হাদিসে ইবনে মাসউদ (রা) একাধিক সনদে বর্ণিত থাকার প্রমাণ ও বিদয়াতিদের ভিত্তিহীন অভিযোগের দাঁতভাঙ্গা জবাব ওহাবী সালাফীদের এই পোষ্টের খন্ডনমুলক জবাব;-


ওহাবী সালাফীদের লিংক-www.markajomar.com/?p=1044

প্রশ্ন:-পবিত্র কুরআন শরীফ উনার সূরা ত্বহার আয়াত শরীফ নং ৫৫ ও ফকীহুল উম্মত হয়রত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত হাদিস শরীফ উনার মাধ্যমে দিয়ে প্রমাণিত হয় যে, মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মদিনা শরীফ উনার মাটি মুবারক দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে, তাই বিছাল শরীফ গ্রহনের পর মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেখানেই সমধিস্হ হয়েছেন।

জবাবে বলতে হচ্ছে সুরা ত্বহার ৫৫ নং আয়াত শরীফ দ্বারা কখনও প্রমাণিত হয় না যে, মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মাটি মুবারক দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে কারন পবিএ কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ১৪খানা মাটির আয়াত শরীফ বনিত রয়েছে, যে আয়াত শরীফ উনাদের তাফসীরে, চার মাযহাবে গ্রহনযোগ্য একজন মুফাসসীর ও বলেন নিই যে, সাধারন কোন মানুষকে মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে, একমাএ সাইয়্যিদুনা আদম আলাইহিস সালাম তিনি ব্যাতিত। আর সাইয়্যিদুনা আদম আলাইহিস সালাম উনার আওলাদ সাধারন মানূষরা নুতফা, থেকে মায়ের রেহেমে কুদরতীভাবে সুষ্টি হয়। তাহলে মহান মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সৃষ্টি মুবারক যে কতটা কুদরতময় তা জ্বীন-ইনসানের চিন্তা চেতনার লক্ষ্য কোটিগুন উদ্বে।

অতএব মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মাটি মুবারক দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে এই কথা বলা তাহলে কিভাবে শরীয়ত সম্মত হতে পারে। কারন উসুলের প্রায় সমস্ত কিতাবে বণিত রয়েছে, তাফসীর না জেনে পবিএ কুরআন শরীফ উনার সরাসরি অর্থ করা হারাম।নাঅুযুবিল্লাহ। আর ফকীহুল উম্মত হয়রত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত হাদিস শরীফ খানার ব্যাখ্যা বিশ্লেষন রয়েছে।

তবে সে ব্যাখ্যা বিশ্লেষন দেওয়ার আগে আমরা পবিএ কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত ১৪খানা মাটির আয়াত শরীফ থেকে তিন খানা পবিএ আযাত শরীফ উনার তাফসীর বিশ্বখ্যাত ও সবজনমান্য মুফাসসীরের কিতাব থেকে হাওলা এনে প্রমাণ করে দিব, একমাএ সাইয়্যিদুনা আদম আলাইহিস সালাম তিনি সরাসরি মাটি মুবারক থেকে সৃষ্টি আর উনার আওলাদ বা আমরা সাধারন মানুষরা নুতফা, রক্ত, গোস্ত কয়েকটি স্তরে কুদরতীভাবে তেরী। আর নুরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আপাদমস্তক নুর মুবারক হওয়ার কারনে মদিনা শরীফ উনার সম্মানিত সে মাটি মুবারককে নুর করে মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে সঙযোজন মুবারক করা হয়েছে।সুবহানাল্লাহ।

এখন পবিএ কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত মাটির ১৪ খানা আযাত শরীফ হল:-إِنَّ مَثَلَ عِيسَىٰ عِندَ اللَّـهِ كَمَثَلِ آدَمَ ۖ خَلَقَهُ مِن تُرَابٍ ثُمَّ قَالَ لَهُ كُن فَيَكُونُ ﴿٥٩﴾ ٰ নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট হয়রত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার দৃষ্টান্ত মুবারক হয়রত আদম আলাইহিস সালাম উনার ন্যায়,তিনি উনাকে(হয়রত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে)মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।অতপর বলেছেন, হয়ে যাও,সংগে সংগে হয়ে গেলেন।(সুরায়ে আল ইমরান শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ নং-৫৯)

(২)قَالَ لَهُ صَاحِبُهُ وَهُوَ يُحَاوِرُهُ أَكَفَرْتَ بِالَّذِي خَلَقَكَ مِن تُرَابٍ ثُمَّ مِن نُّطْفَةٍ ثُمَّ سَوَّاكَ رَجُلًا ﴿٣٧﴾ উনার সঈী উনাকে কথা প্র বললো,তুমি তাকে অস্বীকার করছো যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে,অতপর বীর্য থেকে অতপর পৃনাঈ করেছেন তোমাকে মানবাকৃতিতে। (সুরায়ে কাহাফ শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ নং-৩৭)

(৩)يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِن كُنتُمْ فِي رَيْبٍ مِّنَ الْبَعْثِ فَإِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن تُرَابٍ ثُمَّ مِن نُّطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ مِن مُّضْغَةٍ مُّخَلَّقَةٍ وَغَيْرِ مُخَلَّقَةٍ لِّنُبَيِّنَ لَكُمْ ۚ وَنُقِرُّ فِي الْأَرْحَامِ مَا نَشَاءُ إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى ثُمَّ نُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوا أَشُدَّكُمْ ۖ وَمِنكُم مَّن يُتَوَفَّىٰ وَمِنكُم مَّن يُرَدُّ إِلَىٰ أَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَيْلَا يَعْلَمَ مِن بَعْدِ عِلْمٍ شَيْئًا ۚ وَتَرَى الْأَرْضَ هَامِدَةً فَإِذَا أَنزَلْنَا عَلَيْهَا الْمَاءَ اهْتَزَّتْ وَرَبَتْ وَأَنبَتَتْ مِن كُلِّ زَوْجٍ بَهِيجٍ ﴿٥﴾ (হে লোক সকল,যদি তোমরা পুনরুত্থানের ব্যাপারে সন্দীহান হও, তবে (ভেবে দেখ)আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে,সৃষ্টি করেছি। অত:পর বীর্য থেকে, এরপর জমাট রক্ত থেকে, এরপর পূনাকৃতি বিশিষ্ট ও অপূনাকৃতি বিশিষ্ট গোস্ত পিন্ড থেকে। তোমাদের কাছে ব্যাক্ত করার জন্যে।(সুরায়ে হজ্জ শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ নং-৫)

(৪)وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَكُم مِّن تُرَابٍ ثُمَّ إِذَا أَنتُم بَشَرٌ تَنتَشِرُونَ ﴿٢٠﴾ তার নির্দশনাবলীর মধ্যে এক নিদর্শন এই যে, তিনি মাটি থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেছেন। এখন তোমরা মানুষ পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছো।(সুরায়ে রুম শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ নং-২০)

(৫)وَاللَّـهُ خَلَقَكُم مِّن تُرَابٍ ثُمَّ مِن نُّطْفَةٍ ثُمَّ جَعَلَكُمْ أَزْوَاجًا ۚ وَمَا تَحْمِلُ مِنْ أُنثَىٰ وَلَا تَضَعُ إِلَّا بِعِلْمِهِ ۚ وَمَا يُعَمَّرُ مِن مُّعَمَّرٍ وَلَا يُنقَصُ مِنْ عُمُرِهِ إِلَّا فِي كِتَابٍ ۚ إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى اللَّـهِ يَسِيرٌ ﴿١١﴾ মহান আল্লাহ পাক তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, অতপর বীর্য থেকে, তারপর তোমাদেরকে করেছেন যুগল।(সুরায়ে ফাতির শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ নং-১১)

(৬)مُسْتَكْبِرِينَ بِهِ سَامِرًا تَهْجُرُونَ ﴿٦٧﴾ أَ এ মহান আল্লাহ পাক যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, অতপর নুতফা(বীর্য)থেকে,অতপর জমাট রত্ত থেকে,অতপর তোমাদেরকে বের করেন শিশুরুপে।(সুরায়ে মুমিন শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ নং-৬৭)

(৭)هُوَ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن طِينٍ ثُمَّ قَضَىٰ أَجَلًا ۖ وَأَجَلٌ مُّسَمًّى عِندَهُ ۖ ثُمَّ أَنتُمْ تَمْتَرُونَ ﴿٢﴾ সেই মহান আল্লাহ পাক যিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন,অতপর নিদিষ্টকাল নির্ধারন করেছেন।আর এক নিদিষ্টকাল মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে রযেছে,তথাপি তোমরা সন্দেহ কর।(সুরায়ে আনয়াম শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ নং-২)

(৮)وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنسَانَ مِن سُلَالَةٍ مِّن طِينٍ ﴿١٢﴾ নিসন্দেহে আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি।(সুরায়ে মুমিনুন শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ নং-১২)
(৯)الَّذِي أَحْسَنَ كُلَّ شَيْءٍ خَلَقَهُ ۖ وَبَدَأَ خَلْقَ الْإِنسَانِ مِن طِينٍ ﴿٧﴾ যিনি তার প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে সুন্দর করেছেন এবং কাদামাটি থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন।(সুরায়ে সিজদাহ শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ নং-৭)

(১০)الَّذِي أَحْسَنَ كُلَّ شَيْءٍ خَلَقَهُ ۖ وَبَدَأَ خَلْقَ الْإِنسَانِ مِن طِينٍ ﴿٧﴾ নিসন্দেহে আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এটেল মাটি থেকে।(সুরায়ে সাফফাত শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ নং-১১)
(১১)إِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي خَالِقٌ بَشَرًا مِّن طِينٍ ﴿٧١﴾ যখন আপনার পালনকর্তা হয়রত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে বললেন,আমি মাটির মানুষ সৃষ্টি করবো।থেকে।(সুরায়ে ছোয়াদ শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ নং-৭১)

(১২)وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنسَانَ مِن صَلْصَالٍ مِّنْ حَمَإٍ مَّسْنُونٍ ﴿٢٦﴾ আমি মানুষকে পচা কাদা থেকে তেরী শুকনো ঠন ঠনে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছি।(সুরায়ে হিজর শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ নং-২৬)

(১৩)خَلَقَ الْإِنسَانَ مِن صَلْصَالٍ كَالْفَخَّارِ ﴿١٤﴾ তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পোড়া মাটির ন্যায় শুকনো মাটি দ্বারা।(সুরায়ে আর রহমান শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ নং-১৪)
(১৪)مِنْهَا خَلَقْنَاكُمْ وَفِيهَا نُعِيدُكُمْ وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً أُخْرَىٰ ﴿٥٥﴾ মাটি থেকে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি।উহাতেই তোমাদেরকে ফিরাবো এবং উহা থেকে পুনরায় উঠাবো।(সুরায়ে ত্ব হা শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ ৫৫)

এখন মাটির চৌদ্দ খানা আয়াত শরীফ থেকে পবিএ তিন খানা আয়াত শরীফ উনার তাফসীর উল্লেখ করা হল:-(৩)يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِن كُنتُمْ فِي رَيْبٍ مِّنَ الْبَعْثِ فَإِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن تُرَابٍ ثُمَّ مِن نُّطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ مِن مُّضْغَةٍ مُّخَلَّقَةٍ وَغَيْرِ مُخَلَّقَةٍ لِّنُبَيِّنَ لَكُمْ ۚ وَنُقِرُّ فِي الْأَرْحَامِ مَا نَشَاءُ إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى ثُمَّ نُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوا أَشُدَّكُمْ ۖ وَمِنكُم مَّن يُتَوَفَّىٰ وَمِنكُم مَّن يُرَدُّ إِلَىٰ أَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَيْلَا يَعْلَمَ مِن بَعْدِ عِلْمٍ شَيْئًا ۚ وَتَرَى الْأَرْضَ هَامِدَةً فَإِذَا أَنزَلْنَا عَلَيْهَا الْمَاءَ اهْتَزَّتْ وَرَبَتْ وَأَنبَتَتْ مِن كُلِّ زَوْجٍ بَهِيجٍ ﴿٥﴾ অর্থ মুবারক:- (হে লোক সকল,যদি তোমরা পুনরুত্থানের ব্যাপারে সন্দীহান হও, তবে (ভেবে দেখ)আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে,সৃষ্টি করেছি। অত:পর বীর্য থেকে, এরপর জমাট রক্ত থেকে, এরপর পূনাকৃতি বিশিষ্ট ও অপূনাকৃতি বিশিষ্ট গোস্ত পিন্ড থেকে। তোমাদের কাছে ব্যাক্ত করার জন্যে।(সুরায়ে হজ্জ শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ নং-৫)

এই আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে আল্লামা আলাউদ্দিন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম রহমতুল্রাহি আলাইহি “তাফসীরে খাযেন”-এর ৩য় জি:, ২৮১পৃষ্টায় উল্লেখ করেন- ( فانّا خلقنكم مّن تراب)يعنى اياكم الذى هوا اصل البشر (ثمّ من نطفة) يعنى ذريته من المنىঅর্থ মুবারক:-“(আমি তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি) অর্থ্যাৎ তোমাদের পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালাম কে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি।যিনি মানব জাতির মূল।(অত:পর নুতফা থেকে ) অর্থ্যৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার সন্তানদেরকে বীর্য থেকে সৃষ্টি করেছ্।”

আল্লামা হুসাইন ইবনে মাসউদ আল ফাররা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “তাফসীরে বাগবী” এর ৩য় জি: ২৮১ পৃষ্টায় উল্লেখ করেন-( فانّا خلقنكم) اى اياكم(مّن تراب ثمّ)خلقتم (من نطفة ثمّ من علقة) اى قطعة دم جامدة(ثمّ من مّضغة) اى لحمة صغيرة فدر مايمضع- অর্থ মুবারক:-“আমি তোমাদেরকে অর্থ্যৎ তোমাদের পিতাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি।অত:পা তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি নুতফা ও ছোট গোস্তপিন্ড থেকে।”

(১২)وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنسَانَ مِن صَلْصَالٍ مِّنْ حَمَإٍ مَّسْنُونٍ ﴿٢٦﴾ আমি মানুষকে পচাঁ কাদা থেকে তেরী শুকনো ঠন ঠনে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছি।(সুরায়ে হিজর শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ নং-২৬)

এই আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে, আল্লামা ইমাম কুরতবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “তাফসীরে কুরতবী”-এর ৫ম জি:,২১ পৃষ্টায় উল্লেখ করেন- ولقد خلقنا الانسان) اى ادم عليه السلام(من صلصال)طين يابس-অর্থ মুবারক:- “(নি:সন্দেহে আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি) অর্থ্যৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম কে সৃষ্টি করেছি শুকনো মাটি থেকে। হয়রত ইবনে আব্বাছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও অন্যান্য মুফাসসীর থেকে এরুপ ব্যাখ্যাই বর্ণিত রয়েছে।”

আল্লামা আবুল লাইছ সামারকান্দি রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “তাফসীরে সামারকান্দি”-এর ২য় জি:,২১৮ পৃষ্টায় উল্লেখ করেছেন- (ولقد خلقنا الانسان من صلصل منّ حما مّسنون) اى ادم عليه السلام অর্থ মুবারক:- “নি:সন্দেহে আমি ইনসান অর্থ্যৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে ঠনঠনে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি।”
প্রশ্নে উল্লেখিত, আয়াত শরীফ খানা-(১৪)مِنْهَا خَلَقْنَاكُمْ وَفِيهَا نُعِيدُكُمْ وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً أُخْرَىٰ ﴿٥٥﴾ মাটি থেকে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি।উহাতেই তোমাদেরকে ফিরাবো এবং উহা থেকে পুনরায় উঠাবো।(সুরায়ে ত্ব হা শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ ৫৫)-

এই আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে, আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “তাফসীরে রুহুল বয়ান”-এর ৫ম জি:,৩৯৬ পৃষ্টায় উল্লেখ করেছেন-منها) اى من الارض (خلقناكم) بواسطة اصلكم ادم والافمن عدا ادام وحواء مخلوق من النطفة)(উহা থেকে) অর্থ্যৎ যমিন থেকে (তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি)তোমাদের মূল হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করার মাধ্যমে।আর হয়রত আদম আলাইহিস সালাম ও হয়রত হাওযা আলাইহাস সালাম ব্যতিত সকলেই ‘নুতফা’ থেকে সৃষ্টি।”

আল্লামা আলাউদ্দিন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম রহমতুল্রাহি আলাইহি “তাফসীরে খাযেন”-এর ৩য় জি:, ২৪০ পৃষ্টায় উল্লেখ করেন (منها خلقنكم ) اى من الارض خلقنكم ادم عليه السلام -অর্থ মুবারক:-“(তোমাদেরকে উহা থেকে) অর্থ্যৎ জমিন থেকে হয়রত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করেছি।”

আল্লামা হুসাইন ইবনে মাসউদ আল ফাররা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “তাফসীরে বাগবী” এর ৩য় জি:, ২৪০ পৃষ্টায় উল্লেখ করেন-(منها)من الارض (خلقناكم)اى اياكم ادم عليه السلامঅর্থ মুবারক:-“(উহা থেকে) অর্থ্যৎ জমিন থেকে (তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি) অর্থ্যৎ তোমাদের পিতা হয়রত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করেছি।”

আল্লামা আবুল লাইছ সামারকান্দি রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “তাফসীরে সামারকান্দি”-এর ২য় জি:,৩৪৬ পৃষ্টায় উল্লেখ করেছেন-(منها خلقنكم)يعنى ادم خلقناه من الارض (فيها نعيدكم) اى بعد موتكم (ومنها نخرجكم) يعنى نعيدكم ونخرجكم من الارض (تارة اخرى) অর্থ মুবারক:- “(উহা থেকে থেকে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি) অর্থ্যৎ আমি হয়রত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি। (সেখানেই প্রত্যাবর্তন করবে) মৃত্যুর পর (সেখান থেকে তোমাদের পুনরায় উঠাব, অর্থ্যৎ জীবিত করা হবে।”

আল্লামা ইমাম কুরতবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “তাফসীরে কুরতবী”-এর ৬ষ্ট জি:, ২১০ পৃষ্টায় উল্লেখ করেন-(منها خلقنكم)يعنى ادم عليه السلام لايه خلق من الارض قاله ابو اسحاق الزجاج وغيره অর্থ মুবারক:- “(উহা থেকে থেকে তোমাদেরকে) অর্থ্যৎ আমি হয়রত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি। কেননা হয়রত আদম আলাইহিস সালাম তিনি মাটি থেকে সৃষ্ট।”

তাজুল মুফাসসিরীন আল্লামা আবুল ফজল শিহাবুদ্দিন সাইয়্যিদ মাহমুদ আলুসী বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্হ “তাফসীরে রুহুল মায়ানী”-এর ৮ম জি:,২৭৬ পৃষ্টায়্ উল্লেখ করেছেন- (منها) اى الارض (خلقناكم)اى فى ضمن خلق ابيكم ادم عليه السلام منهاঅর্থ মুবারক:- “(উহা থেকে) অর্থ্যৎ (তোমাদেরকে)অর্থ্যৎ তোমাদের পিতা হয়রত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করার মাধ্যমে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি।”

উপরোক্ত দলিল ভিত্তিক আলোচনার মাধ্যম দিয়ে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হল যে, একমাএ সাইয়্যিদুনা হয়রত আদম আলাইহিস সালাম তিনি সরাসরি মাঠি মুবারক দ্বারা সৃষ্টি। আর আমরা সাধারন মানূষ কয়েকটি স্তরে কুদরতীভাবে সৃষ্টি হয়। এটাই হল বিশ্বখ্যাত ও অনুসরনীয় মুফাসসিরগনের সর্বসম্মত অভিমত। অর্থ্যৎ “পবিএ কুরআন শরীফ উনার মধ্যে যে সকল আয়াত শরীফ-এ “মানুষ” মাটির তৈরী বলা হয়েছে” সে সকল আয়াত শরীফে “মানুষ” দ্বারা উদ্দেশ্য হল “হয়রত আদম আলাইহিস সালাম।”এটাই হল বিশ্বখ্যাত ও অনুসরনীয় সমস্ত মুফাসসিরগনের সর্বসম্মত অভিমত।

এছাড়াও ফকীহুল উম্মত হয়রত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত হাদিস শরীফ উনার মধ্যে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত রয়েছে যে মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মাটি মুবারক দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে।সম্মানিত হাদিস শরীফ খানা হল-
عن عبد الله بن مسعود رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما من مولود الا وفى سرته من تربته التى خلق منها حتى يدفن فيها وانا وابو بكر وعمر خلقنا من تربة واحدة وفيها ندفن.
অর্থঃ- “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। আখেরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্ নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, প্রত্যেক সন্তানের নাভীতে মাটির একটি অংশ রাখা হয়, যেখানকার মাটি তার নাভীতে রাখা হয়েছিল মৃত্যুর পর সে ঐ স্থানেই সমাধিস্থ হবে। আমি, হযরত আবূ বকর সিদ্দিক আলাইহিস ও হযরত উমর ফারুক আলাইহিস একই মাটি মুবারক থেকে সৃষ্টি হয়েছি এবং একই স্থানে সমাধিস্থ হবো। (মাযহারী, আল মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক)।

উপরে বর্ণিত হাদীছ শরীফের ব্যাখ্যায় বলা হয়, মাতৃগর্ভে সন্তানের বয়স যখন চার মাস হয়, তখন নিয়োজিত ফেরেশতা উক্ত সন্তানের হায়াত-মউত ও মৃত্যুস্থান সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ পাক-এর নিকট জিজ্ঞাসা করেন, তখন আল্লাহ্ পাক লওহে মাহফুজ দেখে নিতে বলেন। নিয়োজিত ফেরেশতা লওহে মাহফুজ দেখে যেখানে তার কবর হবে সেখান থেকে সামান্য মাটি এনে সন্তানের নাভীতে দিয়ে দেন। এটা মূলতঃ প্রতিটি মানুষের “কবরের স্থান” নির্ধারণের জন্যে দেয়া হয়। দেহ সৃষ্টির জন্য নয়। নিম্নে এর কতিপয় প্রমাণ পেশ করা হলো।

যেমন, আল্লামা জালালুদ্দীন সূয়ুতী রহমতুল্লাহি আলাইহি “শরহুছ্ ছুদুর” নামক কিতাবে উল্লেখ করেন, হাদীস শরীফে রয়েছে,
اخرج ابو نعيم عن ابى هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما من مولود الا وقد ذر عليه من تراب حفرته.
অর্থঃ- “হযরত ইমাম আবূ নঈম রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণনা করেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্ নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘এমন কোন সন্তান নেই যার উপর তার কবরের মাটি ছিটিয়ে দেয়া হয়না।”

আল্লামা শা’রানী রহমতুল্লাহি আলাইহি “তায্কেরায়ে কুরতুবী” কিতাবে উল্লেখ করেন,
روى الديلمى مرفوعا كل مولود ينشر على سرته من تراب حفرته فاذا مات رد الى تربته.
অর্থঃ- “ইমাম দায়লামী হতে মরফু’ হিসেবে বর্ণিত। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্ নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, প্রতিটি সন্তানের নাভীর উপর (মাতৃগর্ভে) তার কবরের মাটি ছিটিয়ে দেয়া হয় এবং মৃত্যুর পর তাকে উক্ত মাটিতেই ফিরিয়ে নেয়া হয়।”

হযরত আবূ আব্দুল্লাহ্ মুহম্মদ ইবনে আহমদ আল আনছারী আল কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “তাফসীরে কুরতুবী-এর ৩য় খণ্ড ৩৮৭ পৃষ্ঠায় লিখেন,
عن ابن مسعود ان الملك الموكل بالرحم يأخذ النطفة فيضعها على كفه ثم يقول يارب مخلقة او غير مخلقة؟ فان قال مخلقة قال يارب ما الرزق ما الاثر ما الاجل؟ فيقول انظر فى ام الكتاب فينظر فى اللوح المحفوظ فيجد فيه رزقه وأثره واجله وعمله ويأخذ التراب الذى يدفن فى بقعته ويعجن به نطفته.
অর্থঃ- “হযরত আবূ নঈম হাফিজ মুররা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নিশ্চয়ই রেহেম অর্থাৎ গর্ভের জন্য নির্ধারিত ফেরেশতা (মাতৃগর্ভে) নুত্ফা বা মনিকে নিজ হাতের তালুতে রাখেন। অতঃপর বলেন, হে প্রতিপালক! এই মনি দ্বারা সন্তান সৃষ্টি হবে কি হবেনা?’ যখন আল্লাহ্ পাক বলেন, ‘ইহা দ্বারা সন্তান সৃষ্টি হবে। তখন ফেরেশ্তা বলেন- তার রিযিকের ব্যবস্থা, মৃত্যুর আলামত কি ও মৃত্যু কোথায় হবে? প্রশ্নের উত্তরে আল্লাহ্ পাক বলেন, লওহে মাহ্ফুজে দেখে নাও। ফেরেশ্তা লাওহে মাহ্ফুজ দেখে সেখানে তার রিযিক, মৃত্যুর আলামত, মৃত্যুর স্থান ও আমল সম্পর্কে জেনে নেন। অতঃপর যেখানে তাকে দাফন করা হবে সেখান থেকে একটু মাটি নিয়ে তা নুত্ফা বা মনির সঙ্গে মিশিয়ে দেন।”

এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয় তা হলো, এক হাদীছ শরীফে যদিও বলা হয়েছে যে, কবরের মাটি নাভীমূলে রেখে দেয়া হয়, কিন্তু অন্য হাদীছ শরীফে বলা হয়েছে, নুতফার সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়। অর্থাৎ সন্তানের বয়স যখন মাতৃগর্ভে চার মাস হয় তথা সন্তানের দেহ বা আকার-আকৃতি যখন সৃষ্টি হয়ে যায়, তখন রূহ ফুঁকে দেয়ার সময় ফেরেশতা তার কবরস্থান থেকে মাটি এনে নাভীমূলে রেখে দেন। এতে বুঝা গেল যে, উক্ত মাটি মূলতঃ দেহ সৃষ্টির জন্যে নয় বরং কবরস্থান নির্ধারণের জন্যে। যদি দেহ সৃষ্টির জন্যই হতো তবে দেহ সৃষ্টির পরে উক্ত মাটি নাভীতে রাখা হলো কেন? উক্ত মাটি রাখার পূর্বেই তো দেহ সৃষ্টি হয়ে গেছে তাই এখন রূহ ফুঁকে দেয়া হবে।

সুতরাং বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, কবরের মাটি নাভীমূলে রেখে দেয়া হোক বা নুতফার সাথে মিশিয়ে দেয়া হোক তা দেহ সৃষ্টির জন্য নয় বরং কবরের স্থান নির্ধারণের জন্য।
আর নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণের রওজা শরীফ চিহ্নিত করার জন্য নির্দিষ্ট স্থান থেকে মাটি যা তার হাক্বীক্বী ছূরতে এনে নূর বানিয়ে নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণের (নুত্ফার সঙ্গে মিশ্রিত করা হয়না বরং তা) নাভী মুবারকের উপর রাখা হয়। এর মেছালস্বরূপ বলা হয়, হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম এবং হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালাম যারা বিনা নুত্ফাতে কুদরতীভাবে সৃষ্টি হয়েছেন। এছাড়াও হযরত হাওয়া আলাইহাস্ সালামও বিনা নুত্ফায় কুদরতীভাবে সৃষ্টি হয়েছেন।
আর আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সৃষ্টি মুবারক তাঁদের চাইতেও অনেক বেশী রহস্যময় ও কুদরতের অন্তর্ভূক্ত।

এছাড়াও আল্লাহ্ পাক-এর কিছু খাছ বান্দা বা বান্দী রয়েছেন যাদের কবরস্থান চিহ্নিত করার জন্য তাঁদেরও নাভীমূলে মাটি রাখা হয়েছে। আর আওয়ামুন্ নাস বা সাধারণ লোকদের কবরস্থান চিহ্নিত করার জন্য তাদের নির্দিষ্ট স্থান থেকে মাটি এনে নুত্ফার সাথে মিশ্রিত করা হয়।
কাজেই “হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত ওমর ফারুক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং আমি (হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একই স্থানের মাটি দ্বারা সৃষ্টি” এ কথার অর্থ হলো “তাঁদের তিনজনের নাভী মুবারকে একই স্থানের মাটি রাখা হয়েছে, তাই তারা একই স্থানে শায়িত রয়েছেন।”

শুধু তাই নয়, হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালামও সেই একই স্থানে শায়িত হবেন। তাই রওজা শরীফের পাশে হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালামের জন্যে জায়গা খালি রাখা হয়েছে। আর “মাকতুবাত শরীফে” হযরত মুজাদ্দিদে আলফেছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন,“আমিও রওজা শরীফের মাটি দ্বারা সৃষ্ট। অর্থাৎ আমার নাভী মূলেও রওজা শরীফের মাটি রাখা হয়েছে। তবে উনার মাযার শরীফ সেরহিন্দ শরীফে হওয়ার কারণ হলো হযরত নূহ আলাইহিস্ সালাম-এর বন্যার সময় রওজা শরীফের কিছু মাটি সেরহিন্দ শরীফে আসে। তাই উনার মাযার শরীফ সেরহিন্দ শরীফেই হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রতিটি সন্তানের কবরের স্থান নির্ধারণের জন্যে যেরূপ তাদের কবরের স্থান থেকে মাটি এনে নাভীতে দিয়ে দেয়া হয় ঠিক; তদ্রুপ আখেরী রসূল, সাইয়্যিদূল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর “রওজা শরীফ” নির্ধারণের জন্যেও উনার নাভী মুবারকে রওজা শরীফের যে নূরানী ও পবিত্র মাটি মুবারক রাখা হয়েছে প্রকৃতপক্ষে তা বেহেশতের পানি দ্বারা ধৌত করে এবং তার হাক্বীক্বী ছূরত অর্থাৎ নূরে পরিণত করে রাখা হয়েছে। তাই হাদীস শরীফেও রওজা শরীফের উক্ত মাটি মুবারককে “নূর” বলা হয়েছে।

যেমন এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
عن كعب الاحبار قال لما اراد الله تعالى ان يخلق محمدا صلى الله عليه وسلم امر جبريل ان ياتيه بالطينة التى هى قلب الارض وبهائها ونورها قال فهبط جبريل فى ملائكة الفردوس وملائكة الرفيع الاعلى فقبض قبضة رسول الله صلى الله عليه وسلم من موضع فبره الشريف وهى بيضاء منيرة فعجنت بماء التسنيم فى معين انهار الجنة حتى صارت كالدرة البيضاء …..
অর্থঃ- “হযরত কা’ব আহবার রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, যখন মহান আল্লাহ্ পাক আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সৃষ্টি করার ইচ্ছা করলেন, তখন হযরত জিবরীল আলাইহিস সালামকে (উনার নাভী মুবারকে রাখার জন্য) এমন খামীর নিয়ে আসার নির্দেশ দিলেন যা মূলতঃ যমীনের আত্মা, ঔজ্জ্বল্য ও ‘নূর’।

এ নির্দেশ পেয়ে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম জান্নাতুল ফিরদাউস ও সর্বোচ্চ আসমানের ফেরেশ্তাদেরকে নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন। অতঃপর রওজা শরীফের স্থান থেকে এক মুষ্ঠি স্বচ্ছ নূরানী মাটি নেন। উক্ত মাটিকে বেহেশতের প্রবাহিত ঝরণা সমূহের মধ্যে ‘তাসনীম’ নামক ঝরণার পানি দ্বারা ধৌত করার পর তা একখানা শুভ্র মুক্তার আকার ধারণ করে। অর্থাৎ নূরে পরিণত হয়ে যায়। …”(সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ,১ম খন্ড,পৃষ্টা-৬৯,মুছান্নিফ-মুহম্মদ ইবনে ইউছুপ ছালেহ শামী রহমতুল্লাহি আলাইহি, বিছাল-৯৪২হিজরী। আল মুদখুল,২য় খন্ড,পৃষ্টা-৪১,মুছান্নিফ-আবু আব্দুল্লাহ মুহম্মদ ইবনে মুহম্মদ ইবনে হাজ্জ মালেকী রহমতুল্লাহি আলাইহি, বিছাল-৭৩৭হিজরী. মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া,১ম খন্ড,পৃষ্টা-৪৬.শরহে যুরকানী আলাল মাওয়াহিব,১ম খন্ড,পৃষ্টা-৮২)

অতএব, প্রমাণিত হলো যে, আখেরী রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাভী মুবারকে যে মাটি রাখা হয়েছে তা মাটির ছূরতে রাখা হয়নি। কারণ উনার নূরে মুজাস্সাম শরীর মুবারকে মাটিকে মাটির ছূরতে রাখা সম্ভব নয় বা রাখার কোন অবকাশ নেই। তাই তা পূনরায় তার পূর্বের হাক্বীক্বী ছূরতে পরিবর্তন করে অর্থাৎ মাটিকে নূর বানিয়ে সেই নূরকে নাভী মুবারকে রাখা হয়। সত্যিকার অর্থে তা হলো নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এরই একটা অংশ যা প্রকৃতপক্ষে “নূর।”

শুধু তাই নয়, বরং আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জিসম বা শরীর মুবারকের সব কিছুই যেমন রক্ত মুবারক, ইস্তিঞ্জা মুবারক, কেশ মুবারক ইত্যাদি সবই ‘নূর’।

যার কারণে ফতওয়া দেয়া হয়েছে “দুররুল মুখতার” কিতাবে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সমস্ত কিছু পাক বা পবিত্র। শুধু পাক বা পবিত্রই নয় বরং তা পান করলে বা খেলে যে পান করবে বা খাবে সে জান্নাতী হবে বা তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে।
তাই কবি বলেছেন, “আমরা যা খাই তা মল-মূত্র হয়ে বের হয়ে যায়। আর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা খান তা ‘নূর’ হয়ে যায়।”

সুতরাং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্ নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাটির তৈরী হওয়ার প্রশ্নই আসেনা। কারণ উনার সৃষ্টি, আগমণ ও অবস্থান প্রত্যেকটিই ‘নূর’ হিসেবে। আর মাটিসহ সব কিছুই উনার সৃষ্টির পর উনারই ‘নূর মুবারক’ থেকে সৃষ্টি হয়েছে।
অতএব, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্ নাবিয়্যীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাস্সাম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত উমর ফারুক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু একই স্থানের মাটি দ্বারা সৃষ্টি” এর সরাসরি অর্থ গ্রহণ করলে আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শান ও মানের খিলাফ হবে যা কুফরীর অন্তর্ভূক্ত।

তাই এর ছহীহ্ ও গ্রহণযোগ্য তা’বীল বা ব্যাখ্যা হলো, “রওজা শরীফ-এর স্থান নির্ধারণের জন্যে নাভী মুবারকে যা রাখা হয়েছে। তাই তা পূনরায় তার পূর্বের হাক্বীক্বী ছূরতে পরিবর্তন করে অর্থাৎ মাটিকে নূর বানিয়ে সেই নূরকে নাভী মুবারকে রাখা হয়। সত্যিকার অর্থে তা হলো নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এরই একটা অংশ যা প্রকৃতপক্ষে “নূর।”
এটাই আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা আর এই আক্বীদাই পোষণ করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য ফরয।

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে