হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে নিয়ে খারিজী, ওহাবী, দেওবন্দী, তাবলীগী, মওদুদী, জামাতী গং-এর মুনাফিকী


উটপাখিকে বোঝা নিতে বললে সে বলে, আমি তো ভাই পাখি। বোঝা বইবো কী করে? আবার উড়তে বলা হলে জবাব দেয়, আমি তো উট, উড়তে জানি না। একই অবস্থা খারিজী, ওহাবী, দেওবন্দী, তাবলীগী, মওদুদী, জামাতী গংসহ তাবৎ বাতিল ৭২ ফিরক্বার।

তারা পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাস উনার মধ্যে রোযা রাখার বিরোধিতা করে থাকে। তারা দলীল হিসেবে যে হাদীছ শরীফ পেশ করে তাহলো- “হযরত খারশাতা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে দেখেছি যে, তিনি এক ব্যক্তিকে রজবুল হারাম শরীফ মাস উনার মধ্যে রোযা রাখার কারণে তার হাতে বেত্রাঘাত করেছেন যতক্ষণ পর্যন্ত সে ব্যক্তি রোযা ভঙ্গ না করেছে।”

অথচ উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সঠিক ব্যাখ্যা হলো- জাহিলিয়াতের যুগে যিলহজ্জ শরীফ মাস ও রজবুল হারাম শরীফ মাস উনাদের মধ্যে কুরবানী করা হতো এবং রোযাও রাখা হতো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার কুরবানী ও রোযা বহাল রেখেছেন আর রজবুল হারাম শরীফ মাস উনার কুরবানী ও কুরবানী উপলক্ষে যে রোযা রাখা হতো (যাকে রজবিয়া বলা হতো) তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি যে ব্যক্তিকে বেত্রাঘাত করেছেন সে জাহিলিয়াত যুগের রসম অনুযায়ী রজবিয়া রোযা রেখেছিল। তাই তিনি তার রোযা ভাঙ্গতে বাধ্য করেন।

হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি পর্দার গুরুত্ব ও মহিলাদের ঘরে নামায পড়ার উৎসাহ ও ফযীলতপূর্ণ হাদীছ শরীফ উনার দিকে লক্ষ্য রেখে মহিলা জামায়াত নিষিদ্ধ করার পরে উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি উনার প্রতি পূর্ণ সমর্থন দেন। কিন্তু খারিজী, ওহাবী, দেওবন্দী, তাবলীগী, মওদুদী, জামাতী গংরাই হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি যে মহিলা জামায়াত নিষিদ্ধ করেছেন সেটা মানতে চায় না।

এখানে একটি বিষয় লক্ষ্যনীয় যে, তারা মুসলমানদেরকে পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাস উনার ফযীলতপূর্ণ রোযা থেকে মাহরুম রাখার জন্য হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণিত অসংখ্য হাদীছ শরীফ রেখে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত হাদীছ শরীফকে প্রাধান্য দিতে চায়। তারাই আবার মহিলা জামায়াত নিষিদ্ধ প্রসংগে হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ইজতিহাদকে অস্বীকার করে বলে হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহি সালাম তিনি কি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বেশি বুঝেন নাকি? নাউযুবিল্লাহ! এটা কি স্পষ্ট মুনাফিকী নয়?

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে