হালাল হারাম নিয়ে নানা কথা: মূল উপাদানের পরিবর্তনের কারণে ব্যবহারবিধিও পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে


কোনো কিছুর উৎস হারাম হলেও যদি পরিবর্তিত হয়ে এমন একটি উপাদানে পরিবর্তিত হয় যাতে মুল উপাদানের কোনো লক্ষণ বা বৈশিষ্ট্য থাকে না, তবে সে উপাদানটি হালাল হয়। এর স্বপক্ষে লবণের খনিতে পড়ে যাওয়া বিড়াল বা কুকুরের উদাহরণ আমরা দিয়েছি। অর্থাৎ কোনো লবণের খনিতে পড়ে যাওয়া বিড়াল যদি পুরোপুরি লবণে পরিণত হয়, তবে তা হালাল। কিন্তু এরপরেও অনেকে আরও যুক্তি তালাশ করছেন। তাই তাদের ক্ষেত্রে বলছি।
ভাত খাওয়া হয় জীবনধারণের জন্য, কিন্তু সে ভাত থেকে যদি শরাব তৈরি করা হয় তবে তা হারাম। প্রধান কারণ শরাব পবিত্র কুরআন শরীফ অনুযায়ী নিষিদ্ধ।
কিন্তু কোনো হালাল পশু যেমন গরু, খাসী বা উটকে যদি শরাব পান করানো হয়, তবে সেই প্রাণীটি যবেহ করার পর তার গোশত খাওয়া কিন্তু জায়িয। কারণ পশুটির গোশতে শরাবের কোনো উপস্থিতি নেই।
একইভাবে কোনো হারাম প্রাণী থেকে সংগৃহীত কোনো উপাদানকে যদি এমনভাবে পরিবর্তন করা হয় যার মধ্যে সেই হারাম প্রাণীর বৈশিষ্ট্য বজায় না থাকে, তবে তা খাওয়া বা ব্যবহার হালাল। এই পরিবর্তন হতে পারে দুই ভাবে- ১) প্রাকৃতিকভাবে ২) কৃত্রিমভাবে।
১) প্রাকৃতিকভাবে: গাছে গোবর দিলে গোবর নাপাক হলেও সেই গোবরে বড় হওয়া সবজি পাক এবং খাওয়া জায়িয। হালাল পশু হারাম কিছু খেলেও তার গোশত হালাল।
২) কৃত্রিমভাবে: মদ হারাম কিন্তু তার বাই প্রোডাক্ট হিসেবে প্রস্তুত সিরকা হালাল। একইভাবে হারাম পশুর কোলাজেন (চর্বি জাতীয় উপাদান যা থেকে জিলাটিন প্রস্তুত করা হয়) হারাম, কিন্তু সেখান থেকে উৎপন্ন জিলাটিন হালাল।
এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া উচিত তা হচ্ছে, জিলাটিন হালাল এটা ফতওয়া। কিন্তু তাক্বওয়া হচ্ছে পরিহার করা। কারণ যেখানে হালাল যবেহকৃত প্রাণীর বা ভেষজ বস্তু থেকে প্রস্তুত জিলাটিন পাওয়া যাবে সেখানে শূকরের জিলাটিন বা যবেহ ছাড়া গরুর হাড় থেকে প্রস্তুতকৃত জিলাটিন ব্যবহার করা ঠিক হবে না। কারণ হারাম প্রাণী থেকে প্রস্তুতের ফলে বদ-তাছির বা প্রভাবের বিষয়টিকে উপেক্ষা করা যাবে না।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে