হাদীছে জাবির বা সর্বপ্রথম নূর মুবারক সৃষ্টি বিষয়ক হাদীছ শরীফ নিয়ে বিভ্রান্তির নিরসন


খারিজি ফির্কার দাবি হচ্ছে   পূর্ববর্তী যে কিতাব সমূহে হাদীছে জাবির বা সর্বপ্রথম নূর মুবারক সৃষ্টি বিষয়ক রেওয়ায়েত ভুল করে

 

 

 

চলে এসেছে। আজকে আমি এটারই জবাব দিবো ভুল করে আসেনি বরং অত্যন্ত তাহকীক ও নির্ভরতার সাথে উনারা দলীল এনেছেন।

বিখ্যাত মুহাদ্দিছ, ফক্বীহ হযরত ইবনে হাজার হায়তামী রহতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত: ৯৭৪ হিজরী) উনাকে আর নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কিছু নেই। উনার ভুবন বিখ্যাত একখানা কিতাবের নাম হচ্ছে “ফতোয়ায়ে হাদিস্যিয়াহ”। এই কিতাবের ৩৮০ পৃষ্ঠায় ৩১৬ নং প্রশ্নে একটা হাদীছ এনে হযরত ইবনে হাজার হায়তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে এর বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়?
وسئل نفع الله به : عن حديث : ” أن من الله والمؤمنون مني ” من رواه ؟
আমি আল্লাহ পাক থেকে আর মু’মিনগন আমার নূর থেকে এ রেওয়ায়েত কেমন?
জবাবে তিনি বলেন,
فأجاب بقوله : هو كذب مختلط وإن ذكره الديلمي بلا إسناد
“এটার আবিষ্কারক মিথ্যাবাদী। যা হযরত দায়লামী রহমতুল্লাহি আলাইহি সনদ ছাড়া বর্ণনা করেছেন।”
এখান থেকে আমরা জানতে পারলাম হযরত দায়লামী রহমতুল্লাহি আলাইহি সনদ ছাড়া হাদীছ বর্ণনা করেছেন এবং এর অন্যকোন সনদ না থাকায় তিনি কিন্তু বর্ণনাটাকে মিথ্যা বলে রায় দিয়ে দিয়েছেন। এ বিষয়ে ফতোয়া দিতে বিন্দুমাত্র ছাড় দেন নাই।
এরপর চলুন দেখে নেয়া যাক ঠিক তার পরবর্তী প্রশ্নে। উক্ত কিতাবের ৩৮০ পৃষ্ঠার ৩১৭ নং প্রশ্নে,
وسئل نفع الله به : أول ما الله روحي والعالم بأسره من نوري كل شيء يرجع إلي صلة من رواه ؟ صلى الله عليه وسلم
সর্বপ্রথম আল্লাহ পাক আমার রূহ সৃষ্টি করেছেন এবং সৃষ্টি জগত আমার নূর থেকে সৃষ্টি করেছেন। প্রত্যেক বস্তু তার মূলের দিকে ফিরে যায় , কে বর্ননা করেছে?
فأجاب بقوله : لا أعلم أحدا رواه كذلك وإنما الذي رواه عبد الرزاق أنه صلى الله عليه وسلم قال : ” إن الله خلق نور محمد قبل الأشياء من نوره ”
জবাব: উপরোক্ত রেওয়ায়েত সম্পর্কে কিছু জানা যায় না। তবে নিশ্চয়ই ইমাম আব্দুর রাজ্জাক রহমতুল্লাহি আলাইহি হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে একটা রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক সর্বপ্রথম নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সৃষ্টি করেছেন সকল সৃষ্টির পূর্বে উনার কুদরতী নূর থেকে।”

ইমাম ইবনে হাজার হায়তামী রহমতুল্লাহি উনার এ বক্তব্য দ্বারা বোঝা গেলো অন্য বর্ণনাগেুলো সনদ বা সত্যতা না থাকলেও ইমাম আব্দুর রাজ্জাক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুছান্নাফের পূর্ণ সনদসহই উনার জানা ছিলো। যদি তা না হতো তবে উনি স্পষ্টই বলে দিতেন ইমাম আব্দুর রাজ্জাক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুসান্নাফে উক্ত হাদীছ সনদ সহকারে এ ধরনের কোন রেওয়ায়েত নেই। এটি একটি জাল হাদীছ। যেমন তিনি ৩১৬ নং প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন। অথচ হাদিছে জাবিরের ক্ষেত্রে তিনি কিন্তু তা বলেন নাই। বরং নিজ থেকেই এ হাদিছ শরীফখানা প্রশ্নকারীর প্রশ্নে জবাবে দলীল হিসাবে এনেছেন।
বোঝা গেলো মূল মুছান্নাফের প্রাচীন পান্ডুলিপীতে হাদীছে জাবিরের অস্তিত্ত স্পষ্টই ছিলো, পরবর্তীতে কোন কূট কৌশলে তা বাদ দিয়ে দেয়া হয়েছে। নচেত ইবনে হাজার হায়তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি কোন কোনভাবেই মুছান্নাফের সম্পৃক্ততা উল্লেখ করে নূরের হাদীছ বর্ণনা করতেন না ৩১৭ নং পশ্নে জবাবে। ৩১৬ নং জবাবের মত বিনা সনদে বর্ণনার অভিযোগে জাল বলে উড়িয়ে দিতেন। কিন্তু তিনি তা করেন নাই। এখানেই শেষ নয় তিনি উক্ত “ফতোয়ায়ে হাদিস্যিয়াহ” কিতাবের ৮৫ পৃষ্ঠাতেও হাদীছ শরীফখানা বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন। ছবিতে তা সংযুক্ত করে দেয়া হলো।

 

সংগৃহীত….

Views All Time
4
Views Today
6
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+