হাদিস শরিফে জুমার দিনকে “ঈদের দিন” নামে নামকরণ করা হয়েছে কেন? এই পোষ্টের খন্ডনমুলক জবাব:-


ওহাবী সালাফীদের লিংক:-http://www.markajomar.com/?p=854

 

সম্মানিত শরীয়ত উনার মধ্যে ঈদুল ফিতর আর ঈদুল আযহা ব্যতিত অসংখ্য অগনিত ঈদ রয়েছে.  এসর্ম্পকে হাদিস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হযেছে যে সম্মানিত হাদিস শরীফখানা মুরসাল সনদে হয়রত উবাইদ বিন সাব্বাক রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি তাবেয়ী তিনি বর্ণনা করেছেন।

 

আবার মুত্তাসিল সনদে হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু উনার থেকে বর্ণিত রযেছে- عن ابن عبّاس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم في جمعة من الجمع يا معشر المسلمين انّ هذا يوم جعله الله عيدا فغسلوا ومن كان عنده طيب فلا يضرّه ان يمسّ منه وعليكم بااسواك– অর্থ মুবারক:–হযরত ইবনে রদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত, একদিন মহান আল্লাহ পাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমুয়ার সময় খুতবাতে বললেন, হে মুসলমানরা তোমরা জেনে রেখ, নিশ্চয়ই এই জুমুয়ার দিনকে মহান আল্লাহ পাক তিনি ঈদের দিন হিসেবে ঘোষনা করেছেন. এই দিন গোসল কর. আর যদি আতর গোলাপ থেকে থাকে তাহলে জুমুয়ার দিন শরীরে আতর গোলাপ মেখ আর যদি মেসওয়াক থেকে থাকে তাহলে জুমুয়ার দিন মেসওয়াক কর.(ইবনে মাজাহ শরীফ,মুয়াত্তা মালিক শরীফ, মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ, আশয়াতুল লুময়াত, লুময়াত, তালীকুছ ছবীহ,ত্বীবী)

 

এখন বাতিল ফ্বিরকার লোকেরা মুসলমান উনাদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্য এবং সম্মানিত শরীয়ত উনার মধ্যে ঈদুল ফিতর আর ঈদুল আযহা ব্যাতীত আরো ঈদ রয়েছে, সে হাক্বিকতটি লুকানোর জন্য পবিএ হাদিস শরীফ উনার উদ্বৃতি দিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে যে, পবিএ হাদিস শরীফ উনার মধ্যে জুমুয়ার নামাজকে গরীব মিছকিনদের জন্য হজ্জ বলা হয়েছে।

 

তাই বলে কি গরীব মিছকিনরা পরবর্তীতে সম্পদশালী হলে হজ্জ করবে না? এর জবাবে বলতে হচ্ছে অবশ্যই হজ্জ করবে কারন জুমুয়ার নামাজ গরীব মিছকিনদের জন্য হজ্জ বলা হয়েছে, ধনী লোকের জন্য হজ্জ বলা হয় নিই। তাই কোন গরীব মিছকিন যখন সম্পদশালী হয় তখন সে আর গরীব মিছকিন থাকে না, সম্পদশালী হওযার মাধ্যমে ধনী হয়ে যায় ।

 

আর তখনই ধনী ব্যাত্তির উপর হজ্জের শর্ত শরাযেত পূর্ন হওয়ার কারনে হজ্জ ফরজ হয়ে যায় কারন হজ্জ ফরজ হওযার শর্তই হচ্ছে সম্পদশালী বা আর্থিক স্বচ্ছলতা এবং ঈমান, আমলের নিরাপত্তা থাকা। সুতারাং এই ধরনের বিভ্রান্তিকর, ধোকাবাজীপূর্ন, প্রতারনামুলক বক্তব্য কখন ও কোন মুসলমান দিতে পারে না একমাএ ওহাবী সালাফী লামাযহাবীরা ব্যাতীত। কারন এদের উদ্দ্যেশ্যই হল মুসলমানদর মাঝে ইখতিলাফ সৃষ্টি করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে মুসলমানদের ঈমান আক্বিদা নষ্ট করে দেওয়া। (নাঅুযুবিল্লাহ)

 

এছাড়া ও আরো অসংখ্য অগনিত হাদিস শরীফ উনার মধ্যে জুমুয়ার দিনকে, আরাফার দিনকে ,সোমবার শরীফকে, এবং প্রতি মাসে ৪-৫টি ঈদ রযেছে বলে ঘোষনা করা হয়েছে। (সুবহানাল্লাহ)

হক্ব তল্লাশিদের ঈমান আক্বিদা হিফায়ত করার জন্য এবং বাতিল ফ্বিরকার মুখোশ উম্মোচন করার জন্য সে সমস্ত হাদিস শরীফ দলীল হিসেবে উপস্হাপন করা হল- عن حضرت عبّاس رضي الله تعالى عنه انّه قرا اليوم اكملت لكم دينكم الاية وعنده يهودى فقال لو نزلت هذه الاية علينا لاتخذناها عيدا فقال ابن عبّاس رضى الله تعالي عنه فانها نزلت فى يوم عيدين فى يوم -فة- অর্থ মুবারক:– হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি একদা ঃ-–اليوم اكملت لكم دينكم الاية  -আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ন করে দিলাম” এ আয়াত শরীফখানা শেষ পর্য্ন্ত পাঠ করলেন ।

তখন উনার নিকট এক ইহুদী ছিল সে বলে উঠলো, যদি এমন আয়াত শরীফ আমাদের ইহুদী সম্প্রদায়ের প্রতি নাযিল হতো, আমরা আয়াত শরীফ নাযিলের দিনটিকে ঈদের দিন হিসেবে ঘোষণা করতাম।” এটা শুনে হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, এ আয়াত শরীফ সেই দিন নাযিল হয়েছে যেদিন একসাথে দুঈদ ছিল-(১)জুমুয়ার দিন এবং (২)আরাফার দিন।”(তিরমিযী শরীফ) উপরোক্ত হাদিস শরীফ-এ জুমার দিন ও আরাফার দিন অর্থ্যাৎ ৯ই যিলহজ্জের দিনকে ঈদের দিন বলা হযেছে। সুবহানাল্লাহ।

এছাড়া বুখারী শরীফ উনার মধ্যে আমিরুল মুমিনীন, খলিফাতুল মুসলিমীন, ২য় খলিফা হয়রত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত, একবার কিছু ইহুদী এসে বললো, হে খলিফাতুল মুসলিমীন হযরত সাইয়্যিদুনা ফারুকে আজম আলাইহিস সালাম, আপনাদের কুরআন শরীফ উনার মধ্যে এমন একখানা আয়াত শরীফ নাজিল হয়েছে তা এত গুরুত্বপূর্ন যে, সেটা যদি ইহুদীদের তাওরাত শরীফে, তাদের ধর্মে নাযিল হত, তাহলে সেই দিনটাকে ইহুদী সম্প্রদায় ঈদের দিন হিসেবে ঘোষনা দিয়ে দিত।” তখন খলিফাতুল মুসলিমীন হযরত সাইয়্যিদুনা ফারুকে আজম আলাইহিস সালাম তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, হে ইহুদী সম্প্রদায় তোমরা কোন আয়াত শরীফের কথা বলতেছ?”

ইহুদী সম্প্রদায় বললো, হে খলিফাতুল মুসলিমীন হযরত সাইয়্যিদুনা ফারুকে আজম আলাইহিস সালাম, সেটা হচ্ছে সুরা মায়িদার তিন নম্বর আয়াত শরীফ। যখন তারা একথা বলল, আমিরুল মুমিনীন, খলিফাতুল মুসলিমীন, হযরত সাইয়্যিদুনা ফারুকে আজম আলাইহিস সালাম তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, হে ইহুদী সম্প্রদায় এ আয়াত শরীফখানা কোন দিন, কবে, কোথায় নাযিল হয়েছৈ তোমাদের কি সেটা জানা রয়েছে? তারা বলল না ।তখন হযরত সাইয়্যিদুনা ফারুকে আজম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন এ আয়াত শরীফখানা মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাম আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিদায় হজ্জের সময় জুমুয়ার দিন বাদ আছর আরাফার ময়দানে নাযিল হয়েছে।”

আমিরুল মুমিনীন, খলিফাতুল মুসলিমীন, ২য় খলিফা হয়রত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি বললেন যে, দেখ, মুসলমানদের জন্য এই দুটা দিনই হচ্ছে খুশীর দিন। কাজেই আয়াত শরীফ নাজিলের দিনটিকে আলাদাভাবে ঈদের দিন হিসেবে ঘোষনা করতে হবে না।”সুবহানাল্লাহ।

হাদিস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- لكلّ مؤمن فى كلّ شهر اربعة اعياد او خمسة اعيادঅর্থ মুবারক:– প্রত্যেক মুমিনের জন্য প্রতি মাসে ৪-৫টি ঈদ রযেছে। সুবহানাল্লাহ।(কিফায়া শরহে হিদায়া ২য় খন্ড বাবু ছলাতিল ঈদাইন, হাশিয়ায়ে লখনবী আলাল হিদায়া, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)

হাদিস শরীফ উনার মধ্যে আরো ও ইরশাদ মুবারক হয়েছে-عن ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلّم لصّائم فرحتان فرحة عند فطره وفرحة عند لقاء ربّه- অর্থ মুবারক:– হযরত আবু হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্নিত, মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-রোযাদারের জন্য দু‘টি ঈদ বা খুশি রয়েছে। একটি হলো তার প্রতিদিনের ইফতারের সময়। আর অন্যটি হল মহান আল্লাহপাক উনার সাক্ষাতের সময়।(বুখারী শরীফ,মুসলিম শরীফ)

এছাড়া ও নিয়ামত প্রাপ্তির দিন, নিয়ামত প্রকাশের দিন, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জন্য ঈদ বা খুশির দিন। এই সর্ম্পকে পবিএ কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি সূরা মায়িদাহ শরীফ -এর ১১৪ নম্বর আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا أَنزِلْ عَلَيْنَا مَآئِدَةً مِّنَ السَّمَاء تَكُونُ لَنَا عِيداً لِّأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا وَآيَةً مِّنكَ وَارْزُقْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ. قَالَ اللّهُ إِنِّي مُنَزِّلُهَا عَلَيْكُمْ فَمَن يَكْفُرْ بَعْدُ مِنكُمْ فَإِنِّي أُعَذِّبُهُ عَذَابًا لاَّ أُعَذِّبُهُ أَحَدًا مِّنَ الْعَالَمِينَ.
-অর্থ মুবারক:- “আয় আমাদের রব আল্লাহ পাক! আমাদের জন্য আপনি আসমান হতে (বেহেশতী খাদ্যের) খাদ্যসহ একটি খাঞ্চা নাযিল করুন। খাঞ্চা নাযিলের উপলক্ষটি অর্থ্যাৎ খাদ্যসহ খাঞ্চাটি যেদিন নাযিল হবে সেদিনটি আমাদের জন্য, আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জন্য ঈদ (খুশি) স্বরূপ হবে এবং আপনার পক্ষ হতে একটি নিদর্শন হবে। আমাদেরকে রিযিক দান করুন। নিশ্চয় আপনিই উত্তম রিযিকদাতা। মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের প্রতি খাদ্যসহ খাঞ্চা নাযিল করবো। অতঃপর যে ব্যক্তি সে খাদ্যসহ খাঞ্চাকে এবং তা নাযিলের দিনটিকে ঈদ তথা খুশির দিন হিসেবে পালন করবে না বরং অস্বীকার করবে আমি তাকে এমন শাস্তি দিবো, যে শাস্তি সারা কায়িনাতের অপর কাউকে দিবো না।” (সূরা মায়িদাহ : আয়াত শরীফ ১১৪)এই আয়াত শরীফ থেকে স্পষ্টভাবে প্রমানিত হল নিয়ামত প্রাপ্তির দিন নিয়ামত প্রকাশের দিন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জন্য ঈদ বা খুশির দিন।(সুবহানাল্লাহ।)

এখন জ্বীন ইনসানের জন্য বেহেশতী খাবার, নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত অর্থ্যাৎ সমস্ত নেক কাজ এবং ধন-দৌলত, ইজ্জত-সম্মান, ইলম, কালাম, দ্বীন ইসলাম, নেককার আওলাদ ফরজন, সমস্ত কিছুই নিয়ামত উনার অর্ন্তভুক্ত। সুবহানাল্লাহ। কিন্তু যদি প্রশ্ন করা হয় জ্বীন ইনসানের জন্য সবচেয়ে বড় নিযামত কি? জবাবে সমস্ত মাখলুকাতই বিনা বাক্যে স্বীকার করে নিবে সবচেয়ে বড় নিযামত হল সম্মানিত ঈমান। সুবহানাল্লাহ। কারন ঈমানই যদি না থাকে তাহলে সারা দুনিয়ার মালিকানা লাভ করে ও এই মালিকানার বিনিময়ে কোন ফায়দা হাছিল করা যাবে না।

হাদিস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-  عن حضرت ابن عبّاس رضي الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلّم مالك الارض اربعة مؤمنان وكافران فالمؤمنان حضرت ذو اقرنين رحمة الله عليه وحضرت سليمان عليه السلام والكافران نمرود وبحت نصر وسيملكها خامس مّن اهل بيتى- অর্থ মুবারক:–হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- সারা পৃথিবী শাসন করেছেন ৪ জন । দুজন হচ্ছেন মু‘মিন আর দুজন হচ্ছেন কাফির । মু‘মিন দুজন হচ্ছেন-হয়রত সিকান্দার যুলক্বরনাঈন রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হয়রত সুলাইমান আলাইহিস সালাম । আর কাফির দুজন হচ্ছেন-নমরুদ এবং বখতে নছর । অতিশীঘ্রই পঞ্চম একজন ব্যক্তিত্ব মুবারক সারা পৃথিবী শাসন করবেন তথা সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করবেন। সুবহানাল্লাহ্। তিনি হবেন আমার পূত পবিএ আহলু বাইত শরীফ উনাদের অন্তভূক্ত।(সুবহানাল্লাহ) (ইবনে জাওযী, মাকতুবাত শরীফ, শরহু ছহীহ বুখারী শরীফ ৮/৮৬, ফাতওয়ায়ে হাদীছিয়্যাহ শরীফ লিলহাইতামি ১/৮১, আল হাওই শরীফ লিসসুয়ুত্বী ২/৭৬ ইত্যাদি )

আর এই জন্যই সম্মানিত হাদিস শরীফ থেকে প্রমানিত হল ঈমানই হল সবচেয়ে বড় নিয়ামত কারন নমরুদ এবং বখতে নছর সারা দুনিয়ার মালিকানার বিনিময়ে ঈমান লাভ করতে পারল না যার ফলশ্রুতিতে তারা উভয়ে জাহান্নামী হয়ে ধ্বংস হয়ে গেল । নাউযুবিল্লাহ। সুতারাং বলার বিষয় হল সে সম্মানিত ঈমান যারা দান করবেন হযরত নবী-রসুল আলাইহিমুস সালাম এবং সে নবী-রসুল আলাইহিমুস সালাম উনাদের যিনি মূল, সমস্ত সৃষ্টির যিনি মূল, মহান আল্লাহপাক উনার রুবুবিয়ত প্রকাশকারী, সমস্ত সৃষ্টির সূচনাকারী, সমস্ত সৃষ্টিকে অস্তিত্বদানকারী, সমস্ত নিয়ামত উনার যিনি মালিক অর্থ্যাৎ ছহীবে নিয়ামত, ছহীবে রহমত সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহপাক তিনি সে মহান নিয়ামত মুবারক, নিয়ামত উজমা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি যে কত বড় নিয়ামত বা নিয়ামতে উজমা তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না । সুবহানাল্লাহ। সে মহান নিয়ামত মুবারক, নিয়ামত উজমা, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে স্মরণ করা সকলের জন্য ফরজ করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ । মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ করেন, اذكروا نعمة الله عليكم

অর্থাৎ “তোমাদেরকে যে নিয়ামত দেয়া হয়েছে, তোমরা সে নিয়ামতকে স্মরণ করো।” (সূরা ইমরান : আয়াত শরীফ ১০৩) এই আয়াত শরীফ উনার তাফসীরের মধ্যে পৃথিবীর সমস্ত মুফাসসির এই অভিমত ব্যাক্ত করেছেন যে, উক্ত নিয়ামত হচ্ছে মহান মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি নিজেই।সুবহানাল্লাহ।

তাই মহান আল্লাহপাক তিনি উনার হাবিব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি যে, সবচেয়ে বড় নিয়ামত,

সে বিষয়টি আরো স্পষ্ট প্রকাশ করার জন্য হাদিসে কুদসী শরীফ উনার ইরশাদ মুবারক করেছেন-كنت كنزا مخفيا فاحببت ان اعرف فخلقت الخلق لاعرف.
অর্থ মুবারক: “আমি গুপ্ত ছিলাম। আমার মুহব্বত হলো যে, আমি জাহির হই। তখন আমি আমার (রুবুবিয়্যত) জাহির করার জন্যই সৃষ্টি করলাম মাখলূকাত (আমার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে)।”  সুবহানাল্লাহ্। (আল মাকাসিদুল হাসানা/ ৮৩৮, কাশফূল খিফা/২০১৩, আসনাল মুত্বালিব/১১১০, তমীযুত তীব/১০৪৫, আসরারুল মারফুআ/৩৩৫, তানযিয়াতুশ শরীয়াহ ১/১৪৮, আদ্দুরারুল মুন্তাছিরা/৩৩০, আত তাযকিরা ফি আহাদীসিল মুশতাহিরা/১৩৬, সিররুল আসরার, কানযুল উম্মাল)

হাদিস শরীফ উনার মধ্যে আরো ও ইরশাদ মুবারক হয়েছে-جعلت تمام الايمان بذكرك معى و قال ايضا جعلتك ذكرا من ذكرى فمن ذكرك ذكرنى-অর্থ মুবারক: হে আমার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি ঈমান উনার পূর্ণাঈতাকে এ বিষযের সাথে সম্পৃক্ত করে দিয়েছি যে,আমার আলোচনা মুবারক উনার সাথে সাথে আপনার যিকির বা আলোচনা মুবারক হবে । সুবহানাল্লাহ্। তিনি(মহান আল্লাহ পাক ) আরো বলেন, আমি আপনার আলোচনা মুবারক উনাকে আমার যিকির বা আলোচনা মুবারক হিসেবে সাব্যস্ত করেছি । সুতারাং যে মাখলুক আপনাকে স্মরণ করলো, আপনার আলোচনা মুবারক করল মুলত; সে আমাকেই স্মরণ করলো এবং আমারই আলোচনা মুবারক করলো। সুবহানাল্লাহ ।(শিফা শরীফ )

মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্র ইরশাদ মুবারক করেন-
لولاك لما اظهرت الربوبية.
অর্থ মুবারক:: “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনাকে সৃষ্টির উদ্দেশ্য না থাকলে আমি আমার রুবুবিয়্যতই প্রকাশ করতাম না।” সুবহানাল্লাহ্। (কানযুল উম্মাল)

মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্র আরো ও ইরশাদ মুবারক করেন-
عن ابن عباس رضى الله تعالى عنهما انه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اتانى جبريل عليه السلام فقال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم لولاك ماخلقت الجنة ولولاك ماخلقت النار.
অর্থ মুবারক: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন: হযরত জিবরীল আমীন আলাইহিস সালাম আমার নিকট আগমন করে বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহু ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে এই বলে পাঠিয়েছেন যে, আপনি যদি না হতেন তবে আমি জান্নাত ও জাহান্নাম কিছুই সৃষ্টি করতাম না।” সুবহানাল্লাহ্। (দায়লামী, কানযুল উম্মাল-৩২০২২)

হাদিসে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে অন্যএ ইরশাদ মুবারক হয়েছে-يا حبيبى انا وانت وما سواك خلقت لاجلك قال النّبى صلى لله عليه وسلّم يا ربّى انت وما انا وما سواك تركت لاجلك- অর্থ মুবারক: হে আমার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমি এবং আপনি আর যা কিছু সৃষ্টি করেছি সব আপনার জন্য করেছি । সুবহানাল্লাহ্। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আয় বারে ইলাহী, আমি ও না, শুধু আপনি, এ ছাড়া যা কিছূ সৃষ্টি করা হয়েছে সব কিছু আপনার মুহব্বতে তরক বা ত্যাগ করেছি। সুবহানাল্লাহ্।

উপরোক্ত দলিল আদিল্লাহর মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হল সমস্ত মাখলুকাতের জন্য, সমস্ত সৃষ্টির জন্য, সমস্ত কায়িনাতের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে সবচেয়ে বড় নিয়ামতই হল মহান আল্লাহ পাক উনার হাবিব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবীয়্যিন, নুরে মুজাসসাম, হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং নিজেই ।সুবহানাল্লাহ।

তাহলে সে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবিব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমন তথা বিলাদত শরীফ বা জন্মদিন, উনার বিছাল শরীফ বা যমিন খেকে বিদায়, উনার সাথে সরাসরি সংযুক্ত রাত দিন গুলো সমস্ত সৃষ্টির জন্য, কত বড় ঈদের, কত বড় আনন্দের, কত বড় খুশির, কতটুকু রহমত বরকত ছাকিনা হাছিলের এবং কত বড় নিয়ামত হাছিলের উপলক্ষ তা একমাএ মহান আল্লাহ ও উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারাই সব চাইতে ভালো জানেন। সুবহানাল্লাহ।

এছাড়াও, হয়রত নবী রসুল আলঅইহিমুস সালাম উনাদের আগমন বিদায় ইত্যাদি সম্মানিত দিন রাত মুবারকগুলো যে কতটুকু রহমতপূর্ন, বরকতপূর্ন, ও নিয়ামতপূর্ন এ সর্ম্পকে পবিএ কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-وسلم عليه يوم ولد ويوم يموت ويوم يبعث حياّ

অর্থ মুবারক: উনার(হয়রত ঈসা আলাইহিস সালাম) প্রতি সালাম(শান্তি)যেদিন তিনি বিলাদত শরীফ(জন্মদিন)লাভ করেন এবং যেদিন তিনি বিছাল শরীফ(বিদায় গ্রহন)  এবং যেদিন তিনি জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত  আমি জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হব।সুবহানাল্লাহ!(সুরা মারইয়াম শরীফ,আয়াত শরীফ নং-৩৩)।

 

হবেন। সুবহানাল্লাহ! (সুরা মারইয়াম শরীফ,আয়াত শরীফ নং-১৫)।

অনুরুপভাবে, হযরত ইয়াহিয়া আলাইহিস সালাম সর্ম্পকে উনার নিজের বক্তব্য পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক-হয়েছে والسلم علىّ يوم ولدتّ ويوم اموت ويوم ابعث حياّ  অর্থ মুবারক:- আমার প্রতি সালাম(শান্তি)যেদিন আমি বিলাদত শরীফ(জন্মদিন)লাভ করি, এবং যেদিন আমি বিছাল শরীফ(বিদায় গ্রহন)করি এবং যেদিন

যদি হয়রত ঈসা আলাইহিস সালাম ও হযরত ইয়াহিয়া আলাইহিস সালাম উনাদের আগমন ও বিদায় দিবস সমূহ এত রহমতপূর্ন,বরকতপূর্ন, নিয়ামতপূর্ন হয় তবে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবিব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমন তথা বিলাদত শরীফ বা জন্মদিন, উনার বিছাল শরীফ বা যমিন খেকে বিদায়, উনার সাথে সরাসরি সংযুক্ত রাত দিন গুলো যে এর চাইতে লক্ষকোটি গুন বেশী সম্মানিত ফযীলত নিয়ামতপ্রাপ্ত তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সুবহানাল্লাহ!

সুতরাং উপরোক্ত আলোচনার মাধ্যমে প্রমাণিত হল যে, সম্মানিত শরীয়ত উনার মধ্যে দু‘ঈদ ছাড়া ও আরো অসংখ্য অগনিত ঈদ রয়েছে। এবং যারাই বলবে সম্মানিত শরীয়ত উনার মধ্যে দু‘ঈদ ছাড়া আর কোন ঈদ নেই বুঝতে হবে তারা হচ্ছে মুসলমান উনাদের মধ্যে এখতিলাফ সৃষ্টিকারী, ফিৎনাবাজ, চরম মিথ্যাবাদী, মালয়ূন, রজিম তখা বাতিল ৭২ ফ্বিরকার অন্তভুক্ত। নাঅুয়ুবিল্লাহ।

ওহাবী,সালাফীদের প্রশ্ন:-

*১২ই রবীউল আউয়াল শরীফ কিভাবে সবচেয়ে বড় খুশির দিন বা ঈদের দিন বা সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ হয় ?

 

প্রশ্ন:-১২ই রবীউল আউয়াল শরীফ কিভাবে সবচেয়ে বড় খুশির দিন বা ঈদের দিন বা সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ হয় ?

এর জবাবে বলতে হচ্ছে, হাদিস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-عن حضرت ابى لبابة بن عبد المنذر قال قال النبي صلى الله عليه وسلّم انّ يوم الجمعة سيّد الاياّم واعظمها عند الله وهو اعظم عند الله من يّوم الاضحى ويوم الفطر فيه خمس خلال خلق الله فيه ادم واهبط الله ادم الى الارض وفيه توفّى الله ادم وفيه ساعة لا يسال العبد فيها شيئا الاّ اعطاه ما لايسال حراما وفيه تقوم الساعة ما من مّلك مقرّب ولا سماء ولا ارض ولا رياح جبال ولا بحر الاّ هوا مشفق مّن يّوم الجمعة অর্থ মুবারক:– হযরত আবু লুবাবা ইবনে আব্দুল মুনযির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ননা করেন,নুরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- জুমুআর দিন সকল দিনের সর্দার এবং সকল দিন অপেক্ষা আল্লাহ পাক উনার নিকট অধিক শ্রেষ্ট ও সম্মানিত । এটি ঈদুল আযহার দিন ও ঈদুল ফিতরের দিন অপেক্ষাও মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট অধিক শ্রেষ্ট ও সম্মানিত । সুবহানাল্লাহ ।

 

এ দিনটিতে পাচঁটি (গুরুত্বপূর্ন)বিষয় রয়েছে- (১)এ দিনে মহান আল্লাহ পাক তিনি হয়রত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করেছেন,(২)এ দিনে  উনাকে যমীনে প্রেরন করেছেন,(৩)এ দিনে উনাকে বিছাল শরীফ দান করেছেন,(৪)এ দিনটিতে এমন একটি সময় রয়েছে, যে সময়টিতে বান্দা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট কিছু চাইলে তিনি অবশ্যই তাকে তা দান করেন,যে পযন্ত না সে হারাম কিছু চায় এবং(৫)এ দিনেই ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে। এমন কোন ফেরেশতা নেই, আসমান নেই, যমীন নেই, বাতাস নেই, পাহাড় নেই, সমুদ্র নেই, যে জুমুআর দিন সম্পকে ভীত নয় ।”(ইবনে মাজাই শরীফ, মিশকাত শরীফ)

 

এই হাদীস শরীফ উনার মাধ্যমে মহান আল্লাহপাক তিনি জানিয়ে দিলেন যে, জুমায়ার দিন ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা অপেক্ষা শ্রেষ্ট ও সম্মানিত। সুবহানাল্লাহ! এবং সম্মানিত হওয়ার যে বিশেষ কারন গুলো মধ্যে বিশেষ ভাবে ৩ টি হযরত সাইয়্যিদুনা আদম আলাইহিস সালাম উনার সাথে সম্পৃত্ত। যেমন- সাইয়্যিদুনা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার মুবারক সৃষ্টি, দুনিয়াতে আগমন, ও দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়া। অপর দুট বিষয় হচ্ছে দোয়া কবুল ও কিয়ামত কায়েম।

 

সুতারাং বলার বিষয় হল, যে সাইয়্যিদুল মুরসালিন ইমামুল মুরসালিন খতামুন নাবিয়্যিন হুজুর পাক ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে সৃষ্টি মুবারক না করলে হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে ও সৃষ্টি করা হতনা। এই প্রসঙ্গে হাদীস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে –  ولو لا محمّد صلى الله عليه وسلّم ما خلقتك  هذا حديث صحيح الاسناد অর্থমুবারকঃ- হে আদম আলাইহিস সালাম! যদি আমার হাবীব ও রসুল নুরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি না হতেন তাহলে আমি আপনাকে ও সৃষ্টি করতামনা।সুবহানাল্লাহ!এই হাদীস শরীফ খানা উনার সনদ ছহীহ (আল মুসতাদরাক হাকিম ৪র্থ খন্ড ১৫৮৩ পৃষ্টা, মুখতাছারুল মুস্তাদারক ২য় খন্ড ১০৬৯ পৃষ্টা, আত তাওয়াসসুল ১১৫ পৃষ্টাপৃষ্টা, ছহীহাহ ১ম খন্ড ৮৮ পৃষ্টা, মুখতাছারুল মুস্তাদরাক সীরুদ দুররিল মানছুর লিছ ছুয়ুতী ১ম খন্ড ৫৮ পৃষ্টা, কানযুল উম্মাল ১১ খন্ড ৪৫৫ পৃষ্টা)

 

হাদীস শরীফ উনার মধ্যে আরও ইরশাদ মুাবরক হয়েছে-لولاه ما خلقتك ولا خلقت سماء ولا ارضا অর্থ মুবারকঃ-যদি তিনি (মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) না হতেন, তবে আমি আপনাকে (হযরত আদম আলাইহিস সালাম) এবং আসমান ও যমিন কে পয়দা করতামনা (মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া ১ম খন্ড) এবং দোয়া কবুল আসমান যমীন ও সৃষ্টি হতনা। তাহলে সেই মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার যমীনে আগমন ও বিদায় অর্থাৎ ১২ ই রবীউল আউয়াল শরীফ তথা সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ যে সকল ঈদের সেরা ঈদ তাতে কোন সন্দেহ নাই। সুবহানাল্লাহ!

এছাড়াও সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ তথা পবিএ ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সকল ঈদের সেরা ঈদ তা আারো স্পষ্ট করার জন্য বলতে হচ্ছে, যেটা হাদিস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে ।

সম্মানিত হাদিস শরীফখানা انّ النّبى صلى الله عليه وسلّم لمّا اسرى به ليلة المعراج الى السموات العلى ووصل الى العرش المعلّى اراد خلع نعليه اخذا  ّمن قوله تعالى لسيّدنا حضرت موسى عليه السلام حين كلمة فخلع نعليك انّك بالواد المقدّس طوى-فنودى من العلىّ الاعلى يا حضرت محمّد صلّى الله عليه وسلّم لا تخلع نعليك فانّ العرش يتشرّف بقدومك متنعّلا وّيفتخر على غيره متبرّكا فصعد النبىّ صلّى الله عليه وسلّم الى العرش وفى قدميه النّعلان وحصل له بذالك عزّوّشان- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত মিরাজ শরীফ উনার রাতে সুউচ্চ সপ্ত আসমান অতিএম করে সম্মানিত আরশে আজিম মুবারক উনার নিকটবর্তী হলেন, তখন তিনি উনার নালাইন শরীফ বা জুতা মুবারক খুলে সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক নেয়ার চিন্তা মুবারক করলেন। মহান আল্লাহ পাক উনার ওই বানী মুবারক ফিকির করে, যেটা মহান আল্লাহ পাক তিনি (যখন সাইয়্যিদুনা হযরত মুসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি তুর পাহাড়ে মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে কথা বলার জন্য তাশরীফ মুবারক রাখবেন, তখন) হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করেছিলেন- আপনি আপনার সম্মানিত নালাইন শরীফ বা জুতা মুবারক খুলুন ।

কেননা আপনি সম্মানিত (তুর পাহাড়ের)পবিএ তুয়া উপত্যকায় তাশরীফ মুবারক গ্রহন করতে যাচ্ছেন । (সেখানে আমার সম্মানিত আরশে আযীম থেকে ৭০ হাজার ভাগের এক ভাগ সম্মানিত নুর মুবারক পতিত হয়েছে । যার কারনে সেই স্থানটি সম্মানিত ও পবিএ হয়ে গেছে । সুবহানাল্লাহ!  তাই আপনি সম্মানিত নালাইন শরীফ খুলে আসুন।নুরে মুজাসসাম, হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই বিষয়টি ফিকির মুবারক বা চিন্তা মুবারক করে উনার সম্মানিত নালাইন শরীফ বা জুতা মুবারক খুলার চিন্তা মুবারক করেছিলেন।) তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি ওহী মুবারক করলেন, হে আমার হাবিব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, দয়া করে আপনি আপনার সম্মানিত নালাইন শরীফ বা জুতা মুবারক খুলবেন না ।

অর্থাৎ আপনি আপনার সম্মানিত নালাইন শরীফ বা জুতা মুবারক সহ আমার সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক এ তাশরীফ মুবারক গ্রহন করুন । সুবহানাল্লাহ। কেননা আমার সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক আপনার সম্মানিত নালাইন শরীফ উনার পরশে, উনাদের ধুলি-বালি মুবারক উনাদের স্পর্শ  মুবারক-এ ধন্য হবেন, শান-মান, ফাযায়িল-ফজিলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক হাছিল করবেন । সুবহানাল্লাহ।(শুধু তাই নয়,)আমার সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক আপনার সম্মানিত নালাইন শরীফ উনার স্পর্শ মুবারক পাওয়ার কারনে, নালাইন শরীফ বা জুতা মুবারক উনার ধুলি-বালি মুবারক লাভ করে বরকতময় হয়ে আরো পবিএতা হাছিল করবেন এবং অন্য সবার উপর ফখর করবেন। সুবহানাল্লাহ।

অত:পর আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত নালাইন শরীফ বা জুতা মুবারক পরিধান মুবারক করা অবস্থাতেই সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহন করলেন। আর সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক নুরে মুজাসসাম, হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নালাইন শরীফ মুবারক উনার স্পর্শ মুবারক লাভ করে, নালাইন শরীফ উনার ধূলি-বালি মুবকারক পেয়ে ইজ্জত-সম্মান, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুর্যুগী-সম্মান মুবারক হাছিল করলেন ।” সুবহানাল্লাহ।(ফাতহুল মুতয়াল ফী মাদহি খইরিন নিয়ান শরীফ)

এই সম্মানিত হাদিস থেকে পৃথিবীর সমস্ত ইমাম মুজতাহিদ উনাদের ইজমা হয়ে গেল এবং এই সম্মানিত ইজমা শরীফ খানা ৪ মাযহাবের বিখ্যাত ও মশহুর ফতওয়ার কিতাব দুররুল মুখতার ও ফতওয়ায়ে শামী এর ৩য় খন্ড যিয়ারত অধ্যায়ে সংযোজন মুবারক হয়েছে। অর্থ মুবারকঃ- انّ التربة التى اتّصلت الى اعظم النبىّ صلّى الله عليه وسلّم افضل من الارض والسماء

حتّى العرش العনিশ্চয়ই এক মুর্হুতের তরে ও নুরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সম্মানিত জিসম মুবারক উনার স্পর্শ মুবারক এ এসেছেন, যেই মাটি, ধুলি-বালি(পর্দাথ বস্তু যা কিছুই হোক না কেন)উনাদের ফযিলত মর্যদা-মর্তবা আসমান-যমীন, এমনকি মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক থেকে ও লক্ষ কোঠি গুন বেশি। সুবহানাল্লাহ!

অন্য ইজমা মুবারকে বলা হয়েছে- فانّه افضل مطلقا مّن الكعبة والكرسى حتّى العرش العظيمনিশ্চয়ই নুরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার স্পর্শ মুবারকে যা কিছু এসেছেন তা অবশ্যই সম্মানিত কাবা শরীফ, সম্মানিত কুরসী শরীফ, এমনকি মহান আল্লাহপাক উনার সম্মানিত আরশে আজীম মুবারক থেকে ও লক্ষ কোঠি গুন বেশী ফযিলত প্রাপ্ত সম্মানিত এবং সর্বশ্রেষ্ট। সুবহানাল্লাহ!

এখন বলার বিষয় হল মাটি ,বালি সৃষ্টির মধ্যে আদনা বস্তু হওয়া সত্বেও শুধুমাএ মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার এক সেকেন্ডের তরে স্পর্শ মুবারক-এ আসার কারনে যদি এত শ্রেষ্ট, সম্মানিত, ফযিলতপ্রাপ্ত হতে পারে, মহান আল্লাহপাক উনার কাছে, তাহলে যে ১২ই রবিউল আউয়াল শরীফ উনার ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীমি শরীফ বা সোমবার দিন, সুবহে সাদিকের, সময় মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি সমস্ত কায়িনাতকে আলোকিত করে, সমস্ত সৃষ্টিকে পূর্ননতা দান করে, সমস্ত নিয়ামতের দ্বার মুবারক উম্মোচন করে, মহান আল্লাহপাক উনার সাথে নিছবত স্থাপন করার মহান মাধ্যম হিসেবে এবং মহান আল্লাহপাক উনার হাক্বীকি শান-মান প্রকাশ করার নিমিত্তে উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন, যে ১২ রবীউল আউয়াল শরীফ, সোমবার শরীফ সরাসরি মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সাথে সংযুত্ত হয়ে গিয়েছেন, সেই ১২ই শরীফ, সোমবার শরীফ কত বড় খুশির দিন, কত বড় ঈদের দিন, কত বড় নিয়ামতর্পূন দিন তা জ্বীন-ইনসানের চিন্তা চেতনার লক্ষ্যকোটি গুন উর্দ্বে।সুবহানাল্লাহ।

এইজন্য পবিএ কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক يايها الناس قد جاءتكم موعظة من ربكم وشفاء لما فى الصدور وهدى ورحمة للمؤمنين. قل بفضل الله وبرحمته فبذالك فليفرحوا هو خير مما يجمعون
অর্থ: “হে মানবজাতি! অবশ্যই তোমাদের মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে এসেছেন মহান নছীহতকারী, তোমাদের অন্তরের সকল ব্যাধিসমূহ দূরকারী, কুল-কায়িনাতের মহান হিদায়েত দানকারী ও ঈমানদারদের জন্য মহান রহমতস্বরূপ (হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন, তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার ফযল করম বা নিয়ামত(হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে,সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে) ও রহমত লাভ করেছো (হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে), সেইজন্য তোমরা খুশি প্রকাশ করো।এই খুশি প্রকাশ করাটা সেসবকিছু থেকে উত্তম, যা তোমরা দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করে রাখ । সুবহানাল্লাহ। (সূরা ইউনুস শরীফ, আয়াত শরীফ- ৫৭/৫৮)

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আলোচ্য আয়াত শরীফ উনার মধ্যে সরাসরি মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক উল্লেখ করেনি, তাহলে আমরা কিভাবে নিয়ামত এবং রহমত এর মুরাদ মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিলাম?

জবাবে বলতে হচ্ছে মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া তিনি সবচেয়ে বড় নিয়ামত। যদি বা অনেকে পবিএ দ্বীন ইসলাম ও পবিএ কুরআন শরীফ উনাদেরকে নিয়ামত বলে উল্লেখ করেছেন। হ্যাঁ,ঠিকই আছে! তবে জ্বীন ইনসানের জন্য কোনটা নিয়ামত উনার অন্তভূক্ত না? যেমন-নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত অর্থ্যাৎ সমস্ত নেক কাজ এবং ধন-দৌলত, ইজ্জত-সম্মান, ইলম, কালাম, দ্বীন ইসলাম,পবিএ কুরআন শরীফ,হাদিস শরীফ, নেককার আওলাদ ফরজন সমস্ত কিছুই নিয়ামত উনার অন্তভূক্ত। সুবহানাল্লাহ।

কিন্তু মহান আল্লাহপাক তিনি যদি উনার হাবিব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া উনাকে সৃষ্টি মুবারক না করতেন তাহলে কোন কিছুই সুষ্টি হত না, এবং আমরা কোন কিছুই লাভ করতে পারতাম না, এমনকি মহান আল্লাহপাক তিনি নিজেকেও প্রকাশ করতেন না!

তাই মহান আল্লাহপাক তিনি উনার হাবিব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি যে, মহান আল্লাহপাক উনার তরফ থেকে সমস্ত আলমের জন্য সবচেয়ে বড় নিয়ামত!সে বিষয়টি প্রকাশ করার জন্য হাদিসে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন-كنت كنزا مخفيا فاحببت ان اعرف فخلقت الخلق لاعرف.
অর্থ মুবারক: “আমি গুপ্ত ছিলাম। আমার মুহব্বত হলো যে, আমি জাহির হই। তখন আমি আমার (রুবুবিয়্যত) জাহির করার জন্যই সৃষ্টি করলাম মাখলূকাত (আমার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে)।”  সুবহানাল্লাহ্ (আল মাকাসিদুল হাসানা/ ৮৩৮, কাশফূল খিফা/২০১৩, আসনাল মুত্বালিব/১১১০, তমীযুত তীব/১০৪৫, আসরারুল মারফুআ/৩৩৫, তানযিয়াতুশ শরীয়াহ ১/১৪৮, আদ্দুরারুল মুন্তাছিরা/৩৩০, আত তাযকিরা ফি আহাদীসিল মুশতাহিরা/১৩৬, সিররুল আসরার, কানযুল উম্মাল)

শরীফ হাদিস শরীফ উনার মধ্যে আরো ও ইরশাদ মুবারক হয়েছে-جعلت تمام الايمان بذكرك معى و قال ايضا جعلتك ذكرا من ذكرى فمن ذكرك ذكرنى- অর্থ মুবারক: হে আমার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি ঈমান উনার পুর্নাঙ্গতাকে এ বিষযের সাথে সম্পৃত্ত করে দিয়েছি যে, আমার যিকির বা আলোচনা মুবারক উনার সাথে সাথে আপনার যিকির বা আলোচনা মুবারক হবে সুবহানাল্লাহ্। তিনি(মহান আল্লাহ পাক ) আরো বলেন, আমি আপনার আলোচনা মুবারক উনাকে আমার যিকির বা আলোচনা মুবারক হিসেবে সাব্যস্ত করেছি । সুতারাং যে মাখলুক আপনাকে স্মরণ  করলো, আপনার আলোচনা মুবারক করল মুলত: সে আমাকেই স্মরণ করলো, এবং আমারই আলোচনা মুবারক করলো ।সুবহানাল্লাহ ।(শিফা শরীফ)

মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্র ইরশাদ মুবারক করেন-
لولاك لما اظهرت الربوبية.
অর্থ মুবারক:: “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনাকে সৃষ্টির উদ্দেশ্য না থাকলে আমি আমার রুবুবিয়্যাতই প্রকাশ করতাম না।” সুবহানাল্লাহ্। (কানযুল উম্মাল)

মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্র আরো ও ইরশাদ মুবারক করেন-
عن ابن عباس رضى الله تعالى عنهما انه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اتانى جبريل عليه السلام فقال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم لولاك ماخلقت الجنة ولولاك ماخلقت النار.
অর্থ মুবারক: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন: হযরত জিবরীল আমীন আলাইহিস সালাম আমার নিকট আগমন করে বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহু ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে এই বলে পাঠিয়েছেন যে, আপনি যদি না হতেন তবে আমি জান্নাত ও জাহান্নাম কিছুই সৃষ্টি করতাম না।” সুবহানাল্লাহ্। (দায়লামী, কানযুল উম্মাল-৩২০২২)

হাদিসে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে অন্যএ ইরশাদ মুবারক হয়েছে- يا حبيبى انا وانت وما سواك خلقت لاجلك قال النّبى صلى لله عليه وسلّم يا ربّى انت وما انا وما سواك تركت لاجلك-  অর্থ মুবারক: হে আমার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি এবং আপনি এছাড়া আমি যা কিছু সৃষ্টি করেছি সব আপনার জন্য করেছি । সুবহানাল্লাহ্। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আয় বারে ইলাহী, আমি ও না, শুধু আপনি, এ ছাড়া যা কিছূ সৃষ্টি করা হয়েছে সব কিছু আপনার মুহব্বতে তরক বা ত্যাগ করেছি। সুবহানাল্লাহ্।

হাদীস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে –  ولو لا محمّد صلى الله عليه وسلّم ما خلقتك  هذا حديث صحيح الاسند অর্থমুবারকঃ- হে আদম আলাইহিস সালাম! যদি আমার হাবীব ও রসুল নুরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি না হতেন তাহলে আমি আপনাকে ও সৃষ্টি করতামনা। সুবহানাল্লাহ! এই হাদীস শরীফ খানা উনার সনদ ছহীহ (আল মুসতাদরাক হাকিম ৪র্থ খন্ড ১৫৮৩ পৃষ্টা, মুখতাছারুল মুস্তাদারক ২য় খন্ড ১০৬৯ পৃষ্টা, আত তাওয়াসসুল ১১৫ পৃষ্টাপৃষ্টা, ছহীহাহ ১ম খন্ড ৮৮ পৃষ্টা, মুখতাছারুল মুস্তাদরাক সীরুদ দুররিল মানছুর লিছ ছুয়ুতী ১ম খন্ড ৫৮ পৃষ্টা, কানযুল উম্মাল ১১ খন্ড ৪৫৫ পৃষ্টা)

হাদীস শরীফ উনার মধ্যে আরও ইরশাদ মুাবরক হয়েছে-لولاه ما خلقتك ولا خلقت سماء ولا ارضا অর্থ মুবারকঃ-যদি তিনি (মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) না হতেন, তবে আমি আপনাকে (হযরত আদম আলাইহিস সালাম) এবং আসমান যমিন ও পয়দা করতামনা। (মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া ১ম খন্ড)

সম্মানিত যাবূর শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করা হয়েছে-يا حضرت داود عليه السلام اسمع ما افول  ومر حضرت سليمان عليه السلام فليقله للنّاس من بعدك ان الارض لى اورثها حضرت محمّد صلّى الله عليه وسلّم او امّته–অর্থ মুবারক:- হে আমার সম্মানিত নবী এবং রাসুল হয়রত দাউদ আলাইহিস সালাম, আমি যা বলি তা আপনি শুনুন এবং আপনি আমার পক্ষ থেকে আপনার যিনি সুমহান আওলাদ হয়রত সুলা্ইমান আলাইহিস সালাম যিনি আসমানের নিচে, যমিনের উপরে সারা পৃথিবীতে সম্মানিত কতৃত্ব মুবারক করবেন, উনাকে এই সম্মানিত নির্দেশ মুবারক জানিয়ে দেন যে, তিনি যেন আপনার পরে সমস্ত মানুষদেরকে,সমস্ত জ্বীন-ইনসানকে জানিয়ে দেন যে,নিশ্চয়ই সারা পৃথিবীর, সারা কায়িনাতের মালিক হচ্ছি আমি মহান আল্লাহপাক । সুবহানাল্লাহ। আর আমি সারা পৃথিবীর, সারা কায়িনাতের ওয়ারিসত্ব মুবারক, সম্মানিত কতৃত্ব মুবারক হাদিয়া করেছি আমার যিনি হাবিব হুজুর পাক ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে, উনার সম্মানার্থে উনার সম্মানিত উম্মতগন উনাদেরকে। অর্থ্যাৎ উনার সম্মানার্থে উনার উম্মতগন সারা দুনিয়াব্যাপী সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করবেন। সুবহানাল্লাহ(খছাইছুল কুবরা ১ম খন্ড,পৃষ্টা নং-৫২. ইযালাতুল খফা-১ম খন্ড,পৃষ্টা নং-১০১,)

হাদিস শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-عن انس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلّم انا اوّل الناس خروجا اذا بعثوا وانا قائدهم اذا وفدوا وانا خطيبهم اذا  انصتوا وانا مستشفعهم اذا حبسوا وانا مبشرهم اذا ايسوا الكرامة والمفاتيح يومئذ بيدى ولواء الحمد يومئذ بيدى ولواء الحمد يومئذ بيدى وانا اكرام ولد ادم على ربّى يطوف علىّ الف خادم كانهم بيض مكنون او لولو منثور–অর্থ মুবারক:-  হয়রত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ননা মুবারক করেন, মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমিই প্রথম উত্থিত হব যেদিন মানুষেরা কবর হতে উত্থিত হবে । আমিই তাদের সাইয়্যিদ হব যখন তারা মহান আল্লাহপাক উনার দিকে অগ্রসর হবে। আমি তাদের খতীব হব যখন তারা চুপ থাকবে। আমিই সুপারিশকারী হব যখন তারা চিন্তিত থাকবে। আমিই সুসংবাদ দানকারী হব যখন তারা নিরাশ হযে যাবে। সমস্ত কল্যানের চাবিকাঠি সেদিন আমার হাত মুবারকে থাকবে। মহান আল্লাহপাক উনার প্রশংসার পতাকা মুবারক ও সেদিন আমার হাত মুবারকে থাকবে।আমি মহান আল্লাহপাক উনার কাছে বনী আদমের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত হব। আমার আশে পাশে সেদিন এক হাজার খাদিম ঘুরাফিরা করবে যারা হবে সুরক্ষিত ডিমের কুসুমের ন্যায় অথবা ছড়ানো ছিটানো মুক্তার ন্যায়। সুবহানাল্লাহ(তিরমিযী শরীফ, সুনানে দারেমী শরীফ, মিশকাত শরীফ)

উপরোক্ত আলোচনা মাধ্যম দিয়ে এই বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রমানিত হল যে মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম তিনি হচ্ছেন নিয়ামতে উজমা বা সবচেয়ে বড় নিয়ামত। সুবহানাল্লাহ। কারন তিনি যদি সৃষ্টি মুবারক না হতেন কোন কিছুই সৃষ্টি হত না এবং আমরা মহান আল্লাহপাক উনাকে ও সম্মানিত দ্বীন ইসলাম, পবিএ কুরআন শরীফ,ইলম-কালাম কোনটাই লাভ করতে পারতাম না। আর এইজন্য মহান আল্লাহপাক তিনি সে সর্বশ্রেষ্ট নিয়ামত মুবারক মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম উনার জন্য খুশি প্রকাশ করাটা ফরজ সাব্যস্ত করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ।

২য় প্রশ্ন রহমতের ব্যাখ্যায় আমরা কিভাবে মুরাদ নিলাম মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম উনাকে?

এই বিষযটি বুঝার জন্য আমাদেরকে পবিএ কুরআন শরীফ উনার তাফসীর করার উসুলের দিকে দৃষ্টিপাত করতে হবে।পবিএ কুরআন শরীফ উনার তাফসীর করার অসংখ্য উসুলের মধ্যে প্রথম দুটি উসুল হল-(১)পবিএ কুরআন শরীফ উনার এক আয়াত শরীফ দ্বারা অন্য আয়াত শরীফ তাফসীর করা.

(২)যদি করা না যায় তবে দেখতে হবে ঐ আয়াত শরীফ উনার তাফসীর মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম তিনি করেছেন কিনা। যদি করে থাকে তবে সেটাই হবে ঐ আয়াত শরীফ উনার বিশুদ্ধ তাফসীর। সুবহানাল্লাহ। কারন মহান আল্লাহপাক তিনি উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম উনাকে সৃষ্টির শুরু খেকে শেষ পর্যন্ত সকল বিষযের সমস্ত ইলম ও কালাম হাদিয়া করেছেন। সুবহানাল্লাহ।

যেটা হাদিস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-عن حضرت ابى موسى رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلّم اتيت فواتح الكليم وجوامعه وخواتمه–অর্থ মুবারক:- হয়রত আবু মুসা আশয়ারী রদ্বিযাল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,আমাকে সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পয়র্ন্ত সকল বিষয়ের সমস্ত ইলম হাদিয়া করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ(তবরানী শরীফ, ইবনে আবি শাইবা শরীফ, আবু ইয়ালা শরীফ, কানযুল উম্মাল,হাদিস নং৩১৯২৬)

অন্য হাদিস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে–اعطيت جوامع الكليمঅর্থ মুবারক:-  আমাকে সমস্ত কালাম হাদিয়া করা হয়েছে ।সুবহানাল্লাহ।(মুসলিম শরীফ,মিশকাত শরীফ)

এখন পবিএ কুরআন শরীফ উনার মধ্যে রহমত উনার ব্যাখ্যায় অন্যএ ইরশাদ মুবারক হয়েছে- وما ارسلناك الّا رحمة للعالمين- অর্থ মুবারক:-হে হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!আমি আপনাকে সমস্ত জগতের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি। সুবহানাল্লাহ।(সুরা আম্বিয়া শরীফ,আয়াত শরীফ-১০৭)

সুতরাং উপরোক্ত দলিলের মাধ্যমে আকাট্যভাবে প্রমাণিত হল যে সুরা ইউনুছ শরীফ উনার মধ্যে নিয়ামত ও রহমত মুবারক হিসেবে মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম উনাকে অথবা নিয়ামত হিসেবে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম এবং রহমত মুবারক হিসেবে মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম উনাকে বুঝানো হয়েছে, এই জন্য খুশি প্রকাশ করাটা ফরজ করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ। এবং স্বয়ং মহান আল্লাহপাক তিনি আরো জানিয়ে দিলেন যে এই খুশি বা ঈদ টাই হবে জ্বীন-ইনসান উনাদের জীবনের সর্বশ্রেষ্ট এবং সর্বত্তোম আমল।সুবহানাল্লাহ।

এইজন্য যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মহান মূর্শিদ মুজাদ্দিদ আজম আলাইহিস সালাম তিনি, এই ১২ই রবীউল আউয়াল শরীফ বা ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম উনার নতুন নাম মুবারক দিলেন বা তাজদিদ মুবারক করলেন সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ অর্থ্যাৎ সমস্ত ঈদের ঈদ এবং সমস্ত খুশির ও খুশি।               সুবহানাল্লাহ।

 

প্রশ্ন:-১২ই রবীউল আওয়াল শরীফ নবীজি দুনিয়াতে আগমন ও বিদায় দুটোই করেছেন, তাহলে খুশির দিন হয় কিভাবে?

এর জবাবে বলতে হচ্ছে ওহাবী সালাফী লামায়হাবী গং মুলত মুসলমান উনাদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্য এবং খুশি প্রকাশ করার মাধ্যম দিয়ে সর্বশ্রেষ্ট আমল করা থেকে বিরত রাখার জন্য এই ধরনের ধোকাঁবাজিপূন কুফরী বক্তব্যের অবতারনা করে থাকে। প্রকৃতপক্ষে কোন মৃত্যুই মানুষের জন্য শোক বা কষ্টের নয় কারন মৃত্যু হচ্ছে মানুষের জন্য মহান আল্লাহপাক উনার পক্ষ থেকে তোহফা বা পুরস্কারস্বরুপ। সুবহানাল্লাহ। এই সর্ম্পকে হাদিস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-মৃত্যু হচ্ছে মুমিনদের জন্য তোহফা বা পুরস্কারস্বরুপ। সুতারাং কোন মানুষকে যদি হাদিয়া তোহফা দেওয়া হয়, সে কখনও কষ্ট পায় না বরং আনন্দিত হয়, এবং এই মৃত্যুর মাধ্যম দিয়ে জ্বীন-ইনসান তাদের যিনি রফিকে আলা বা পরম বন্ধু মহান আল্লাহপাক উনার দীদার মুবারক লাভ করে থাকে। সুবহানাল্লাহ।

এ প্রসঙ্গে হাদিস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-মৃত্যু হচ্ছে মহান আল্লাহপাক উনার দীদারের সেতু মুবারক। সুবহানাল্লাহ। এখন জ্বীন-ইনসান যদি সত্যিই মহান আল্লাহপাক উনাকে পরম বন্ধুই মনে করে থাকে তাহলে তাদেরতো চিন্তা পেরেশানি দু:খ কষ্ট থাকার কথা নয়। কারন কোন বন্ধুই তার পরম বন্ধুর সান্নিধ্যে গেলে সে কখনও কষ্ট অনুভব করে না বরং চরম পরমভাবে আনন্দিত হয়। আসলে জ্বীন-ইনসানের মূল সমস্যা হল তারা মহান আল্লাহপাক ও উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম উনাদের সাথে নিছবত মুবারক বা সর্ম্পক মুবারক স্থাপন করতে পারেনি তাই এত চিন্তা পেরেশানি। নাউযুবিল্লাহ। আর যারাই মহান আল্লাহপাক ও উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম উনাদের সাথে নিছবত বা সর্ম্পক মুবারক স্থাপন করতে পেরেছে তারাই চরম সন্তুষ্টচিত্তে আনন্দচিত্তে ও এতমিনানের সহিত মূত্যু বরন করতে পেরেছে। সুবহানাল্লাহ।

এই সর্ম্পকে পবিএ কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হযেছে-ا أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ ﴿٢٧﴾ ارْجِعِي إِلَىٰ رَبِّكِ رَاضِيَةً مَّرْضِيَّةً ﴿٢٨﴾ فَادْخُلِي فِي عِبَادِي ﴿٢٩﴾ وَادْخُلِي جَنَّتِي ﴿٣٠﴾ হে প্রশান্তচিত্তের নফস!তুমি অত্যান্ত সন্তুষ্ট ও এতমিনান যুক্ত অবস্থায় তোমার যিনি রব উনার কাছে ফিরে আস, অত;পর আমার মাহবুব বা প্রিয় বান্দাদের অর্ন্তভুক্ত হয়ে যাও৤ এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর৤ সুবহানাল্লাহ! এখন বলার বিষয় হল যদি সাধারন মু‘মিনের মৃত্যু এত রহমতর্পূন, বরকতর্পূন, আনন্দময়, ও এতমিনানযুক্ত হতে পারে তবে যিনি নবীদের নবী,রাসুলদের রাসুল, সমস্ত কুল-মাখলুকাতের ঈমান মহান উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম উনার বিদায় কতবড় রহমতর্পূন, বরকতর্পূন, ছাকিনার্পূন,নিয়ামতে পরির্পূন এবং কত বড় আনন্দের কত বড়  খুশির তা জ্বীন-ইনসানের বুদ্ধি আক্বল-সমঝের লক্ষ্য কোটিগুন উর্দ্ধে। সুবহানাল্লাহ।

তাই হাদিস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-حياتى خير لّكم ومماتى خيرلّكم অর্থ মুবারক:- আমার হায়াত-মউত সর্ব অবস্থাতেই তোমাদের জন্য কল্যাণ বা খায়ের-বরকতের কারন। সুবহানাল্রাহ।(কানযুল উম্মাল)

এছাড়াও, হয়রত নবী রসুল আলঅইহিমুস সালাম উনাদের আগমন বিদায় ইত্যাদি সম্মানিত দিন রাত মুবারকগুলো যে কতটুকু রহমতর্পূন বরকতর্পূন এ সর্ম্পকে পবিএ কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-وسلم عليه يوم ولد ويوم يموت ويوم يبعث حياّ

অর্থ মুবারক:- উনার(হয়রত ঈসা আলাইহিস সালাম) প্রতি সালাম(শান্তি)যেদিন তিনি বিলাদত শরীফ(জন্মদিন)লাভ করেন এবং যেদিন তিনি বিছাল শরীফ(বিদায় গ্রহন) এবং যেদিন তিনি জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত  আমি জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হব।সু  সুবাহানাল্লাহ!(সুরা মারইয়াম শরীফ,আয়াত শরীফ নং-৩৩)

অতএব মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম উনার বিছাল শরীফ বা বিদায় দিনকে যারা দু:খের দিন বলে খুশি প্রকাশ না করে শোক পালন করতে চাই,সেটা সর্ম্পূনরুপে পবিএ কুরআন শরীফ ও হাদিস শরীফ উনাদের বিরোধী কাজ।

কারন হাদিস শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রযেছে- امرنا ان لا نحدّ على ميّت فوق ثلاث الاّ لزوجআমাদেরকে নির্দেশ মুবারক দেয়া হয়েছে-আমরা যেন কারো ইন্তিকালের তিন দিনের পর আর শোক প্রকাশ না করি।তবে স্বামীর জন্য সএী চার মাস দশ দিন শোক পালন করতে পারবে(মুয়াত্তা-ইমাম মালিক শরীফ, বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবু দাউদ শরীফ, সুনানে নাসায়ী শরীফ, তিরমিযী শরীফ,ইবনে মাজাহ শরীফ, সুনানে দারেমী শরীফ,)

সুতারাং সুস্পষ্ট দলীলের মাধ্যমে অকাট্যভাবে প্রমানিত হলো মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লল্লাহু আলিইহি ওয়াসাল্লাম উনার আগমন এবং বিদায় দু‘টোই উম্মতের জন্য সবচেয়ে বড় ঈদের দিন বা খুশির দিন।

প্রশ্ন:-হাদীস শরীফ উনার মধ্যে দু ঈদ এবং জুমুয়ার দিনকে ঈদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে কিন্তু ১২ই রবীউল আওয়াল শরীফ ‍উনাকে কি ঈদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে?

এর জবাবে বলতে হচ্ছে ১২ই রবীউল আওয়াল শরীফ যে ঈদ, তা বুঝার জন্য আমাদেরকে প্রথমে ঈদ অর্থ কি এবং দু‘ঈদ প্রর্বতনের কারন কি তা অনুধাবন করতে হবে। তাহলে দু‘ঈদ আর জুমুয়ার ঈদের সাথে ১২ই রবীউল আউয়াল শরীফ উনার যে কোন পার্থক্য নেই, তা আমরা সহজেই উপলদ্ধি করতে পারব। মুলত ওহাবী, সালাফী,লা-মাযহাবী গংদের উদ্দেশ্য হল মুসলমানদের প্রত্যেকটি বিষয়ের মধ্যে এখতিলাফ সৃষ্টি করে দিয়ে হাক্বীকি নিয়ামত থেকে মাহরুম করে দেওয়া। নাউযুবিল্লাহ।

অতএব ঈদ অর্থ হচ্ছে-খুশি প্রকাশ করা, যেটা বার বার ফিরে আসে, কোন স্মরনীয় যে ঘটনা রয়েছে সেটাকে স্মরন করা, বিশেষ উল্লেখযোগ্য যে সমস্ত ঘটনা রয়েছে!সে বিশেষ উল্লেখযোগ্য ঘটনার সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো স্মরণ করা। সুবহানাল্লাহ।

তাহলে বলার বিষয় হল, মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার যমিনের আগমনের চেয়ে উত্তম কোন ঘটনা বা  উনার বিলাদত শরীফ বা ১২ই রবীউল আউয়াল শরীফ উনার চেয়ে উত্তম কোন খুশির দিন বা ঈদের দিন কায়িনাতের কোন মাখলুকাতের জন্য হতে পারে কি? কারন মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি যদি সৃষ্টিই না হতেন, তবে কোন কিছুই সৃষ্টি হতোনা, এবং জ্বীন-ইনসান লাভ করতে পারত না কোন উল্লেখযোগ্য রাত, দিন, ঘটনার, কোন ঈদ বা আনন্দ,খুশির। সুবহানাল্লাহ।

এই জন্য হাদিস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- لو لاك لما خلقت الافلاك হে হাবীব হুজুর পাক ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!আমি যদি আপনাকে সৃষ্টি না করতাম তাহলে কোন কিছুই সৃষ্টি করতাম না।”সুবহানাল্লাহ।

এছাড়াও মহান আল্লাহপাক তিনি হুজুর পাক ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে এবং উনার সংশ্লিষ্ট রাত,দিন ঘটনাসমূহ স্মরন করা ফরজ করা দিয়েছেন। এ প্রসগে পবিএ কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-اذكروا نعمة الله عليكم
অর্থাৎ “তোমাদেরকে যে নিয়ামত দেয়া হয়েছে, তোমরা সে নিয়ামতকে স্মরণ করো।” (সূরা আলে ইমরান : আয়াত শরীফ ১০৩) ।এই আয়াত শরীফ উনার তাফসীরের মধ্যে পৃথিবীর সমস্ত মুফাসসির এই অভিমত ব্যাক্ত করেছেন যে উক্ত নিয়ামত হচ্ছে মহান মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি নিজেই। সুবহানাল্লাহ।

 

পবিএ কুরআন শরীফ উনার মধ্যে আরোও ইরশাদ মুবারক হয়েছে-وَذَكِّرْهُم بِأَيَّامِ اللَّـهِ ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّكُلِّ صَبَّارٍ شَكُورٍ ﴿٥﴾-অর্থ মুবারকঃ-(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!)আর তাদেরকে মহান আল্লাহপাক উনার দিবস সমুহ স্মরণ করিয়ে দিন। নিশ্চয়ই উক্ত দিবস সমুহের মধ্যে প্রত্যেক ধৈর্য্যশীল শোকার গোযার বান্দাদের জন্য র্নিদশনাবলী (নিয়ামত) রয়েছে(পবিত্র সুরা ইবরাহীম শরীফ;পবিত্র আয়াত শরীফ ৫)।

 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, মহান আল্লাহপাক উনার দিবস সমুহ কোন গুলো? জবাবে বলতে হচ্ছে! মুলত: মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম, হযরত নবী রসুল আলাইহিমুস সালাম, হযরত আউলিয়া কিরাম রহমুতাল্লাহি আলাইহি এবং সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার বিশেষ বিশেষ দিবস সমুহ হলো মহান আল্লাহ পাক উনার দিবস সমুহ উনার অর্ন্তভুক্ত।

 

প্রকৃত পক্ষে সমস্ত ইজ্জত, সমস্ত সম্মান,সমস্ত বুজুর্গী,সমস্ত নিয়ামতের একচত্র মালিক হচ্ছে মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি নিজেই। সুবহানাল্লাহ!উনার কারনেই সবকিছু সম্মানিত এবং ফযিলত প্রাপ্ত হয়েছে। এই জন্য সে নিয়ামত তথা নিয়ামতে উজমা মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে স্মরণ করা সমস্ত মাখলুকাতের জন্য ফরয করে দেওয়া হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে হাদীস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-واخرج حضرت ابن عساكر عن حضرت كعب الاخبار رحمة الله عليه قال انّ الله انزل على حضرت ادم عليه السلام عصيّا بعدد الانباء والمرسلين ثم اقبل على ابنه حضرت شيت عليه السلام فقال اى بنىّ انت خليفتى من بعدى فخذها بعمارة التقوى والعروة الوثقى فكلمّا ذكرت الله فاذكر الى جنبه اسم محمّد صلّى الله عليه وسلّم فانّى رايت اسمه صلّى الله وسلّم مكتوبا على ساق العرش وانا بين الروح والطين ثمّ انّى طفت السموات فلم ار فى السموات موضعا الاّ رايت اسم محمّد صلَى الله عليه وسلّم مكتوبا عليه وانّ ربّى اسكننى الجنّة فلم ار فى الجنّة فصرا ولا غرفة الّا اسم محمّد صلّى الله عليه وسلّم مكتوبا عليه  ولقد رايت اسم محمّد صلّى الله عليه وسلّم مكتوبا على نحور الحور العين وعلى ورق قصب اجام الجنّة وعلى ورق شجرت طوبى وعلى ورق سدرة المنتهى وعلى اطراف الحجب وبين اعين الملائكة فاكثى ذكره صلّى الله وسلّم فانّ الملائكة تذكره فى كلّ ساعاتها- অর্থ মুবারকঃ-হয়রত আব্দুল্লাহ ইবনে আসাকির রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হয়রত কা’ব আহবার রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ননা মুবারক করেন। তিনি বলেন,“নিশ্চয় মহান আল্লাহপাক তিনি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার নিকট সমস্ত হযরত নবী-রসুল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সমসংখ্যক লাঠি মুবারক নাযিল করেন।অত:পর হয়রত আদম আলাইহিস সালাম তিনি উনার প্রিয় ছেলে হযরত শীশ আলাইহিস সালাম উনার কাছে(ওই লাঠি মুবারকসমূহ)সোর্পদ করেন। অত:পর হয়রত আদম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আমার সম্মানিত প্রিয় ছেলে(হয়রত শীশ আলাইহিস সালাম)!আপনি আমার পরে আমার খলিফা আলাইহিস সালাম হবেন।

কাজেই আপনি তাক্বওয়া ও মজবুতভাবে পরহেযগারীর সাথে উক্ত লাঠি মুবারকসমূহ গ্রহন করবেন। আর যখনই আপনি মহান আল্লাহপাক উনার নাম মুবারক উচ্চারন করবেন, সাথে সাথে সাইয়্যিদুল মুরসালীন,ইমামুল মুরসালীন,নুরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক ও উচ্চারন করবেন। কেননা আমি উনার নাম মুবারক আরশে আযীম উনার স্তম্ভ মুবারক উনার মধ্যে ওই সময় লিখিত দেখেছি যখন আমি রুহ মুবারক ও মাটি অবস্থায় ছিলাম। অত:পর আমি সমস্ত আসমানে সফর মুবারক করেছি।

এমন কোন স্থান নেই যেখানে সাইয়্যিদুল মুরসালীন,ইমামুল মুরসালীন,নুরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক লিখিত দেখতে পাইনি। অর্থাৎ সমস্ত আসমানেই নুরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক লিখা দেখেছি।

যখন আমার রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে জান্নাতে বসবাসের জন্য রাখলেন, তখন আমি জান্নাতে এমন কোন প্রাসাদ দেখেনি যেখানে সাইয়্যিদুল মুরসালীন,ইমামুল মুরসালীন,খতামুন নাবিয়্যীন, নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার নাম মুবারক লিখা নেই। অর্থাৎ জান্নাতের সমস্ত অট্টালিকা, প্রাসাদ ও প্রত্যেকটা কক্ষ বা কামরার মধ্যেই নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার নাম মুবারক লিপিবদ্ধ রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

আরো আমি দেখতে পেয়েছি,নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার নাম মুবারক হুরদের বক্ষে, হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের চোখের পুতলীতে, তূবা বৃক্ষের পাতায় পাতায়, সিদরাতুল মুনতাহার পত্ররাজিতে, সমস্ত পর্দা মুবারকসমুহে এবং সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের চোখের মধ্যে। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই আপনি উনার নাম মুবারক অধিক পরিমানে যিকির করুন। নিশ্চয়ই সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা সাইয়্যিদুল মুরসালিন ইমামুল মুরসালিন, নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার নাম মুবারক সদাসর্বদাই যিকির করে থাকেন। সুবাহানাল্লাহ

(খাছায়িছুল কুবরা ১ম খন্ড,পৃষ্টা নং১২, ইবনে আসাকীর)

 

এখন আমভাবে যদি কোন সন্তানকে তার পিতা ওছীয়ত করে তবে সে সন্তানের উপর ফরয ওয়াজিব হয়ে যায় তা পালন করা,যদি সামর্থ থাকার শর্তে ও সন্তান সে ওছীয়ত পালন না করে তবে সম্মানিত শরীয়ত অনুযায়ী সেটা সন্তানের উপর শাস্তিযোগ্য অপরাধ হয়ে যায়।নাঅউযুবিল্লাহ! তাহলে বলার বিষয় হলো মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে স্মরণ করা কত বড় যে ফরয ইবাদত সমস্ত মাখলুকাতের জন্য এবং তিনি যে সমস্ত কিছুর মূল সে বিষয়টি মহান আল্লাহপাক দুই জন জলীলুল ক্বদর রসুল হয়রত আদম আলাইহিস সালাম ও হয়রত শীশ আলাইহিস সালাম উনাদের মাধ্যম দিয়ে ফায়সালা করে সমস্ত দুনিয়ার সামনে দৃষ্টান্ত মুবারক রেখে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ।

 

যাতে জ্বীন-ইনসান সহজেই বুঝতে পারে যে, মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্মরণ এবং উনার সাথে সংশিষ্ট প্রত্যেকটি বিষয় বা ঘটনা থেকে উত্তম কোন বিষয় বা ঘটনা  কায়িনাতের মাখলুকাতের জন্য আর হতে পারে না। আর এ বিষয়গুলো তারা পালন করবে বা স্মরণ করবে সর্বো্চ্চ আনন্দ, খুশি, আদব,শরাফত,তাজিম-তাকরীম,গভীর মুহব্বতের সহিত । সুবহানাল্লাহ। সুতারাং ঈদ অর্থই  হচ্ছে-খুশি প্রকাশ করা, যেটা বার বার ফিরে আসে, কোন স্মরনীয় যে ঘটনা রয়েছে সেটাকে স্মরন করা, বিশেষ উল্লেখযোগ্য যে সমস্ত ঘটনা রয়েছে!সে বিশেষ উল্লেখযোগ্য ঘটনার সংশিষ্ট বিষয়গুলো স্মরণ করা। সুবহানাল্লাহ।

আর এই জন্যই মহান আল্লাহপাক তিনি, মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব সাইয়্যিদুল মুরসালীন,ইমামুল মুরসালীন,খতামুন নাবিয়্যীন, নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার জন্য খুশি করা বা ঈদ পালন করা সবার জন্য ফরজ করে দিলেন, পবিএ কুরআন শরীফ উনার মধ্যে। সুবহানাল্লাহ।

পবিএ কুরআন শরীফ উনার মধ্যে উনার ইরশাদ মুবারক হয়েছে- يايها الناس قد جاءتكم موعظة من ربكم وشفاء لما فى الصدور وهدى ورحمة للمؤمنين. قل بفضل الله وبرحمته فبذالك فليفرحوا هو خير مما يجمعون
অর্থ মুবারক:- “হে মানবজাতি! অবশ্যই তোমাদের মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে এসেছেন মহান নছীহতকারী, তোমাদের অন্তরের সকল ব্যাধিসমূহ দূরকারী, কুল-কায়িনাতের মহান হিদায়েত দানকারী ও ঈমানদারদের জন্য মহান রহমতস্বরূপ (হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন, তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার ফযল করম বা নিয়ামত(হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে,সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে) ও রহমত লাভ করেছো (হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে), সেইজন্য তোমরা খুশি প্রকাশ করো। এই খুশি প্রকাশ করাটা সে সবকিছু থেকে উত্তম, যা তোমরা দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করে রাখ । সুবহানাল্লাহ। (সূরা ইউনুস শরীফ, আয়াত শরীফ- ৫৭/৫৮)

কেননা উক্ত আয়াত শরীফ-এ فَلْيَفْرَحُواْ অর্থাৎ “তারা যেনো খুশি প্রকাশ করে” আদেশসূচক বাক্য ব্যবহৃত হয়েছে। আর আদেশসূচক বাক্য দ্বারা যে ফরয সাব্যস্ত হয়। এটা ঊছুলে ফিক্বাহর সমস্ত কিতাবেই উল্লেখ আছে যে, الامر للوجوب অর্থাৎ আদেশসূচক বাক্য দ্বারা সাধারণত ফরয-ওয়াজিব সাব্যস্ত হয়ে থাকে। যেমন কালামুল্লাহ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, اقيموا الصلوة অর্থাৎ “তোমরা নামায আদায় করো।” কুরআন শরীফ-এর এ নির্দেশসূচক বাক্য দ্বারাই নামায ফরয সাব্যস্ত হয়েছে। অনুরূপ হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, واعفوا للحى অর্থাৎ “তোমরা (পুরুষরা) দাড়ি লম্বা করো।” হাদীছ শরীফ-এর এ নির্দেশসূচক বাক্য দ্বারাই কমপক্ষে এক মুষ্ঠি পরিমাণ দাড়ি রাখা ফরয-ওয়াজিব সাব্যস্ত হয়েছে। ঠিক একইভাবে ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা অর্থাৎ ১২ই রবীউল আউয়াল শরীফ সোমবার শরীফ-এ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ উপলক্ষে ঈদ করা তথা খুশি প্রকাশ করা বান্দা-বান্দী ও উম্মতের জন্য ফরয-ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়াও দু‘ঈদ, জুমুয়ার ঈদের মত সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ যে ঈদ তা বুঝার জন্য আমাদেরকে দু‘ঈদের প্রর্বতন কারন কি তা জানতে হবে, তবেই আমরা দু‘ঈদের মত সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফও যে ঈদ, সে বিষয়টির হাক্বিকত পরিপূর্ননভাবে উপলদ্ধি করতে পারব। দু‘ঈদের প্রর্বতন সর্ম্পকে হাদিস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- হয়রত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন পবিএ মক্কা শরীফ থেকে হিজরত করে পবিএ মদিনা শরীফ উনার মধ্যে তাশরীফ মুবারক আনেন, তখন এসে দেখতে পেলেন যে, সম্মানিত মদিনা শরীফ উনার যারা অধিবাসী ছিলেন, তারা সেখানে দু‘দিন খেলাধুলা করতেন। মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জিজ্ঞাসা মুবারক করলেন, এই দু‘দিন কি? তোমরা যে খেল তামাশা করে থাকো? যারা সম্মানিত মদিনা শরীফ উনার অধিবাসী ছিলেন তারা জবাব দিলেন, এই দু‘দিন আমরা আইয়ামে জাহেলিয়াত থেকে খেলাধুলা করে আসতেছি। অর্থ্যাৎ এটা নতুন নয়, ইয়া রসুলাল্লাহ, ইয়া হাবিবাল্লাহ ছল্লাল্রাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

তখন মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ঠিক আছে,তাহলে মহান আল্লাহপাক তোমাদের এ দু‘দিন বাদ দিয়ে অর্থ্যাৎ খেল-তামাশার দুদিন পাল্টিয়ে তোমাদের উত্তম দু‘টা দিন দান করবেন। একটা হচ্ছে ঈদুল আদ্বহা বা কুরবানী দিন আর আরেকটা হচ্ছে ঈ‘দুল ফিতর।

এই হাদিস শরীফ থেকে যে বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে তা হল, মদিনা শরীফ উনার অধিবাসীগন দু‘দিন খেলাধুলা করত। অর্থ্যাৎ খেলাধুলার মাধ্যম দিয়ে আনন্দ খুশি উদযাপন করত। কিন্তু সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে যেহেতু খেলাধুলা এবং হারাম পন্থায় আনন্দ খুশি উদযাপন করা সম্পুর্নরুপে হারাম। তাই মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওযা সাল্লাম তিনি সম্মানিত মদিনা শরীফ উনার অধিবাসীদেরকে শরীয়ত সম্মতভাবে আনন্দ খুশি উদযাপন করার জন্য ঈদুল আদ্বহা এবং ঈ‘দুল ফিতর হাদিয়া করলেন। সুবহানাল্লাহ। সুতারাং দু‘ঈদ প্রবর্তনের মূল উদ্দেশ্যই হল আনন্দ, খুশি উদযাপন করা! ইবাদত বন্দেগী নয়, কারন মুসলমান উনারা সারা বছর ইবাদত বন্দেগী করে থাকে এবং মুসলমান উনাদের প্রত্যেকটি কাজই ইবাদত উনার অর্ন্তভুক্ত।

এছাড়াও ইহুদীরা যখন হয়রত সাইয়্যিদুনা ফারুকে আজম আলাইহিস সালাম এবং হয়রত সাইয়্যিদুনা ইবনে আব্বাছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের কাছে সুরা মায়িদার ৩নং আয়াত শরীফ নাযিলের দিনকে ঈদের দিন বা খুশির দিন ঘোষনার কথা বললেন, তখন দুই জলীলুল ক্বদর সাহাবী উনারা্ও কিন্তু জুমুয়া এবং আরাফার দিনকে খুশির দিন হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে বলে জানালেন। সুতারাং প্রমাণিত হল দু‘ঈদ, জুমুয়ার ঈদের মত ১২ই ববীউল আউয়াল শরীফ ও ঈদ। কারন ঈদ অর্থ হল খুশি প্রকাশ করা, ঠিক তেমনিভাবে فَلْيَفْرَحُواْ অর্থ হল খুশি প্রকাশ করা । মুল উদ্দেশ্য হল একই খুশি প্রকাশ করা ।সুবহানাল্লাহ।

 

প্রশ্ন:- দুঈদ ও জুমুয়ার দিন ঈদ হওয়ার কারনে খুতবা, বড় জামায়াত, ক্বিরাত সব রয়েছে কিন্তু ১২ই রবীউল আউয়াল শরীফ যদি ঈদের দিন হত তবে খুতবা, বড় জামায়াত, ক্বিরাত নেই কেন?

জবাবে বলতে হচ্ছে আসলে যারা কুফরীর মধ্যে নিমজ্জিত থাকে তাদের উপর লানত পড়ার কারনে তাদের স্বাভাবিক জ্ঞান, বুদ্ধি, আকল, সমঝ নষ্ট হয়ে যায়, যার ফলশ্রুতিতে একটা সাধারন মূর্খ লোক যেটা বুঝতে পারে কুফরীতে নিমজ্জিত ব্যাক্তির উপর লানত পড়ার কারনে সেটা সে বুঝতে পারে না। তাই তো ওহাবী সালাফীগং তারা বলে তাকে যে,দু‘ঈদ জুমুয়ার মত সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফের মধ্যে খুতবা, বড় জামায়াত, ক্বিরাত কোনটাই নেই।

মুলত: ওহাবী সালাফী গং তারা শুধুমাএ মুসলমান উনাদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্য এই ধরনের মুনাফিকীর্পূন, কূফরী বক্তব্যের অবতারনা করে খাকে। কারন খুতবা অর্থ হল আলোচনা । আর মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খুতবা মুবারক বা আলোচনা মুবারক করে না এমন কোন মাখলুক আছে? মুলত: সমস্ত মাখলুকাতের জন্য মহান আল্লাহপাক তিনি দায়েমী ভাবে ফরজ করে দিয়েছেন মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খুতবা মুবারক পাঠ করা বা আলোচনা মুবারক বা ছানা-ছিফত মুবারক করা। এই সর্ম্পকে পবিএ কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-      وتعزّروه وتعقّروه وتسبّحوه بكرة وّاصيلا- অর্থ মুবারক:-তোমরা হাবিবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি য়ো সাল্লাম উনার খিদমত করো, তাজিম তাকরীম করো, ছানা ছিফত মুবারক করো! সকাল-সন্ধ্যা। অর্থ্যাৎ দায়েমীভাবে। সুবহানাল্লাহ।(সুরা ফাতাহ শরীফ; পবিত্র আয়াত শরীফ )

সুতারাং সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ সবচেয়ে বড় ঈদ হওয়ার কারনে এর খুতবা মুবারককে মহান আল্লাহপাক তিনি দু‘ঈদ, জুমুয়ার মত সীমাবদ্ধ না করে অনন্ত অসীমের সাথে সংযুক্ত করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ। এ-প্রসঙ্গে পবিএ কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন-ورفعنا لك ذكرك. অর্থ মুবারক:-  “আমি আপনার সুমহান যিকির মুবারক বা আলোচনা মুবারক বা খুতবা মুবারককে বুলন্দ করেছি।” (সূরা ইনশিরাহ) কতটুকু বুলুন্দ করা হয়েছে? জবাবে বলতে হচ্ছে এতটুকু বুলুন্দ করা হয়েছে যে, মহান আল্লাহপাক উনার যিকির বা আলোচনা বা খুতবা মুবারক হিসেবে সাব্যস্ত করে দেওয়া হল। সুবহানাল্লাহ।

এ সর্ম্পকে হাদিস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-جعلت تمام الايمان بذكرك معى و قال ايضا جعلتك ذكرا من ذكرى فمن ذكرك ذكرنى-অর্থ মুবারক: হে আমার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি ঈমান উনার পূর্ণাঙ্গতাকে এ বিষযের সাথে সম্পৃত্ত করে দিয়েছি যে, আমার যিকির বা আলোচনা মুবারক বা খুতবা মুবারক উনার সাথে সাথে আপনার যিকির বা আলোচনা মুবারক বা খুতবা মুবারক হবে । সুবহানাল্লাহ্। তিনি(মহান আল্লাহ পাক ) আরো বলেন, আমি আপনার আলোচনা মুবারক উনাকে আমার যিকির বা আলোচনা মুবারক বা খুতবা মুবারক হিসেবে সাব্যস্ত করেছি । সুতারাং যে মাখলুক আপনাকে স্মরণ করলো, আপনার আলোচনা মুবারক করল বা খুতবা মুবারক দিল, মুলত সে আমাকেই স্মরন করলো এবং আমারই আলোচনা মুবারক বা খুতবা মুবারক করলো ।সুবহানাল্লাহ।(শিফা শরীফ)

অনুরুপভাবে বলতে হয় সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ সবচেয়ে বড় ঈদ হওয়ার কারনে জ্বীন-ইনসানের জামায়াত ও ক্বিরাত উনার সাথে স্বয়ং মহান আল্লাহপাক তিনি ও হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের জামায়াত সহ ক্বিরাতে হাবীবি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল শান-মান,-মর্যদা মর্তবা মুবারক উনার বহি:প্রকাশ ঘটিয়ে থাকেন। সুবহানাল্লাহ। এ সর্ম্পকে হাদিস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বরকত বিলাদত শরীফ বা জন্ম গ্রহনের সময়, তখন মহান আল্লাহপাক তিনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনাকে আদেশ মুবারক করলেন, হে জিবরীল আলাইহিস সালাম!রূহসমুহকে “শারাবান তহ্বরা”পাত্রের নিকট শ্রেনীবদ্ধ করুন। হে হযরত রিদ্বওয়ান আলাইহিস সালাম!জান্নাতের নবোদ্ভিন্না যুবতীগন উনাদেরকে নতুন সাজে সজ্জিত করুন। আর পবিত্র মেশকের সুগন্ধি ছড়িয়ে দিন।সারা মাখলুকাতের যিনি শ্রেষ্টতম রসুল, ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার মুবারক আর্বিভাব উপলক্ষে।হে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম! বিছিয়ে দিন নৈকট্য ও মিলনের জায়নামায সেই মহানতম রসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার জন্য, যিনি অধিকারী নুরের, উচ্চ মর্যাদার এবং মহা মিলনের।হে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম! দোযখের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতা হযরত মালিক আলাইহিস সালাম উনাকে আদেশ করুন তিনি যেনো দোযখের দরজাসমুহ বন্ধ করেন। জান্নাতের তত্ত্বাবধায়ক ফেরেশতা হযরত রিদ্বওয়ান আলাইহিস সালাম উনাকে বলুন তিনি যেন জান্নাতের দরজা সমুহ উম্মুক্ত করেন। হে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম!হযরত রিদ্বওয়ান আলাইহিস সালাম উনার অনুরূপ পোষাক পরিধান করুন, এবং জমীনের বুকে গমন করুন সুসজ্জিত হয়ে কাছের ও দুরের সকল ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের সহকারে। অত:পর আসমান-যমীনের চারপাশে ঘোষনা দিন, সময় ঘনিয়ে এসেছে, মুহিব ও মাহবুবের মিলনের,ত্বালিব ও মাত্বলুবের সাক্ষাতের। অর্থাৎ মহান আল্লাহপাক উনার সাথে উনার হাবীবে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে মি‘রাজ হবে তার সময় নিকটবর্তী হলো উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ-এর মাধ্যমে। সুবহানাল্লাহ!

অত:পর হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি হুকুম বাস্তবায়ন করলেন, যেমনটি আল্লাহপাক জাল্লাশানুহ তিনি হুকুম করলেন। এক জামায়াত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মক্কা শরীফ উনার পাহাড়ে দায়িত্ব দিলেন। উনারা হারাম শরীফ উনার দিকে নজর রাখলেন। উনাদের পাখা সমুহ যেনো সুগন্ধিযুক্ত সাদা মেঘের টুকরা। তখন পাখিসমুহ তাসবীহ পাঠ করলে লাগলো। এবং উম্মুক্ত প্রান্তরে বনের পশুগুলো সহানুভুতির ডাক, আশার ডাক দিতে লাগলো। এ সবকিছুই সেই মহান মালিক জলীল জাব্বার মহান আল্লাহপাক রব্বুল আলামীন উনার আদেশ মুতাবিক হলো। সুবহানাল্লাহ।(আল নিয়ামাতুল কুবরা আলাল আলাম)।

অতএব প্রমাণিত হল সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ বা ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যে দু‘ঈদ, জুমুয়ার মত খুতবা, জামাযাত, ক্বিরাত সব কিছুই রয়েছে। সুবহানাল্লাহ। সর্বশেষ ওহাবী, সালাফী মুনাফিক গোষ্টির প্রতি প্রকাশ্য চ্যালেন্জ হচ্ছে তারা যদি তাদের দাবীতে সত্যবাদি হয়ে থাকে, তবে তারা যেন পবিএ কুরআন শরীফ, পবিএ হাদিস শরীফ থেকে একটি ছোট্র দলীল এনে প্রমাণ করে যে, ঈদ হলেই সেখানে খুতবা, জামায়াত, ক্বিরাত থাকার শর্ত! শরীয়ত উনার কোথাও সংযুক্তি করা হয়েছে?

প্রশন্:-হয়রত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণিত, নিশ্চয় মহান আল্লাহ পাক ঐ দিন দুটোকে আরো সর্বাপেক্ষা উত্তম দুটি দিন দ্বারা পরিবর্তন করে দিলেন । একটি ঈদুল ফিতর আর একটি ঈদুল আযহা। কাজেই যারা দু‘ঈদের বাহিরে আরো ও ঈদ রয়েছে বলে আক্বিদা রাখে, তারা উপরোক্ত হাদিস শরীফ উনার বিরুদ্ধে গেল কিনা?

জবাবে বলতে হচ্ছে, হয়রত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণিত হাদিস শরীফ উনার মধ্যে অথবা সম্মানিত শরীয়ত উনার কোথাও এই বিধি-বিধান আরোপ করা হয়েছে কি, দু‘ঈদ ছাড়া আর কোন ঈদ পালন করা যাবে না? সেখানে আমরা এই পোষ্টের প্রথমেই অসংখ্য হাদিস শরীফ দ্বারা প্রমাণ করেছি সম্মানিত শরীয়ত উনার মধ্যে দু‘ঈদ ছাড়াও জুমুযার দিন, আরাফার দিন, সোমবার শরীফকে, ইফতারে ছোগরা বা ইফতারীর সময় এবং ইফতারে কুবরা বা ঈদুল ফিতর, এছাড়াও প্রতি মাসে ৪-৫টি ঈদ রযেছে বলে ঘোষনা করে হয়েছে। সুবহানাল্লাহ।

তাছাড়াও সম্মানিত শরীয়ত উনার মধ্যে দু‘ঈদ ছাড়া আরো ঈদ রয়েছে বলে দাবী করলে যদি হাদিস শরীফ উনার বিরুদ্ধে মত পেশ করা হয় তবে স্বয়ং আমিরুল মুমিনীন,খলিফাতুল মুসলিমীন হয়রত সাইয়্যিদুনা ফারুকে আজম আলাইহিস সালাম, হয়রত সাইয়্যিদুনা ইবনে আব্বাছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হয়রত সাইয়্যিদুনা আবু হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা আরো ঈদ রয়েছে বলে স্বীকার করে উনারও কি হাদিস শরীফ উনার বিরুদ্ধে মত পেশ করল? নাউযুবিল্লাহ। এই ধরনের কথা যদি কেউ মনে মনে চিন্তা ও করে তবে সে সাথে সাথে বেঈমান হয়ে যাবে। তাহলে এই কথা বলা কিভাবে শুদ্ধ হতে পারে যে, যারা বলবে দু‘ঈদ ছাড়া আরো ঈদ রযেছে তারা হয়রত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণিত হাদিস শরীফ উনার বিরুদ্ধে গেল। মুলত ওহাবী, সালাফী মুনাফিকগোষ্টির কাজই হল মুসলমান উনাদের প্রত্যেকটি আমলের মধ্যে এখতিলাফ, বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার করা যাতে মুসলমান উনারা নিজেদের সম্মানিত বিষয়গুলো নিয়ে বিভ্রান্তির মধ্যে পতিত হয়ে যায়! আর তখনই মুসলমান উনারা এখতিলাফ মনে করে নিয়ামতপূর্ন আমলগুলো ছেড়ে দিয়ে রহমতশূন্য হয়ে যায়। নাউযুবিল্লাহ।

সুতারাং যারা বলবে সম্মানিত শরীয়ত উনার মধ্যে দু‘ঈদ ছাড়া আর কোন ঈদ নেই তারা বাতিল ৭২ ফ্বিরকার অর্ন্তভূক্ত হয়ে যাবে । তাই মহান আল্লাহপাক ও উনার হাবিব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনারা আমাদেরকে সহ দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান উনাদেরকে ওহাবী, সালাফী, লা-মায়হাবী ফ্বিরকার সমস্ত কুফরী আক্বিদা থেকে হিফাযত করুক। আমিন, সুম্মা আমিন।

 

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে