হিন্দুদের ‘শিখণ্ডী’ রাজনীতি থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে ভারতের মুসলমান নামধারী রাষ্ট্রপতি-প্রধান বিচারকরা


ভারত এমন একটি দেশ, যার রাষ্ট্রযন্ত্র ও কূটনীতি পরিচালিত হয় হিন্দুদের পুরাণে বর্ণিত হিন্দুয়ানী ধূর্ততাতে কেন্দ্র করে। ভারতের গোয়েন্দাসংস্থা ‘র’ এর কথাই যেমন ধরা যাক, তারা প্রাচীন ভারতের হিন্দু কূটবিদ চাণক্যের নীতি অনুসরণ করে। যে কারণে ‘র’ এজেন্টদেরকে বলা হয় ‘চাণক্যবাদী’।
ঠিক সেভাবেই ভারতে কয়েকটি উচ্চপদে যে শোপিস টাইপের নামধারী মুসলমানদের বসানো হয়, তা করা হয় ‘শিখণ্ডী’ নীতির অনুসরণে। এই ‘শিখণ্ডী’ হলো হিন্দুদের কল্পকাহিনী মহাভারতের একটি চরিত্র। মহাভারতের কল্পকাহিনীতে রয়েছে যে, অর্জুন যখন ভীষ্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামে, তখন সে তার সামনে ঢাল হিসেবে দাঁড় করায় শিখণ্ডীকে। শিখণ্ডী ছিল হিজড়া, মহিলা থেকে রূপান্তরিত পুরুষ।
ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা ছিল যে, সে কোনো মহিলাকে আঘাত করবে না। যার ফলে অর্জুনের সামনে শিখণ্ডী দাঁড়ানো থাকায় সে অর্জুনকে আঘাত করতে ব্যর্থ হয়। ওদিকে অর্জুন শিখণ্ডীর আড়ালে থেকে ভীষ্মের উদ্দেশ্যে তীর ছোঁড়ে। তীরের আঘাতে ভীষ্ম নিহত হয়।
আমরা লক্ষ্য করলে দেখবো যে, ভারতে যেসব মুসলমান নামধারী ব্যক্তিকে বড় বড় পদ দেয়া হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই এই শিখণ্ডীর ন্যায়। শিখণ্ডী ছিল- না পুরুষ, না মহিলা। ঠিক সেভাবেই ভারতের রাষ্ট্রপতি কিংবা প্রধান বিচারক পদে যেসব নামধারী মুসলমান বসানো হয়েছে, তারা- না মুসলমান, না হিন্দু।
ভারতের উচ্চপদে মুসলমান রয়েছে- এমন কথা উচ্চারণ করলে প্রথমেই নাম আসে সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আবুল কালামের নাম। মূলত, এপিজে আবুল কালাম নামে মুসলমান হলেও তার প্রকৃত পরিচয় হচ্ছে সে মজুসী (অগ্নি উপাসক)। সে নিয়মিত গীতা পাঠ করে। ভারতে এ ধরনের নামধারী মুসলমান অনেক আছে যারা মজুসী হওয়ার কারণে ব্যাপক খ্যাতি লাভ করতে পেরেছিলো। যেমন- ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ফারুক জাহাঙ্গীর এবং মনসুর আলী খান পাতৌদী (বলিউড নায়ক সাঈফ আলী খানের বাবা)।
অতঃপর, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি জাকির হুসাইন এবং ফখরুদ্দিন আলী দু’জনই ছিলো জহরলাল নেহেরু’র অনুসারী সমাজতন্ত্রপন্থী নাস্তিক।
বর্তমান উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে হামিদ আনসারিকে। তার অবস্থা হচ্ছে, সে একজন কট্টর কমিউনিস্ট ও ইসলাম বিরাগী।
এছাড়া প্রধান বিচারক পদে নিয়োগকৃত আজিজ মুবাশশির আহমদ ও আলতামাশ কবির- তারা দু’জনেই ছিলো শিয়া। উল্লেখ্য যে, শিয়ারা মুসলমান নয়। এছাড়া পাকিস্তানে শিয়া ও হিন্দুদের মধ্যে জোটের কথা কারো অজানা নয়।
বাংলা অভিধানে ‘শিখণ্ডী’ শব্দের একটি বিশেষায়িত অর্থই হলো, যাকে সামনে রেখে অন্যায় ও কাপুরুষোচিত কাজ করা হয়। মহাভারতের কল্পকাহিনীতে কাপুরুষ অর্জুন সে শিখণ্ডীকে সামনে রেখেছিল, কারণ তাকে সামনে রেখে ভীষ্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলে তার গায়ে কোনো আঘাত লাগবে না।
ঠিক সেভাবেই এসব মুসলমান নামধারী শিখণ্ডীদের রাষ্ট্রপতি, বিচারক কিংবা ক্রিকেটার বানিয়ে সামনে রেখে, তারপর তাদের আড়াল থেকে কাপুরুষ হিন্দুরা ভারতীয় মুসলমানদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে করে ভারতের কথিত ‘অসাম্প্রদায়িক’ সাইনবোর্ড অক্ষুণœ থাকে। অর্থাৎ সোজা কথায়, মুসলমানদের নির্যাতন করে পার পাওয়ার জন্যই হিন্দুরা ভারতে মুসলমান নামধারী শিখণ্ডী রাষ্ট্রপতি, বিচারক ও অভিনেতা নিয়োগ দেয়।
অনেকেই এ বিষয়টি বুঝতে না পেরে মূর্খের মতো মন্তব্য করে বসে, ভারত যদি রাষ্ট্রপতি পদে মুসলমান (!) বসাতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ পারে না কেন? এসব মূর্খেরা বোঝে না, ভারতের উচ্চপদে নিয়োজিতরা হলো শিখণ্ডী, বাবুরাম সাপুড়ের নখদন্তহীন সাপ। যে মারলে কাটে না, ফোঁসফাঁসও করে না।
বিপরীতে এদেশে যে কালো বিড়ালটির কোনো দপ্তর নেই, সেও রীতিমতো বিষধর সাপ। দপ্তরবিহীন দুর্নীতিবাজ হিন্দুটিরই যদি এতো ফোঁসফাঁস থাকে, তাহলে ক্ষমতা পেলে এই বাংলাদেশকে যে হিন্দুরা মুসলমানদের বসবাসের অযোগ্য করে ছাড়বে, তা তো বলারই অপেক্ষা রাখে না।
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে