হারাম খাদ্যের তাছির বা প্রভাব


“যাদের জীবিকা হারাম পন্থায় উপার্জিত নয় তারপরেও নাজায়িয ও হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার কারণ হচ্ছে, স্বীয় কর্তব্য কাজে ফাঁকি দেয়া। অর্থাৎ যারা যে পেশায় নিয়োজিত তারা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব বা কাজ যথাযথভাবে সম্পাদন না করেও পুরোপুরি পারিশ্রমিক বা বেতন ভোগ করা প্রকারান্তরে হারাম পন্থায় সম্পদ উপার্জন করারই নামান্তর।”

তাজুল উদাবা, ইমামুল আছর, হুজ্জাতুল ইসলাম, মাহবুবে ইলাহী, সুলতানুল আরিফীন হযরত সহল ইবনে আব্দুল্লাহ্ তশতরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “হারাম খাদ্য দ্বারা সাতটি অঙ্গ পাপী হয়ে থাকে। (এক) চোখ, (দুই) কান, (তিন) জিহ্বা, (চার) পেট, (পাঁচ) হাত, (ছয়) পা, (সাত) লজ্জাস্থান। হারাম খাদ্য ভক্ষণকারীর ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় পাপ কাজ অনুষ্ঠিত হয়। পক্ষান্তরে হালাল খাদ্য পানাহার দ্বারা উল্লিখিত সাতটি অঙ্গ নেক আমল ও ইবাদতের দিকে ধাবিত হয়।” (তাযকিরাতুল আউলিয়া)    হারাম খাদ্য গ্রহণকারী শুধু যে, হারাম ও নাজায়িয কর্মে লিপ্ত হয় তাই নয়। বরং তার হারাম খাদ্যের তাছির বা প্রভাব স্বীয় ঔরসজাত সন্তান-সন্তুতির উপরও প্রভাব বিস্তার করে।

দামেস্কে একজন বুযূর্গ ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর অনেক সন্তান-সন্তুতি ছিলো। তাঁরা সবাই ছিলো একান্ত পরহিযগার ও মুত্তাকী। তাদের সে পরহিযগার মুত্তাকীর ঘটনা কিংবদন্তীর মত প্রচলিত রয়েছে। তবে একজন সন্তান ছিলো সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। সে সর্বদা আপত্তিজনক কাজে লিপ্ত থাকতো। এমন কি কখন কখন মাতাল অবস্থায় সবার সামনে পড়ে থাকতো।

তার এ অবস্থা দেখে সকল মুরীদ-মু’তাকিদ আশ্চর্যান্বিত হতেন। তবে সে বুযূর্গের ব্যক্তিত্বের প্রভাবে কেউ কিছু বলার সাহস পেত না। এমনি অবস্থায় একদিন উক্ত বুযূর্গ ব্যক্তি অনেক জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিগণের মধ্যে দ্বীনের তালিম দিচ্ছিলেন। সে সময় উক্ত সন্তান শরাব পান করে মাতাল হয়ে অপরিস্কার-অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় মজলিশে উপস্থিত হলো এবং নানা প্রকার অশালীন ভাষা ব্যবহার করে ঘরের ভিতর ঢুকে পড়লো। তখন উপস্থিত একজন ব্যক্তি সবিনয়ে জানালেন যে, “হুযূর! আপনার অসন্তুষ্টি হতে আল্লাহ্ পাক ও তাঁর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে পানাহ্ চাই। আপনি আল্লাহ্ পাক-এর এমন খাছ ও মহান ওলী আপনার অন্যান্য সন্তান-সন্তুতিও আল্লাহ্ পাক-এর পরম বন্ধু। যাদের তাক্বওয়া পরহিযগারী দেখলে মানুষ অবাক হয়ে যায়। অথচ আপনার এ সন্তানের অবস্থা সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। আমরা এ বিষয়ের কোন হিক্বমত বুঝতে পারছি না।”

জবাবে সে বুযূর্গ ব্যক্তি বললেন, “একদা আমাকে এক ব্যক্তি দাওয়াত করলো। সাধারণতঃ আমি তাহক্বীক করে দাওয়াত গ্রহণ করতাম। সেদিন আমার প্রতিবেশীর বিশেষ অনুরোধের কারণে তার দাওয়াত কবুল করলাম। আল্লাহ্ পাক-এর কি মহিমা, ঐ রাতেই উক্ত সন্তান তার মায়ের রেহেমে আসে। পরে খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পেলাম, উক্ত খাদ্য হালাল ছিলোনা। সে হারাম খাদ্য গ্রহণের কারণে আমার এ সন্তানের অবস্থা এরূপ হয়েছে যা করার কিছু নেই।”

Views All Time
1
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে