হায়রে কথিত জাতীয় ইমাম সম্মেলন!!!!!!!


মুসলমানের প্রাণাধিক দ্বীনের নাম ইসলাম। ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম পরিপূর্ণ ধর্ম। ইসলামে রয়েছে অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি যথাযথ বিধিবিধান। যা অন্য কোনো ধর্মে বর্ণিত হয়নি।
অন্য ধর্মাবলম্বীরা সে কারণে নিজেদের রক্ষার্থে কথিত ধর্মনিরপক্ষতার আশ্রয় চায়। কিন’ ইসলামের মর্মবাণীই যে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতার কথিত সুবিধা দেয় তা গত আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমামদের জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতায় পরোক্ষভাবে প্রতিভাত হয়েছে। কিন’ প্রত্যক্ষভাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ হচ্ছে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে তাদের ধর্মীয় রীতি-নীতি পালন করবে।’ আর এটিই হচ্ছে ইসলামের মর্মবাণী।
আমার প্রশ্ন হলো- যা ইসলামের মর্মবাণী তাকে ইসলাম বলেই প্রচারণা চালানো হোক। সেটাকে তো কথিত ধর্মনিরপেক্ষতা বলে প্রচারণার কোনো অর্থ নেই। বিশেষ করে যেখানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং দেশবাসী ৯৭ ভাগই মুসলমান। সেখানে তো এর কোনোই প্রয়োজন নেই। তদুপরি ইসলামের দেয় সুবিধাকে মানুষ ইসলাম হিসেবেই জানুক। তাকে অন্য নামে অভিহিত করার প্রয়োজন কী?
বলাবাহুল্য, দেশের ৯৭ ভাগ অধিবাসী মুসলমান ও তাদের দ্বীন ইসলাম আজ গভীর ও ব্যাপক এবং সূক্ষ্ম ও দুরভিসন্ধিমূলক ষড়যন্ত্রের শিকার।
গত মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমামদের জাতীয় সম্মেলনে এটা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। সম্মেলনে তিন হাজার ইমামদের আবহে শুধু ভাষার মাসের মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে। কিন’ ‘ভাষাকে মুহব্বত করা ঈমানের অঙ্গ’ বলে যে ইসলাম প্রতিপন্ন করেছে; সে ইসলামের সুমহান মাস, সর্বশ্রেষ্ঠ মাস- শাহরুল আ’যম, রবীউল আউয়াল শরীফ-এর কথা একবারও উচ্চারণ করা হয়নি।
হাজারো আলোচনা হয়েছে কিন’ এ মহান সম্মানিত মাসের উপস্থিতি ও মহান বরকত, ফযীলতের কথা একবারও আলোচনায় আসেনি। এমনকি মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে আসন্ন সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন প্রসঙ্গে কোনো পরিকল্পনা, ইচ্ছা ও গুরুত্ব- কিছুই বর্ণনা করা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর কথায়ই প্রতিপন্ন হচ্ছে, দেশে ইসলামী মূল্যবোধ প্রচার ও প্রসারে সরকারের করণীয় আছে। কিন’ এজন্য প্রধানমন্ত্রী যতটুকু করেছেন তাই কী পর্যাপ্ত?
বলা চলে এটা সিন্ধুর তুলনায় বিন্দুও নয়। শুধু এক বায়তুল মোকাররম মসজিদই সম্প্রসারণ করলে দায়িত্ব শেষ। বাকী পাঁচ লক্ষ মসজিদের দায়িত্ব নিবে অন্য কোন সরকার?
প্রধানমন্ত্রী শুধু ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জন্য জমি বরাদ্দ করেছেন; আরো যে লাখ লাখ মসজিদ-মাদরাসার জায়গা প্রয়োজন সেগুলো বরাদ্দ করবে কে?
সর্বোপরি মসজিদ-মাদরাসায় যা শিক্ষা হয়- পর্দা পালন, ছবি হারাম, খেলাধুলা হারাম- এসব হারাম কাজ বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করবে কি?
প্রধানমন্ত্রী সীমিত কিছু সংখ্যক মসজিদ-মাদরাসার জমি ও অর্থ দিবেন; কিন’ বৃহৎ পরিসরে দেশের পাঁচ লাখ মসজিদে যে ইসলামী মূল্যবোধ শিক্ষা দেয়া হয়, রাষ্ট্রের প্রেক্ষাপটে তা প্রতিফলনের কোনো অবকাশই নিবেন না তা কী নির্মম প্রহসন ও প্রতারণা ভিন্ন অন্য কিছু?

Views All Time
2
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+