হযরত মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্না-উনাদের ফযীলত।(সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ উনার মাহফিল)


৩. হযরত খানছা’ বিন্তু ‘আমর ইবনুশ শারীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা

পরিচিতি

কায়স গোত্রের সুলায়ম শাখার একজন প্রসিদ্ধ মহিলা কবি ও ছাহাবী (বনু সুলায়ম হিজায ও নজদের উত্তরে বসবাস করত). উনার আসল নাম তুমাদ্বির বিন্তু ‘আমর ইবনুশ শারীদ, উপনাম খানছা’, খানছা অর্থ বন্য গাভী ও হরিণী। শেষ পর্যন্ত উনার আসল নামটি ঢাকা পড়ে যায় এবং ইতিহাসে তিনি খানছা নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেন ।

ইসলাম-পূর্ব জীবন

কথিত আছে যে, দুরায়দ বিন ছি¤মা প্রাচীন আরবের একজন বিখ্যাত নেতা ছিলেন । হযরত খানছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-উনার বিয়ের বয়স হওয়ার পর দুরায়দ একদিন দেখলেন, অতি যতœ সহকারে খানছা উনার একটি উটের গায়ে ঔষধ লাগালেন, তারপর নিজে পরিচ্ছন্ন হলেন । এতে দুরায়দ মুগ্ধ হলেন এবং উনার নিকট বিবাহের প্রস্তাব পাঠালেন । হযরত খানছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা দুরায়দের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন এই বলে : আপনি কি চান যে, আমি আমার চাচাত ভাইদেরকে এমনভাবে ত্যাগ করি যেন তারা তীরের উপরিভাগ এবং বনু জুশামের পরিত্যাক্ত বৃদ্ধকে গ্রহণ করি ? দুরায়দ পরিত্যক্ত হয়ে আফসোস করে নিম্নরূপ কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন :-

حَيُّوْا تُمَاضِرَ وَأرْبَعُوْا صَحْبِى

(অর্থ: তুমাদ্বিরকে আমার সালাম বলবে, এবং তাকে আমার সাহচর্যে থাকতে বলবে) (ইছাবা)। (কথিত আছে যে, দুরায়দ শতাধিক বছর হায়াত পেয়েছিলেন এবং বৃদ্ধাবস্থায়ই এই কবিতাংশ রচনা করেছিলেন) ।

দুরায়দের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর হযরত খানছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা নিজ গোত্রের রাওয়াহা ইবনে আবদিল উয্যা নামে এক যুবককে বিবাহ করেন । কিছুদিন পর রাওয়াহা মারা গেলে তিনি মিরদাস ইবনে আবী ‘আমরকে বিবাহ করেন । উভয় সংসারে উনার কয়েকজন সন্তান জীবিত ছিলেন ।

ইসলাম গ্রহণ

হযরত খানছা’ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার গোত্রের লোকদের সঙ্গে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার খিদমতে উপস্থিত হন এবং উনাদের সঙ্গে ইসলাম গ্রহণ করেন । কথিত আছে যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কছীদা শুনে খুশী হয়েছিলেন এবং উনাকে কছীদা শুনানোর জন্য বলেছিলেন । তখন তিনি দুই-তিনটি কছীদা আবৃত্তি করে উনাকে শুনিয়েছিলেন ।

কবি হিসাবে মরছিয়া রচণায় কৃতিত্ব

আলিমগণের অভিমত এই যে, হযরত খানছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-উনার ন্যায় মরছিয়া কছীদা উনার পূর্বে বা পরে কোন মহিলা কবি রচনা করতে পারেন নি । যখন উনার ভাই মুয়াবিয়াকে হাশিম ও যায়দ হত্যা করে, এবং অত:পর উনার বৈপিত্রেয় ভাই ছখর, যিনি উনার বংশের মধ্যে একজন দাতা ও ধৈর্যশীল ব্যক্তিত্ব ছিলেন, নিহত হলেন, তখন তিনি মরছিয়া কছীদা রচনা করতে শুরু করেন, যাতে উনার তীক্ষœ কবিত্ব প্রতিভার বহি:প্রকাশ ঘটেছে।

হযরত খানছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার বৈপিত্রেয় ভাই ছখরকে অত্যন্ত ভালবাসতেন । কারণ হযরত খানছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-উনার বিয়ে হয়েছিল এমন এক যুবকের সাথে যে ছিল অমিতব্যয়ী । সে তার সমস্ত অর্থ স¤পদ বাজে কাজে উড়িয়ে দিয়ে নি:স্ব হযে যায় । হযরত খানছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা গেলেন উনার ভাই ছখরের নিকট স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে। কিন্তু ছখর তার স¤পদের অর্দ্ধেক বোনের হাতে তুলে দিলেন । তিনি তা নিয়ে স্বামীর ঘরে ফিরে গেলেন। কিন্তু স্বামী অল্প দিনের মধ্যে তাও খরচ করে ফতুর হয়ে যায়। হযরত খানছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা আবার গেলেন ছখরের নিকট । এবারও ছখর তার স¤পদ সমান দুই ভাগে ভাগ করে ভালো ভাগটি বোনকে দিয়ে দেয় । এভাবে ছখর তার সৎ বোনের অন্তরের গভীরে এক স্থায়ী আসন গড়ে তোলে । তার মৃত্যুতে হযরত খানছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা সীমাহীন দু:খ পান। আর তার মৃত্যুর পর থেকে তার স্মরণে অতুলনীয় মরছিয়া (শোক গাঁথা) রচনা করতে থাকেন । কথিত আছে যে, ছখরের শোকে তিনি কাঁদতে কাঁদতে অন্ধ হয়ে যান । ছুবহানাল্লাহ !

জিহাদে অংশ গ্রহণ

বর্ণিত আছে যে, হযরত খানছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা কাদেসিয়ার জিহাদে অংশ গ্রহণ করেছিলেন । উনার সঙ্গে জিহাদে অংশ গ্রহণ করেছিলেন উনার চার পুত্র । রাত্রের প্রথমাংশে তিনি তাদেরকে বললেন : হে বৎসগণ ! নিশ্চয়ই তোমরা ইসলাম গ্রহণ করেছ, হিজরত করেছ, তোমরা আল্লাহ পাক-উনার পছন্দিত । যিনি ব্যতীত কোন মাবুদ নেই উনার কছম করে বলছি, তোমরা নিশ্চয়ই একজন পুরুষের সন্তান, যেমন তোমরা একজন মহিলার সন্তান । আমি তোমাদের পিতার বংশের খিয়ানত করি নি এবং তোমাদের মাতুল বংশের লজ্জার কারণ হই নি । তোমাদের বংশ মর্যাদার স¤মান ক্ষুন্ন করি নি এবং বংশ তালিকা পরিবর্তন করি নি। তোমরা অবশ্যই অবগত আছ, কাফিরদের সাথে জিহাদের মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি মুসলমানদের জন্য কি উত্তম পুরু®কার রেখেছেন । জেনে রাখবে স্থায়ী গৃহ ধ্বংসশীল গৃহ অপেক্ষা বহুগুণ উত্তম । মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন:-

يَا اَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا اصْبِرُوْا وَ صَابِرُوْا وَ رَابِطُوْا، وَ أتَّقُوْا اللهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ-

(অর্থ: হে ঈমানদারগন ! তোমরা ধৈর্য ধারণ কর, ধৈর্যে প্রতিযোগিতা কর এবং জিহাদের জন্য প্রস্তুত থাক এবং আল্লাহ পাককে ভয় কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও ।) আগামী কাল যখন সকাল হবে, শত্র“র বিরুদ্ধে ধৈর্যের সাথে জিহাদে অবতীর্ণ হবে, শত্র“র উপর মহান আল্লাহ পাক-উনার সাহায্য প্রার্থনা করতে থাকবে । যখন তোমরা দেখবে যে, জিহাদ পূর্ণ উদ্যমে শুরু হয়েছে এবং তরবারি সমূহ অগ্নির ন্যায় চমক দিচ্ছে এবং জিহাদের ময়দানের চারদিকে যখন অগ্নি বর্ষিত হচ্ছে, তখন উহার প্রজ্জ¦লিত অগ্নিতে ঝাঁপিয়ে পড়বে এবং শত্র“দের বীর যোদ্ধাদের সাথে মুকাবিলা করে চিরস্থায়ী গৃহের নিয়ামত হাসিল করবে । অত:পর উনার সন্তানগণ মাতার উপদেশ অনুযায়ী অগ্রসর হয়ে জিহাদ শুরু করলেন । অত:পর মুছীবতের দ্বারা পরীক্ষিত হলেন এবং চার পুত্র সকলেই জিহাদে শাহাদত বরণ করলেন । যখন এই সংবাদ উনার নিকট পৌঁছল, তিনি বললেন : সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক-উনার জন্য যিনি তাদের শহীদ হওয়ার মাধ্যমে আমাকে সন্মানিত করেছেন, এবং আমি আমার রব্-উনার নিকট আশা রাখি তিনি উনার রহমতের গৃহে তাদের সঙ্গে আমাকে একত্রিত করবেন । সুবহানাল্লাহ !

ফযীলত ও বুযূর্গী

ইসলাম-পূর্ব জীবনে হযরত খানছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-উনার ভাইদের জন্য শোক প্রকাশ, বিলাপ করা ও মরছিয়া রচনা এবং ইসলাম গ্রহণ করার পরের জীবন তুলনা করলে উনার পরবর্তী জীবনে কিরূপ পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল তা বুঝা যায় । উনার চার পুত্রের একযোগে শাহাদত বরণ নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করেও তিনি কোনরূপ শোক বা বিলাপ কিছুই করলেন না বরং এক অতুলনীয় সান্ত¦না ও আত্ম সংযমের পথ অবলম্বন করলেন । ইসলাম গ্রহণের পর তিনি কি পরিমাণ ঈমানী শক্তির অধিকারী হয়েছিলেন এখানে তা লক্ষ্য করার বিষয় ! এ সময় তিনি আর কোন শোক গাঁথা বা মরছিয়া রচণা করেছেন ইতিহাসে এমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না । সুবহানাল্লাহ !

হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বিছাল শরীফের পূর্ব পর্যন্ত উনার চার সন্তানের ভাতা প্রত্যেকের জন্য দুই শত দিরহাম করে উনাকে নিয়মিত ভাবে প্রদান করতেন । হযরত খানছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-উনার বিছাল শরীফের তারিখ জানা যায় না । (উসুদুল গাবা, ইছাবা, সীরত গ্রন্থাবলী)

৪. হযরত আসমা বিনতে আবী বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা

হযরত ছিদ্দিকে আকবর আলাইহিস সালাম উনার কন্যা, স্বামী আশারায়ে মুবাশশারার অন্তর্ভূক্ত হযরত যুবায়র বিন আওয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু , পুত্র বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়র রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু।

উনার পুত্র হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়র রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার শাহাদতের ঘটনায় তিনি যেরূপ ধৈর্য ও সাহসিকতার পরিচয় দেন তা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য । উমাইয়া খলীফা মারোয়ানের সময় সিরিয়ার বাইরে ইসলামী বিশ্ব ছিল উনার পুত্র হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার আয়ত্বাধীন । আবদুল মালেক সিংহাসনে আরোহণ করে একের পর এক তাদের হারান এলাকা পূণরুদ্ধার করতে লাগল । হাজ্জাজ বিন ইউসুফ বিজয়ের সাথে অগ্রসর হচ্ছিল। ৭৩ হিজরীতে তার হাতে মক্কা শরীফ অবরোধ যখন এমন কঠোরতার পর্যায়ে পৌঁছল যে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়র রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার সহচরগণ দলত্যাগ করে হাজ্জাজের নিকট নিরাপত্তার আশ্রয় প্রার্থনা করতে লাগল । তখন হযরত আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মাতার নিকট গিয়ে বললেন: মাত্র কয়েকজন সঙ্গী আমার নিকট রয়েছে । এমতাবস্থায় আমি আত্মসমর্পন করলে তাদের নিরাপত্তা লাভ করা যাবে । হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বললেন : তুমি যে রাজত্ব ও ক্ষমতা লাভ করেছ তা যদি দুনিয়ার জন্য করে থাক, তবে তোমার চেয়ে নিকৃষ্ট আর কোন মানুষ নেই। তিনি বললেন : আমি যা করেছি দ্বীনের জন্যই করেছি, কিন্তু আমার আশঙ্কা হচ্ছে যে, আমি নিহত হলে সিরিয়াবাসী আমার লাশের অবমাননা করবে । হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বললেন: কোন ক্ষতি নেই, সঠিক দ্বীনের উপর কায়েম থাক । নিহত হওয়ার পর মানুষের ভয়ের কিছু নেই । কারণ, জবেহ করা ছাগলের চামড়া তোলার সময় সে কষ্ট পায় না । সুবহানাল্লাহ !

একথা শুনে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়র রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার মুখ মন্ডলের দীপ্তি উজ্জ¦ল হয়ে উঠল। তিনি বললেন : এ সংকটময় মূহূর্তে আপনার মুখ থেকে কেবলমাত্র এ কথাগুলি শোনার জন্য আমি আপনার খেদমতে হাজির হয়েছিলাম । আল্লাহ পাক জানেন, আমি ভীত হই নি, আমি দুর্বল হই নি । তিনিই সাক্ষী, আমি যে জন্য সংগ্রাম করছি, তা কোন জাগতিক সুখ সম্পদ ও মর্যাদার প্রতি লোভ-লালসা ও ভালবাসার কারণে নয় । বরং এ সংগ্রাম হারামকে হালাল ঘোষণা করার প্রতি আমার ঘৃণা ও বিদ্বেষের কারণেই । আমি শহীদ হলে আমার জন্য কোন দু:খ করবেন না এবং আপনার সবকিছুই আল্লাহ পাক-উনার হাতে সোপর্দ করবেন।

হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি হযরত আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার বর্মের প্রতি লক্ষ্য করে বললেন: আবদুল্লাহ ! তুমি এ কি পরেছ ? তিনি বললেন : আ¤মা, এতো আমার বর্ম । হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বললেন : বেটা, যারা শাহাদতের আকাঙ্খী এটা তাদের পোষাক নয় । তুমি এটা খুলে ফেল । এটা হবে তোমার কর্মতৎপরতা, গতি ও চলাফেরার পক্ষেও সহজতর। এর পরিবর্তে তুমি লম্বা পায়জামা পর । তা হলে তোমাকে মাটিতে ফেলে দেয়া হলেও তোমার সতর অপ্রকাশিত থাকবে । সুবহানাল্লাহ !

মায়ের কথামত হযরত আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ম খুলে পায়জামা পরলেন এবং এ কথা বলতে বলতে হেরেম শরীফের দিকে যুদ্ধে যোগদানের উদ্দেশ্যে চলে গেলেন : আম্মা, আমার জন্য দোয়া করবেন । সাথে সাথে উনার মা হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার দু’টি হাত আকাশের দিকে তুলে পুত্রের জন্য দোয়া করলেন ।

সেদিন সূর্য অস্ত যাওয়ার আগেই হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়র রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু শাহাদত লাভ করেন । সুবহানাল্লাহ

হযরত আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনাকে হত্যার পর হাজ্জাজ উনার লাশ মুবারককে তিন দিন পর্যন্ত লটকিয়ে রেখেছিল । হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা অতিশয় ধৈর্য ও স্থৈর্যের সাথে এই দৃশ্য দেখলেন। লটকানো লাশের কাছে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত শান্তভাবে বললেন : এ সওয়ারীর এখনও ঘোড়া থেকে নামার সময় হলো না ? সুবহানাল্লাহ ! জনতার ভীড় কমানোর উদ্দেশ্যে উনাকে নেয়ার জন্য হাজ্জাজ লোক পাঠায় । তিনি যেতে অস্বীকৃতি জানান। সে আবারো লোক মারফত বলে পাঠায়, এবার না আসলে উনার চূলের গোছা ধরে টেনে আনা হবে। হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি হাজ্জাজের ভয়ে ভীত হলেন না। তিনি গেলেন না । এবার হাজ্জাজ নিজেই আসল । উনাদের দু’জনের মধ্যে নিম্নরূপ কথাবার্তা হলো : হাজ্জাজ বলল : বলুন তো, আমি আল্লাহ পাক-উনার দুশমন ইবনে যুবায়েরের সাথে কেমন ব্যবহার করেছি ? হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বললেন : তুমি তার দুনিয়া নষ্ট করেছ । আর সে তোমার পরকাল নষ্ট করেছে। আল্লাহ পাক-উনার কসম, আমি “যাতুন নিতাকাইন”. আমি একটি নিতাক (কোমরবন্ধ) দিয়ে রসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনাদের খাবার বেঁধেছি । আরেকটি নিতাক আমার কোমরেই আছে। মনে রেখ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার নিকট থেকে আমি শুনেছি, ছাক্বীফ গোত্রে একজন মিথ্যাবাদী ভন্ড এবং একজন জালিম পয়দা হবে । মিথ্যাবাদীকে তো আগেই দেখেছি (আল-মুখতার), আর জালিম তুমিই। হাজ্জাজ এই হাদীছ শরীফ শুনে নীরব হয়ে যায় (মুসলিম শরীফ). সুবহানাল্লাহ। পরে খলীফা আবদুল মালিকের নির্দেশে হাজ্জাজ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়র রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার লাশ মুবারক উনার মাতার নিকট সমর্পন করে ।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার শাহাদতের কিছুদিনের মধ্যেই হিজরী ৭৩ সনে হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহাও বিছাল শরীফ লাভ করেন । তখন উনার বয়স হয়েছিল এক শত বৎসর। মহিলা ছাহাবীর মধ্যে তিনিই সর্বশেষে বিছাল শরীফ লাভ করেন । (সিয়ারু আলামিন নুবালা) . উনার স্বাস্থ্য অত্যন্ত ভাল ছিল । তিনি এক শত বৎসর হায়াত মুবারকে ছিলেন। উনার বার্ধক্যজনিত বুদ্ধি বিভ্রম ঘটে নি । উনার বিছাল শরীফ পর্যন্ত উনার দাঁতও সবগুলি অটুট ছিল । সুবহানাল্লাহ !

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

  1. মুহম্মদ মাহদী হাসানmuhammad mahdi hasan says:

    সকলের জন্ময উচিত সবসময় হাপবিত্র ১২ই রবীউল আউয়াল শরীফ উনার কথা স্মরন রাখা।
    অনুরধে-http://ullaparakishoranjuman.wordpress.com

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে