হিজরী সন বাতিলের আকাঙ্খা থেকে ফসলী (বাংলা) সনের উৎপত্তি


বিগত ১৪২১ ফসলী সনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পহেলা বৈশাখ পালনের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘প্রদীপ্ত বৈশাখে দীপ্ত পদাচারণা’। জাবির উক্ত কার্যক্রম নিয়ে ২০১৪ সালের ২৫শে এপ্রিলে ‘দৈনিক যায়যায়দিন’ পত্রিকার ওয়েব ভার্সনে প্রকাশিত ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়: প্রদীপ্ত বৈশাখে দীপ্ত পদাচারণা’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে-
“১৩১৮ ফসলি সনে লেখক আনন্দনাথ রায় তার ‘বারভূঁইয়া’ গ্রন্থে লিখেছে- ‘আকবর বাদশাহর রাজত্বকালে মুশরিক-পূজারী সম্প্রদায় বাদশাহের কাছে জ্ঞাপন করে, আমাদের ধর্মকর্ম সম্পর্কীয় অনুষ্ঠানে হিজরী সন ব্যবহার করতে ইচ্ছা করি না। আপনি আমাদের জন্য পৃথক সন নির্দিষ্ট করে দিন। আকবর মুশরিক-পূজারী প্রজার মনোরঞ্জনার্থে হিজরি সন থেকে দশ-এগার বছর কমিয়ে এলাহি সন নামে একটি সনের প্রচলন করেন। যা আমাদের বঙ্গদেশের সন বলে চলে আসছে।’

আকবরের সময়কাল থেকেই পহেলা বৈশাখ উদযাপন শুরু হয়। তখন প্রত্যেককে চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে সব খাজনা, মাশুল ও শুল্ক পরিশোধ করতে হতো।
আধুনিক নববর্ষ উদযাপনের খবর প্রথম পাওয়া যায় ১৯১৭ সালে। প্রথম মহাযুদ্ধে ব্রিটিশদের বিজয় কামনা করে সে বছর পহেলা বৈশাখে হোমকীর্ত্তন ও পূজার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর ১৯৩৮ সালেও অনুরূপ কর্মকা-ের উল্লেখ পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে ১৯৬৭ সনের আগে ঘটা করে পহেলা বৈশাখ পালনের রীতি তেমন একটা জনপ্রিয় হয়নি।”

আকবরের কাছে যেসব ইসলামবিদ্বেষী মুশরিক-পূজারী হিজরী সন বাতিলের আবেদন করেছিল, তারা বাঙালি ছিল না। কারণ আকবরের রাজধানী ছিল দিল্লীতে। অর্থাৎ আনন্দনাথ রায়ের বক্তব্যানুযায়ী ‘মুশরিক-পূজারী প্রজাদের মনোরঞ্জনার্থে’ দিল্লীর মুঘল রাজদরবারে যে ফসলী সন তথা পহেলা বৈশাখ চালু হয়েছিল, তা পালন করলো বড়জোর মুশরিক-পূজারী হওয়া যেতে পারে, বাঙালি নয়।

মূলত মুসলমানদের বিরোধিতা করতে মুশরিক-পূজারীরা তাদের ধর্মে যেকোন সময়ে, যেকোনো কিছু সংযোজন করতে পারে। আমরা সারাজীবন শুনে আসলাম যে, মুশরিক-পূজারী ধর্ম গ্রহণ করা যায় না, মুশরিক-পূজারী কেবল জন্মসূত্রে হওয়া যায়। অথচ ভারতে এখন ‘ঘরওয়াপসি’ নাম দিয়ে মুসলমানদের মুশরিক-পূজারীধর্মে ধর্মান্তরিত করার নতুন নিয়ম চালু করেছে সেখানকার মুশরিক-পূজারীরা।

১৯১৭ সালের পর লম্বা বিরতি দিয়ে ১৯৬৭ সালে ফের পহেলা বৈশাখ পালন শুরু হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তান আমলে এদেশের মুসলমান বাঙালীদেরকে মুশরিক-পূজারী বানানো। নাউযুবিল্লাহ!

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে