হিন্দুধর্মে নাস্তিকতা বৈধ: এক অর্থে হিন্দুধর্ম কোন ধর্মই নয়।


পাপাত্মা গাধীঁকে আমরা সেক্যুলার হিসেবে চিনে থাকি। না আসলেই সে একজন সেক্যুলার, কিন্তু কিরূপ সেক্যুলার তা কম জানাশোনা লোক বুঝবে না। যদি আমরা হিন্দুধর্মের দিকে তাকাই তাহলে আমরা দেখতে পাই হিন্দুধর্মের তেত্রিশ কোটি দেবদেবী আছে। যে দূর্গাকে মাথায় তুলে পূজা করে সে হিন্দু, আবার দূর্গাকে পানিতে লাথি দিয়ে ফেলে দিলেও সে কিন্তু হিন্দুই থাকে। গাধীঁ এ প্রসঙ্গে বলেছিল তার হিন্দুধর্ম কি বা what is hinduism নামক তার চটিগ্রন্থে, হিন্দুধর্মের কোন নির্দিষ্ট মতবাদ নেই। বাংলাদেশ কলকাতার হিন্দুরা যেখানে দূর্গাপুজা করে থাকে, ভারতবর্ষের অন্যান্য অঞ্চলের হিন্দুরা সেখানে দূর্গা নামে হয়তো কোন দেবীকেই চিনে না। তারপরও তারা হিন্দু, এবং ভারতে হিন্দুদের মূল যে মটো তা হলো মুসলমানদের ভারত থেকে মিটিয়ে দিতে হবে, আল্লাহপাক না করুন।

 

নির্দিষ্ট মতবাদ নয় বলে আমরা জানলাম। অর্থাৎ ভারতবর্ষে উদ্ভূত অনেকগুলো মতবাদকে একসাথে হিন্দুধর্ম বলে। এর মধ্যে রয়েছে নাস্তিকতাও! মূলত ভারতীয় দর্শনশাস্ত্রই দুভাগে বিভক্ত। আস্তিক দর্শন ও নাস্তিক দর্শন(সূত্র: ভারতীয় দর্শন: সাইয়েদ আবদুল হাই)। যে দর্শন বেদ মানে তা আস্তিক দর্শন, যে দর্শন বেদকে মানে না যেমন চার্বাক বৌদ্ধ বা সংখ্যাদর্শন, তা হলো নাস্তিকদর্শন। কিন্তু উভয় দর্শনের ধারকবাহক সকলেই হিন্দু, হোক সে নাস্তিক বা আস্তিক।

উইকিতে একটি পেজ দেখলাম http://en.wikipedia.org/wiki/Atheism_in_Hinduism

সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে

Atheism (Sanskrit: nir-īśvara-vāda, lit. “statement of no Lord”, “doctrine of godlessness”Wink or disbelief in God or gods has been a historically propounded viewpoint in many of the orthodox and heterodox streams of Hindu philosophies.[1][2] Generally, atheism is valid in Hinduism, but the path of the atheist is viewed as very difficult to follow in matters of spirituality.

 

হিন্দুত্ববাদের জনক, হিন্দুত্ব শব্দটার যে জনক যে বীর সাভারকার, ভারতে হিন্দুদের অনুসরণীয় ব্যক্তিদের একজন। মুসলমানদের কিভাবে ঘৃণা করতে হয় তার শিক্ষা হিন্দুরা সাভারকারের বইতে পেয়ে থাকে, আরো আছে বঙ্কিম বিবেকানন্দ এরা। কিন্তু বীর সাভারকার ছিল মুসলমানদের একনিষ্ঠ শত্রু। সে অনুপ্রাণিত হতো হিটলারের ইহুদি হত্যার দ্বারা, তার বইতে স্পষ্ট লেখা আছে গোটা ভারতবর্ষের শাসনক্ষমতা যদি হিন্দুরা পায় ভারতে মুসলমানদের অবস্থা ইউরোপের ইহুদিদের ন্যায় বিলীন করে দেয়া হবে, নাউযুবিল্লাহ। তার দেখানো পথে আজও হিন্দু যুবকরা নিজেদের লক্ষ্য ঠিক করে নেয়। তা র প্রচারণার কারণে ভারতে হিটলারের আত্মজীবনী মাইন কাম্ফ আজও বেস্টসেলারের খাতায় থাকে। আবার মজার ব্যাপার হলো, ইহুদিনিধনের প্রশংসা করলেও ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর সাভারকার উক্ত ক্যান্সারের প্রতি তার অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেছিল, কারণ সেই মুসলিমবিদ্বেষীতা।

এবার আসল কথা বলি, বীর সাভারকার ছিল একজন নাস্তিক। উইকিপিডিয়া দ্রষ্টব্য। সে কোন দেবদেবীতে বিশ্বাস রাখতো না। সে বিশ্বাস করতো রক্তের শ্রেষ্ঠত্বে। মানে বর্ণবাদ আরকি। যেমনটা ইহুদিরাও বিশ্বাস করে থাকে নিজেদের ব্যাপারে। বলে থাকে বনী ইসরাইল গোত্রে জন্মলাভের কারণে তারা অন্যদের তুলনায় শ্রেষ্ঠ, এবং এই একই যুক্তিতে বনী ইসমাইলী হওয়ার কারণে স্বয়ং হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেও তারা নিকৃষ্ট মনে করে নাউযুবিল্লাহ! যে কর্ম তাদের মাগদূব বা গযবপ্রাপ্ত জাতি হিসেবে কুরআন শরীফের পাতায় নির্দিষ্ট করে দিয়েছে।

সাভারকারের মূল লক্ষ্য ছিল অহিন্দু রক্তধারী মুসলমানদের(আরব পারস্য আফগান বংশধর ভারতীয় মুসলমান) ভারতবর্ষ থেকে উচ্ছেদ। কোন দেবদেবীর ধার সে ধারত না। এবং সেটাই তাকে হিন্দুদের আদর্শ করেছে। করেছে গেরুয়া বসনধারী সন্ন্যাসীদেরও নমস্য।

ভারতবর্ষে নাস্তিক মানেই হিন্দু(ইনক্লুডিং সামহোয়্যার)। এটা আমাদের বুঝতে হবে। পূজারী ব্রাহ্মণের চাইতেও একজন নাস্তিক বেশি বিপজ্জনক মুসলিমদের জন্য। কারণ পূজারী ব্রাহ্মণ পুজায় যে সময় দেয় একজন নাস্তিক সে সময়টুকু ব্যয় করে শুধুই ইসলামের বিরোধিতায়। তাছাড়া বামুনের হিন্দুত্ব অশিক্ষিতও বুঝতে পারে। নাস্তিক হিন্দুদের কেবল প্রকৃত শিক্ষিতরাই চিনতে পারে।

আজ যারা এদেশে সুশীল হবার ভেক ধরছে, সেক্যুলারিজমের বয়ান করছে তাদেরও লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অভিন্ন। তা হলো ভারত থেকে ইসলামধর্ম মিটিয়ে দেয়া। কিন্তু দূর্জনের মুখে ছাই দিয়ে মুসলমানদের সংখ্যা ভারতে বাড়ছে তো বাড়ছেই! বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মাসিক বাংলা পত্রিকা বিশ্ব হিন্দু বার্তার লেখক সম্পাদকেরা তাদের লেখায় খালি তাদের এই ভয়ের কথাই প্রকাশ করে যে, এভাবে মুসলমান বাড়তে থাকলে ভারত অচিরেই মুসলিম রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

নারায়ে তাকবীর!

আল্লাহু আকবার!!!!!!!!!!!

রবীন্দ্রনাথের একটি লেখায় এ বিষয়টি এসেছে

হিন্দু শব্দে এবং মুসলমান শব্দে একই পর্যায়ের পরিচয়কে বুঝায় না । মুসলমান একটি বিশেষ ধর্ম কিন্তু হিন্দু কোনো বিশেষ ধর্ম নহে । হিন্দু ভারতবর্ষের ইতিহাসের একটি জাতিগত পরিণাম ।

জাতি এবং রক্তই হিন্দুত্ববাদের চালিকাশক্তি। কোন ধর্ম নয়, নীতি নয় নৈতিকতা নয়। হিন্দুদের কোন নৈতিক মূল্যবোধ নেই। “বিস্ময়কর হলেও সত্য, দূর্গা পুজার সময় দশ ধরনের মাটি প্রয়োজন হয় । তার মধ্যে বেশ্যার দরজার মাটি অপরিহার্য । বলা হয় বেশ্যারা নাকি পুরুষদের কাম (যৌনতা) নীলকন্ঠের মতো ধারন করে সমাজকে নির্মল রাখে বলে বেশ্যাদ্বার মৃত্তিকা অবশ্য প্রয়োজনীয়।”
এ তথ্যের উৎস হল : সানন্দা ১৮ এপ্রিল ১৯৯১ দেহোপজীবিনী সংখ্যা, শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা “গণিকাবৃত্তি : সমাজ, সংস্কার এবং সমীক্ষা” প্রচ্ছদ প্রতিবেদন , পৃস্ঠা: ১৯, হাতের ডান দিকের কলাম ।

লিংক এখানে

এ প্রসঙ্গে বলতে হয়, কয়েকদিন আগে সামহোরে জন্মাষ্টমীর আগের দিনের এক পোস্টে রাধাকৃষ্ণের লীলাখেলার কাহিনী সরাসরি তুলে দেয়া হয়েছিল তাদের ধর্মগ্রন্থ থেকে। কেউই অস্বীকার করেনি সেটা ধর্মগ্রন্থের কাহিনী। কিন্তু তারপরও কতগুলো হিন্দু মানসম্মান(!) বাঁচানোর উদ্দেশ্যে লেখককে বকাবকি করতে লাগল, এই পোস্ট হিন্দুদের ধর্মীয় অনূভুতিতে আঘাত হানছে। এটা চটিব্লগে(!) দিলে ঠিক হতো। এ তো দেখি মহা সমস্যা। এটা যদি চটি হয় তাহলে ধর্মগ্রন্থ(অধর্মগ্রন্থ) কোনটা?! আর এইটাই যদি ধর্মগ্রন্থ হয় তাহলে চটি কোনটা! এখানেই হিন্দুদের ধর্মের অসারতা। নিজের ধর্মগ্রন্থকেই নিজে পর্ণগ্রাফির স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হচ্ছে তারা, সভ্যসমাজের মুখোশটা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে!

এ কারণেই ভারত ধর্মনিরপেক্ষতাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও। আমাদের বুদ্ধিবেচাগোষ্ঠী বলে বেড়ায় যে, আমাদের ধর্মনিরপেক্ষ হতে হবে, মূলে ফিরে যেতে হবে। অর্থাৎ ইসলাম ত্যাগ করে পূর্বে যে হিন্দু যবনাচার ছিল তা গ্রহণ করানো হল উদ্দেশ্য। সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার সংযুক্তি এ উদ্দেশ্যেরই প্রতিফলন।

Views All Time
2
Views Today
4
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

১৩টি মন্তব্য

  1. মারাত্মক পোস্ট.. চমৎকার.. গোঁমর ফাঁস হইছে পুরাপুরি.. আসলে সাভারকার দেব-দেবীর পূজা কেন করব..সে তো জানে একটু গরম-সরম দেখাইতে পারলে যবনগুলা তারেও দেবতা বানাইয়া পূজা করতে শুরু করবো.. এইটাই হইছে ওদের সূত্র ..যা কিছু বড়, তা নিয়েই মর..

  2. এই হিন্দু মালুরগুষ্ঠিকে যত পারুন বাঁশ দিতে থাকুন,,,,,,,এগুলিরে এগুলির মত নাপাক জায়গায় পাঠানোর ব্যব্স্থা করতে হবেই আমাদের………… Pill Hammer

  3. Rapid boy says:

    হিন্দুগুলারে তাদের ভারত মাথার কাছে পাঠানো হোক ।এটা আসলে একটা যৌনধর্ম

  4. স্বয়ং আল্লাহ পাক মুশরিকদের নাপাক বলেছেন। আর নাপাকরাযে অশ্লীল-অশালিন কাজে নিমজ্জিত থাকবে এটাই স্বাভাবিক।
    আর যেহেতু তারা মুসলমানদের দ্বিতীয় শত্রু, তাই তারাতো মুসলমানদের ক্ষতি করতে ব্যস্ত থাকবেই।
    তবে সত্যকথন ভাই, মুসলমানরা কি আসলেই নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত? নাকি মুসলমানরা দুনিয়ার মুহব্বতে পর্যুদস্ত?

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে