হাদিস শরিফে জুমার দিনকে “ঈদের দিন” নামে নামকরণ করা হয়েছে কেন? http://www.markajomar.com/?p=854 ওহাবী সালাফীদের এই পোষ্টের খন্ডনমূলক জবাব:-(১১)


প্রশ্ন:-১২ই রবীউল আউয়াল শরীফ কিভাবে সবচেয়ে বড় খুশির দিন বা ঈদের দিন বা সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ হয় ?

এর জবাবে বলতে হচ্ছে, হাদিস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-عن حضرت ابى لبابة بن عبد المنذر قال قال النبي صلى الله عليه وسلّم انّ يوم الجمعة سيّد الاياّم واعظمها عند الله وهو اعظم عند الله من يّوم الاضحى ويوم الفطر فيه خمس خلال خلق الله فيه ادم واهبط الله ادم الى الارض وفيه توفّى الله ادم وفيه ساعة لا يسال العبد فيها شيئا الاّ اعطاه ما لايسال حراما وفيه تقوم الساعة ما من مّلك مقرّب ولا سماء ولا ارض ولا رياح جبال ولا بحر الاّ هوا مشفق مّن يّوم الجمعة অর্থ মুবারক:– হযরত আবু লুবাবা ইবনে আব্দুল মুনযির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ননা করেন,নুরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- জুমুআর দিন সকল দিনের সর্দার এবং সকল দিন অপেক্ষা আল্লাহ পাক উনার নিকট অধিক শ্রেষ্ট ও সম্মানিত । এটি ঈদুল আযহার দিন ও ঈদুল ফিতরের দিন অপেক্ষাও মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট অধিক শ্রেষ্ট ও সম্মানিত । সুবহানাল্লাহ ।

এ দিনটিতে পাচঁটি (গুরুত্বপূর্ন)বিষয় রয়েছে- (১)এ দিনে মহান আল্লাহ পাক তিনি হয়রত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করেছেন,(২)এ দিনে উনাকে যমীনে প্রেরন করেছেন,(৩)এ দিনে উনাকে বিছাল শরীফ দান করেছেন,(৪)এ দিনটিতে এমন একটি সময় রয়েছে, যে সময়টিতে বান্দা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট কিছু চাইলে তিনি অবশ্যই তাকে তা দান করেন,যে পযন্ত না সে হারাম কিছু চায় এবং(৫)এ দিনেই ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে। এমন কোন ফেরেশতা নেই, আসমান নেই, যমীন নেই, বাতাস নেই, পাহাড় নেই, সমুদ্র নেই, যে জুমুআর দিন সম্পকে ভীত নয় ।”(ইবনে মাজাই শরীফ, মিশকাত শরীফ)

এই হাদীস শরীফ উনার মাধ্যমে মহান আল্লাহপাক তিনি জানিয়ে দিলেন যে, জুমায়ার দিন ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা অপেক্ষা শ্রেষ্ট ও সম্মানিত। সুবহানাল্লাহ! এবং সম্মানিত হওয়ার যে বিশেষ কারন গুলো মধ্যে বিশেষ ভাবে ৩ টি হযরত সাইয়্যিদুনা আদম আলাইহিস সালাম উনার সাথে সম্পৃত্ত। যেমন- সাইয়্যিদুনা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার মুবারক সৃষ্টি, দুনিয়াতে আগমন, ও দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়া। অপর দুট বিষয় হচ্ছে দোয়া কবুল ও কিয়ামত কায়েম।

সুতারাং বলার বিষয় হল, যে সাইয়্যিদুল মুরসালিন ইমামুল মুরসালিন খতামুন নাবিয়্যিন হুজুর পাক ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে সৃষ্টি মুবারক না করলে হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে ও সৃষ্টি করা হতনা। এই প্রসঙ্গে হাদীস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে – ولو لا محمّد صلى الله عليه وسلّم ما خلقتك هذا حديث صحيح الاسناد অর্থমুবারকঃ- হে আদম আলাইহিস সালাম! যদি আমার হাবীব ও রসুল নুরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি না হতেন তাহলে আমি আপনাকে ও সৃষ্টি করতামনা।সুবহানাল্লাহ!এই হাদীস শরীফ খানা উনার সনদ ছহীহ (আল মুসতাদরাক হাকিম ৪র্থ খন্ড ১৫৮৩ পৃষ্টা, মুখতাছারুল মুস্তাদারক ২য় খন্ড ১০৬৯ পৃষ্টা, আত তাওয়াসসুল ১১৫ পৃষ্টা, পৃষ্টা, ছহীহাহ ১ম খন্ড ৮৮ পৃষ্টা, মুখতাছারুল মুস্তাদরাক সীরুদ দুররিল মানছুর লিছ ছুয়ুতী ১ম খন্ড ৫৮ পৃষ্টা, কানযুল উম্মাল ১১ খন্ড ৪৫৫ পৃষ্টা)

হাদীস শরীফ উনার মধ্যে আরও ইরশাদ মুাবরক হয়েছে-لولاه ما خلقتك ولا خلقت سماء ولا ارضا অর্থ মুবারকঃ-যদি তিনি (মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) না হতেন, তবে আমি আপনাকে (হযরত আদম আলাইহিস সালাম) এবং আসমান ও যমিন কে পয়দা করতামনা (মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া ১ম খন্ড) এবং দোয়া কবুল আসমান যমীন ও সৃষ্টি হতনা। তাহলে সেই মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার যমীনে আগমন ও বিদায় অর্থাৎ ১২ ই রবীউল আউয়াল শরীফ তথা সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ যে সকল ঈদের সেরা ঈদ তাতে কোন সন্দেহ নাই। সুবহানাল্লাহ!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে