হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যেভাবে মহাসম্মানিত ‘ফালইয়াফরহূ’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করেছেন


সম্মানিত তাবুকের জিহাদ মুবারক উনার ঘটনা। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রতি ওয়াক্ত নামায বা’দ ঘোষণা মুবারক দিচ্ছেন, “হে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম! আপনারা যার যার সাধ্য-সামর্থ্য অনুযায়ী সম্মানিত জিহাদ মুবারক-এ শরীক থাকুন।” সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই সম্মানিত ঘোষণা মুবারক শুনে প্রত্যেক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা যার যার সাধ্য-সামর্থ্য অনুযায়ী সম্মানিত জিহাদ মুবারক-এ শরীক হতে থাকলেন। সুবহানাল্লাহ! তখন একজন হযরত মহিলা ছাহাবীয়াহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি উনার কোলের শিশু (ছেলে আওলাদ) উনাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ পেশ করলেন। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবকিছু জানেন। তারপরেও উম্মতকে শিক্ষা দেয়ার জন্য তিনি উক্ত হযরত মহিলা ছাহাবীয়াহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনাকে বললেন, যুদ্ধের ময়দানে কঠিন পরিস্থিতিতে এই বাচ্চা শিশু কী কাজে আসবেন? সেই হযরত মহিলা ছাহাবীয়াহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি জবাবে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি মূলত আমার এই কোলের শিশু উনাকে আপনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ হাদিয়া করেছি এই জন্য যে, যুদ্ধের ময়দানে যখন কাফির-মুশরিকরা তীর-বল্লম ছুড়বে, তরবারী দ্বারা আঘাত করার কোশেশ করবে, তখন আপনি দয়া করে আমার এই কোলের শিশু উনাকে ঢালস্বরূপ ব্যবহার করবেন। সুবহানাল্লাহ! যাতে করে আপনার সম্মানিত জিসম মুবারক-এ একটি তীর, বল্লম বা তরবারীর আঘাত না লাগে। আর এই বাচ্চা শিশুটি তীর বা বল্লম বিদ্ধ হয়ে অথবা তরবারির আঘাত গ্রহণ করে শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করবেন। সুবহানাল্লাহ! এতে আমার অন্তর মুবারক প্রশান্তি লাভ করবে, ইতমিনান লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ! আমি এটাই চেয়ে থাকি। সুবহানাল্লাহ!
তাহলে এখান থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পেয়ে কতো বেমেছালভাবে মহাসম্মানিত ‘ফালইয়াফরহূ’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করেছেন তথা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! যেটা তুলনাহীন। সুবহানাল্লাহ!
একজন মা তার শিশুকে নিজের জীবনের চেয়ে বেশি মুহব্বত করে থাকেন। কিন্তু এই হযরত মহিলা ছাহাবীয়াহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি উনার কোলের শিশু উনাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ পেশ করলেন ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার জন্য। সুবহানাল্লাহ! তাহলে আর বলার অপেক্ষাই রাখে না যে, হযরত ছাহাবায়ে রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা কতো বেমেছাল ও সর্বোত্তমভাবে জান-মাল, আল-আওলাদ, সন্তান-সন্ততি সমস্ত কিছু দিয়ে মহাসম্মানিত ‘ফালইয়াফরহূ’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করেছেন তথা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছেন, উনার সম্মানিত তা’যমীম-তাকরীম মুবারক করেছেন, উনার সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! যার কোন মেছাল নেই। সুবহানাল্লাহ! পরবর্তী উম্মতের জন্য ফরয হচ্ছে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের অনুসরণ করে সেভাবে মহাসম্মানিত ‘ফালইয়াফরহূ’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার কোশেশ করা তথা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার, সম্মানিত তা’যীম-তাকরীম মুবারক করার, সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করার কোশেশ করা। তবেই তারা ইহকাল ও পরকালে হাক্বীক্বী কামিয়াবী লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে সেই তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে