সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। ব্লগের উন্নয়নের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই আমরা নতুনভাবে ব্লগকে উপস্থাপন করবো। ইনশাআল্লাহ।

হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, পাঁচ রাত্রে দোয়া কবুল হয়।


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, তোমরা আমার নিকট দোয়া করো আমি তোমাদের দোয়া কবুল করবো। আর হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, পাঁচ রাত্রে দোয়া কবুল হয়। ১. রজব মাসের পহেলা রাত্র, ২. বরাতের রাত্র, ৩. ক্বদরের রাত্র, ৪ ও ৫. দুই ঈদের দুই রাত্র। আগামী রোববার দিবাগত রাতটিই হচ্ছে ঈদুল আযহার রাত্র। আর পরের দিন সোমবার হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আযহা অর্থাৎ কুরবানীর ঈদ। তাই প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো- ঈদের রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত-বন্দিগী, তওবা-ইস্তেগফার ও দোয়া-মুনাজাত করা এবং ঈদের দিন প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির ইখলাছের সাথে অর্থাৎ একমাত্র মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টির জন্য কুরবানী করা। আর আগামীকাল ৯ই জিলহজ্জ রোববার ফজর নামায থেকে তাকবীর পাঠ শুরু হয়ে জারি থাকবে ১৩ই জিলহজ্জ বৃহস্পতিবার আছর পর্যন্ত।, আজ দিবাগত রাতটিই হচ্ছে ঈদের রাত্র আর পরের দিন হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আযহা। তাই প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য ত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে, ঈদের রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত-বন্দিগী, তওবা-ইস্তেগফার ও দোয়া-মুনাজাতে মশগুল থাকা এবং ঈদের দিন প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য ইখলাছের সাথে কুরবানী করা। পবিত্র ঈদুল আযহার গুরুত্ব আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন। মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, পাঁচ রাত্রে নিশ্চিত দোয়া কবুল হয়। রজব মাসের পহেলা রাত্র, বরাতের রাত্র, ক্বদরের রাত্র,. দুই ঈদের দুই রাত্র।, হযরত আবু উমামাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি ঈদের রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত-বন্দিগীতে কাটাবে; যখন সমস্ত অন্তরগুলো মৃত থাকবে তখন তার অন্তর জীবিত থাকবে।” (সুবহানাল্লাহ) তাই প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে, ঈদের রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত-বন্দিগী, তওবা-ইস্তেগফার ও দোয়া-মুনাজাতে মশগুল থাকা। মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র ঈদুল আযহা বা কুরবানীর ও কুরবানীর দিনের গুরুত্ব, তাৎপর্য, ফাযায়িল, ফযীলত প্রসঙ্গে বলেন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, আদম সন্তানগণ ইয়াওমুন্ নহর বা কুরবানীর দিন যা আমল করে তন্মধ্যে রক্ত প্রবাহিত করা বা কুরবানী করা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট অধিক প্রিয়।  মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত দাউদ আলাইহিস্ সালাম উনাকে বলেন, হে হযরত দাউদ আলাইহিস্ সালাম! আপনি কুরবানী করুন। হযরত দাউদ আলাইহিস্ সালাম তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কি শুধু আমার জন্যই? আল্লাহ পাক তিনি বলেন, না- এটা হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম উনার থেকে শুরু করে আখিরী রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর্যন্ত জারি থাকবে। হযরত দাউদ আলাইহিস্ সালাম তিনি বলেন, আখিরী নবী, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মতের জন্য কুরবানীর মধ্যে কী ফযীলত রয়েছে ? আল্লাহ পাক তিনি বলেন, দুনিয়াবী হায়াতে প্রত্যেক পশমের বিনিময়ে দশটি নেকী দেয়া হবে, দশটি গুনাহ ক্ষমা করা হবে এবং দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে। (সুবহানাল্লাহ) আর পরকালে কুরবানীর পশুর মাথার প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একজন করে হুর দেয়া হবে। শরীরের প্রত্যেক পশমের বিনিময়ে একটি করে বালাখানা দেয়া হবে। প্রতিটি গোশতের টুকরার বিনিময়ে একটি করে পাখি দেয়া হবে আর প্রতিটি হাড়ের বিনিময়ে একটি করে বোরাক দেয়া হবে। (সুবহানাল্লাহ) মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, কাজেই প্রত্যেকের দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো, যিলহজ্জ মাসের হক্ব আদায় করা, ঈদের রাতে দোয়া করা, ঈদের দিন প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য কুরবানী করা। কারণ, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “আপনার রব তায়ালা উনার উদ্দেশ্যে নামায আদায় করুন এবং কুরবানী করুন।” আর হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “কুরবানী করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কুরবানী করবে না সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।”  , আগামীকাল ৯ই জিলহজ্জ অর্থাৎ রোববার ফজর নামায থেকে তাকবীর পাঠ শুরু হয়ে জারি থাকবে ১৩ই জিলহজ্জ বৃহস্পতিবার আছর পর্যন্ত। মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পর তাকবীর বলবে- ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ। ছহীহ ও গ্রহণযোগ্য ফতওয়া হলো- পুরুষ হোক, মহিলা হোক, মুক্বীম হোক, মুসাফির হোক, একা হোক বা জামায়াতে হোক প্রত্যেকের জন্য প্রতি ফরয নামাযের পর একবার তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা ওয়াজিব আর তিনবার পাঠ করা সুন্নত। মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মুসলমানগণ যেন পরিপূর্ণভাবে ঈদুল আযহার হক্ব আদায় করতে পারে সেজন্য প্রত্যেক মুসলিম-অমুসলিম দেশের সরকারের জন্য ঈদুল আযহা উপলক্ষে বিশেষ ছুটির ব্যবস্থা করা দায়িত্ব ও কর্তব্য। সরকার ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উপলক্ষে যে পরিমাণ ছুটি দিয়ে থাকে তা মোটেও যথেষ্ট নয়। এ ব্যাপারে ছুটি আরো বাড়িয়ে দেয়া সরকারের দায়িত্ব। অর্থাৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ২০ দিন আর অফিস-আদালত কমপক্ষে ১০ দিন অবশ্যই ছুটি দেয়া সরকারি ও বেসরকারি সকলেরই দায়িত্ব।, মুসলমান হিসেবে প্রত্যেক মুসলমান সরকারের উচিত দেশে ইসলামী ঐতিহ্য ও ফযীলতযুক্ত দিনগুলোর মর্যাদা অনুধাবনে ও ফযীলত আহরণের সুবিধার্থে এবং জজবা ও দ্বীনি অনুপ্রেরণা লাভের জন্য সেদিনগুলোতে সরকারিভাবে ছুটির দিন ঘোষণা করা। পাশাপাশি অমুসলিম সরকারেরও উচিত মুসলমানদের পবিত্র দিনগুলোতে সরকারি ছুটির ব্যবস্থা করা। কারণ, পৃথিবীর প্রত্যেক দেশেই মুসলমান রয়েছে এবং পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের কাছাকাছি মুসলমান। সেজন্য প্রত্যেক মুসলিম-অমুসলিম দেশের সরকারের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- ঈদুল আযহা উপলক্ষে বিশেষ ছুটির ব্যবস্থা করা ।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে