হাদিসে উমর বিন খাত্তাব (হাদিসে কুদসী) দ্বারা আদি পিতা আদম (আ)-ই মানবজাতির মধ্যে সর্বপ্রথম সৃষ্টি বলে প্রমাণ রয়েছে কি? ওহাবী সালাফীদের এই পোষ্টের খন্ডনমুলক জবাব:-


জবাবে বলতে হচ্ছে উপরোক্ত বক্তব্য পবিএ কুরআন শরীফ ও হাদিস শরীফ উনাদের খিলাফ হওয়ার কারনে কাট্টা কুফরীর অর্ন্তভূক্ত হয়েছে। কারন আমরা ইতিপূর্বে অসংখ্য দলীল দ্বারা প্রমাণ করেছি, একমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি শুধু মাটির তৈরী। আর মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি নুর মুবারক দ্বারা সৃষ্টি। এবং মাটি সহ সমস্ত সৃষ্টি পর্যায়ক্রমে উনার সম্মানিত নুর মুবারক দ্বারা সৃষ্টি হয়েছে। তাহলে মাটির সৃষ্টি হয়রত আদম আলাইহিস সালাম উনার সন্তান হওযার কারনে মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মাটির সৃষ্টি হয় কিভাবে? আর যদি মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি মাটির সৃষ্টিই হতেন তবে মহান আল্লাহপাক তিনি প্রথমে মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নুরী অজুদ মুবারক সৃষ্টি না করে সৃষ্টি করতেন মাটির তৈরী হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মাটির সৃষ্টি হযরত সাইয়্যিদুনা আদম আলাইহিস সালাম উনার সৃষ্টির বহু পূর্বেই মহান আল্লাহপাক তিনি উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার নুরী অজুদ মুবারক সৃষ্টি করেছেন।সুবহানাল্লাহ। আর সে মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার যমীনে আগমনের মাধ্যম হিসেবে সাইয়্যিদুনা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি মুবারক করা হয়েছে। (https://www.facebook.com/chahiishqenoorani.nojor/posts/1733989766873783 এই লিংকের মধ্যে প্রমাণ করা আছে মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নুরে মুজাসসাম বা আপাদ মস্তক নুর মুবারক দ্বারা সৃষ্টি)

এ সর্ম্পকে হাদীস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-عن حضرت ابى هريره رضى الله تعلى عنه قال قال ىسول الله صلّى الله عليه وسلّم كنت اوّل النبيّن فى الخلق واخرهم فى البعث অর্থ মুবারকঃ- হযরত আবু হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্নিত, তিনি বলেন,সাইয়্যিদুল মুরসালিন,ইমামুল মুরসালিন, খতামুন নাবিয়্যীন হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-সৃষ্ট জীবের মধ্যে আমিই সর্বপ্রথম নবী হিসেবে সৃষ্টি হয়েছি। কিন্তু আমি প্রেরিত হয়েছি (যমীনে প্রকাশ পেয়েছি) সব নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদর শেষে।
(তাফসীরে বাগবী ৫/২০২,দুররে মানছুর ৫/১৮৪,শেফা ১/৪৬৬, মানাহিলুচ্ছফা ৫/৩৬,কানযুল উম্মাল/৩১৯১৬,দায়লামী/৪৮৫০)

হাদিস শরীফ উনার মধ্যে আরোও ইরশাদ মুবারক হয়েছে-عن حضرت ميسرت الفجر رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلّى الله عليه وسلّم كنت نبىّا وادم بين الرّوح والجسادঅর্থ মুবারকঃ-হযরত মাইসারাতুল ফাজর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন, খাতামুননাবিয়্যীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-আমি তখনও নবী ছিলাম,যখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি রূহ ও শরীরে ছিলেন।(তারিখে বুখারী, মুসনাদে আহমদ, আলহাবী, ইত্তিহাফু্চ্ছাদাত, তাযকিরাতুল মাউদুয়াত, কানযুল উম্মাল/৩১৯১৭, দায়লামী শরীফ/৪৮৫৫, ত্ববরানী শরীফ, আবু নঈম শরীফ, মিশকাত শরীফ।)

হাদিস শরীফ উনার মধ্যে অন্যএ ইরশাদ মুবারক হযেছে- عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال يا ىسول الله صلّى الله عليه وسلّم متى وجبن لك النّبوّة قال وادام بين الرّوح والجسد-অর্থ মুবারকঃ- হযরত আবু হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্নিত,(একদা)হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা জিজ্ঞাসা মুবারক করলেন, ইয়া রসুলুল্লাহু ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!আপনি কখন থেকে নবী? উত্তরে সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন, খতামুন নাবিয়্যীন হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি বলেন, যখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি রূহ ও শরীরে মুবারক-এ ছিলেন,তখন থেকেই আমি নবী”।(তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ/৫১১)

এপ্রসঙ্গে বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম দায়লামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ফিরদাউস লিদদাইলমি-এর ২য় খন্ড ১৯১ পৃষ্টায় উল্লেখ করেন- عن حضرت سلمان الفرسىّ رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلّى الله عليه وسلّم كنت انا و حضرت علىّ رضى الله تعالى عنه نورا بين يدى الله معلّقا يسبّح الله ذالك النّور ويقدّسه قبل ان يخلق حضرت ادم عليه السّلام باربعة الف عام فلمّا خلق الله حضرت ادم عليه السلّام ركّب ذالك النّور فى صلبه অর্থ মুবারক-হযরত সালমান ফারসী রদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ননা মুবারক করেন,সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবিবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি এবং হযরত আলী আলাইহিস সালাম আমরা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট নুর হিসেবেই অবস্থান মুবারক করছিলাম৤উক্ত নুর মুবারক হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার সৃষ্টির চার হাজার বৎসর পূর্বে মহান আল্লাহ পাক উনার তাসবীহ ও পবিএতা বর্ননায় মশগুল ছিলেন৤ যখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি মুবারক করা হলো তখন উক্ত নুর মুবারক উনার পৃষ্ট মুবারকের মধ্যে রেখে দেওয়া হল।

এপ্রসঙ্গে বিখ্যাত মুহাদ্দিস, হাফিযুল হাদিস আল্লামা হয়রত ইমাম কুস্তলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত কিতাব মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া ১ম খন্ডে লিখেছেন- الّذى لمّا خلق حضرت ادم عليه السّلام الهمه ان قال ياربّ لم كنّيتنى ابا محمّد صلّى الله عليه وسلّم قال الله تعالى يا دم عليه السلام ارفع راسك فرفع راسه فراى نور محمّد صلّى الله فى سرادق العرش المعلّى-فقال يا ربّ ما هذا النّوى قال هذا نور نبىّ من ذرّيتك اسمه فى السّماء احمد صلّى الله عليه وسلّم وفى الارض محمّد صلّى الله عليه وسلّم- لو لاه ما خلقتك ولا خلقت سماء ولا ارضا অর্থ মুবারক-মহান আল্লাহপাক তিনি হয়রত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করার পর যখন ইলিম মুবারক দান করলেন, তখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হে মহান আল্লাহপাক! আমার কুনিয়াত বা উপনাম কেন আবু মুহম্মদ রাখা হল? তখন মহান আল্লাহপাক তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, হে হয়রত আদম আলাইহিস সালাম! আপনার মাথা মুবারক উত্তোলন করুন এবং উপরের দিকে দৃষ্টি মুবারক করুন৤ তখন হয়রত আদম আলাইহিস সালাম তিনি উনার মাথা মুবারক উত্তোলন করে আরশে মুয়াল্লার পর্দায় নুরে হাবিবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখতে পেলেন৤ অত:পর হয়রত আদম আলাইহিস সালাম তিনি জিজ্ঞাসা মুবারক করলেন, হে বারে ইলাহি ! এটি কার নুর মুবারক ? মহান আল্লাহপাক কিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, হে হযরত আদম আলাইহিস সালাম ! এটি আমার যিনি হাবীব হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নুর মুবারক, আপনার মাধ্যমে যাকে আমি যমীনে প্রেরন করবো, সে হিসেবে তিনি আপনার আওলাদগণের মধ্য হতে একজন নবী ও রসুল ছল্লাল্লাহু আলাআহি ওয়া সাল্লাম৤ আসমানে উনার নাম মুবারক আহমদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থ্যাৎ চরম প্রশাংসাকারী৤ সুবহাল্লাহ৤ এবং যমিনে উনার নাম মুবারক মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাআহি ওয়া সাল্লাম৤অর্থ্যাৎ চরম প্রশংসিত৤সুবহাল্লাহ৤ যদি তিনি না হতেন তবে আমি আপনাকে এবং আসমান ও যমিনকে পয়দা করতাম না৤সুবহানাল্লাহ৤

হাদীস শরীফ উনার মধ্যে আরো ও ইরশাদ মুবারক হয়েছে – قال حضرت ابن عبّاس رضى الله عنهما لما اراد الله تعالى خلق المخوقات وخفض الارض ورفع السموت قبض قبضة مّن نّوره ثمّ قال لها كونى حبيبى محمّدا صلّى الله عليه وسلّم بالعرش قبل ادم عليه السلام بخمس مائة عام وهو يقول الحمد لله فقال الله تعالى من اجل ذالك سمّيتك محمّد صلّى الله عليه وسلّم- অর্থ মুবারক-হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, মহান আল্লাহ পাক যখন সমস্ত মাখলুকাত সৃষ্টি, পৃথিবীকে নীচু ও আকাশকে উচুঁ করার ইচ্ছা করলেন তখন সেই নুর অর্থাৎ ‘‘নুরে মুহম্মদী’’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে নিয়ে বললেন, আপনি আমার হাবীব মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হয়ে যান। অর্থাৎ হে ‘‘নুরে মুহম্মদী’’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি আমার হাবীব হয়ে যান। তখনই ‘‘নুরে মুহম্মদী’’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হয়ে সুমহান আরশে মুয়াল্লাহ তাওয়াফ করলেন,হযরত সাইয়্যিদুনা আদম আলাইহিস সালাম উনার ৫০০ বছর পুর্বে এবং আলহামদুলিল্লাহ বলে মহান আল্লাহপাক উনার প্রশংসা করলেন, তখন মহান আল্লাহপাক বললেন এই জন্যই আমি আপনার নাম মুবারক রেখেছি মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। (নুযহাতুল মাজালিস,নুরে মুহম্মদী)

উপরোক্ত দলীল আদীল্লাহর মাধ্যমে সুস্পষ্ট ভাবে প্রমাণিত হলো যে, মাটির সৃষ্টি হযরত আদম আলাইহিস উনার বহু পুর্বেই মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার মুল অজুদ মুবারক ‘‘নুরে হাবীবি’’ ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে মহান আল্লাহপাক সৃষ্টি মুবারক করেছিলেন এবং পর্যায়ক্রমে মাটির সৃষ্টি হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি এবং মাটি সহ সমস্ত সৃষ্টি সেই নুরে হাবীবি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার থেকে সৃষ্টি মুবারক করা হয়েছিলেন।

এখন যদি মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার বহু পুর্বেই সৃষ্টি মুবারক হয়ে থাকেন, তবে কেন মুসতাদারকে হাকীম এই হাদীস শরীফ উনার কিতাবে হযরত ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্নিত হাদীস শরীফ উনার মধ্যে হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার জিজ্ঞাসা মুবারক উনার জবাবে, মহান আল্লাহপাক তিনি বললেন, আমি আমার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে এখনো সৃষ্টি মুবারক করিনি।

জবাবে বলতে হচ্ছে, যদি এই হাদিস শরীফ উনার অর্থ, তাবীলি বা ব্যাখ্যা মুলক না নিয়ে সরাসরি নেওয়া হয়, তবে মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মানের খিলাফ হচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ। অসংখ্য অগণিত হাদিস শরীফ উনাদের বিরুদ্বে মত পেশ করা হচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ। এবং আহলুস সুন্নত ওয়াল জামাযাত উনাদের ধ্যান ধারনা বা আক্বিদা বিশ্বাস অর্থ্যৎ মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাধ্যমে মাখলুকাতের সূচনা হয়েছে অর্থ্যৎ মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন মহান আল্লাহপাক উনার প্রথম সৃষ্টি!

এই আক্বিদা বা বিশ্বাসের বিপরীত মত পোষন করার কারনে কাট্টা কুফরীর অর্ন্তভূক্ত হচ্ছে। এই জন্য উসুলের কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, যে সমস্ত আয়াত শরীফ ও যে সমস্ত হাদিস শরীফ সরাসরি অর্থ,মুবারক করলে মহান আল্লাহপাক তিনি, নুরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও হয়রত নবী-রসুল আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান মানের খিলাফ হবে সে সমস্ত আয়াত শরীফ ও হাদিস শরীফ সরাসরি অর্থ,মুবারক না করে তাবীলি বা ব্যাথ্যা মুলক অর্থ,মুবারক করতে হবে।

উদাহারন স্বরুপ বলা যেতে পারে- কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- ووجدك ضالّا فاهدى-এই আয়াত শরীফ উনার সরাসরি অর্থ করলে অর্থ দাড়াই, হে হাবীব আল্লাহপাক আপনাকে গোমরাহ, পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত পেয়েছেন অত;পর হেদায়েত দিয়েছেন।(সুরা দ্বোহা শরীফ, আয়াত শরীফ -৭)(নাউযুবিল্লাহ)এইরকম অর্থ যদি কেউ সরাসরি গ্রহণ করে, তাহলে সে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাহান্নামী হবে। কারন পবিএ কুরআন শরীফ উনার অন্য জায়গায় ইরশাদ মুবারক হয়েছে-ما ضلّ صحبكم وما غوى তোমাদের সঈী হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম না কখনো গোমরাহ হয়েছেন না কখনো বিপদগামী হয়েছেন’’। (সুরা নজম শরীফ, আয়াত শরীফ-২)তাই সুরা দ্বোহা শরীফ উনার সরাসরি অর্থ না করে তাবিলী বা ব্যাখ্যামুলক অর্থ নিতে হবে।অতএব, ব্যাখ্যা মুলক অর্থ হচ্ছে, হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! মহান আল্লাহপাক আপনাকে কিতাবহীন পেয়েছেন, অত;পর আপনাকে কিতাব দান করেছেন।

এছাড়াও হযরত ফরুকে আজম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত হাদিস শরীফ খানার যদি সরাসরি অর্থ মুবারক গ্রহন করি, তবে মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ইসিম মুবারক হল, “আসমানে” হযরত আহমদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা চরম প্রশাংসাকারী অর্থ্যৎ মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টি মুবারক হওয়ার পর সমস্ত মাখলুকাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশী মহান আল্লাহপাক উনার প্রশাংসা মুবারক করেছেন।সুবহানাল্লাহ।

যার কারনে তিনি হয়ে গেলেন চরম প্রশংসিত বা হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।সুবহানাল্লাহ। যদি বা মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন ছিফত মুবারকের কারনে নয় বরং তিনি সৃষ্টি হয়েছেন চরম প্রশংসিত হিসেবে। অর্থ্যাৎ স্বয়ং মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহপাক উনার যিকির মুবারক করার কারনে স্বয়ং মহান আল্লাহপাক উনার যিকির মুবারকই সম্মানিত হয়ে গেল।সুবহানাল্লাহ। আর তিনি এই প্রশংসা মুবারক করেছেন সমস্ত মাখলুকাত সৃষ্টির বহু পূর্বেই সম্মানিত আসমান উনার মধ্যে। তাই আসমানে তিনি প্রকাশিত হলেন বা উনার সম্মানিত ইসিম মুবারক বা নাম মুবারক হল হযরত আহমদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা চরম প্রশাংসাকারী।সুবহানাল্লাহ।

এখন হযরত ফরুকে আজম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত হাদিস শরীফ খানার যদি সরাসরি অর্থ মুবারক গ্রহন করি তবে মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নাম মুবারককেই অস্বীকার করা হবে কারন তিনি যদি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার পরে সৃষ্টি মুবারক হয়ে থাকেন তবে আসমানে মহান আল্লাহপাক উনার প্রশংসা মুবারক করল কখন?এই জন্য হযরত হযরত ফরুকে আজম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত হাদিস শরীফ খানার সরাসরি অর্থ মুবারক “আমি উনাকে সৃষ্টি মুবারক করি নি” না করে নিতে হবে তাবীলি অর্থ মুবারক “আমি উনাকে যমিনে পাঠায় নি।

এছাড়াও পবিএ হাদিস শরীফ উনার উসুল হল- যদি মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে একটি বিষয়ের দুই রকম বর্ননা মুবারক পাওয়া যায়। তবে যে বর্ননা মুবারকটি একাধিক রাবী কতৃক বর্ণিত হবে, সে বর্ননা মুবারকটি শাহেদ হওয়ার কারনে প্রধান্য প্রাপ্ত হয়ে গ্রহনযোগ্য মত হয়ে যাবে। অথবা যে মতটির উপর ইমাম-মুজতাহিদ উনারা আস্থা স্থাপন করবেন বা গ্রহন করবেন সে মতটিই হচ্ছে গ্রহনযোগ্য বিশুদ্ব মত।সুবহানাল্লাহ।

অতএব প্রমাণিত হল হযরত আদম আলাইহিস উনার বহু পুর্বেই মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার মুল অজুদ মুবারক ‘‘নুরে মুহম্মদী’’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি সৃষ্টি মুবারক করেছিলেন এবং সে অজুদ মুবারক উনার মাধ্যম দিয়ে সমস্ত মাখলুকাতের সৃষ্টির সূচনা হয়েছিলেন। এটাই হচ্ছে আহলুস সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের মূল আক্বিদা্। এর বিপরীত মত পেশ করা কাট্রা কুফরীর অন্তভূক্ত৤ নাউযুবিল্লাহ৤

 

 

 

ওহাবী সালাফীদের লিংক:-   www.markajomar.com/?p=493

 

 

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে