ৪৮ বছর তিনি উম্মতের শিক্ষা দীক্ষায় ব্যপৃত থাকেন। অন্যান্য উম্মুহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালামগণও মহিলাদের মধ্যে শিক্ষা দীক্ষা প্রচার প্রসারে পেছনে ছিলেন না। একজন মহিলা তাবেয়ী যাঁর নাম, হযরত ছুহায়রা বিনতে জী’ফুর রহমতুল্লাহি আলাইহা, তিনি বর্ণনা করেন : আমি হজ্জ হতে প্রত্যাবর্তন করে উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছাফিয়া আলাইহাস সালাম, যিনি পূর্বে ইহুদী-স¤প্রদায়ভূক্ত ছিলেন, উনার সাথে সাক্ষাত করতে গেলাম । আমি দেখলাম বহু সংখ্যক মহিলা উনার নিকট উপবিষ্ট। এমনকি সুদুর কূফা নগরী হতেও অনেক মহিলা এসেছেন । তারা উনাকে বিভিন্ন রকম প্রশ্ন করছিলেন এবং তিনি সুন্দর ভাবে সেসব প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন (মসনদে আহমদ) । সুবহানাল্লাহ ! অন্য একজন তাবেয়ী, হযরত আবদুল্লাহ বিন উবায়দা রহমতুল্লাহি আলাইহি, বর্ণনা করেন : একবার উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছাফিয়া আলাইহাস সালাম-উনার কক্ষে বহু সংখ্যক মহিলা একত্রিত হয়ে, যিকির-আযকার, কুরআন শরীফ তিলাওয়াত ও সিজদা করছিলেন । হযরত ছাফিয়া আলাইহাস সালাম উনাদেরকে লক্ষ্য করে বলছিলেন: কুরআন শরীফ তিলাওয়াত ও সিজদা তো ঠিকই আছে, কিন্তু ক্রন্দন কোথায় ? সুবহানাল্লাহ ! দেখা যায়, উম্মুহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের তা’লীম শুধু জাহেরী শরীয়তই ছিল না, সাথে সাথে আভ্যন্তরীণ খুলুছিয়ত ও রুহানী তাযকিয়ার প্রতিও উনারা লক্ষ্য রাখতেন।

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং হযরত তাবেয়ীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অন্তরে হযরত উম্মুহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মর্যাদা ও সম্মান-বোধ কিরূপ ছিল একটি ঘটনা থেকে তা উপলব্ধি করা যায় । হযরত আত্বা খুরাসানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, যিনি একজন বিশিষ্ট তাবেয়ী ছিলেন, বর্ণনা করেন : আমি মসজিদে নববী শরীফে হযরত উম্মুহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের বসবাসের হুযরা সমূহ দেখেছি। যেদিন এই হুযরা সমূহকে মসজিদে পরিণত করার জন্য উমাইয়া খলীফা ওয়ালীদ বিন আবদুল মালিকের চিঠি মদীনা শরীফের গভর্ণরের নিকট পৌঁছে, সেদিন মদীনা শরীফে আবাল-বৃদ্ধ-বণিতার মধ্যে কান্নার রোল পড়ে যায় । এর কারণ ছিল, উম্মুহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের হুযরা শরীফ সমূহও মুবারক স্মৃতিচিহ্ণ হিসাবে সর্বজন স্বীকৃত ছিল ।

উম্মুল উমাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম
বর্তমান যামানায় উম্মুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সুযোগ্য ক্বায়েম-মক্বাম এবং পূর্ণ মিছদাক। সুবহানাল্লাহ ! তিনি নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সম্মানিত আওলাদ। আবার আওলাদে রসুল, মুজাদ্দিদে আ’যম আমাদের মামদুহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত আহলিয়া। সুবহানাল্লাহ ! উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার হুযরা শরীফ মসজিদে নববীর সর্বাপেক্ষা নিকটতম অবস্থানে থাকায় তিনি হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার নিকট থেকে ইলেম ও উনার পবিত্র ছোহবত হাছিলের যে সুযোগ পেয়েছেন, বর্তমানে উম্মুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম এবং সমস্ত আহলে বায়ত শরীফের সম্মানিত সদস্যগণও হযরত মুজাদ্দিদে আযম আলাইহিস সালাম উনার পুত: পবিত্র ইলেমের ভান্ডার থেকে ইলেম আহরণ এবং উনার পবিত্র ছোহবত হাছিলের অনুরূপ সুযোগ পাচ্ছেন বর্তমান ইন্টানেট ও সাউন্ড বক্স সিস্টেমের মাধ্যমে। কারণ এ সব ব্যবস্থা থাকায় হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সব আলোচনাই উনারা শুনতে পান এবং উনার পবিত্র ছোহবতে অংশীদার হয়ে থাকেন।

উম্মুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম একদিকে হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম-উনার সান্ত্বনা ও সার্বিক খিদমতের আঞ্জাম তিনি নিরলসভাবে দিয়ে যাচ্ছেন, আবার অন্যদিকে হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার পূত:পবিত্র ইলেমের ভান্ডার থেকে ইলেম হাছিল করে এবং উনার সার্বক্ষণিক রুহানী ফয়েজে ফয়েজাব হয়ে খাছ ও ’আম সমস্ত মহিলাদের মধ্যে দরস, তাদরিস, তা’লীম-তালক্বীন ও ফয়েজ তাওয়াজ্জুহ দিয়ে তাদেরকে ওলী-আল্লাহ হিসাবে ও আদর্শ নারী হিসাবে গড়ে তুলছেন। তিনি শরীয়ত সম্মত খালেছ পর্দ্দার মধ্যে একটি আদর্শ বালিকা মাদ্রাসা প্রত্যক্ষভাবে তত্ত্বাবধান করছেন, যা আদর্শ ও উচ্চ-শিক্ষিতা মহিলা মু’য়াল্লিমগণ দ্বারা পরিচালিত, সব মহিলা শিক্ষিকা ও ছাত্রিদেরকে ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাউফের শিক্ষায় শিক্ষিতা করে তুলছেন, তদুপরি বহিরাগত ’আম মহিলাদেরকেও নিয়মিতভাবে তা’লীম তালক্বীন ও তাছাওফের শিক্ষায় শিক্ষিতা করে তুলছেন। সুবহানাল্লাহ ! বর্তমান যামানায় সারা পৃথিবীতে এইরূপ শিক্ষা ব্যবস্থা কোথাও পাওয়া যাবে না।

ইহা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এই ফিত্বনা ফাসাদের যামানায় সারা পৃথিবীতে মহিলাদের জন্য সুন্নতের অনুসরণে খালেছ ফিক্বহী ও রুহানী তা’লীমের খুব বেশী প্রয়োজন । মহিলাগণই হচ্ছেন উনাদের সন্তান-সন্ততিদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষক । নিজেরা বেপর্দ্দেগী ও শরীয়ত বিগহৃত কাজে লিপ্ত থাকার কারণে বর্তমান যামানায় মহিলাগণ উনাদের সন্তান-সন্ততিদেরকে সুশিক্ষায় গড়ে তুলতে পারছেন না। সেইজন্য অধিকাংশ তথাকথিত ভদ্র-পরিবারের সন্তান-সন্ততিগণ সন্ত্রাসী ও আদব-বিবর্জিত সন্তান সন্ততিতে পরিণত হচ্ছে। পৃথিবীর সকল মহিলাদের জন্য উম্মুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম-উনার খিদমতে উপস্থিত হয়ে উনার পবিত্র তা’লীমে অংশ গ্রহণ করে ফায়দা হাছিল করা ফরয-ওয়াযিব । সুবহানাল্লাহ !

বর্তমান যামানায় আমাদের সম্মানিত হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি উনাদের সুযোগ্য ক্বায়েম মক্বাম। হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি এক দিক দিয়ে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সম্মানিত আওলাদ। আবার আওলাদে রসুল, মুজাদ্দিদে আ’যম আমাদের মামদুহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত আহলিয়া। উনার অসংখ্য কারামত সম্পর্কে আমাদের জানা আছে। এ বিষয়ের উপর বর্তমান মাহফিলেও আলোচনা হয়েছে। তিনি শরীয়ত সম্মত খালেছ পর্দ্দার মধ্যে একটি বালিকা মাদ্রাসা পরিচালনা করছেন, ছাত্রিদেরকে ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাউফের শিক্ষায় শিক্ষিতা করে তুলছেন, বহিরাগত ’আম মহিলাদেরকেও নিয়মিতভাবে তা’লীম তালক্বীন ও তাছাওফের শিক্ষায় শিক্ষিতা করে তুলছেন।  সুবহানাল্লাহ ! বর্তমান যামানায় সারা পৃথিবীতে এইরূপ ব্যবস্থা কোথাও পাওয়া যাবে না। বর্তমানে তথাকথিত সুন্নী মাদ্রাসা সমূহও বে-পর্দেগীতে ভরপুর। সেখানেও পুরুষ-মহিলা শিক্ষিকা ও  বালক-বালিকা ছাত্র-ছাত্রী একসঙ্গে পড়ানো হয়ে থাকে । আর খারেজী ক্বওমী মাদ্রাসাগুলি তো বদ্ আক্বীদায় পরিপূর্ণ। তাছাড়া এসব মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিক্কাহের সাথে তাছাউফ শিক্ষার কোন ব্যবস্থাই নেই । যে কারণে এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আদর্শ ছাত্র-ছাত্রি তৈরী হওয়ার কোন সুযোগ নেই ।

এই ফিত্বনা ফাসাদের যামানায় সারা পৃথিবীতে মহিলাদের খালেছ ফিক্বহী ও রুহানী তা’লীমের খুব বেশী প্রয়োজন, কারণ মহিলাগণই হচ্ছেন উনাদের সন্তান সন্ততিদের প্রাথমিক শিক্ষক । সকল মহিলাদের জন্য হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র তা’লীমে অংশ গ্রহণ করা ফরয-ওয়াযিব । হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার ছোহবত মুবারক মহিলাদের জন্য কতটুকু ফলপ্রদ এ বিষয়ে আমি আমার সাম্প্রতিক একটি জানা বাস্তব অভিজ্ঞতা বর্ণনা করছি । কিছুদিন পূর্বে আমার এক বোনের মেয়ে গ্রামের বাড়ীতে দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে মুখে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য তার স্বামীর সাথে আমার বাসায় আসে । চিকিৎসার পর ঘটনাক্রমে সে আমার আহলিয়ার সাথে হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার সাথে সাক্ষাত করার জন্য দরবার শরীফে আসে । হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার ছোহবত মুবারকের শেষে আমার বাসায় এসে রাত্রে অবস্থান করে । সকাল বেলা সে আমাকে বলে যে, মামা ! আপনারা কি কিছু শুনতে পান নি ? কাল রাত্রে বিছানায় এসে দেখি, আমার শরীর, মাথার নীচের বালিশ, বিছানা পত্র  এমনকি দেয়াল পর্যন্ত বড় বড় করে যিকির করছে । ভয়ে সারা রাত আমি ঘুমাই নি । সে উল্লেখ করে যে, সাক্ষাতের সময় হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম আমার চেহারার দিকে একবার দৃষ্টিপাত করেছিলেন ।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু ।

লেখক: সাঈদ আহমদ গজনবী

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে