হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার ফাযায়িল-ফযীলত এবং বুযূর্গী-সম্মান


উনার বিলাদত শরীফ-এর সময় উনার যিনি মাতা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নিজেই বলেন, উনার সন্তান সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি যখন যমীনে আসবেন তার পূর্বেই অনেককে সংবাদ দেয়া হয়েছিল খিদমতের জন্য। কিন্তু যিনি খালিক্ব, যিনি মালিক, যিনি মহান রব আল্লাহ পাক তিনি এটা উনার কুদরতী ফায়ছালা কোনো মহিলাই খিদমতের জন্য আসেননি। তিনি একটু চিন্তিত হলেন কী ফায়ছালা হবে? হঠাৎ করে তিনি দেখতে পেলেন চার জন মহিলা উনার হুজরা শরীফ-এ তাশরীফ নিয়েছেন। হুজরা শরীফটা সবসময় তো নূরানী তারপরেও সেটা মনে হচ্ছে উনাদের নূর মুবারক-এর কারণে আরো বেশি আলোকিত হয়ে গেলো। তিনি উনাদেরকে লক্ষ্য করলেন, এই মহিলারা কারা? তিনি পরক্ষনে জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা কারা? এখানে কী কারণে এসেছেন? উনারা বললেন, আমরা এসেছি খিদমতের জন্য। সুবহানাল্লাহ!
চারজন মহিলা প্রথম যিনি তিনি হচ্ছেন হযরত হাওয়া আলাইহাস সালাম, দ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব তিনি হচ্ছেন হযরত আছিয়া আলাইহাস সালাম, তৃতীয়জন হচ্ছেন হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালাম আর চতুর্থ যিনি তিনি হচ্ছেন হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার বোন হযরত উম্মে কুলসুম আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
এই চারজন মহিলা উনারা পরিচয় দিলেন, আমরা এসেছি আপনার সরাসরি খিদমত করার জন্য। যিনি আগমন করবেন তিনি হচ্ছেন সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ। উনার সেই খিদমতের জন্য যিনি খালিক্ব, যিনি মালিক, যিনি মহান রব আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে পাঠিয়েছেন। উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, এরপর মহান আল্লাহ পাক যিনি খালিক্ব, মালিক, রব তিনি কুদরতীভাবেই সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার যমীনে আগমনের বিষয়টি ফায়ছালা করেন। সুবহানাল্লাহ!
এর দ্বারা বুঝা যায় যে, হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার কত ফাজায়িল-ফজীলত এবং বুজুর্গী-সম্মান। আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল¬াম উনাকে উম্মতের সকল মহিলা অথবা মু’মিনদের সকল মহিলার ‘সাইয়্যিদাহ’ বলে উল্লেখ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ)
অথচ উনার জীবনী মুবারক বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল দেশের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা সকল দেশ প্রধানের উপরই ফরয-ওয়াজিব এবং বিশ্বের সকল মুসলমানদের উপর উনার ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী, সম্মান আলোচনা করাও ফরয-ওয়াজিব।
অতএব, বিশ্বের সকল মুসলমানদের উপর ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে, উনার জীবনী মুবারক পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং উনার ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী আলোচনা করা।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+